মুরাদ সাহেব ঢাকার কারওয়ান বাজারে রাতে মাছ কিনতে গিয়ে দেখেন, মাছগুলো সব তাজা ও সতেজ। তিনি মাছওয়ালাকে প্রশ্ন করলেন, মাছগুলো কবে ধরা হয়েছে। মাছওয়ালা উত্তর দিল, গতকাল। তিনি ফলবাজারে গিয়ে দেখলেন তাজা তাজা আম, যেন এখন গাছ থেকে পাড়া। কিন্তু তিনি ভাবলেন, এখনতো আমের সময় না। তিনি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে মাছ ও ফল না কিনে বাড়ি ফিরলেন।

Updated: 4 months ago
উত্তরঃ

যে খাদ্য উৎপাদন ক্ষেত্র থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে 'পৌছানো পর্যন্ত কোনোভাবেই কলুষিত হয় না এবং স্বাস্থ্যের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায় না তা-ই হলো নিরাপদ খাদ্য।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
উত্তরঃ

খাদ্য সংরক্ষণ বলতে খাদ্য যেন পচে নষ্ট না হয়ে যায় সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা অবলম্বন করে খাদ্যের গুণগতমান অনুসারে বিভিন্নভাবে খাদ্যকে মজুদ রাখাকে বোঝায়। প্রাকৃতিক কারণে সব খাদ্যই পচে নষ্ট হয়ে যায়। তাই খাদ্যদ্রব্যের পুষ্টি উপাদানের গুণগত মান বজায় রাখা এবং খাদ্যের স্বাদ, গন্ধ ও বর্ণ বহুদিনের জন্য অবিকৃত রাখার উদ্দেশ্যে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। এছাড়া খাদ্যের অপচয় রোধ ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য খাদ্য সংরক্ষণ প্রয়োজন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
উত্তরঃ

মুরাদ সাহেব যে কারণে মাছ ও ফল না কিনে বাড়ি ফিরলেন তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-

এক খাদ্যের সাথে অন্য খাদ্যের মিশ্রণ, খাদ্যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয় এমন রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রণ, খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ক্ষতিকর দ্রব্য ব্যবহার, খাদ্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য রঙ প্রয়োগ ইত্যাদি একত্রে ভেজাল খাদ্য বলে পরিচিত। খাদ্যে ভেজাল দিলে খাদ্যের উপাদানে গুণগত পরিবর্তন আসে, যা শরীরের অন্তর্নিহিত কর্মকাণ্ডকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে এবং স্বাস্থ্যহানি ও জীবনহানির ঝুঁকি দেখা দেয়। মাছ তাজা ও সতেজ রাখার জন্য মাছে ফরমালিন ব্যবহৃত হচ্ছে, শুঁটকি মাছে ডিডিটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফল কৃত্রিম উপায়ে পাকাতে ব্যাপকভাবে কার্বাইড, কপার সালফেট, কার্বনের ধোঁয়া, পটাসের লিকুইড সলিউশন, কৃত্রিম ক্রমবৃদ্ধি নিয়ামকসহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক এবং তাজা ও সতেজ রাখতে ফরমালিন ব্যবহার করা হচ্ছে। আম, কলা খেজুর, পেঁপে, আনারস, মালটা, আপেল, আঙ্গুর এবং অন্যান্য ফলে ব্যবহৃত হচ্ছে কার্বাইড, কীটনাশক, ইথোফেন, ফরমালিন ইত্যাদি। শাকসবজিতে কীটনাশক, টমেটোতে ফরমালিন, মিষ্টিতে কাপড়ের রং ও আলকাতরা এবং কৃত্রিম মিষ্টিদায়ক প্রয়োগ করা হয়।

ভেজাল খাদ্য খেয়ে শরীর দুর্বল ও কৃশ হয়ে যায়, স্মরণশক্তি হ্রাস পায়, শারীরিক ওজন অত্যধিক বাড়ে বা কমে, চুল পড়ে, মানসিক অবসাদ, অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা যায় এবং ভেজাল খাদ্যে ক্যান্সার সৃষ্টির ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে।
উদ্দীপকে মুরাদ সাহেব ঢাকার কারওয়ান বাজারে রাতে মাছ কিনতে যেয়ে দেখলেন, মাছগুলো তাজা ও সতেজ এবং ফলবাজারে গিয়ে দেখলেন, ফলের মৌসুম না হলেও ফলগুলো তাজা তাজা। কিন্তু মাছ এবং ফল পচনশীল দ্রব্য। স্বাভাবিক অবস্থায় এগুলো বেশিদিন তরতাজা ও সতেজ থাকে না। এ থেকে বোঝা যায়, মাছ ও ফলে ভেজাল হিসেবে রাসায়নিক পদার্থ ফরমালিন মেশানো হয়েছে। তাই মুরাদ সাহেব মাছ ও ফল না কিনে বাড়ি ফিরলেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যা অর্থাৎ খাদ্যে ভেজাল সমস্যা সমাধান করার জন্য সরকার, ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের ভূমিকা যা হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি সে সম্পর্কে নিচে আমার মতামত দেওয়া হলো-

সরকার একটি দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী; তাই সরকারের সদিচ্ছা থাকলে দেশ থেকে দ্রুত খাদ্যে ভেজাল দূর করতে পারে। বিভিন্নভাবে দেশে ভেজাল খাদ্য উৎপাদন হয়, তাই সরকার চাইলেই এসব উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারে। আবার বিদেশ থেকে কোনো ভেজাল খাদ্য আমদানি করা হলে সরকার তার নিজস্ব লোকবল দ্বারা ভেজাল খাদ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে দিতে পারে। এছাড়া সংসদে ভেজালবিরোধী যুগোপযোগী আইন পাশের মাধ্যমে এবং তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ভেজাল প্রদানকারী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে পারে। খাদ্যে ভেজালের উদ্দেশ্যে যেসব উপাদান যেমন- ফরমালিন, কার্বাইড, ইথানল ইত্যাদি আমদানি করা হয়, তা আইনের মাধ্যমে বাতিল অথবা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে পারে।

সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও খাদ্যের ভেজাল সমস্যা সমাধানে বিভিন্নভাবে ভূমিকা পালন করতে পারে। খাদ্যশস্য মাড়াই ও সংরক্ষণের সময় তাতে ধুলা-বালি, পাথরকুঁচি ইত্যাদি। যাতে মিশ্রিত না হয় সেদিকে ব্যবসায়ীরা সতর্ক থাকতে পারে। আবার ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো ভেজাল প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে। খাদ্যে ভেজাল মেশানো যে অনৈতিক এবং দণ্ডনীয় অপরাধ, তা অনেকেই জানে না; তাই তাদেরকে এ বিষয়গুলো সাধারণ জনগণ জানাতে পারে।

সাধারণ জনগণ খাদ্যে ভেজাল মেশানো পছন্দ করে না; কিন্তু তাদের কাছে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ভেজাল নিরূপণকারী কিট না থাকায় খাদ্যে ভেজালের পরিমাণ জানতে পারছে না। জনগণ যদি এই ভেজালের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় তবে অবশ্যই দেশ থেকে ভেজালের সমস্যা দূর হবে। এছাড়া ভেজালবিরোধী আইন প্রয়োগে সরকারকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করার পাশাপাশি কেউ খাদ্যে ভেজাল মেশালে তাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দিতে পারে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত খাদ্যে ভেজাল সমস্যা সমাধান করার জন্য সরকার, ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
66

Related Question

View All
উত্তরঃ

যা ভোক্তার নিকট ক্ষতিকর হবে না এবং যা ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহৃত হবে ভোগের জন্য তা-ই নিরাপদ খাদ্য।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
101
উত্তরঃ

কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর নির্দিষ্ট সময়ে অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যের প্রাপ্তিকেই খাদ্যের প্রাপ্যতা বলা হয়। পর্যাপ্ত উৎপাদন এবং নির্দিষ্ট স্থানে পর্যাপ্ত খাদ্যের যোগান খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে। কোনো নির্দিষ্ট স্থানে পর্যাপ্ত খাদ্যের সরবরাহ নির্ভর করে সরকারি ও বেসরকারি খাদ্যশস্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনার উপর। কিছু কিছু জায়গায় পদ্ধতিগত দুর্বলতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততা ও প্রয়োজনীয় খাদ্যে সরকারি সহযোগিতার অভাবে খাদ্যের প্রাপ্যতা বাধাগ্রস্ত হয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
115
উত্তরঃ

উদ্দীপকে খাদ্যে ভেজালের কথা বলা হয়েছে। উক্ত বিষয়টি প্রতিরোধে সরকার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-

⇨ সরকার ভেজালবিরোধী আইনের মাধ্যমে সকল পর্যায়ে ভেজাল খাদ্য উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রয়ের সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে সংসদে ভেজালবিরোধী আইন পাশ করার পাশাপাশি ভেজাল খাদ্যদ্রব্যের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করেছে।

⇨ দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ভেজাল খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন বন্ধের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ভেজালে সহায়তাকারী বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

⇨ ভেজাল প্রতিরোধে সরকার জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণকারীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রদানের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছে।

অতএব বলা যায়, সরকারের সদিচ্ছা এবং আইনের কার্যকরী প্রয়োগ দ্রুত দেশের ভেজাল প্রতিরোধ করতে পারে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
101
উত্তরঃ

উদ্দীপকের শেষ উক্তিটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। নিচে আমার মতামত উপস্থাপন করা হলো-

উন্নত বিশ্ব খাদ্যে ভেজালের বিষয়ে কোনোরকম ছাড় দিতে নারাজ, যেকোনো কিছুর বিনিময়ে তারা নিরাপদ খাদ্য পেতে চায়। নিরাপদ খাদ্য পেতে তারা খরচের কথা চিন্তা করে না। ফলে তাদের খাদ্যের সরবরাহ ভালো। তাদের খাদ্য ক্রয়-বিক্রয়ও অনেক ভালো।
কিন্তু বাংলাদেশে ঠিক এর ব্যতিক্রম অবস্থা। বাংলাদেশে জনসংখ্যা অনেক বেশি হলেও এই খাদ্য সরবরাহ করার পরও মানুষ প্রচুর অপচয় করে। এই অপচয় রোধে বিক্রেতারা খাদ্যে পচনশীলতা দূর করতে ফরমালিনের মতো বিষও প্রয়োগ করে। বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ফল, সবজি, মাছ, মাংস ইত্যাদি সব খাদ্যে পচনশীলতা দূর করতে ফরমালিন প্রয়োগ করছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর। খাদ্যের এই ভেজাল দিন দিন মনে হয় আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকার বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও আশু প্রতিক্রিয়া তেমন দেখা যাচ্ছে না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শেষ উক্তিটি বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
94
উত্তরঃ

খাদ্য নিরাপত্তা হলো নির্ভরশীল স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যের পর্যাপ্ত যোগান যা ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে বিদ্যমান থাকে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
127
উত্তরঃ

কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী কর্তৃক শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদান প্রাপ্তির লক্ষ্যে নির্দিষ্ট খাদ্যদ্রব্য গ্রহণকেই খাদ্যের ব্যবহার বলে।

শরীরে প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে যে সব খাদ্য গ্রহণ করা হয়, তার আত্তীকরণের উপর নির্ভর করে খাদ্যের ব্যবহার। খাদ্যভোগের ধরন, পুষ্টিমান, স্বাস্থ্য এবং খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়গুলো সামাজিক, সাংস্কৃতিক উপাদান; যেমন- খাদ্যে প্রাপ্যতা খাদ্যের ক্রয়ক্ষমতা এবং তার ব্যবহারের উপর নির্ভর করে। দারিদ্র্য, লিঙ্গ, বয়স, কাঠামো ও সামর্থ্য, ভৌগোলিক অবস্থান, সংস্কৃতি চর্চা খাদ্যভোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
103
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews