Element' শব্দের বাংলা অর্থ হলো উপাদান।
জাতীয়তার অনেকগুলো উপাদান রয়েছে এর মধ্যে অন্যতম একটি উপাদান হলো বংশগত ঐক্য যদি একটি জনসমাজের অধিকাংশ লোক একই বংশগত বলে নিজেদের মনে করে তবে তাদের মধ্যে এক প্রবল জাতীয় ঐক্যবোধ সৃষ্টি হয় যা তাদেরকে জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ করে। তবে বর্তমানে এ বিষয়টি খুব বেশি প্রভাব রাখতে পারে না, কেননা বংশগুলো আজ মিশ্র, অস্ট্রিয়ার জনগণ এরূপ একই বংশগত বলে নিজেদের দাবি করলেও নৃতাত্ত্বিকভাবে এর প্রমাণ মিলে নি।
শিক্ষক আরমান আলীর দেওয়া তথ্যে জাতীয়তার যে উপাদানটির প্রতিচ্ছবি প্রকাশিত হয়েছে তা হলো ধর্ম। ধর্মীয় কারণেই মূলত ভারত-পাকিস্তানের জন্ম। প্রাচীন ও মধ্যযুগে ধর্মই জাতি গঠনের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতো। গিলক্রিস্টের মতে "ধর্ম বিশ্বাসের প্রবল পার্থক্যের কারণে জাতিগত ঐক্য ক্ষণস্থায়ী হতে বাধ্য হয়।” ১৯৪৭ সালের ধর্মীয় জাতীয়তার ভিত্তিতেই ভারত-পাকিস্তান বিভক্ত হয়, তবে বর্তমানে ধর্মের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে। ধর্মীয় ঐক্য পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ঐক্য রক্ষা করতে পারে নি। চীন, ভারত বহু ধর্মের সমষ্টিতে জাতি গঠন করলেও এক ধর্মের অনুসারীরা এক জাতি গঠন করতে পারে নি অনেক ক্ষেত্রেই।
উদ্দীপকে জাতীয়তার যে উপাদানটির প্রতিচ্ছবি প্রকাশিত হয়েছে তা হলো 'ধর্ম'। শিক্ষক আরমান আলীর দেওয়া তথ্যে তাই প্রমাণিত।
কেচার লেকচার গেকতাব লেকচার লেকচার লেকচার।
তবে জাতীয়তার এ উপাদানটি ছাড়াও অনেক উপাদান রয়েছে যার অন্যতম একটি হলো সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য জার্মান দার্শনিক ফিক্টে মনে করতেন জাতি গঠনের অন্যতম উপাদান সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য। একই সাহিত্য ও সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে এক ধরনের আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলে যা জাতীয়তাবোধের সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু এটি খুব শক্তিশালী নাও হতে পারে। যেমন বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য সংস্কৃতি কাছাকাছি হলেও আলাদা জাতি। তারপরও একথা সত্য যে একই সংস্কৃতি ও সাহিত্য জাতীয়তাবোধ সৃষ্টিতে সহায়ক, পৃথিবীর বিভিন্ন স্বাধীন দেশেই এর প্রয়োগ দেখা যায়।
Related Question
View AllNationality' শব্দের অর্থ জাতীয়তা।
জাতীয়তাবাদ একটি মহান আদর্শ, যা মূলত এক প্রকার মানসিক অনুভূতি। বিভিন্ন উপাদান থেকে এর উৎপত্তি। কিন্তু এ জাতীয়তাবাদ যদি এমন হয় যে, তা অন্য জাতিকে ঘৃণা করতে শেখায়, নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবতে শেখায় এবং অন্যকে নিজের অধীন রাখার মতো হীনমানসিকতাকে জাগিয়ে তোলে, তবে তা হবে উগ্র জাতীয়তাবাদ। এটি একটি বিবৃত মানসিকতা যা ব্যক্তিকে অন্ধ দেশপ্রেমে প্রলুব্ধ করে। জার্মানির হিটলার, ইতালির মুসোলিনী এরূপ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিল, যার ফলাফল প্রলয়ঙ্করী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ একটি ঐতিহাসিক বিষয়। এর বিকাশ ঘটেছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে ভিত্তি করে, যা প্রধান শিক্ষক উদ্দীপকে উল্লেখ করেছেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ও বিকাশের পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এক মাইলফলক। বাঙালি দামাল ছেলেরা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নিজেদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এক ইতিহাস রচনা করে। এ ভিত্তিতেই রচিত হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশ। ৫২'র ভাষা আন্দোলন ছিল স্বাধিকার আদায়ের প্রথম ধাপ। এ আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ৫৪'র নির্বাচন, ৬২'র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬'র ছয় দফা, ৬৯'র গণঅভুত্থান, ৭০'র নির্বাচন এবং ৭১'র স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এ দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বাঙালির ভাষাভিত্তিক জাতীয়তার ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে। বাঙালি জাতি এক ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বিজয় অর্জনে এটি আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
জাতীয়তা একটি বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রত্যয়। এটি গড়ে ওঠার পেছনে অনেকগুলো factor কাজ করে থাকে। উদ্দীপকে প্রধান অতিথি যে কথাটি বলেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা শুধু ভাষাগত মিল একটি জাতীয়তা নির্মাণের একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না। যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রভৃতি দেশের ভাষা ইংরেজি হলেও তারা প্রত্যেকে আলাদা আলাদা জাতি। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের লোকজনের ভাষা এক হওয়া সত্ত্বেও এরা আলাদা দুটি জাতি। আবার ভারত বহু ভাষাভাষীর জনগোষ্ঠীর দেশ হলেও তাদের জাতীয়তা এক। এভাবে ভাষাগত সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য একরূপ জাতীয়তা সৃষ্টি বা আলাদা করতে ভূমিকা পালন নাও করতে পারে। জাতীয়তা নির্মাণের পথ অত্যন্ত জটিল ধারায় আবর্তিত হয়।
জাতীয়তা নির্ধারণের অন্যান্য যেসব উপাদান রয়েছে তার মধ্যে প্রধান হলো একই ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, সাহিত্য, ভৌগোলিক ঐক্য, মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য, রাজনৈতিক ঐক্য, অর্থনৈতিক অভিন্ন উদ্দেশ্য ইত্যাদি। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে, বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির লোক জড়ো হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন বসবাস করছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য তাদেরকে একই সূত্রের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে এবং শক্তিশালী জাতীয়তা নির্মাণে সহায়তা করেছে। তাদের সবার জাতীয়তা নির্ধারিত হয়েছে মার্কিনী। এরূপ কালের পরিক্রমায় দীর্ঘ পরিসরে মানুষের জীবনধারার প্রেক্ষিতে একটি জাতীয়তা গড়ে উঠেছে।
অনুরূপভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষের মধ্যেও ইতিহাসের বিবর্তন ধারায় গড়ে উঠেছে জাতীয় চেতনা। এ চেতনা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে জাতীয়তাবোধ। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই এরূপ লক্ষ করা যায়। Activate
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।
জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ জনসমষ্টির রাষ্ট্রগুলোকে জাতি-রাষ্ট্র বলা হয়। জাতীয়তার উপাদানগুলোর মাধ্যমে সংগঠিত ও স্বাধীন হয়ে এরূপ রাষ্ট্র গঠিত হয়। জাতিরাষ্ট্র ধারণার প্রবক্তা ম্যাকিয়েভেলি। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ইত্যাদি জাতি-রাষ্ট্র।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!