অধ্যাপক আর্নেস্ট বার্কার সাম্যকে দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন।
ব্যক্তিগত সাম্য থেকেই ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। ব্যক্তিগত সাম্য বলতে নাগরিক অধিকারসমূহ ও স্বাধীনতা সমানভাবে ভোগ করার অধিকারকে বোঝায়। এ অধিকার ভোগ করা ব্যতীত ব্যক্তিত্বের বিকাশ অসম্ভব। তাই সাম্য ব্যক্তিকে নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা প্রদানপূর্বক ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটায়।
উদ্দীপকে মুসলিমা খন্দকার নৈতিক মূল্যবোধ পরিপন্থী কাজ করেছেন। মুসলিমা খন্দকার একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করার জন্য তার এক সহকর্মী সম্পর্কে প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করেন। এতে প্রতিষ্ঠান প্রধান তার সহকর্মীর প্রতি অসন্তুষ্ট হন। আর মুসলিমা খন্দকারের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাকে অধিক সুবিধাজনক পদে কাজ দেন। এখানে মুসলিমা খন্দকার নিজের সামান্য সুবিধার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে যা তার উচিত হয়নি। মুসলিমা খন্দকারের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠেনি বলেই সে এমন একটি কাজ করেছে। কেননা মানুষের ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায়বোধ নিয়ে নৈতিক মূল্যবোধ গঠিত। অতএব, উদ্দীপকে মুসলিমা খন্দকার নৈতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী কাজ করেছেন।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই যে, মুসলিমা খন্দকার একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। তিনি প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করার জন্য তার এক সহকর্মী সম্পর্কে প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করেন। এতে প্রতিষ্ঠান প্রধান তার সহকর্মীর প্রতি অসন্তুষ্ট হন। আর মুসলিমা খন্দকারের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাকে অধিক সুবিধাজনক পদে কাজ দেন। প্রতিষ্ঠানের এমন অবস্থার জন্য দায়ী ব্যক্তি হচ্ছেন মুসলিমা খন্দকার। তার নৈতিক মূল্যবোধের অভাবে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে সুশাসনের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। মুসলিমা খন্দকার মিথ্যাচার করে নিজের সুবিধা আদায় করেছেন। বিষয়টি সুশাসনের পরিপন্থী। এ অবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য নৈতিক মূল্যবোধের প্রয়োজন। মানুষের ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায়বোধ নিয়ে নৈতিক মূল্যবোধ গঠিত। নৈতিক মূল্যবোধের কারণে সমাজে মানুষ নীতি বিবর্জিত কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকে। নৈতিক মূল্যবোধ সমাজে মানুষের সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করে। মানুষের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করে। একে অন্যের দুঃখে সাহায্য করতে অনুপ্রাণিত করে। কাজেই সঠিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠানে সুশাসন নিশ্চিত করতে পারে- কথাটি যথার্থ।
Related Question
View Allআইন হলো- সার্বভৌম শাসকের আদেশ"- কথাটি বলেছেন জন অস্টিন।
সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন।
আইনের শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকারের সংরক্ষণকে। সংখ্যালঘু ও রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এটি জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ।
আইনের শাসন গণতন্ত্রের ভিত্তি। মমতাজ সাহেব গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় লেখনী ধারণ করেন।
তিনি আইনের শাসনকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় মূল্যবোধের বিকাশের মূল হিসেবে দেখেছেন। যথাযথ আইনের শাসনের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির নিশ্চয়তা লাভ করে। আইনের শাসনের মাধ্যমে 'সকল নাগরিক সমান' এ নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগে সমান সুযোগের ভিত্তিতে সবাই বিচার লাভ করবে। দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে সবাই নিরাপত্তা লাভ করবে। আইনের শাসনের এ বিষয়গুলো মূলত গণতন্ত্রের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রধানত সংখ্যাগুরুর মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। এতে সংখ্যালঘুরাও সমান সুযোগ পাবে, মত প্রকাশের সমান অধিকার থাকবে। আইনের শাসন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে, গণতন্ত্র চর্চাকে পরিশীলিত করে এবং সুশাসন নিশ্চিত করে।
প্রচলিত সাধারণ অর্থানুসারে আইন হলো কতকগুলো বিবিবিধান যা মানুষ সামাজিক প্রাণী হিসেবে মানতে বাধ্য থাকে। অন্যদিকে, স্বাধীনতা বলতে যা খুশি তাই করার ক্ষমতাকে বোঝায়। আপাতদৃষ্টিতে আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়। কিন্তু মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি আমাদেরকে বলতে চাচ্ছে যে, আইন স্বাধীনতার সহায়ক।
বস্তুত আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক। আইন না থাকলে স্বাধীনতা থাকতে পারে না। আইন আছে বলেই স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করা যায়। আইন স্বাধীনতাকে সম্প্রসারিত করে। উইলোবি এজন্যই বলেছেন যে, "আইন আছে বলেই স্বাধীনতা রক্ষা পায়।" অন্যদিকে, স্বাধীনতা না থাকলে আইন অর্থহীন হয়ে যায়। কেননা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকলে আইনের প্রয়োগ সম্ভব হয় না। আইন আছে বলেই কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনের বলেই স্বাধীন বাংলার মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। আইন না থাকলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার অর্থহীন হয়ে যায়। আইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অধিকার দ্বারাই জনগণ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে স্বাধীনতা লাভ করে। আইন না থাকলে দুর্বলের স্বাধীনতা রক্ষা করা কতটা সম্ভব হতো তা প্রশ্ন সাপেক্ষ ব্যাপার। এজন্যই বলা যায়, সাংবাদিক মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি যথার্থ।
আব্রাহাম লিংকন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট।
মূল্যবোধ বলতে তুলনামূলক অর্থমূল্য বা অন্তর্নিহিত গুণাবলিকে বোঝানো হয়। আর সমাজে প্রচলিত মূল্যবোধ বলতে বোঝানো হয় এমন রীতিনীতি, আদর্শ ও লক্ষ্য যা সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং সমর্থিত। সমাজের বৃহত্তর অংশ দ্বারা মূল্যবোধ সমর্থিত হতে হবে। এটি কোনো স্থির বিষয় নয়। সমাজ-স্থান-কাল-পাত্রভেদে মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!