দৃশ্যকল্প-২: ছবি ও দিবা দুই বোন। ছবি বাস্তববাদী। তার কাছে অর্থ উপার্জন নৈতিকতার চেয়েও বেশি। অন্যদিকে দিবা সৌন্দর্যপিপাসু এবং সে সবকিছুর মধ্যেই সৌন্দর্য খুঁজে পায়।
মূল্যবোধ হলো মানুষের ইচ্ছার একটি বিশেষ মানদণ্ড। যার দ্বারা মানুষের আচার-আচরণ ও রীতিনীতি নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সমাজের মানুষের কাজের ভালো ও মন্দ বিচার করা হয়।
মূল্যবোধ সমাজের ঐক্য ও সংহতি রক্ষার মাধ্যমে সমাজের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। মূল্যবোধ সামাজিক ঐক্য ও সংহতিকে রক্ষা করে। সমাজবদ্ধ মানুষ তাদের নিজ নিজ মূল্যবোধের শিক্ষা অনুযায়ী সমাজে ঐক্যবদ্ধভাবে সংহতি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করে বসবাস করে। এক এক সমাজে এক এক ধরনের মূল্যবোধ প্রাধান্য পায়। ব্যক্তি সেই মূল্যবোধ অর্জনের মাধ্যমে উল্লিখিত সমাজের একজন সদস্য হিসেবে পরিচিত হয়। তাই ব্যক্তি তার সমাজের মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়ে সামাজিক নিয়মশৃঙ্খলা রক্ষা করে এবং নিজ আচরণকে কাঙ্ক্ষিত পথে নিয়ন্ত্রণ ও সংশোধন করে চলে।
জনাব সালাম তাত্ত্বিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি। তাত্ত্বিক মূল্যবোধের ব্যক্তি নিজেকে বাস্তব প্রয়োগ, সত্য ঘটনা উদ্ঘাটন ও সৃজনশীল বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করে। এরা জ্ঞানমূলক মনোভাব গ্রহণ করে, সত্য আবিষ্কারের প্রতি তাত্ত্বিক আগ্রহ রয়েছে এবং আধিপত্য বিস্তারে ব্যাপক আগ্রহ থাকে। ব্যক্তির তাত্ত্বিক মূল্যবোধ তার মনোভাবের সাথে জড়িত। তাত্ত্বিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা সত্যানুসন্ধানী, সত্যকে আবিষ্কার করাই এদের প্রধান লক্ষ্য। এরা সুবিন্যস্ত জ্ঞান ও সুসংহত নিয়মের প্রতি আবদ্ধ থাকতে চায়। তাত্ত্বিক মূল্যবোধের ব্যক্তিরা অনেকটা বৈজ্ঞানিক এবং দার্শনিকের মতো। উদ্দীপকে জনাব সালাম ব্যতিক্রমধর্মী এবং গবেষণাধর্মী কাজে আগ্রহবোধ করেন। জ্ঞান অন্বেষণে তিনি প্রবল উৎসাহী ও মনোযোগী। সুতরাং বলা যায়, জনাব সালামের মধ্যে তাত্ত্বিক মূল্যবোধের উপস্থিতি রয়েছে।
জনাব রহমানের মধ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ লক্ষণীয়। সামাজিক মূল্যবোধ সামাজিক আচরণবিধির সাথে সম্পৃক্ত। সমাজের যেসব আচরণের প্রতি অধিকাংশ মানুষ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে সে সব ক্ষেত্রে অভিন্ন মনোভাব প্রকাশ করাকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে। সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি সহজেই সকল ধরনের মানুষের সাথে বন্ধুত্ব ও প্রীতির সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। মানুষের প্রতি এদের প্রবল ভালোবাসা থাকে। এরা দয়ালু, পরোপকারী, সহানুভূতিশীল এবং নিঃস্বার্থ হয়ে থাকে। এরা কখনো নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা করেন না। অন্যদিকে ধর্মীয় মূল্যবোধ হলো সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস এবং তার সান্নিধ্য অর্জনে নির্ধারিত আচরণ প্রকাশ করা। এ মূল্যবোধ মূলত সৃষ্টিকর্তা ও কিছু ধর্মীয় বিধি-বিধানভিত্তিক বিশ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এরা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলে এবং সৃষ্টিকর্তার নির্দেশ জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্দীপকে জনাব রহমান খুবই মিশুক এবং পরোপকারী। তিনি অত্যন্ত সৎ এবং কর্তব্যপরাযণ। এ ধরনের গুণাবলি জনাব রহমানের সামাজিক মূল্যরোধের পরিচায়ক। আবার তিনি পরকালীন কল্যাণ কামনায় ইহকালীন সুখ বিসর্জন দিতে সদা তৎপর। ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা এ ধরনের বিমূর্ত ধারণার অধিকারী হন। তার এ ধরনের ধারণা ধর্মীয় মূল্যবোধকে নির্দেশ করে। পরিশেষে বলা যায়, জনাব রহমানের মধ্যে একাধিক অর্থাৎ সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিদ্যমান।
মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে সমাজ তার লক্ষ্য অর্জন করে থাকে বিধায় মূল্যবোধকে সমাজের চালিকাশক্তি বলা হয়। মূল্যবোধ সামাজিক. ঐক্য ও সংহতিকে রক্ষা করে। সমাজবদ্ধ মানুষ তাদের নিজ নিজ মূল্যবোধের শিক্ষা অনুযায়ী সমাজে ঐক্যবদ্ধভাবে সংহতি ওস্থিতিশীলতা রক্ষা করে বসবাস করে। এক এক সমাজে এক এক ধরনের মূল্যবোধ প্রাধান্য পায়। ব্যক্তি সেই মূল্যবোধ অর্জনের মাধ্যমে উল্লিখিত সমাজের একজন সদস্য হিসেবে পরিচিত হয়। তাই ব্যক্তি তার সমাজের মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়ে সামাজিক নিয়মশৃঙ্খলা রক্ষা করে এবং নিজ আচরণকে কাঙ্ক্ষিত পথে নিয়ন্ত্রণ ও সংশোধন করে চলে।