মেজর এজাজ নীলগঞ্জ গ্রামে এসেছে মিলিটারি বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে। যারা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এ গ্রামের প্রতিটি মানুষের বিরুদ্ধে। যে যুদ্ধ হলো একপাক্ষিক যুদ্ধ। নিরস্ত্র-সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে ঘোষণা করা যুদ্ধ। যার মাধ্যমে তারা আরম্ভ করে ধর্ষণ, হত্যা, লুণ্ঠন, অমানবিক নির্যাতন-নিপীড়ন। যার উদাহরণ আমরা দেখতে পাই উপন্যাসের বিভিন্ন ঘটনায়।
প্রথমত নীলু সেনের হত্যাকান্ডের ঘটনায় আমরা দেখতে পাই, নীলু সেনের কোনো অপরাধ ছিল না। তার একমাত্র অপরাধ তিনি হিন্দু। কোনো রকম ন্যায়-অন্যায়ের বিচার না করে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর আমরা দেখতে পাই আজিজ মাস্টারের হত্যাকান্ড। তিনি ছিলেন নিরপরাধ। মুক্তিবাহিনী সম্বন্ধে বিন্দুমাত্র ধারণা তার ছিল না। তবুও শুধু সন্দেহের বশে এবং ভীতির রাজত্ব কায়েম করতে আজিজকে হত্যা করা হয়। তারপরে আমরা দেখি যে কীভাবে একজন মিলিটারি সুবাদার ও তিনজন রাজাকার মিলে সফদরউল্লাহর স্ত্রী ও বারো বছর বয়সি শ্যালিকার সম্ভ্রমহানি করে। এরপর মিলিটারি বাহিনীর মদদে অগ্নিসংযোগ করা হয় কৈবর্ত পাড়ায়। লুন্ঠনও চালানো হয় সেখানে।
মেজর এজাজ উপন্যাসে যতই যুদ্ধ ঘোষণার কথা বলুন না কেন, নিজেদের সারভাইভালের প্রশ্ন বলে বৈধতা আদায়ের চেষ্টা করুন না কেন- মূলত যুদ্ধের নামে তারা শুধু ধর্ষণ, হত্যা, লুণ্ঠন ও ভীতির রাজত্ব কায়েম করতে সচেষ্ট ছিলেন।
Related Question
View Allনীলগঞ্জ গ্রামের এক দরিদ্র, অসহায় ও বৃদ্ধ মানুষ চিত্রা বুড়ি। গ্রামের কৈবর্তপাড়ায় তার বাস ছিল। তার ছিল একটি ছেলেসন্তান। সেই ছেলে মনা কৈবর্ত নামক একজনের স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মনা চিত্রা বুড়ির সেই সন্তানকে হত্যা করে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বুড়ি একা হয়ে পড়ে। ছেলে হত্যার বিচার চাইতে নীলু সেনের বাড়িতে ঘোরাঘুরি করলেও কোনো ফল হয় না। অন্যদিকে মনা কৈবর্তও তাকে হুমকি দিয়ে রেখেছিল যে থানা-পুলিশ করা যাবে না। এমতাবস্থায় বুড়ি নীলু সেনের বাড়িতে থাকতে আরম্ভ করে। কেননা কৈবর্ত পাড়ায় তাকে আর গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু তার নাকি নীলু সেনের বাড়িতে থাকতে ভালো লাগত না। তাই সে কালী মন্দিরে থাকতে আরম্ভকরে। এরপর সে ক্রমে এ-বাড়ি, ও-বাড়ি ভিক্ষা করতে শুরু করে। আর এভাবেই সে হয়ে ওঠে নীলগঞ্জ গ্রামের প্রথম ভিক্ষুক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!