"মেজর এজাজের বহুমাত্রিক নিপীড়ন অবদমিত জনতার বিপরীত মূর্তিতে আবর্তিত হওয়ার অন্যতম কারণ।"-কথাটির যৌক্তিকতা তুলে ধর।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

মিলিটারির মেজর এজাজ নীলগঞ্জে এসে ত্রাস সৃষ্টি করেন। মানুষের ওপর নানাবিধ উপায়ে নির্যাতন শুরু করেন। যার ফলে ভীত মানুষরা একসময় সাহসী হয়ে ওঠে।

'১৯৭১' উপন্যাসটি মূলত একটি যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে। এখানে একপক্ষীয় একটি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে দেখানো হয়েছে। উপন্যাসের শুরুতে একটা গ্রাম দেখা যায় যার নাম নীলগঞ্জ। অত্যন্ত প্রত্যন্ত এই গ্রামে একদিন মিলিটারি প্রবেশ করে। মিলিটারির মেজর এজাজ একজন বুদ্ধিমান মানুষ। তিনি শুরুতেই গ্রামের শিক্ষিত মানুষদের ডেকে আনেন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য বের করতে না পেরে তিনি গ্রামের সবার মাঝে ত্রাস সৃষ্টি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি কৈতব্যপাড়ার মনার বিচারের ব্যবস্থা করেন। মনার সঙ্গে তার ছোট ভাই বিরুও ছিল। বিরুর বয়স ছিল ১১ বছর। তিনি মনাকে বিলের মধ্যে দাঁড় করিয়ে গুলি করার নির্দেশ দেন। সঙ্গে তার ছোট ভাই বিরুকেও গুলি করতে বলেন। আর এই নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটায় আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেবের সামনে। এরপর স্কুলঘরে ফেরত এনে ইমাম সাহেবকে মারধর করেন এবং আজিজ মাস্টারকে বিবস্ত্র করেন।

নীলগঞ্জ গ্রামে মিলিটারি আসে একটা মিশনে। এ সম্পর্কিত তথ্য জানার জন্য মেজর এজাজ গ্রামবাসীর ওপর নানাবিধ উপায়ে অত্যাচার চালাতে থাকেন। অত্যাচারের মাত্রা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে শুরু করে। অসহনীয় অত্যাচার চলতে থাকার এক পর্যায়ে নির্যাতিত লোকজন সাহসী হয়ে ওঠে। আজিজ মাস্টার নিজের কাপড় পরতে থাকে এবং মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়। জয়নাল মিয়া সবজান্তা গোয়েন্দার মতো তথ্য আওড়ায়। সফদরউল্লাহ দা হাতে ঘুরে বেড়ায় এবং রফিক মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে এজাজের আশু ধ্বংস বার্তা প্রচার করে। এভাবেই মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অস্তিত্বের পর্দা ঘুচে গেলে বদলে যেতে থাকে মানুষ। মানুষ আসলে এমনই। নিপীড়ন ও অত্যাচার যখন মানুষের সহ্যসীমা পেরিয়ে যায় তখন মানুষ হয়ে ওঠে বিপ্লবী। নিজের অস্তিত্ব টিকিযে রাখার জন্য তখন মানুষ রুদ্রমূর্তি ধারণ করে। উপন্যাসে মেজর এজাজ যে অযৌক্তিক ও অমানবিক নির্যাতন চালায় তা শেষ পর্যন্ত উপন্যাসে বর্ণিত চরিত্রগুলোকে প্রতিবাদী হতে বাধ্য করেছে। তাই বলা যায়, মেজর এজাজের বহুমাত্রিক নিপীড়ন অবদমিত জনতার বিপরীত মূর্তিতে আবর্তিত হওয়ার অন্যতম কারণ।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
279

Related Question

View All
উত্তরঃ

বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য ইমাম সাহেব দোয়া ইউনুসটা আজিজ মাস্টারকে দমে দমে পড়তে বলেন। ইসলাম ধর্মে হজরত ইউনুস (আ.)-কে মাছ গিলে ফেলার পর মাছের পেট থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য তিনি আল্লাহর নিকট দোয়া করতে থাকেন। আল্লাহর অশেষ কৃপায় তিনি মাছের পেট থেকে উদ্ধার পান। সেই দোয়াটি দোয়া ইউনুস নামে পরিচিত। মুসলমানরা বিপদের সময় উদ্ধার পাওয়ার জন্য এই দোয়া পাঠ করেন। নীলগঞ্জ গ্রামে মিলিটারি আসায় গ্রামবাসী বিপদের মধ্যে পড়ে। আর মিলিটারি ইমাম সাহেব এবং আজিজ মাস্টারকে আটকে রাখে। এজন্য ইমাম সাহেব আজিজ মাস্টারকে দোয়া ইউনুসটা দমে দমে পড়তে বলেন।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
149
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews