মেজর এজাজ আহমেদের যুদ্ধকৌশল ছিল একটি জাতিকে/জনগোষ্ঠীকে অস্তিত্বের পরীক্ষায় ফেলে দেওয়া।-আলোচনা কর।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

"মেজর এজাজের যুদ্ধকৌশল ছিল একটি জাতিকে/ জনগোষ্ঠীকে অস্তিত্বের পরীক্ষায় ফেলে দেওয়া।"- উদ্ধৃতিটি যৌক্তিক।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭১ সালের ১ মে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর একটি ইউনিট নীলগঞ্জ গ্রামে শেষরাতে নিঃশব্দে প্রবেশ করে। মেজর এজাজ আহমেদ খবর পান নীলগঞ্জ গ্রামের পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান নিয়েছে। তাদের হাতে আটক হয়েছেন মেজর এজাজের বন্ধু মেজর বখতিয়ার। স্কুলে ক্যাম্প বানিয়ে মিলিটারিরা আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেবকে আটকে রেখে মুক্তিযোদ্ধাদের খবর জানতে চায়। নিরপরাধ এই লোক দুটিকে কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তির মাধ্যমে মুক্তিবাহিনী সম্পর্কিত তথ্য আদায়ের প্রচেষ্টা চালানো হয়।

মিলিটারি গ্রামে প্রবেশের পর জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সরল গ্রামবাসীর অনেকেই মনে করে হানাদার বাহিনী নির্দোষ কাউকে শাস্তি দেয় না। প্রথম দিকে তা-ই ঘটে। নীলু সেনকে হানাদার বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে। মিলিটারি সম্পর্কে জয়নাল মিয়াও মনে করে মুসলমান হিসেবে মুসলিম নারীদের শ্লীলতাহানির ভয় নেই। কিন্তু সেই রাতেই এ বিশ্বাস ভাঙতে থাকে। মিলিটারি সুবেদার তিনজন রাজাকার নিয়ে সফদরউল্লাহর স্ত্রী ও বালিকা শালিকে ধর্ষণ করে। কৈবর্তদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সংশ্লিষ্টতার সূত্র ধরে কৈবর্তপাড়ায় আগুন জ্বালিয়ে দেয়।

বাঙালিদের আত্মসম্মানবোধ নেই বলে দাবি করেন পাকিস্তানি মেজর এজাজ আহমেদ। মৃত্যুর মুখে আজিজ মাস্টারকে ঘৃন্যতম সম্মানহানির শাস্তি দেন। এতে তার সহকারী রফিক প্রতিবাদ জানায়। ফলে বাঙালি হিসেবে রফিককেও সন্দেহ করেন মেজর এজাজ। তার বন্ধু মেজর বখতিয়ার বাঙালিদের বিশ্বাস করে দুর্ভোগ বয়ে আনেন। তাই তিনি বাঙালি জাতিকে বিশ্বাসঘাতক বলে উল্লেখ করেন। জাতিগত নিন্দা মাথায় নিয়ে রফিক আর বেঁচে থাকতে চায় না। কেননা রফিক জানে মৃত্যু ছাড়া তার গত্যন্তর নেই। ফলে রফিক তার জাতিগত অস্তিত্বকে সবার ওপরে স্থান দিয়ে মৃত্যুকে বেছে নেয়। অসম্মানের কবল থেকে মুক্তি পেতে সম্মানের মৃত্যু গ্রহণ করেছিল আজিজ মাস্টার। রফিকও সেই পথ ধরে। আর এটাই ছিল মেজর এজাজের যুদ্ধকৌশল। জাতিগত অহংকারকে চূর্ণ করে, বল প্রয়োগ করে পাকিস্তানবাদকে প্রতিষ্ঠা করা। বাঙালি তা মেনে নেয়নি। তাই বলা যায় যে, মেজর এজাজের যুদ্ধকৌশল ছিল একটি জাতিকে অস্তিত্বের পরীক্ষায় ফেলে দেওয়া।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
205

Related Question

View All
উত্তরঃ

প্রথম সাক্ষাতে আজিজ মাস্টার মেজর এজাজকে সুদর্শন ও রফিককে রোগা শীর্ণ বাঙালি যুবক হিসেবে সাব্যস্ত করে।

গ্রামের স্কুলে ক্যাম্প বসিয়ে পাকবাহিনী প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান মল্লিককে তলব করে। হাঁপানি রোগী আজিজ মাস্টার একাকী স্কুলে আসতে ভয় পায়। তাই ছয়জনের দল নিয়ে তারা পাকিস্তানি মিলিটারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসে। মিলিটারি ভেবে ভয় পেলেও প্রথম দেখায় আজিজ মাস্টারের কাছে মিলিটারি মেজর এজাজ আহমদকে রাজপুত্রের মতো লাগে। অত্যন্ত রূপবান পুরুষ তিনি। চোখে-মুখে কোনো ক্লান্তি ছিল না তার। তবে বসে থাকার ভঙ্গিটি ছিল শ্রান্তির। এজাজ বসেছিলেন তার সামনে রাখা টেবিলে পা তুলে। এজাজের শরীর প্রকান্ড, তবে সেই তুলনায় তার পায়ের পাতা দুটি ছোট লাগছিল। রফিক দাঁড়িয়ে ছিল এজাজ আহমেদের পাশে। আজিজ মাস্টারের কাছে রফিককে রোগা বাঙালি যুবকের মতো দেখাচ্ছিল। সে খুব ঘামছিল আর ময়লা রুমাল দিয়ে নিজের ঘাড় মুছছিল।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
123
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews