অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোরদের দ্বারা সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধই হলো কিশোর অপরাধ।
মাদকাসক্তি রোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ শেখানোর জন্য অভিভাবক ও পরিবারের বায়াজ্যেষ্ঠ সদস্যদের সচেষ্ট হতে হবে। মোটকথা, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
উদ্দীপকে নয়নের কর্মকান্ডে যে সামাজিক সমস্যার প্রকাশ পায় তা হলো মাদকাসক্তি।
বাবার মৃত্যুর পর কষ্ট ভুলতে নয়ন প্রথমে যখন ধূমপান শুরু করে তখন থেকেই তার মাদকের পথে যাত্রা। মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে না জেনেই সাময়িক উত্তেজনা লাভের জন্য অথবা বন্ধু বান্ধবের প্ররোচনায় কৌতূহলপ্রবণ হয়ে এর প্রতি তার আকর্ষণ তৈরি হয়। যা পরবর্তীতে মরণনেশায় পরিণত হয়। গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবা তখন নিত্যসঙ্গী হয়ে পড়ে। ব্যক্তিগত জীবনের হতাশা, পারিবারিক অশান্তি কিংবা অপসংস্কৃতির প্রভাবেও মাদকাসক্তি গড়ে উঠতে পারে। মাদকাসক্তির প্রভাবে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন অসহ্য হয়ে ওঠে। হতাশা ও হীনম্মন্যতার সাথে সাথে শরীরে বিভিন্ন রোগ জন্ম নেয়। যেমন- যক্ষ্মা, কান্সার প্রভৃতি। ফলে মাদকে আসক্ত ব্যক্তি সমাজে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তাই নৈতিক শিক্ষা ও সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে মাদকাসক্তি মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত নয়নের মা বা অভিভাবকদের সচেতনতাই একমাত্র পথ নয় বরং আরও অনেক পন্থা রয়েছে বলে আমি মনে করি। সেকল পন্থাগুলো হলো- সমাজে নৈতিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হরে। মাদক বিরোধী সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে মাদক প্রতিরোধী ভূমিকা পালন করতে পারে। সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ইত্যাদি মাধ্যমে মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সুস্থ-বিনোদনের প্রতি শিশু-কিশোরদের আকর্ষণ তৈরি করতে হবে। মাদকাসক্তি প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনি পদক্ষেপগুলো গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
উদ্দীপকে মেধাবী ছাত্র নয়নকে মাদকাসক্ত থেকে ফিরিয়ে আনতে উপরিউক্ত সকল পন্থাসমূহ অবলম্বন করতে হবে। একক কোনে পন্থা বা পদক্ষেপ নয়ন কোনো কোনো মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারবে না।
পরিশেষে বলা যায় যে, অভিভাবকদের সচেতনতাই একমাত্র সমাধানের পথ নয়। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটির সাথে আমি দ্বীমত পোষণ করি।
Related Question
View Allসামাজিক সমস্যা হলো সমাজে বিরাজিত একটি অবস্থা, যা জনগণের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে এবং এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালায়। বাংলাদেশে নানা সামাজিক সমস্যা রয়েছে।
বাংলাদেশে নানা সামাজিক সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে কিশোর অপরাধ ও মাদকাসক্তি দুটি বড়ো সমস্যা। বর্তমানে এ দুটি সমস্যা সবার জন্যই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণভাবে রাষ্ট্র বা সমাজ স্বীকৃত নয় এমন কজকে অপরাধ বলে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোরদের দ্বারা সংগঠিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধকেই বলা হয় কিশোর অপরাধ। কিশোর বয়সে এরা রাষ্ট্র ও সমাজের আইন ও নিয়ম ভাঙে বলেই তারা কিশোর অপরাধী।
বিভিন্ন দেশের সমাজবিজ্ঞানী ও আইনবিদদের মধ্যে কিশোর অপরাধের বয়স নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কাজকে কিশোর অপরাধ বলা হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে কিশোর অপরাধীর বয়স ৭ থেকে ১৮ বছর। আর জাপানে এ বয়সীমা ১৪ থেকে ২০ বছর।
আমাদের দেশে কিশোর অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্র্য। দরিদ্র পরিবারের কিশোরদের অনেক সাধ বা ইচ্ছাই অপূর্ণ থেকে যায়। এর ফলে তাদের মধ্যে বাড়ে হতাশা এবং এ হতাশাই তাদের অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।
বাড়ির বাইরে বা কর্মস্থলে অতি ব্যস্ততার কারণে মাতাপিতার পক্ষে তাদের সন্তানদের যথেষ্ট সময় বা মনোযোগ দিতে না পারা, আদর-যত্নের অভাব, মাতাপিতার অকালমৃত্যু বা বিবাহবিচ্ছেদ এমনকি অভিভাবকদের অতিরিক্ত শাসনের কারণেও অনেক কিশোর ধীরে ধীরে অপরাধী হয়ে ওঠে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!