অপুষ্টি হলো খাদ্যের গুণগত ও পরিমাণগত ভারসাম্যহীনতার ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি।
বাল্যবিবাহ বলতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিবাহকে বোঝানো হয়। এক্ষেত্রে বয়স হলো বিয়ের মাপকাঠি।
বাংলাদেশ শিশু আইন-২০১৩ অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে সকলেই শিশ হিসেবে গণ্য হবে। তাই আইনগত দিক থেকে ১৮ বছরের নিচের কোনো মেয়ে বা ছেলের বিবাহ সম্পন্ন হলে তাকে বাল্যবিবাহ বলা হয়। এছাড়া আমাদের দেশে ছেলেদের বিয়ের বয়স ২১ এবং মেয়েদের ১৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী পাত্র বা পাত্রীর বয়স এর কম হলে তা বাল্যবিবাহ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে ২০১৭ সালের বাল্যবিবাহ আইন অনুযায়ী বিশেষ প্রয়োজনে এবং অভিভাবকের সম্মতিতে পাত্র-পাত্রীর বয়স যথাক্রমে ২১ ও ১৮ বছরের কম হলেও বিবাহ হতে পারবে।
উদ্দীপকে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি বাংলাদেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা যৌতুক প্রথার প্রতিচ্ছবি।
যৌতুক আদান-প্রদান একটি সামাজিক কু-প্রথা। বিয়ের সময় কন্যাপক্ষ বরপক্ষকে বা বরপক্ষ কন্যাপক্ষকে অন্যপক্ষের দাবি মেটাতে বাধ্য হয়ে বা স্বেচ্ছায় যে উপঢৌকন দেয় তাকে যৌতুক বলে। এখানে উপঢৌকন বলতে বাড়ি-ঘর, জায়গা-জমি, নগদ অর্থ, গয়না বা যেকোনো প্রকার আর্থিক সুবিধা ইত্যাদিকে বোঝানো হয়। বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় যৌতুকের জন্য কন্যার পরিবারকে অনেক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। এমনকি এ প্রথার কারণে সমাজে নারী নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক নারী নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়।
উদ্দীপকে মেহেরুন্নেসা পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ পড়ছিলেন। তিনি জানতে পারেন বুলবুলি নামের একটি মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। এর কারণ বিয়ের সময় দেওয়া কথা অনুযায়ী তার বাবা বরকে টাকা দিতে পারেনি। ফলে তার জীবনে নেমে আসে অসহনীয় নির্যাতন। এক সময় সে অত্যাচার সইতে না পেরে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনা ওপরে বর্ণিত যৌতুক প্রথার চিত্রই তুলে ধরেছে। তাই বলা যায় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ যৌতুক নামক কু-প্রথার প্রতিচ্ছবি।
উদ্দীপকের সামাজিক সমস্যা অর্থাৎ যৌতুক প্রথা বাংলাদেশের সমাজে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
যৌতুক একটি সামাজিক সমস্যা। প্রতিটি সমাজের জন্যই এটি একটি ক্ষতিকর প্রথা। এমনকি এটি নারীর জন্য অবমাননাকর এবং অপমানসূচক। বর্তমানে বাংলাদেশের সমাজে এ প্রথা বিভিন্নভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যৌতুকের দাবি মেটাতে গিয়ে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে তার সর্বস্ব হারাতে হয়। এতে পরিবারে আর্থিক সংকট নেমে আসছে। যৌতুক আদান-প্রদানকে কেন্দ্র করে পরিবারে নানা ধরনের অশান্তি দেখা দেয়; এমনকি তা পারিবারিক ভাঙনেও রূপ নেয়। আবার দাবি পূরণ না হলে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের স্ত্রীর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাতে দেখা যায় যা উদ্দীপকের বুলবুলির ক্ষেত্রেও ঘটেছে।
যৌতুকের প্রভাবে সংশ্লিষ্ট দুটি পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেননা কন্যার বাবা যৌতুকের টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে আর্থিক অনটনে পড়েন। আবার যে মেয়েকে যৌতুক দিয়ে বিয়ে দেওয়া হলো সেও তার স্বামীর সংসারে ভালো থাকে না। প্রদত্ত যৌতুকের কমবেশি নিয়ে বা নতুন দাবি নিয়ে নববধূ স্বামী বা তার পরিবারের চাপে থাকে। অনেক নারী স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকের কাছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। এর ফলে সমাজে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়। অনেক সময় বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। কোনো কোনো নারী আত্মহত্যার মতো নেতিবাচক চরম পথ বেছে নেন। সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হয় ও সমাজ অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।
সার্বিক আলোচনা থেকে বলা যায় উদ্দীপকের সামাজিক সমস্যা অর্থাৎ যৌতুক প্রথা বিভিন্নভাবে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে
Related Question
View AllIFNS এর পূর্ণরূপ হলো International Federation of Nematology Societies.
সামাজিক সমস্যা সমাজের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে বিধায় একে সর্বজনীনভাবে ক্ষতিকর বিবেচনা করা হয়।
বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যাকে সামাজিক সমস্যা বলা যায় না। যখন কোনো বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত সমস্যা সমাজের অধিকাংশ মানুষের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তখন বা সামাজিক সমস্যারূপে গণ্য হয়। এটি সমাজের সামগ্রিক মঙ্গলের পরিপন্থী। এছাড়া সামাজিক সমস্যা সব দেশের সব সময়ের সমাজের মানুষের জন্যই ক্ষতিকর। কোনো সমাজের মানুষই সামাজিক সমস্যার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি। তাই সামাজিক সমস্যাকে সর্বজনীন ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আনিসা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।
যে খাদ্যে খাবারের ছয়টি গুণ, যেমন- আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, পানি, খনিজ লবণ ও ভিটামিন বিদ্যমান সেই খাবার হলো পুষ্টিসম্মত খাবার। এ ধরনের খাবারের অভাবে শরীরে যে অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হয় তাই হলো অপুষ্টি বা পুষ্টিহীনতা। আনিসার ক্ষেত্রে এ অস্বাভাবিক অবস্থাই দৃষ্টিগোচর হয়।
বস্তিবাসী আনিসা চোখে সমস্যা, মুখে ঘা, ঠোঁট ফাঁটা সমস্যাগুলোতে ভুগছে। এছাড়া রক্তস্বল্পতার জন্য তার মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
এসব সমস্যার কারণে সে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা মূলত অপুষ্টির কারণেই হয়। মানবদেহের স্বাভাবিক অবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের গুণগত ও পরিমাণগত অভাবজনিত অবস্থাকে অপুষ্টি বলা হয়। দৈনন্দিন জীবনে একজন মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম থাকার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ও গুণগত খাবার। এ ধরনের খাবারের ঘাটতিই অপুষ্টির সৃষ্টি করে। এ অবস্থা শরীরে নানা ধরনের রোগের জন্ম দেয়, স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত করে, কর্মশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে। এছাড়া পুষ্টিহীনতার কারণে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। যার ফলে স্বাভাবিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হয়। উদ্দীপকের আনিসার ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটার কারণে বলা যায়, সে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।
উক্ত সমস্যা অর্থাৎ পুষ্টিহীনতা সৃষ্টি হওয়ার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদার অপূরণকে দায়ী করা যায়।
মানুষের বেঁচে থাকার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলো পূরণ করা অপরিহার্য। কিন্তু বাংলাদেশের মতো নিম্ন আয়ের দেশে দারিদ্র্য, অধিক জনসংখ্যা প্রভৃতি কারণে অনেকেই মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না। ফলে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যাগুলোর মধ্যে পুষ্টিহীনতা অন্যতম। আমাদের দেশের অনেক মানুষ ঠিকমতো খাবার পায় না। আর পুষ্টিকর খাবারের সংস্থান দরিদ্র লোকের জন্য প্রায় অসম্ভব। এছাড়া খাদ্যের গুণাগুণ সম্পর্কেও এদেশের বেশিরভাগ মানুষ অজ্ঞ। ফলে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবারের অভাবে তারা স্বাস্থ্যহীনতায় বা পুষ্টিহীনতায় ভোগে। এ কারণে এদেশের মানুষ রক্তশূন্যতা, চক্ষুরোগ, রাতকানা, রিকেটসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
আবার সুস্বাস্থ্যের জন্য শুধু খাবারই পর্যাপ্ত নয়, ভালো আবাসন, পোশাক এবং উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এদেশের মানুষ পর্যাপ্ত বাসস্থান, পোশাক এবং চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। শহর এলাকায় বস্তি সমস্যা, গ্রাম এলাকায় চিকিৎসা সুবিধার অপ্রতুলতার কারণে অনেকেই অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় দিন পার করছে। এসব কারণে পুষ্টিহীনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ আলোচনা থেকে তাই বলা যায় অপুষ্টি নামক সমস্যাটি সৃষ্টি হওয়ার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ না হওয়াই বেশি দায়ী।
জেলা সমাজসেবা অফিসের প্রধান কর্মকর্তা শহর সমাজসেবা কর্মসূচি তত্ত্বাবধান করেন।
সন্তান উৎপাদন ও লালন-পালন বিবাহের অন্যতম কাজ। বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠিত হয়। আর পরিবার সন্তান উৎপাদন ও লালন-পালনের সর্বোৎকৃষ্ট প্রতিষ্ঠান। মানব শিশুর লালন-পালনের দায়িত্ব বাবা-মার ওপরই বর্তায়। বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠন করায় শিশুর রক্ষণাবেক্ষণ ও লালন-পালনে কোনো সমস্যা হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!