আইন হলো রাষ্ট্রের মতো বহু বিবর্তনের ফল। তাই আইনের একাধিক উৎস রয়েছে। উৎসগুলো নিম্নরূপ-ধর্মীয় বিধিবিধান, প্রথা, বিচারকের রায়, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, ন্যায়বোধ, আইনসভা, জনমত, নির্বাহী ঘোষণা ও ডিক্রি।
সাম্য ও স্বাধীনতার মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক বিদ্যমান। বস্তুত সাম্য ছাড়া যেমন স্বাধীনতা হয় না তেমনি স্বাধীনতা ছাড়া সাম্যও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। স্বাধীনতার আদর্শকে বাস্তবে রূপায়িত করার জন্য সাম্যের পরিবেশ প্রয়োজন। আইনের দৃষ্টিতে সমানাধিকার স্বীকৃতি হলে এবং অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে বৈষম্য বিলুপ্ত হলে নাগরিকদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অন্যান্য স্বাধীনতা যথাযথভাবে ভোগ করা সম্ভব হয়। সমাজে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা থাকলে স্বাধীনতা মূল্যহীন হয়ে পড়ে এবং স্বাধীনতার অস্তিত্ব বিপর্যস্ত হয়। এ কারণে বলা হয় সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা অর্থহীন।
আইনের মাধ্যমে সাভার ইপিজেড এর নারী শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায় করা সম্ভব। কেননা আইন হলো দেশের সংবিধান স্বীকৃত ও আইন বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত শাসনকার্য পরিচালনার একটি মাধ্যম আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং আইন ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। অনেক সময় আইনের দ্বারা সম্ভাব্য শাস্তির ভয়ে অনেক মানুষ আইন মেনে চলতে বাধ্য হয়। তাছাড়া আইন জনসাধারণের সম্পত্তি, অধিকার, শৃঙ্খলাবোধ, স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি তার সর্বাঙ্গীণ নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। তাই সাভার ইপিজেডের নারী শ্রমিকদের দাবি যেহেতু ন্যায্য সেহেতু এটা তাদের অধিকার। তাই আইনের মাধ্যমে এ দাবি আদায় করা সম্ভব।
উদ্দীপকে উল্লিখিত নারী নেতৃবৃন্দের ধারণার সাথে আমি একমত। নারী ও পুরুষ সমাজের দুটি অবিচ্ছেদ্য অংশ পুরুষ যেমন সমাজের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন তেমনি নারীও সমাজের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন। শুধু পুরুষ যেমন এককভাবে সমাজের বা রাষ্ট্রের উন্নতি সাধন করতে পারবে না ঠিক তেমনি শুধু নারীও ভাবে সমাজের রাষ্ট্রের উন্নয়ন ঘটাতে পারবে না। তাই সমাজ বা রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন নারী ও পুরুষের সমান অধিকার। কিন্তু পারিশ্রমিক প্রদানের ক্ষেত্রে লক্ষ করলে দেখা যায়, পুরুষ শ্রমিককে যে পারিশ্রমিক দেওয়া হয় নারী শ্রমিককে সেই একই কাজের জন্য পুরুষের চেয়ে কম পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। এ পর্যায়ে যদি বলা হয় নারীরা পুরুষের তুলনায় কম শক্তিশালী কিংবা কম পরিশ্রম করতে পারে তাহলে বলতে হয় শক্তির মাধ্যমে যদি কর্মক্ষমতা বিচার করা হতো তাহলে বর্তমান বিশ্বে নারীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আর অবদান রাখতে পারত না। তাই আমি উদ্দীপকের নারী নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের সাথে একমত যে আইনের মাধ্যমে নারী-পুরুষ সমান পারিশ্রমিক প্রদান নিশ্চিত হলে নারীরা সমাজে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে।
Related Question
View Allআইন হলো- সার্বভৌম শাসকের আদেশ"- কথাটি বলেছেন জন অস্টিন।
সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন।
আইনের শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকারের সংরক্ষণকে। সংখ্যালঘু ও রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এটি জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ।
আইনের শাসন গণতন্ত্রের ভিত্তি। মমতাজ সাহেব গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় লেখনী ধারণ করেন।
তিনি আইনের শাসনকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় মূল্যবোধের বিকাশের মূল হিসেবে দেখেছেন। যথাযথ আইনের শাসনের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির নিশ্চয়তা লাভ করে। আইনের শাসনের মাধ্যমে 'সকল নাগরিক সমান' এ নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগে সমান সুযোগের ভিত্তিতে সবাই বিচার লাভ করবে। দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে সবাই নিরাপত্তা লাভ করবে। আইনের শাসনের এ বিষয়গুলো মূলত গণতন্ত্রের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রধানত সংখ্যাগুরুর মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। এতে সংখ্যালঘুরাও সমান সুযোগ পাবে, মত প্রকাশের সমান অধিকার থাকবে। আইনের শাসন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে, গণতন্ত্র চর্চাকে পরিশীলিত করে এবং সুশাসন নিশ্চিত করে।
প্রচলিত সাধারণ অর্থানুসারে আইন হলো কতকগুলো বিবিবিধান যা মানুষ সামাজিক প্রাণী হিসেবে মানতে বাধ্য থাকে। অন্যদিকে, স্বাধীনতা বলতে যা খুশি তাই করার ক্ষমতাকে বোঝায়। আপাতদৃষ্টিতে আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়। কিন্তু মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি আমাদেরকে বলতে চাচ্ছে যে, আইন স্বাধীনতার সহায়ক।
বস্তুত আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক। আইন না থাকলে স্বাধীনতা থাকতে পারে না। আইন আছে বলেই স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করা যায়। আইন স্বাধীনতাকে সম্প্রসারিত করে। উইলোবি এজন্যই বলেছেন যে, "আইন আছে বলেই স্বাধীনতা রক্ষা পায়।" অন্যদিকে, স্বাধীনতা না থাকলে আইন অর্থহীন হয়ে যায়। কেননা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকলে আইনের প্রয়োগ সম্ভব হয় না। আইন আছে বলেই কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনের বলেই স্বাধীন বাংলার মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। আইন না থাকলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার অর্থহীন হয়ে যায়। আইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অধিকার দ্বারাই জনগণ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে স্বাধীনতা লাভ করে। আইন না থাকলে দুর্বলের স্বাধীনতা রক্ষা করা কতটা সম্ভব হতো তা প্রশ্ন সাপেক্ষ ব্যাপার। এজন্যই বলা যায়, সাংবাদিক মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি যথার্থ।
আব্রাহাম লিংকন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট।
মূল্যবোধ বলতে তুলনামূলক অর্থমূল্য বা অন্তর্নিহিত গুণাবলিকে বোঝানো হয়। আর সমাজে প্রচলিত মূল্যবোধ বলতে বোঝানো হয় এমন রীতিনীতি, আদর্শ ও লক্ষ্য যা সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং সমর্থিত। সমাজের বৃহত্তর অংশ দ্বারা মূল্যবোধ সমর্থিত হতে হবে। এটি কোনো স্থির বিষয় নয়। সমাজ-স্থান-কাল-পাত্রভেদে মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!