'মৈমনসিংহ গীতিকা' কে সংগ্রহ করেন? (জ্ঞানমূলক)

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন ড. দীনেশচন্দ্র সেন।

283

পল্লিগ্রামে শহরের মতো গায়ক, বাদক, নর্তক না থাকলেও তার অভাব নেই। চারদিকে কোকিল, দোয়েল,পাপিয়া প্রভৃতি পাখির কলগান, নদীর কুলকুল ধ্বনি, পাতার মর্মর শব্দ, শ্যামল শস্যের ভঙ্গিময় হিলাদুলা প্রচুর পরিমাণে শহরের অভাব এখানে পূর্ণ করে দিচ্ছে। পল্লির ঘাটে মাঠে, পল্লির আলোবাতাসে, পল্লির প্রত্যেক পরতে পরতে সাহিত্য ছড়িয়ে আছে। কিন্তু বাতাসের মধ্যে বাস করে যেমন আমরা ভুলে যাই বায়ু- সাগরে আমরা ডুবে আছি, তেমনি পাড়াগাঁয়ে থেকে আমাদের মনেই হয় না যে কত বড়ো সাহিত্য ও সাহিত্যের উপকরণ ছড়িয়ে আছে ।
শ্রদ্ধেয় ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করে দেখিয়েছেন, সাহিত্যের কী এক অমূল্য খনি পল্লিজননীর বুকের কোণে লুকিয়ে আছে। সুদূর পশ্চিমের সাহিত্যরসিক রোমাঁ রোলাঁ পর্যন্ত ময়মনসিংহের মদিনা বিবির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন। মনসুর বয়াতির মতো আরও কত পল্লিকবি শহুরে চক্ষুর অগোচরে পল্লিতে আত্মগোপন করে আছেন, কে তাঁদের সাহিত্যের মজলিসে এসে জগতের সঙ্গে চেনাশোনা করিয়ে দেবে? আজ যদি বাংলাদেশের প্রত্যেক পল্লি থেকে এইসব অজানা অচেনা কবিদের গাথা সংগ্রহ করে প্রকাশ করা হতো, তাহলে দেখা যেত বাংলার মুসলমানও সাহিত্য সম্পদে কত ধনী। কিন্তু হায়! এ কাজের জন্য স্বেচ্ছাসেবক দল কই?
আমরা পল্লিগ্রামে বুড়োবুড়ির মুখে কোনো ঝিল্লিমুখর সন্ধ্যাকালে যেসব কথা শুনতে শুনতে ছেলেবেলায় ঘুমিয়ে পড়েছি, সেগুলি না কত মনোহর! কত চমকপ্রদ! আরব্য উপন্যাসের আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ, আলিবাবা ও চল্লিশ দস্যু প্রভৃতির চেয়ে পল্লির উপকথাগুলোর মূল্য কম নয়। আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোতে সেগুলো বিস্মৃতির অতল গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। এখনকার শিক্ষিত জননী সন্তানকে আর রাখালের পিঠা গাছের কথা, রাক্ষসপুরীর ঘুমন্ত রাজকন্যার কথা বা পঙ্খিরাজ ঘোড়ার কথা শুনান না, তাদের কাছে বলেন আরব্য উপন্যাসের গল্প কিংবা Lambs Tales from Shakespeare এর গল্পের অনুবাদ। ফলে কোনো সুদূর অতীতের সাক্ষীস্বরূপ এই রূপকথা নষ্ট হয়ে অতীতের সঙ্গে আমাদের সম্বন্ধ লোপ করে দিচ্ছে। যদি আজ বাংলার সমস্ত রূপকথা সংগৃহীত হতো, তবে কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা করে দেখিয়ে দিতে পারতেন যে, বাংলার নিভৃত কোণের কোনো কোনো পিতামহী মাতামহীর গল্প ভারতীয় উপমহাদেশের অন্য প্রান্তে কিংবা ভারত উপমহাদেশের বাইরে সিংহল, সুমাত্রা, যাভা, কম্বোডিয়া প্রভৃতি স্থানে এমনিভাবে প্রচলিত আছে। হয়তো এশিয়ার বাইরে ইউরোপখণ্ডে লিথোনিয়া কিংবা ওয়েলসের কোনো পল্লিরমণী এখনও হুবহু বা কিছু রূপান্তরিতভাবে সেই উপকথাগুলো তার ছেলেপুলে বা নাতি-পোতাকে শোনাচ্ছে। কে আছে এই উপকথাগুলো সংগ্রহ করে তাদের অবশ্যম্ভাবী ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করবে? ইউরোপ, আমেরিকা দেশে বড়ো বড়ো বিদ্বানদের সভা আছে, যাকে বলা হয় Folklore Society। তাদের কাজ হচ্ছে এইসব সংগ্রহ করা এবং অন্য সভ্য দেশের উপকথার সঙ্গে সাদৃশ্য নিয়ে বিচার করা । এগুলো নৃতত্ত্বের মূল্যবান উপকরণ বলে পণ্ডিত সমাজে গৃহীত হয়। শ্রীযুক্ত দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ বা ‘ঠাকুরদার থলে' যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের সমস্ত উপকথা এক জায়গায় জড় করলে বিশ্বকোষের মতো কয়েক বালামে তার সংকুলান হতো না ।
আমরা Shakespeare-এ পড়েছি রাক্ষসদের বাঁধা বুলি হচ্ছে Fi, Fie, foh, fun ! ও smell the blood of a British man- এর সঙ্গে তুলনা করে পল্লির ‘হাঁউ, মাউ, খাঁউ, মানুষের গন্ধ পাঁউ, এ সাদৃশ্য হলো কোথা থেকে? তবে কি একদিন ঐ সাদা ইংরেজ ও এই কালো বাঙালির পূর্ব পুরুষগণ ভাই ভাই রূপে একই তাঁবুর নিচে বাস করত? সে আজ কত দিনের কথা কে জানে? আমরা কথায় কথায় প্রবাদ বাক্য জুড়ে দিই- যেমন ‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা নেই’, ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি', আপনি বাঁচলে বাপের নাম', এই রকম আরও কত কী! তারপর ডাকের কথা আছে, খনার বচন আছে ।
যেমন ধরুন— কলা রুয়ে না কেটো পাত,
তাতেই কাপড় তাতেই ভাত ।
প্রবাদ বাক্যে এবং ডাক ও খনার বচনে কত যুগের ভূয়োদর্শনের পরিপক্ব ফল সঞ্চিত হয়ে আছে, কে তা অস্বীকার করতে পারে? শুধু তাই নয়, জাতির পুরনো ইতিহাসের অনেক গোপন কথাও এর মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় ।
আমরা আজও বলি— ‘পিঁড়েয় বসে পেঁড়োর খবর।’এই প্রবাদ বাক্যটি সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন পাণ্ডুয়া বঙ্গের রাজধানী ছিল। কে এই প্রবাদ বাক্য, ডাক, খনার বচনগুলি সংগ্রহ করে তাদের চিরকাল জীবন্ত করে রাখবে?
তারপর ধরুন, ছড়ার কথা। কথায় কথায় ছেলেমেয়েগুলো ছড়া কাটতে থাকে। রোদের সময় বৃষ্টি হচ্ছে, অমনি তারা সমস্বরে ঝংকার দিয়ে ওঠে—
রোদ হচ্ছে, পানি হচ্ছে,
খেঁকশিয়ালীর বিয়ে হচ্ছে ।
এর সঙ্গে সঙ্গে মনে করুন মায়ের সেই ঘুমপাড়ানী গান, সেই খোকা-খুকির ছড়া। এগুলি সরস প্রাণের জীবন্ত উৎস, কিন্তু আজ দুঃখে দৈন্যে প্রাণে সুখ নেই। ছড়াও ক্রমে লোকে ভুলে যাচ্ছে। কে এগুলিকে বইয়ের পাতায় অমর করে রাখবে ?

শুধু ছড়া কেন? খেলাধুলার না কত বাঁধা গৎ আছে বা ছিল আমাদের এ দেশে । যখন ফুটবল, ব্যাটবলের নাম কারও জানা ছিল না, তখন কপাটি খেলার খুব ধুম ছিল। সে খেলার সঙ্গে কত না বাঁধা বুলি ছেলেরা ব্যবহার করত—
এক হাত বোল্লা বার হাত শিং
উড়ে যায় বোল্লা ধা তিং তিং ৷
বিদেশি খেলার প্রচলনের সঙ্গে সঙ্গে এসব লোপ পাবার উপক্রম হয়েছে। কে এদের বাঁচিয়ে রাখবে? তারপর ধরুন, পল্লিগানের কথা। পল্লিসাহিত্য সম্পদের মধ্যে এই গানগুলি অমূল্য রত্নবিশেষ। সেই জারি গান, সেই ভাটিয়ালি গান, সেই রাখালি গান, মারফতি গান- গানের এক অফুরন্ত ভাণ্ডার পল্লির ঘাটে, মাঠে ছড়ানো রয়েছে। তাতে কত প্রেম, কত আনন্দ, কত সৌন্দর্য, কত তত্ত্বজ্ঞান ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। শহুরে গানের প্রভাবে সেগুলো এখন বর্বর চাষার গান বলে ভদ্রসমাজে আর বিকায় না । কিন্তু -
মনমাঝি তোর বৈঠা নে রে
আমি আর বাইতে পারলাম না ।
এই গানটির সঙ্গে আপনার শহুরে গানের কোনো তুলনা হতে পারে? কিন্তু ধারাবাহিকরূপে সেগুলো সংগ্রহের জন্য কোনো চেষ্টা হচ্ছে কি?
এ পর্যন্ত যা বললাম সেগুলো হচ্ছে পল্লির প্রাচীন সম্পদ। সাহিত্যের ভাণ্ডারে দান করবার মতো পল্লির নতুন সম্পদেরও অভাব নেই। আজকাল বাংলাসাহিত্য বলে যে সাহিত্য চলছে, তার পনেরো আনা হচ্ছে শহুরে সাহিত্য, সাধু ভাষায় বলতে গেলে নাগরিক সাহিত্য। সে সাহিত্যে আছে রাজ-রাজড়ার কথা, বাবু-বিবির কথা, মোটরগাড়ির কথা, বিজলি বাতির কথা, সিনেমা থিয়েটারের কথা, চায়ের বাটিতে ফুঁ দেবার কথা। এইসব কথা নিয়ে গল্প, উপন্যাস, কবিতা, নাটক রাশি রাশি লেখা হচ্ছে। পল্লির গৃহস্থ কৃষকদের, জেলে-মাঝি, মুটে-মজুরের কোনো কথা তাতে ঠাঁই নাই। তাদের সুখ-দুঃখ, তাদের পাপ-পুণ্য, তাদের আশা- আকাঙ্ক্ষার কথায় কজন মাথা ঘামাচ্ছে? আমাদের বিশ্ববরেণ্য কবিসম্রাটও একবার ‘এবার ফিরাও মোরে' বলে আবার পুরানো পথে নাগরিক সাহিত্য নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। ধানগাছে তক্তা হয় কিনা, এখন শহুরে লোকেরা এটা জানলেও পাড়াগাঁয়ের জীবন তাদের কাছে এক অজানা রাজ্য। সেটা কারো কাছে একেবারে পচা জঘন্য, আর কারো কাছে একেবারে চাঁদের জ্যোৎস্না দিয়ে ঘেরা। তাঁরা পল্লির মর্মকথা কী করে জানবেন? কী করেই বা তার মুখচ্ছবিখানি আঁকবেন? আমাদের আজ দরকার হয়েছে শহুরে সাহিত্যের বালাখানার পাশে গেঁয়ো সাহিত্যের জোড়াবাংলা ঘর তুলতে। আজ অনেকের আত্মা ইট-পাথর ও লোহার কৃত্রিম বাঁধন থেকে মুক্ত হয়ে মাটির ঘরে মাটির মানুষ হয়ে থাকতে চাচ্ছে। তাদের জন্য আমাদের কিছু গড়াগাঁথার দরকার আছে। ইউরোপ, আমেরিকায় আজ এই Proletariat সাহিত্য ক্রমে আদরের আসন পাচ্ছে, আমাদের দেশেও পাবে। কিন্তু কোথায় সে পল্লির কবি, ঔপন্যাসিক ও সাহিত্যিক, যাঁরা নিখুঁতভাবে এই পল্লির ছবি শহরের চশমা আঁটা চোখের সামনে ধরতে পারবেন?

এই সমস্ত রূপকথা, পল্লিগাথা, ছড়া প্রভৃতি দেশের আলোবাতাসের মতো সকলেরই সাধারণ সম্পত্তি। তাতে হিন্দু মুসলমান কোনো ভেদ নেই। যেরূপ মাতৃস্তন্যে সন্তান মাত্রেরই অধিকার, সেরূপ এই পল্লিসাহিত্যে পল্লিজননীর হিন্দু মুসলমান সকল সন্তানেরই সমান অধিকার ।
এক বিরাট পল্লিসাহিত্য বাংলায় ছিল। তার কঙ্কালবিশেষ এখনও কিছু আছে, সময়ের ও রুচির পরিবর্তনে সে অনাদৃত হয়ে ধ্বংসের পথে দাঁড়িয়েছে। নেহাত সেকেলে পাড়াগাঁয়ের লোক ছাড়া সেগুলোর আর কেউ আদর করে না। কিন্তু একদিন ছিল যখন নায়ের দাঁড়ি-মাঝি থেকে গৃহস্থের বউ-ঝি পর্যন্ত, বালক থেকে বুড়ো পর্যন্ত, আমির থেকে গরিব পর্যন্ত সকলকেই এগুলো আনন্দ উপদেশ বিলাতো। যদি পল্লিসাহিত্যের দিকে পল্লিজননীর সন্তানেরা মনোযোগ দেয়, তবেই আমার মনে হয় এরূপ পল্লিসাহিত্য সভার আয়োজন সার্থক হবে, নচেৎ এ সকল কেবলি ভুয়া, কেবলি ফক্কিকার।

Related Question

View All
উত্তরঃ যুগ যুগ ধরে লোকমুখে প্রচলিত সংক্ষিপ্ত অথচ সারগর্ভ উক্তি, যা বিশেষ অর্থ বা নীতি বাক্য প্রকাশ করে, তাকে প্রবাদ বাক্য বলে। এসব উক্তির পেছনে কোনো বিশেষ ঘটনা বা অভিজ্ঞতা নিহিত থাকে।
Satt AI
Satt AI
1 week ago
952
উত্তরঃ

পল্লিসাহিত্য আমাদের জাতিসত্তা, ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ জীবনধারার প্রতিচ্ছবি হওয়ায় এর সংরক্ষণ অপরিহার্য। এটি গ্রামবাংলার মানুষের সুখ-দুঃখ, বিশ্বাস, লোকাচার ও মূল্যবোধকে ধারণ করে, যা আমাদের সাংস্কৃতিক শেকড়কে মজবুত রাখে।

আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পল্লিসাহিত্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের অতীতকে জানতে পারি, লোকায়ত জ্ঞান ও শিল্পকলার সাথে পরিচিত হতে পারি এবং জাতীয় আত্মপরিচয় সমুন্নত রাখতে পারি।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
1.1k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের করিম সাহেবের মানসিকতায় 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে উপেক্ষার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। বিদেশি সংস্কৃতিকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করা এবং নিজস্ব ঐতিহ্যকে অবজ্ঞা করার যে প্রবণতা, সে মনোভাবটি করিম সাহেবের মধ্যে স্পষ্টভাবে বিদ্যমান, যা 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে সমালোচিত হয়েছে।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে পল্লির অমূল্য সাহিত্য ভান্ডার, যেমন—রূপকথা, পল্লিগান, প্রবাদ-প্রবচন, ছড়া ইত্যাদির অপরিহার্যতা তুলে ধরা হয়েছে। লেখকের মতে, আধুনিকতার দোহাই দিয়ে শিক্ষিত সমাজ যখন এই অমূল্য সম্পদকে অবজ্ঞা করে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তখন জাতি তার নিজস্ব পরিচয় হারায়। পল্লিসাহিত্যের প্রতি এই উপেক্ষা বা উন্নাসিকতাই করিম সাহেবের মানসিকতায় প্রতিভাত হয়েছে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, করিম সাহেব আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ইংরেজি, হিন্দি গান ও সিনেমার প্রতি আকৃষ্ট। তার ধারণা, পাশ্চাত্য সাহিত্য-সংস্কৃতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে বেশি দূর আগানো যাবে না। তার এই মনোভাব সুস্পষ্টভাবে 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে বর্ণিত সেই শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করে, যারা নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে হীন মনে করে এবং পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে ব্যস্ত থাকে। করিম সাহেবের এই মানসিকতা দেশের সমৃদ্ধ পল্লিসাহিত্যের প্রতি চরম অবজ্ঞারই পরিচায়ক।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
483
উত্তরঃ

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে গ্রামবাংলার সমৃদ্ধ লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতির অবহেলা এবং এর সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকের সালাম সাহেবের মনোভাব সেই প্রবন্ধের লেখকের অর্থাৎ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর গভীর আকাঙ্ক্ষারই যথার্থ প্রতিফলন, যিনি বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতি ও সাহিত্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন।

উদ্দীপকে দেখা যায়, করিম সাহেব আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে আকৃষ্ট হলেও তার বন্ধু সালাম সাহেব উচ্চ শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে হৃদয়ে লালন করেন। তিনি পল্লিগীতি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, লালনগীতিকে ভালোবাসেন এবং ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে মৈমনসিংহ গীতিকা, পুঁথি ও রূপকথার গল্পসহ বাংলা ভাষার বিভিন্ন বই সংগ্রহ করেছেন। সালাম সাহেবের এই কাজগুলো সরাসরি 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের মূলভাবকে সমর্থন করে, যেখানে লেখক গ্রামীণ সাহিত্য ও সংস্কৃতির অফুরন্ত ভান্ডার এবং এর জাতীয় গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করেছেন।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, পল্লিসাহিত্য আমাদের জাতীয় সম্পদ এবং এটি আমাদের অস্তিত্ব ও পরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আধুনিকতার প্রভাবে যখন মানুষ পাশ্চাত্য সংস্কৃতির দিকে ঝুঁকে পড়ছিল, তখন লেখক পল্লিসাহিত্যের প্রতি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে এর যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রসারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। উদ্দীপকের সালাম সাহেব ঠিক সেই কাজটিই করেছেন—তিনি তার রুচি ও সংগ্রহ দিয়ে দেশের লোকসাহিত্যকে বাঁচিয়ে রাখার এবং এর প্রতি সম্মান জানানোর পথ দেখিয়েছেন। তার এই মনোভাব লেখকের আকাঙ্ক্ষিত সমাজ ব্যবস্থারই প্রতিচ্ছবি, যেখানে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সযত্নে লালন করা হয়। সুতরাং, উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
527
উত্তরঃ

ছড়া সাহিত্যকে সরস প্রাণের জীবন্ত উৎস বলা হয়, কারণ এটি মানুষের সহজ, সরল ও স্বতঃস্ফূর্ত অনুভূতির প্রকাশ ঘটায়। ছড়ার ছন্দময়তা, লয় ও সুর মানুষের মনকে আকৃষ্ট করে এবং অল্প কথায় গভীর ভাব প্রকাশে সক্ষম হয়। এটি মূলত শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত হলেও সকল বয়সের পাঠকের কাছে এর আবেদন চিরন্তন।

ছড়ার বিষয়বস্তু সাধারণত জীবনের সাধারণ ঘটনা, প্রকৃতি, প্রাণী বা কল্পকাহিনি নিয়ে গঠিত হয়, যা পড়ামাত্রই পাঠকের মনে এক আনন্দময় অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। মৌখিকভাবে প্রচলিত এই সাহিত্য মানুষের প্রথা, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে এবং সংস্কৃতিকে সজীব রাখে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
986
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews