কর্তব্যের অর্থ হচ্ছে নাগরিকের করণীয় কাজ। অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশকিছু দায়িত্ব পালন করতে হয়। নাগরিকের এসব দায়িত্বকেই কর্তব্য বলা হয়।
নাগরিকের বেশকিছু অর্থনৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। কর্মক্ষম সকল নাগরিকের উৎপাদন, বণ্টন ও বিনিয়োগের কাজে অংশগ্রহণ করা, দেশের প্রশাসন, প্রতিরক্ষা ও উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনার জন্য নিয়মিত খাজনা ও কর প্রদান করা। কৃষি, শিল্প ও ব্যবসায় বাণিজ্য সংক্রান্ত যাবতীয় কাজে অংশগ্রহণ করা, প্রয়োজনে বিনা পারিশ্রমিকে রাষ্ট্রের সেবা করা, জাতীয় সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং ক্ষতিসাধন না করা ইত্যাদি অর্থনৈতিক কর্তব্য।
চেয়ারম্যানের মতে তার ইউনিয়নে উন্নয়ন না হওয়ার কারণ দ্বারা জনগণের কর্তব্যে অবহেলাকে বোঝানো হয়েছে। নাগরিক হিসেবে অধিকার ভোগের পাশাপাশি আমাদের কর্তব্য পালন করতে হয়।
নাগরিক কর্তব্য পালনের মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের উন্নতি বিধান করা সম্ভব। কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি করতে পারে না। নিজের প্রতি, সমাজের প্রতি ও রাষ্ট্রের প্রতি যে কর্তব্য আছে তা পালন করার মাধ্যমে আমরা নিজের, সমাজের ও রাষ্ট্রের মঙ্গল সাধন করতে পারি। কিন্তু মোশাররফ সাহেবের ইউনিয়নের জনগণ ঠিকমতো কর্তব্য পালন করে না। তারা ইউনিয়নের কর দেয় না। এতে করে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজ সম্পাদন সম্ভব হয় না। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের কর দেওয়া জনগণের আইনগত কর্তব্য। তারা যদি তাদের এ কর্তব্য পালন করত। তাহলে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদন সম্ভব হতো। তাই বলা যায় যে, জনগণের যথাযথ কর্তব্য পালন না করা বা অবহেলার কারণেই উক্ত ইউনিয়নের উন্নয়ন হচ্ছে না।
সভায় জনৈক জনগণের সর্বশেষ বক্তব্যটি হলো এখন থেকে তারা নিয়মিত কর দিবে। নিচে বক্তব্যটি যথার্থতা মূল্যায়ন করা হলো-
মোশাররফ সাহেবের ইউনিয়নের জনগণ নিরাপত্তা চায়, রাস্তাঘাট,বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্য রক্ষার ব্যবস্থা চায়। কিন্তু তারা ঠিকমতো ইউনিয়ন পরিষদের কর দেয় না। আর তারা কর দেয় না বিধায় সরকারের দেওয়া স্বল্প টাকায় ভালো কিছু করা সম্ভব হয় না। অর্থাৎ মোশাররফ সাহেবের এলাকার জনগণ অধিকার ভোগ করতে চায় কিন্তু কর্তব্য পালন করতে চায় না। ইউনিয়ন পরিষদের কর দেওয়া জনগণের আইনগত কর্তব্য। তবে তারা এ কর্তব্য পালন করে না। তারা জানে না যে, অধিকার ভোগ করতে গেলে কর্তব্য পালন করতে হয়। নাগরিক কর্তব্য পালনের মাধ্যমে ব্যক্তি জীবন ও সমাজ জীবনের উন্নতি বিধান করা সম্ভব। নিজের প্রতি, সমাজের প্রতি ও রাষ্ট্রের প্রতি যে কর্তব্য আছে তা পালন করার মাধ্যমে আমরা নিজের, সমাজের ও রাষ্ট্রের মঙ্গলসাধন করতে পারি। ভালোভাবে বাঁচার জন্য, ভদ্রভাবে বাঁচার জন্য, সচ্ছলভাবে বাঁচার জন্য এবং সুন্দরভাবে বসবাসের জন্য সকলকে নিজ নিজ কর্তব্য সুষ্ঠুভাবে পালন করতে হবে। আর মোশাররফ সাহেব যখন জনগণকে বললেন যে, আপনারা ট্যাক্স দিয়ে সাহায্য না করলে সরকারের দেওয়া স্বল্প টাকায় ভালো কিছু করা সম্ভব হবে না। তখন জনগণ বুঝতে পারে যে, তাদেরও ইউনিয়নের উন্নয়নের জন্য তাদের ট্যাক্স দেওয়া উচিত। আর এ উপলব্ধি থেকেই সভায় একজন দাঁড়িয়ে বলল যে, তারা এখন থেকে নিয়মিত কর দিবে। সুতরাং সভার জনৈক ব্যক্তির এ উপলব্ধিই তার বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে। আর তার এ বক্তব্য অন্যান্য জনগণকেও কর প্রদানে উৎসাহী করবে। সুতরাং বক্তব্যটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allপ্রত্যেক রাষ্ট্রই এর প্রদত্ত অধিকারসমূহ দ্বারা পরিচিতি লাভকরে"- উক্তিটি করেছেন অধ্যাপক লাঙ্কি।
'মানুষ' হিসেবে প্রতিটি মানুষ যে অধিকার ভোগ করতে জন্মগতভাবে প্রত্যাশী তাই মানবাধিকার। মানুষের মূল্য ও মর্যাদার সাথে সংশ্লিষ্ট এ অধিকারগুলো মানুষ জন্মগতভাবে লাভ করে থাকে। অর্থাৎ আমরা মানুষ হিসেবে বাঁচতে প্রকৃতিগত ও সহজাত যে অধিকার প্রত্যাশা করি, তাই হলো মানবাধিকার। যেমন- জীবন ধারণের অধিকার, নিরাপত্তা লাভের অধিকার, নিষ্ঠুরতার শিকার না হওয়ার অধিকার, ন্যায়বিচার লাভের অধিকার ইত্যাদি।
উদ্দীপকে অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যকার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এগুলোর পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কথা বলা হয়েছে।
অধিকার ও কর্তব্য নাগরিকতার দুটি দিক। নাগরিকদের যেমন অধিকার আছে, তেমনি কর্তব্যও পালন করতে হয়। অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর পরিপূরক। এ দুটি যেন একই মুদ্রার দুটি দিকের ন্যায়। সামাজিক সচেতনতা থেকে এদের সৃষ্টি এবং সমাজের মধ্যেই এরা অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে। নাগরিকগণ নিজ নিজ অধিকারের বিনিময়ে রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করে থাকে। এজন্যই লাস্কি বলেন, "আমার নিরাপদে থাকার অধিকার থাকলে অন্যের কর্তব্য হলো আমাকে অন্যায়ভাবে আক্রমণ না করা।" অধিকার বলতে যেমন কতকগুলো শর্তকে বুঝানো হয়, তেমনি তা পালনও দায়িত্ব। যেমন-ভোটদানের অধিকার বলতে ভোটাধিকার প্রয়োগের দায়িত্বকেও বোঝায়। কারও অধিকার বলতে যেমন তার কর্তব্যকেও বোঝায়, তেননি একজনের অধিকার বলতে অন্যের কর্তব্যকেও বোঝানো হয়। আমার সম্পত্তির ভোগের অধিকার আছে, এর অর্থ অন্যের সম্পত্তিতে অন্যায় হস্তক্ষেপ না করাও আমার দায়িত্ব।
কারও অধিকার বলতে যেমন তার কর্তব্যকে বোঝায়, তেমনি একজনের অধিকার বলতে অন্যের কর্তব্যকে বোঝায়। একজনের অধিকার ভোগ করা অন্যের কর্তব্য পালনের ওপর নির্ভরশীল। এজন্যই বলা হয়, অধিকারের মধ্যেই কর্তব্য নিহিত। যেমন- আমার বেঁচে থাকার যদি অধিকার থেকে থাকে, তবে আমার কর্তব্য হলো
অন্যের বেঁচে থাকার পথে কোনো বাধার সৃষ্টি না করা। অনুরূপভাবে অন্যের কর্তব্যও হলো আমাকে হত্যা না করা। অধিকার ও কর্তব্য একটি ছাড়া অন্যটি কল্পনা করা যায় না। সমাজের একজনের অধিকারের পরিধি অন্য সকলের কর্তব্যবোধ দ্বারা সীমাবদ্ধ। কারণ অধিকার যদি অবাধ ও সীমাহীন হয় তবে এ থেকে স্বেচ্ছাচারিতার জন্ম হবে। এতে সবল ব্যক্তি অধিকার ভোগ করবে; কিন্তু দুর্বল তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
রাষ্ট্র নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করবে। বিনিময়ে নাগরিকগণ রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করবে। নাগরিকের যা দায়িত্ব রাষ্ট্রের তা অধিকার আর রাষ্ট্রের যা দায়িত্ব নাগরিকের তা অধিকার। রাষ্ট্র নাগরিকের অধিকার উপভোগের নিশ্চয়তা দেয়। ফলে রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হয়। অর্থাৎ বলা যায়, অধিকার ও কর্তব্য নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। কার্ল মার্কস বলেছেন, "কর্তব্য ছাড়া কোনো অধিকার নেই আর অধিকার ছাড়া কোনো কর্তব্য নেই।” সুতরাং বলা যায়, অধিকারের মধ্যেই কর্তব্য নিহিত থাকে
বাংলাদেশে ২০০৯ সালের ৫ এপ্রিল তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়
সাধারণভাবে যেকোনো বস্তু বা বিষয় সম্পর্কে জানার জন বিবরণকে তথ্য বলা হয়। তথ্য অধিকার আইনে তথ্যকে সুনির্দিষ্টভাে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো কর্তৃপক্ষের গঠন কাঠামো ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত যে কোনো স্মারক, বই, নকশ মানচিত্র, চুক্তি, তথ্য- উপাত্ত, আদেশ, বিজ্ঞপ্তি, দলিল, আলোকচিত্র অডিও, ভিডিও, যান্ত্রিকভাবে পঠনযোগ্য দলিলাদি এবং বৈশিষ্ট নির্বিশেষে যেকোনো তথ্যবহ বস্তু ইত্যাদিকে তথ্য বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!