যে বাজারে কেবল দুইজন বিক্রেতা থাকে, কিন্তু ক্রেতার সংখ্যা অসংখ্য থাকে তাকে ডুয়োপলি বাজার বলে।
যে বাজারে মুষ্টিমেয় কয়েকজন বিক্রেতা সমজাতীয় বা পৃথকীকৃত দ্রব্য বিক্রয় করে তাকে অলিগোপলি বাজার বলে।
গ্রিক শব্দ 'Oligos' এবং ল্যাটিন শব্দ 'Polis' থেকে 'Oligopoly' শব্দটি পাওয়া যায়, যার অর্থ কতিপয় বিক্রেতা। বিশেষ অর্থে অলিগোপলি বাজারকে কতিপয় বিক্রেতার বাজার বলা হয়। অধ্যাপক বোমল এর মতে, এ বাজারে বিক্রেতার সংখ্যা ১০ থেকে ১২ জন পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু আধুনিক অর্থনীতিবিদগণ এ বাজারের বিক্রেতার সংখ্যা দুয়ের অধিক, তবে সীমিত সংখ্যক বলেছেন।
উদ্দীপকে জনাব কাজি সিরাজুল ইসলামের সোনার বাজারটি হলো পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার।
পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে দ্রব্যের বহু সংখ্যক ক্রেতা-বিক্রেতা থাকে এবং এ বাজারে সমজাতীয় দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় হয়। এ রকম দ্রব্যের ক্ষেত্রে কোনো বিক্রেতাই তার দ্রব্যকে অন্যের চেয়ে পৃথক হিসেবে দেখাতে পারে না। আবার পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সকলকে নির্ধারিত দামেই দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করতে হয়। এখানে কেউ এককভাবে দাম প্রভাবিত করতে পারে না।
উদ্দীপকের জনাব কাজি সিরাজুল ইসলামের সোনার বাজারেও সোনার অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা রয়েছে এবং সোনার বাজারে যে গহণা ক্রয়-বিক্রয় হয় তা এক বা সমজাতীয় হয়। তাছাড়া সোনার বাজারে সোনার গহণা বিক্রেতা ও ক্রেতাদেরকে নির্ধারিত দামেই গহণা ক্রয়-বিক্রয় করতে হয়। উদ্দীপকের উল্লিখিত সোনার বাজারের বৈশিষ্ট্যগুলো পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এজন্য এ বাজারকে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলা যাবে।
উদ্দীপকে বর্ণিত বাজার তথ্য পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো-
পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো অসংখ্য ক্রেতা ও বিক্রেতা। যার কারণে এককভাবে কোনো ক্রেতা বা বিক্রেতা পণ্যের দামের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। এছাড়া এ বাজারের পণ্যগুলো সমজাতীয় ক্রেতা বা বিক্রেতা উভয়েই পণ্যের দাম সম্পর্কে পূর্বেই জ্ঞাত থাকে। অর্থাৎ এখানে পূর্বে নির্ধারিত দামেই পণ্য ক্রয়-বিক্রয় চলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মোহনা বেগমের গহনা ক্রয়ের বাজারে অসংখ্য কেত্রা-বিক্রেতা পূর্বে নির্ধারিত দামে মোহনার গহনা ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে। যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। আবার, পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বিভিন্ন শিল্পের মধ্যে উপকরণের পূর্ণ গতিশীলতা থাকে। এছাড়া, এ বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার পক্ষে সহজে প্রবেশ ও প্রস্থানের সুযোগ থাকে এবং ক্রয়-বিক্রয়যোগ্য পণ্যগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এককে বিভাজ্য।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত মোহনা বেগমের গহনা ক্রয়ের বাজারে তথা পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে উপরে আলোচিত বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ করা যায়।
Related Question
View Allঅর্থনীতিতে সমজাতীয় দ্রব্য বা সেবা উৎপাদনকারী কোনো একক প্রতিষ্ঠানকে ফার্ম বলা হয়।
একচেটিয়া কারবারে বিবেচ্য দ্রব্যের কোনো নিকট পরিবর্তক না থাকায় বিক্রেতা ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রব্যটির দাম নির্ধারণ করতে পারে।
একচেটিয়া কারবারে ফার্মকে দাম সৃষ্টিকারী বলা হয়। সাধারণত একচেটিয়া কারবারে বিক্রয়যোগ্য দ্রব্য কেবল একটিমাত্র ফার্ম দ্বারা উৎপাদিত হয়। তাই একচেটিয়া কারবারি দ্রব্যের যোগান বাড়িয়ে বা কমিয়ে দ্রব্যটির দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এভাবে একচেটিয়া কারবারি তার ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রব্যের যোগান পরিবর্তন করে দামের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিক অবস্থায় ফার্মটির গড় ব্যয় (AC) এর চেয়ে গড় আয় (AR) বেশি হওয়ায় অস্বাভাবিক মুনাফা অর্জিত হয়। নিচে ফার্মটির ভারসাম্য উৎপাদন ও মুনাফার পরিমাণ নির্ণয় করা হলো-

উদ্দীপকে উল্লিখিত তথ্য অনুসারে অঙ্কিত উপরের চিত্রে লক্ষ করা যায়, E বিন্দুতে MC = MR এবং MR এর ঢাল অপেক্ষা MC-এর ঢাল বেশি হয়। ফলে E বিন্দুতে ভারসাম্য অর্জিত হয়। এ অবস্থায় ভারসাম্য উৎপাদনের পরিমাণ OQ, এবং ভারসাম্য দাম OP,। OQ, পরিমাণ উৎপাদনে ফার্মটির গড় ব্যয় হয় OP।। ফলে ফার্মটির
মোট আয়, TR = OPOX OQo
= OPEQO
এবং মোট ব্যয়, TC = OP₁× OQD
= OPFQo
সুতরাং মুনাফা, π = TR – TC
= OPEQ- OPFQo
= POEFP1
অর্থাৎ, প্রাথমিক অবস্থায় ফার্মটির ভারসাম্য উৎপাদন OQ০ এবং মুনাফার পরিমাণ PoEFP, যা পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের অস্বাভাবিক মুনাফাকে নির্দেশ করে।
বর্ষার সময় ফার্মটির গড় ব্যয় (AC)-এর চেয়ে গড় আয় (AR) কম হওয়ায় ফার্মটি ক্ষতির সম্মুখীন হবে। নিচে তা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-

উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, বর্ষার পানিতে ঘাস ডুবে যাওয়ায় ফার্মটির গড় ব্যয় রেখা AC থেকে উপরে AC, এ স্থানান্তরিত হয়। এতে গড় ব্যয় OP হতে বেড়ে OP₂ হয়। এ অবস্থায় গড় ব্যয় OP: তে ভারসাম্য দাম OP, এর চেয়ে বেশি হয়। ফলে বর্ষার সময় ফার্মটির উৎপাদন OQ, দাম OP, এবং গড় ব্যয় OP₂। সুতরাং-
মোট আয়, TROQX OP
=OPEQ
এবং মোট ব্যয়, TC-OQ OP
x= OPGQ
সুতরাং, মুনাফা, TR-TC
OPEQOP GQ
=-POPGE
সুতরাং ফার্মটির ক্ষতির পরিমাণ PP-GE হবে। এমতাবস্থায় ফার্মটির গড় পরিবর্তনশীল ব্যয় (AVC) যদি গড় আয়ের চেয়ে কম হয়। তবে ফার্মটি ক্ষতি স্বীকার করেও উৎপাদন চালিয়ে যাবে। আর যদি AVC > AR হয়, তবে ফার্মটি উৎপাদন বন্ধ করে দিবে। পরিশেষে বলা যায়, উল্লিখিত ফার্মটি বর্ষার সময় POP-GE পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
অর্থনীতিতে বাজার বলতে নির্দিষ্ট কোনো পণ্যকে বোঝায়, যা ক্রেতা ও বিক্রেতার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ দরকষাকষির মাধ্যমে নির্ধারিত দামে ক্রয়-বিক্রয় হয়।
পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতা একটি সমজাতীয় পণ্য একটি নির্দিষ্ট দামে অবাধে ক্রয়-বিক্রয় করে এবং প্রচলিত দামের ওপর কেউ প্রভাব বিস্তার করতে পারে না বলে একে দামগ্রহীতা বলে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে চাহিদা ও যোগানের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পণ্যের দাম নির্ধারিত হয়। এই দামকে মেনে নিয়ে একটি ফার্ম বাজারের মোট যোগানের সামান্য অংশ উৎপাদন ও সরবরাহ করে। বাজারের প্রচলিত দামের ওপর এককভাবে কোনো ফার্ম প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। তাই পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে একটি ফার্মকে দামগ্রহীতা বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!