খাদ্যের উপাদান এবং দেহে খাদ্যের কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে সব শ্রেণির খাদ্যের সমন্বিত সুষম খাদ্য পরিকল্পনা করার জন্য খাদ্যসমূহকে কতকগুলি মৌলিক শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। এদেরকে মৌলিক খাদ্যগোষ্ঠী বা মৌলিক খাদ্যশ্রেণি বলে।

বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই খাদ্য যদি সঠিক পরিমাণে শরীরের চাহিদা অনুযায়ী গ্রহণ করা না হয় তা হলে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন- খাবার যদি শরীরের চাহিদার চেয়ে বেশি খাওয়া হয় তা হলে শরীর মোটা হয়ে যাবে। আবার যদি শরীরের চাহিদার চেয়ে খাবার কম খাওয়া হয় তাহলে শরীর শুকিয়ে যাবে। এছাড়া একই খাদ্য যদি প্রতিদিন খাওয়া হয় তা হলে সেই খাবার কিছুদিন পরে আর খেতে ভালো লাগবে না। তাই প্রতিদিনের খাদ্য হওয়া চাই শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পরিমিত, পুষ্টিকর ও একঘেয়েমিমুক্ত এবং রুচিকর। খাদ্যকে সুষম করতে হলে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি এই ছয়টি পুষ্টি উপাদানই উপযুক্ত অনুপাতে অর্থাৎ শরীরের চাহিদা অনুযায়ী বর্তমান থাকা প্রয়োজন। এসব খাদ্য উপাদান আবার বিভিন্ন প্রকার খাদ্যে বিভিন্ন পরিমাণে থাকে। কোনো খাদ্যে একটা আবার কোনো কোনো খাদ্যে একাধিক পুষ্টি উপাদান থাকে। সুষম খাদ্য প্রস্তুত করতে হলে বিভিন্ন প্রকার খাদ্য থেকে খাদ্য নির্বাচন করে খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। তাই পুষ্টি বিশেষজ্ঞগণ খাদ্যগুলোকে কয়েকটি মৌলিক শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। এই প্রতিটি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত খাদ্যগুলোতে পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতার পরিমাণ প্রায় একই। অর্থাৎ একটা খাদ্যশ্রেণিতে যে খাদ্যগুলো থাকে সেই খাদ্যগুলো থেকে প্রায় সমপরিমাণ পুষ্টি পাওয়া যাবে, তাই একই শ্রেণির একটা খাদ্যের পরিবর্তে সেই শ্রেণির অন্য একটা খাদ্য খাওয়া যাবে। এতে করে পুষ্টির প্রাপ্যতা ঠিক থাকবে খাদ্য গ্রহণে বৈচিত্র্যও আসবে। এভাবে খাদ্যের মৌলিক শ্রেণিগুলো থেকে খাদ্য গ্রহণের ফলে অতি সহজেই প্রতিটি খাদ্য উপাদান বা পুষ্টি উপাদানগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী পাওয়া যায়।
Related Question
View Allদুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ল্যাকটোজ, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি২ ভিটামিন বি১২ পাওয়া যায়। এ শ্রেণির খাদ্যসমূহ হলো দুধ, দই, ছানা, ঘোল, ক্ষীর, পায়েস ইত্যাদি। এ শ্রেণির খাদ্য হতে প্রচুর খাদ্যশক্তি পাওয়া যায়। তাই দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাদ্য শিশুর জন্য প্রয়োজনীয়।
১নং চিত্রে তিনটি ভিন্ন পাত্রে তিন ধরনের খাবার যথা- মিষ্টি, রুটি এবং ভাত দেখতে পাই। এই তিনটি খাবারে বিভিন্ন খাদ্য উপাদান রয়েছে।
মিষ্টি দুগ্ধ জাতীয় খাদ্যশ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। রুটি এবং ভাত শস্য জাতীয় খাদ্যশ্রেণির অন্তর্গত। দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য থেকে আমরা প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ল্যাকটোজ, ভিটামিন-এ, ভিটামিন বি২, ভিটামিন বি১২ জাতীয় পুষ্টি উপাদান পাই। আর শস্য জাতীয় খাদ্য থেকে পাই খাদ্যশক্তি, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন বি২, ভিটামিন বি১২ ইত্যাদি। দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে শস্যজাতীয় খাদ্য থেকে আমরা দৈনিক মোট ক্যালরি চাহিদার অর্ধেকের বেশি পেয়ে থাকি। এই শ্রেণির খাদ্য গ্রহণ ক্যালরির চাহিদার ওপর নির্ভর করে।
২নং চিত্রের খাদ্যগুলো শাকসবজি ও ফল জাতীয় খাদ্যশ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রাপ্ত যাবতীয় শাকসবজি ও ফলমূল এই শ্রেণির খাদ্য। এগুলোতে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যেমন- সেলুলোজ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ক্যারোটিন, ফলিক অ্যাসিড ছাড়াও খনিজ পদার্থ যেমন-ক্যালসিয়াম, লৌহ, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি পাওয়া যায়। এ উপাদানগুলো ভিটামিন ও খনিজ লবণের ঘাটতি পূরণ করে দেহকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এছাড়া এগুলো স্নায়ু ও মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা ঠিক রাখে এবং চোখ ও ত্বকের সুস্থতা রক্ষা করে। আবার দেহে রক্ত ও হরমোন এবং কঠিন কোষকলা গঠনে এ খাদ্য উপাদানগুলো সহায়তা করে। এ কারণে প্রাপ্ত বয়স্ক স্বাভাবিক পরিশ্রমী ব্যক্তির দৈনিক ৩০০-৫০০ গ্রাম শাকসবজি ও ফলমূল জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা দরকার। সুতরাং, দেহের পুষ্টি সাধনে শাকসবজি ও ফল জাতীয় খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
দৈনিক প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির খাদ্যে ২০ গ্রাম গুড় বা চিনি না থাকলে ক্যালরির ঘাটতি হয়।
শস্য জাতীয় খাদ্য আমাদের দেহের মোট ক্যালরি চাহিদার অর্ধেকের বেশি পূরণ করে। শস্য জাতীয় খাদ্যের পরিমাণ খাদ্য গ্রহণকারীর পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে। এই শ্রেণির খাদ্য গ্রহণ ক্যালরির চাহিদার ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!