ম্যাডাম আমিনা জাহান একাদশ শ্রেণিতে যুক্তিবিদ্যার ক্লাস নিচ্ছেন। আজকের পাঠ্যবিষয় হচ্ছে বিধেয়ক সম্পর্কে আলোচনা। শুরুতেই তিনি বললেন, একটি যুক্তিবাক্যে সংযোজক ছাড়া দুটি অংশ থাকে। একটি উদ্দেশ্য, অন্যটি বিধেয়। উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয়ই পদ। কিন্তু উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদের মধ্যে বিশেষ যে সম্পর্ক বর্তমান থাকে তাকেই বলে বিধেয়ক। জনৈক ছাত্রী জানতে চাইল, যুক্তিবাক্যের সংযোজকটি বিধেয়ক কিনা। ম্যাডাম জানালেন, সংযোজকটি বিধেয়ক নয়। বিধেয়ক যুক্তিবাক্যের কোনো অংশ নয়। এমনকি যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত কোনো পদও নয়। বিধেয়ক হচ্ছে উদ্দেশ্য ও বিধেয়র মধ্যকার একটি সম্পর্কের নাম। বিভিন্ন যুক্তিবাক্যে বিধেয়ক পদটি উদ্দেশ্য পদের সাথে বিভিন্ন প্রকার সম্পর্ক বহন করতে পারে। তাই বিধেয়কও বিভিন্ন প্রকার হতে পারে।

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

সদর্থক যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের যেসব সম্পর্ক হতে পারে সে সম্পর্কসসমূহ হলো বিধেয়ক।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

অ্যারিস্টটল বিধেয়ককে চার ভাগে ভাগ করেছিলেন। যথা i. সংজ্ঞা, ii. জাতি, iii. উপলক্ষ, iv. অবান্তর লক্ষণ। পরবর্তীতে পরফিরি পাঁচ প্রকার বিধেয়কের কথা বলেন, যা সর্বজন স্বীকৃত। পাঁচ প্রকার বিধেয়ক হলো- i. জাতি, ii. উপজাতি, iii. লক্ষণ বা বিভেদক লক্ষণ iv. উপলক্ষণ, v. অবান্তর লক্ষণ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপক অনুযায়ী বলা যায় যে, যে পদ উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে তা হলো বিধেয়ক। বিধেয় এবং বিধেয়কের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কেননা বিধেয় একটি পদের নাম, অপরদিকে বিধেয়ক হলো সম্পর্কের নাম। বিধেয় যুক্তিবাক্যের অংশ, কিন্তু বিধেয়ক হলো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যকার সম্পর্ক। বিধেয় এক বা একাধিক শব্দ দ্বারা গঠিত। অপরদিকে, বিধেয়ক কোনো পদ নয়, তাই এটি কোনো শব্দ বা শব্দসমষ্টি দ্বারা গঠিত নয়। আবার লক্ষ করা যায় যে, বিধেয় সদর্থক বা নঞর্থক উভয় ধরনের যুক্তিবাক্যে থাকে, কিন্তু বিধেয়ক শুধু সদর্থক যুক্তিবাক্যে থাকে। কোনো বিশিষ্ট পদ বিধেয় হতে পারে কিন্তু বিধেয় পদটি যদি বিশিষ্ট হয় তবে সে যুক্তিবাক্যের বিধেয়ক থাকে না। বিধেয়ের শ্রেণিবিভাগ না থাকলেও বিধেয়কের রয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, বিধেয় ও বিধেয়কের মধ্যে পার্থক্য আছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপক অনুযায়ী আমরা বলতে পারি যে, বিধেয়ক বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। তার মধ্যে অবান্তর লক্ষণ হলো অন্যতম। যে গুণ জাত্যর্থের অংশ নয়, আবার জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় না তাকে অবান্তর লক্ষণ বলে। অবান্তর লক্ষণকে দুইভাগে ভাগ করা হয়।

১. শ্রেণিগত অবান্তর লক্ষণ ও ২. ব্যক্তিগত অবান্তর লক্ষণ। শ্রেণিগত ও ব্যক্তিগত বিষয়ের উপর ভিত্তি করে অবান্তর লক্ষণকে আবার চার ভাগে ভাগ করা হয়। যথা

i. শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ, 

ii. শ্রেণিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ, 

iii. ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ এবং 

iv. ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।

যে অবান্তর লক্ষণ কোনো শ্রেণির ক্ষেত্রে অপরিহার্যভাবে উপস্থিত থাকে তাকে শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। যেমন- সকল গরু হয় চতুষ্পদী প্রাণী। যে অবান্তর লক্ষণ কোনো শ্রেণির মধ্যে কখনো বর্তমান থাকে, আবার কখনো থাকে না তাকে শ্রেণিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। যেমন- বিড়াল হয় সাদা।

যে অবান্তর 'লক্ষণ কোনো ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে অপরিবর্তনীয়ভাবে সর্বদা বর্তমান থাকে তাকে ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। যেমন- শারমিন ১৯৯০ সালে জন্মগ্রহণ করে। আবার, সে অবান্তর লক্ষণ কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে কখনো উপস্থিত থাকে, কখনো থাকে না তাকে ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। যেমন- সে ফুটবল খেলা দেখতে ভালোবাসে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
79

Related Question

View All
উত্তরঃ

যে গুণের কারণে একই জাতির অন্তর্ভুক্ত একটি উপজাতিকে তার সমজাতীয় অন্যান্য উপজাতি থেকে পৃথক করা হয় তাই হলো 'বিভেদক লক্ষণ'।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
340
উত্তরঃ

জাতির মধ্যে উপজাতি অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং উপজাতিকে জাতি নিজের মধ্যে ধারণা করে। এরা যদিও আলাদা তথাপি জাতির আলোচনা করতে গেলে উপজাতির চলে আসবে এবং উপজাতি আলোচনা করতে গেলে জাতি আবশ্যিকভাবে চলে আসে। কারণ জাতিকে যদি ব্যাখ্যা করতে চাই তবে উপজাতির সাহায্য নিই এবং উপজাতিকে বিশ্লেষণ করতে জাতির সাহায্য নিই। সুতরাং জাতি এবং উপজাতি সম্পর্কের ক্ষেত্রে অবিচ্ছেদ্য ও অনিবার্যভাবে পরস্পরের সাথে জড়িত ও সম্পর্কিত।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
349
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটি উপলক্ষণ বিধেয়ককে নির্দেশ করে।

উপলক্ষণ বিধেয়কের পাঁচটি শ্রেণির একটি। যে গুণ জাত্যর্থের অংশ নয়, কিন্তু জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় তাই হলো উপলক্ষণ। যেমন- সকল মানুষ হয় চিন্তাশীল প্রাণী। এই 'চিন্তাশীলতা' গুণটি মানুষ পদের উপলক্ষণ। ঠিক তেমনি উদ্দীপকের বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটি হলো মানুষ পদের উপলক্ষণ। মানুষ পদের জাত্যর্থ হলো বুদ্ধিবৃত্তি ও জীববৃত্তি। বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটি জাত্যর্থের অংশ নয়। কিন্তু জাত্যর্থ বুদ্ধিবৃত্তি গুণটি থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত। তাই বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটিকে মানুষ পদের উপলক্ষণ বলা হয়। অর্থাৎ বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদ সম্পর্কে এমন গুণ উল্লেখ করবে বা উদ্দেশ্য পদের জাত্যর্থ নয় কিন্তু গুণটি জাত্যর্থ থেকে উদ্ভূত।

বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটি জাত্যর্থের অংশ না হয়েও জাত্যর্থ থেকে অপরিহার্যভাবে আসে। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকে বর্ণিত বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটি উপলক্ষণ বিধেয়কের অন্তর্ভুক্ত। যা কোনো জাত্যর্থের অংশ নয় কিন্তু তা অপরিহার্যভাবে জাত্যর্থ থেকে এসেছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
509
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত যে বিষয়গুলো দেওয়া আছে, তথা ২৫ মার্চ, ভোজনরসিক এবং অন্যকে খাওয়ানো এগুলো বিধেয়কের অবান্তর লক্ষণ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

অবান্তর লক্ষণ হলো যে গুণ বা গুণাবলি কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ নয় এবং জাত্যর্থ থেকে আবশ্যিকভাবে অনুমিত নয়। যেমন- ভোজন রসিক বা খাওয়ানো মানুষের একটা অবান্তর লক্ষণ। এই গুণাবলি মানুষের মধ্যে বিদ্যমান কিন্তু তা জাত্যর্থের অংশ নয় বা জাত্যর্থ থেকে আবশ্যিকভাবে নিঃসৃত হয় না।

অবান্তর লক্ষণ কোনো শ্রেণির মধ্যে থাকতে পারে আবার ব্যক্তির মধ্যে থাকতে পারে। অবান্তর লক্ষণ চার ধরনের হতে পারে। (ক) শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ (খ) শ্রেণিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ (গ) ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ (ঘ) ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।

উদ্দীপকে যেসব অবান্তর লক্ষণ দেওয়া আছে তা মূলত ব্যক্তিগত অবান্তর লক্ষণের সাথে সম্পর্কিত। ২৫ মার্চ অবান্তর লক্ষণটি ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। কারণ- ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ হলো তাই যা ব্যক্তির মধ্যে সব সময় বর্তমান এবং তা কোনোক্রমে পরিবর্তন করা যায় না। শিক্ষক নোমান ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। এটি অবিচ্ছেদ্যভাবে তার সাথে সম্পৃক্ত। কারণ তার জন্ম সাল বা তারিখ বদলে দেওয়া যাবে না। আবার, নোমান ভোজনরসিক ও খাওয়ানো যে গুণ তা হলো ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ এর অন্তর্ভুক্ত। কারণ ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ হলো যা ব্যক্তির মধ্যে কখনো বর্তমান আবার কখনো অবর্তমান থাকে। ভোজনরসিক এবং খাওয়ানো নোমান সাহেবের মধ্যে আছে। কিন্তু এমন হতে পারে যে কিছুদিন পর তা তাঁর মধ্যে নেই। সুতরাং এটি ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
256
উত্তরঃ

যুক্তিবিদ অ্যারিস্টেটল সর্বপ্রথম যুক্তিবিদ্যায় বিধেয়কের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেন এবং একে চার ভাগে ভাগ করেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
312
উত্তরঃ

সদর্থক যুক্তিবাক্যে শ্রেণিবাচক বিধেয় পদের সাথে উদ্দেশ্য পদের যেসব সম্পর্ক হতে পারে সেগুলোকে বলা হয় বিধেয়ক। আর এই বিধেয়ক বিষয়টি যুক্তিবিদ্যায় সর্বপথম অন্তর্ভুক্ত করেন গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টেটল। তিনি বিধেয়ক-এর চারটি শ্রেণিবিভাগ করেছেন। এগুলো হলো- ১. সংজ্ঞা, ২. জাতি, ৩. উপলক্ষণ, ৪. অবান্তর লক্ষণ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
556
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews