মধ্যরাতে হানাদাররা এসেছিল ।
বর্ণমালা পথে পথে তেপান্তরে ঘোরার কারণ এ ভাষার বর্ণমালা শত্রু কর্তৃক আক্রান্ত হয়ে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ চেতনায় ও সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার জন্য এদেশের তরুণরা বুকের রক্ত ঝরিয়েছে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগ হওয়ার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এদেশের মানুষকে নানাভাবে শোষণ করতে থাকে। তারা প্রথম আঘাত করে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও উর্দুকে চাপিয়ে দিয়ে। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বাংলা ভাষার পরিবর্তে এদেশের মানুষের ওপর উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত বাঙালি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে এবং এর বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। মূলত বাংলা ভাষার জন্য যে আন্দোলন ও সংগ্রামী চেতনার প্রকাশ ঘটেছে পরবর্তীতে তা স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
উদ্দীপকের অনুভব 'সাহসী জননী বাংলা' কবিতার অনুভবের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালে নির্বাচনে বিজয়ী বাঙালিদের দমন করার জন্য হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগে এদেশকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল। তাদের সেই অন্যায়ের প্রতিবাদে বাঙালিরা মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে শত্রুদেরকে দেশছাড়া করে এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে।
উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে, পাকিস্তানি হানাদাররা এদেশকে যুদ্ধের শুরুতেই ছারখার করে দেওয়ার কারণে এদেশের মানুষের মনে জেগেছে হানাদারদের প্রতি প্রবল ঘৃণা। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে দারুণ সাহসে। মেশিনগান, গ্রেনেড আর মর্টার চালিয়েছিল শত্রুর বিরুদ্ধে। 'সাহসী জননী বাংলা' কবিতায়ও এ ভাবের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। সহস্র মৃত মানুষ দেখে এদেশের মানুষের মনে যে ক্রোধের আগুন জ্বলে উঠেছে, সেই ক্রোধেই তারা রাইফেল হাতে নিয়েছে। যে হাত কবিতা লিখত, সেই হাতেই আবার অস্ত্র চালিয়েছে শত্রুর বিরুদ্ধে। এভাবে দেখা যায় যে, উদ্দীপকের সঙ্গে 'সাহসী জননী বাংলা' কবিতার অনুভবের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
"উদ্দীপকের ভাবনা 'সাহসী জননী বাংলা' কবিতার সামগ্রিক পরিচয় নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ। কারণ এতে স্বাধীনতা যুদ্ধ ছাড়াও বাংলার মানুষের সংগ্রামী চেতনার প্রকাশ ঘটেছে।
ঐতিহ্যগত দিক থেকে বাঙালি জাতি শান্তিপ্রিয় নম্র স্বভাবের। বাঙালি শিল্পমনা, শিল্পকর্মে তাদের দক্ষতা প্রশংসনীয়। এছাড়া ধর্ম নিয়েও এ জাতির মধ্যে বাড়াবাড়ি নেই। ফলে আপাত দৃষ্টিতে বেশ নিরীহ জাতি মনে হলেও বাঙালি যে একেবারেই নিরীহ নয়, একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে তার প্রমাণ পেয়েছে শত্রুপক্ষ ও বিশ্ববাসী।
উদ্দীপকে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন বাংলায় তরুণদের সক্রিয় ভূমিকার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। পাকিস্তানি সেনাদের নৃশংস তাণ্ডবে সেসময় এ দেশের মানুষ শিউরে উঠেছিল। আপনজনের রক্ত আর মৃতদেহ দেখে দেখে তাদের সেই ঘৃণা আরও প্রবল হয়ে উঠেছিল। ফলে তাদের মনে দারুণ উত্তেজনা জেগেছিল শত্রু হননের জন্য। তখন মারণাস্ত্র হাতে সাহসী তরুণ যুদ্ধ করেছিল অবিরাম। 'সাহসী জননী বাংলা' কবিতায়ও এ ভাবের প্রকাশ লক্ষ করা যায়। পাকিস্তানিরা এদেশে যে অত্যাচারের পরাকাষ্ঠা চালিয়েছে তার প্রতিশোধ নিতে বাঙালিও যুদ্ধে নেমেছিল। বাঘের থাবা বসিয়েছিল শত্রুর বুকে। প্রতিশোধের নেশায় দিগ্বিদিকশূন্য হয়ে তারা লড়াই করেছিল এবং অবশেষে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল।
'সাহসী জননী বাংলা' কবিতায় কবি মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ের সঙ্গে বাংলার ঐতিহ্যকেও ফুটিয়ে তুলেছেন। জাতিগতভাবে বাঙালি খর্ব এবং একটু কৃশ। ধর্মের প্রতি এদের কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ফলে বাঙালি জাতিকে স্বভাবগত দিক থেকে অনেকটা নিরীহ ভদ্র জাতি মনে হয়। উদ্দীপকে স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট রয়েছে। সেখানে বাঙালির ঐতিহ্যগত কোনো প্রেক্ষাপট নেই। এসব কারণে উদ্দীপকটি 'সাহসী জননী বাংলা' কবিতার সামগ্রিক পরিচয় নয়।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!