যারা ভালোবাসে তারা যুদ্ধে যায়,

যারা যুদ্ধে যায় সকলে ফিরে আসে না।

এবং যারা মায়ের কাছে ফিরে আসে

তাদের ঝুলিতে বর্ণমালার নূপুর,

ঢেঁকিতে কিশোরী পা, ডুরে শাড়ি ঘাসের ফড়িং।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

শাহবাজপুরের জোয়ান কৃষক হলো হাবিবুল্লাহ।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

“তাঁর চোখের নিচে অপরাহের দুর্বল আলোর ঝিলিক” বলতে জীবনের গোধূলিবেলায় উপনীত ব্যক্তি বা বস্তুর ক্ষয়িষ্ণু দশা এবং ম্লান হয়ে আসা শক্তি বা সৌন্দর্যের সূক্ষ্ম আভাস বোঝানো হয়েছে। এখানে 'অপরাহ্ণ' সময়চক্রের শেষ ভাগকে নির্দেশ করে, যা জীবনের শেষ পর্যায় বা কোনো কিছুর পতনের নিকটবর্তী অবস্থাকে প্রতীকায়িত করে।

এই উক্তিটি সাধারণত বার্ধক্যজনিত ক্লান্তি, অতীতের স্মৃতিতে মগ্নতা, অথবা একদা উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত কিছুর শেষ বেলার ক্ষীণ দ্যুতিকে নির্দেশ করে। এটি একটি বিষাদময় ও গভীর ইঙ্গিত বহন করে যে, একসময়কার পূর্ণতা ও তেজোদীপ্ততা এখন ম্লান হয়ে এসেছে এবং অবশিষ্ট রয়েছে কেবল তার দুর্বল ও ক্ষণস্থায়ী আভাস, যা অবসানের দিকে ধাবমান।

Satt AI
Satt AI
2 days ago
উত্তরঃ

“তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা” কবিতায় স্বাধীনতা অর্জনের পথে বাঙালি জাতির অগণিত মানুষের আত্মত্যাগ ও দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। যারা দেশকে ভালোবাসে, তারাই দেশমাতৃকার পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও পিছপা হয় না।

এ কবিতায় কবি শামসুর রাহমান অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন যে, স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ কীভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। কৃষক, মজুর, জেলে, ছাত্র, গৃহবধূসহ অসংখ্য মানুষ স্বাধীনতার ডাকে সাড়া দিয়ে জীবন-মরণের খেলায় মেতে উঠেছিল। এই স্বাধীনতা কেবল একটি ভৌগোলিক সীমারেখা বা একটি পতাকা নয়, বরং এটি অগণিত মানুষের আত্মদান ও স্বপ্নের ফসল।

উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণে বলা হয়েছে, "যারা ভালোবাসে তারা যুদ্ধে যায়, যারা যুদ্ধে যায় সকলে ফিরে আসে না।" এই চরণ দুটির মধ্যে "তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা" কবিতার সেই গভীর ও বেদনাদায়ক সত্যটিই প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের ফিরে না আসার করুণ বাস্তবতা বর্ণিত হয়েছে। কবিতায় সাকিনা বিবি, হাড্ডিসার এক কৃষক কিংবা একজন রিকশাওয়ালা'র মতো যারা স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছে, তাদের আত্মত্যাগ এবং যুদ্ধে গিয়ে ফিরে না আসার করুণ চিত্র উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণের সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ। উভয় ক্ষেত্রেই দেশের প্রতি ভালোবাসার কারণে যুদ্ধে যাওয়া এবং তাতে অনেকে শহীদ হওয়ার মর্মস্পর্শী দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

Satt AI
Satt AI
2 days ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের "যারা ভালোবাসে তারা যুদ্ধে যায়" পংক্তিটি মাতৃভূমি ও তার মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার ইঙ্গিত দেয়, যা মুক্তিযোদ্ধাদের মৌলিক প্রেরণা ছিল। এই ভালোবাসা থেকেই তারা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। "তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা" কবিতায় শামসুর রাহমান বারবার সেইসব তেজি তরুণদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেছেন, যারা স্বাধীনতা অর্জনের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে দ্বিধা করেননি। উদ্দীপকের মা'র কাছে ফিরে আসা সন্তানরা সেই যোদ্ধাদেরই প্রতীক, যারা যুদ্ধ থেকে ফিরে এসেছেন বিজয়ের গৌরব আর দেশের প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসার প্রমাণ নিয়ে।

উদ্দীপকে বর্ণিত "মায়ের কাছে ফিরে আসা সন্তান"দের ঝুলিতে 'বর্ণমালার নূপুর, ঢেঁকিতে কিশোরী পা, ডুরে শাড়ি ঘাসের ফড়িং' ইত্যাদি চিত্রকল্পগুলো বাংলাদেশের গ্রামীণ সরল জীবন, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে ধারণ করে। মুক্তিযোদ্ধারা এই সাধারণ, শান্তিময় জীবন ও সংস্কৃতিকেই রক্ষা করতে চেয়েছিলেন বিদেশি দখলদারিত্ব থেকে। 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় বর্ণিত 'কৃষক, মজুর, জেলে, ছাত্র' সহ সকল স্তরের 'তেজি তরুণ' মূলত এই ধরনের জীবন ও আত্মপরিচয় রক্ষার্থেই সংগ্রাম করেছিল। উদ্দীপকের চিত্রকল্পগুলো সেইসব মূল্যবোধ ও অনুষঙ্গকেই তুলে ধরে, যা রক্ষা করার জন্য 'তেজি তরুণরা' নিজেদের উৎসর্গ করেছিল।

শামসুর রাহমানের কবিতায় 'তেজি তরুণ' বলতে সেই অকুতোভয় যুবকদের বোঝানো হয়েছে যারা দেশকে ভালোবাসে বলেই স্বাধীনতার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত ছিল। উদ্দীপকের যুদ্ধে যাওয়া এবং যারা ফিরে এসেছে তাদের বর্ণনায় এই 'তেজি তরুণ'দেরই প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়। যারা ফিরে আসে না, তারা আত্মোৎসর্গকারী শহীদ; আর যারা ফিরে আসে, তারা বিজয়ের ধারক, যারা দেশকে ভালোবেসে যুদ্ধ করেছিল এবং মাতৃভূমির জন্য অর্জিত বিজয়ের প্রতীকগুলো সাথে করে নিয়ে এসেছে। তাই উদ্দীপকের ফিরে আসা সন্তানরা যেন কবিতার সেই তেজি তরুণদেরই সার্থক প্রতিনিধি, যারা যুদ্ধ জয় করে মাতৃমায়ের কোলে ফিরে এসেছে।

সুতরাং, উদ্দীপকে মা'র কাছে ফিরে আসা সন্তানেরা প্রকৃতপক্ষে "তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা" কবিতায় বর্ণিত তেজি তরুণেরই প্রতিচ্ছবি। তারা স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখেছিল এবং বিজয় অর্জনের পর মাতৃভূমিকে তার কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা এনে দিতে সক্ষম হয়েছিল। এই মন্তব্যটির যথার্থতা প্রশ্নাতীত।

Satt AI
Satt AI
2 days ago
580

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা

তোমাকে পাওয়ার জন্যে

আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?

আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন ?

তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,

সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল,

সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল হরিদাসীর।

তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,

শহরের বুকে জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক এলো

দানবের মতো চিৎকার করতে করতে

তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,

ছাত্রাবাস, বস্তি উজাড় হলো । রিকয়েললেস রাইফেল

আর মেশিনগান খই ফোটাল যত্রতত্র।

তুমি আসবে বলে ছাই হলো গ্রামের পর গ্রাম ।

তুমি আসবে বলে বিধ্বস্ত পাড়ায় প্রভুর বাস্তুভিটার

ভগ্নস্তূপে দাঁড়িয়ে একটানা আর্তনাদ করল একটা কুকুর ।

তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,

অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতা-মাতার লাশের উপর ।

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা, তোমাকে পাওয়ার জন্যে 

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা

আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?

আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন?

স্বাধীনতা, তোমার জন্যে থুথুড়ে এক বুড়ো

উদাস দাওয়ায় বসে আছেন – তাঁর চোখের নিচে অপরাহ্ণের

দুর্বল আলোর ঝিলিক, বাতাসে নড়ছে চুল ।

স্বাধীনতা, তোমার জন্যে

মোল্লাবাড়ির এক বিধবা দাঁড়িয়ে আছে

নড়বড়ে খুঁটি ধরে দগ্ধ ঘরের।

স্বাধীনতা, তোমার জন্যে

হাড্ডিসার এক অনাথ কিশোরী শূন্য থালা হাতে

বসে আছে পথের ধারে ।

তোমার জন্যে,

সগীর আলী, শাহবাজপুরের সেই জোয়ান কৃষক,

কেষ্ট দাস, জেলেপাড়ার সবচেয়ে সাহসী লোকটা,

মতলব মিয়া, মেঘনা নদীর দক্ষ মাঝি,

গাজী গাজী বলে যে নৌকা চালায় উদ্দাম ঝড়ে,

রুস্তম শেখ, ঢাকার রিকশাওয়ালা, যার ফুসফুস 

এখন পোকার দখলে

আর রাইফেল কাঁধে বনে জঙ্গলে ঘুরে-বেড়ানো

সেই তেজি তরুণ যার পদভারে

একটি নতুন পৃথিবীর জন্ম হতে চলেছে –

সেই তেজি তরুণ যার পদভারে

সবাই অধীর প্রতীক্ষা করছে তোমার জন্যে, হে স্বাধীনতা।

পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জ্বলন্ত

ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে,

নতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক

এই বাংলায় তোমাকে আসতেই হবে, হে স্বাধীনতা।
                                                                               (সংক্ষেপিত)
 

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews