যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক মাহবুব স্যার ক্লাসে অনুমান বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। তিনি এক পর্যায়ে বললেন, আরোহ অনুমানের মূল উদ্দেশ্য হলো যথার্থ সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু এর জন্য অপনয়ন পদ্ধতির প্রয়োজন কেন?

সোহাগ জবাব দিল, যুক্তির কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য অপনয়ন অপরিহার্য। এরপর মেহেদীকে জিজ্ঞাসা করলেন, আরোহ অনুমানের মূল উদ্দেশ্য কী? সে বলল, যথার্থ সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

যুক্তিবিদ্যার জনক হলেন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

যুক্তিবিদ জে.এস.মিল আরোহের সে চূড়ান্ত শ্রেণিবিভাগ দেখিয়েছেন, যুক্তিবিদ্যায় সেটা সর্বজনগ্রাহ্য বলে মেনে নেওয়া হয়েছে। মিল প্রথমত আরোহকে দুভাগে ভাগ করেছেন, যেমন- (১) প্রকৃত বু সুসংগত আরোহ এবং (২) প্রকৃত আরোহ বা তথাকথিত অসংগত আরোহ। প্রকৃত আরোহকে তিনি আবার তিনভাগে ভাগ করেছেন। যথা : (i) বৈজ্ঞানিক আরোহ, (ii) অবৈজ্ঞানিক আরোহ এবং (iii) সাদৃশ্যমূলক অনুমান। অন্যদিকে অপ্রকৃত আরোহকে মিল তিন ভাগে ভাগ করেছেন, যথা : (ⅰ) পূর্ণাঙ্গ আরোহ, (ii) যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ এবং (iii) ঘটনা সংযোজন।

 

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

সোহাগের বক্তব্যের মাধ্যমে অপনয়নের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। আরোহ যুক্তিবিদ্যায় অপনয়নের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় উপাদান বাছাই করা হয়। যে মৌলিক বা আবশ্যিক অংশের সাথে কার্যকারণ সম্বন্ধ স্থাপন করা যায় সেই অংশকে শুধু রেখে অবশিষ্ট বা. বাকি অনাবশ্যক অংশসমূহকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে অপনয়ন (Elimination) বলে। অপনয়নের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে, কোনো ঘটনা ঘটার জন্য পূর্ববর্তী প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো হচ্ছে অপরিবর্তনীয় ও অনিবার্য। কাজেই অপ্রাসঙ্গিক উপাদানকে পৃথক করে প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ধরে রাখাকেই অপনয়ন বলে। আর কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য অপনয়ন অপরিহার্য। যেমন-

সাকিব হয় মরণশীল।
 শাকিল হয় মরণশীল।
 সাব্বির হয় মরণশীল।
 বিড়াল হয় মরণশীল।
∴  সকল মানুষ হয় মরণশীল।

উপর্যুক্ত দৃষ্টান্তে, 'বিড়াল হয় মরণশীল' যুক্তিবাক্যটি সিদ্ধান্তের সাথে বৈসাদৃশ্য বলে অপনয়ন পদ্ধতিতে একে অপসারণ করা হলে সিদ্ধান্ত এবং যৌক্তিক আকার যথার্থ বলে প্রতীয়মান হবে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

'আরোহ অনুমানের মূল উদ্দেশ্য হলো যথার্থ সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা' অধ্যাপক মাবুবের এ বক্তব্যটির সাথে আমি একমত। আরোহ অনুমানে বিশেষ বিশেষ ঘটনা বা দৃষ্টান্ত থেকে সার্বিক সত্য বা সার্বিক নিয়ম প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করতে হলে কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় একেই বলে আরোহ পদ্ধতি। আরোহ পদ্ধতিতে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত থেকে সার্বিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য যে নয়টি স্তর রয়েছে তার মধ্যে সর্বশেষ স্তর হলো সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা। আরোহ অনুমানের মূল উদ্দেশ্য হলো সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা। যাচাইকরণের মাধ্যমে সার্বিক বাক্যটি প্রমাণিত হলে তা যথার্থ সিদ্ধান্তের মর্যাদা লাভ করে। আরোহ অনুমানের পদ্ধতির বিভিন্ন স্তর সুষ্ঠুভাবে অনুসরণ করলেই কেবল সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা সম্ভম্ব এবং তা বৈজ্ঞানিক সত্যের নিয়ম বলে বিবেচিত হয়। কাজেই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা হলো আরোহ অনুমানের সর্বশেষ স্তর। যখন কোনো সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা হয়, যেমন- 'অতএব সকল মানুষ হয় সুন্দর' তখন এই সিদ্ধান্তের পূর্বে সংজ্ঞায়ন, নিরীক্ষণ, বিশ্লেষণ, শ্রেণিকরণ, অপনয়ন, প্রকল্প প্রণয়ন, সার্বিকীকরণ এবং যাচাইকরণ করতে হয়। উক্ত স্তরগুলোতে যখন কোনো যুক্তিবাক্য যথার্থ বলে প্রতীয়মান হয় তখনই এটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠার জন্য মনোনীত হয়। সুতরাং আরোহ অনুমানের মূল উদ্দেশ্য হলো যথার্থ সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
112
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

কোনো কার্যকে ঘটানোর জন্য যে সকল পূর্ববর্তী ঘটনার প্রয়োজন হয় তাদের সমষ্টিকে 'কারণ' বলে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.3k
উত্তরঃ

কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে কোনো ঘটনাকে, সুনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রত্যক্ষণ করাই হলো 'নিরীক্ষণ'। আর কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে গবেষণাগারে যন্ত্রপাতির সাহায্যে উৎপাদিত ঘটনাবলির সুনিয়ন্ত্রিত প্রত্যক্ষণ হলো পরীক্ষণ। পরীক্ষণ এক ধরনের নিরীক্ষণ। পৃথিবীতে অনেক ঘটনা রয়েছে, যেগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়, যেমন- ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি। এগুলো নিরীক্ষণ ব্যতীত পরীক্ষণ করা। যায় না। পরীক্ষণের ক্ষেত্র কেবল গবেষণাগারে কিন্তু নিরীক্ষণের ক্ষেত্র সর্বত্র। এজন্য নিরীক্ষণের ব্যাপকতা পরীক্ষণ থেকে বেশি।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
291
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বাঁশঝাড় সম্পর্কে ইকবালের ভাবনা ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণের দিকটি নির্দেশ করা হয়েছে। নিরীক্ষণের মাধ্যমে আমরা অভিজ্ঞতার জগতের নানা বিষয় সম্পর্কে ধারণা লাভ করি। অর্থাৎ বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রাকৃতিক পরিবেশে কোনো ঘটনাকে সুনিয়ন্ত্রিত প্রত্যক্ষণ হলো নিরীক্ষণ। নিরীক্ষণ সব সময় অ-ভ্রান্ত হয় না, ভ্রান্ত নিরীক্ষণও হয়। ভ্রান্ত নিরীক্ষণ বা নিরীক্ষণ জাতীয় অনুপপত্তিকে দুভাগে ভাগ করা হয়। ১. সদর্থক জাতীয় অনুপপত্তি, ২. নঞর্থক জাতীয় অনুপপত্তি। সদর্থক জাতীয় অনুপপত্তি হলো ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। এটি দুই ধরনের- ১. ব্যক্তিগত, ২. সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। বাঁশঝাড় সম্পর্কে ইকবালের ভাবনা ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। কারণ ভ্রান্ত নিরীক্ষণ হলো তাই যা- যখন কোনো বস্তু যেরূপ তাকে সেভাবে না দেখে ভিন্নরূপে দেখা। ইকবাল বাঁশঝাড়কে বাঁশঝাড়রূপে না দেখে ভিন্নরূপ ভূত বলে মনে করে চিৎকার করে। এটি ব্যক্তিগত কারণ নিরীক্ষণে কেবল ব্যক্তিবিশেষের বেলায় প্রযোজ্য দেখা যাচ্ছে যে দুজন একসঙ্গে যাচ্ছেলো কিন্তু ইকবাল 'ভূত' বলে চিৎকার করলেও তামিম সে ভুল করেনি। অর্থাৎ ইকবালের সে ভ্রান্ত ধারণা।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
205
উত্তরঃ

উদ্দীপকে তামিম এবং ইকবাল দুজনেই ভ্রান্ত ধারণা বা ভ্রান্ত নিরীক্ষণের শিকার। তামিমের ভ্রান্ত নিরীক্ষণ ছিল সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ এবং ইকবালের যে ভ্রান্ত নিরীক্ষণ ছিল তা হলো ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ।

নিরীক্ষণ হলো- যা কিছু আমরা প্রত্যক্ষ করি এবং যা কিছুকে আমরা মনের সম্মুখে রাখি। নিরীক্ষণজনিত ভুল হলো ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। কোনো বস্তু বা ঘটনাকে যেভাবে দেখার কথা সেভাবে না দেখে ভিন্নভাবে বা ভুলভাবে দেখা হলো ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। ইকবাল অন্ধকারে বাঁশঝাড় দেখে ভয়ে চিৎকার করে উঠে ভূত ভূত বলে। আসলে সেটি ভূত যে নয়, সেটি বাঁশঝাড় ছিল। তামিম, ইকবালকে সেটাই দেখালো এবং তাঁর ভুল ভাঙালো। ইকবালের এই ভ্রান্ত ধারণা ছিল ব্যক্তিগত। দুজন একসঙ্গে থেকেও ইকবাল বাঁশঝাড়কে ভূত মনে করলেও তামিম তা করেনি। সুতরাং ইকবালের বাঁশঝাড় সম্পর্কে যে ভুল ছিল তা হলো ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। তামিম, ইকবালের ব্যক্তিগত ভুল ভাঙালো কিন্তু সে যে ভুল করলো সেটা হলো সর্বজনীন ভুল। যে ভ্রান্ত নিরীক্ষণ কেবল ব্যক্তিবিশেষের বেলায় নয় বরং সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সেটা মূলত সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। উদ্দীপকে তামিমের মতো প্রায় সবাই বলে যে সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে যার ফলে সন্ধ্যা হয়। সূর্য কখনো পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে না বরং পৃথিবী যেহেতু সূর্যের চারদিকে ঘুরে, সেহেতু একটা সময় আসে যখন পৃথিবীর একটা অংশ সূর্য থেকে আড়াল হয় এবং অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। সুতরাং, তামিম ও ইকবালের ধারণা বা নিরীক্ষণ ভ্রান্ত নিরীক্ষণ। ইকবালের ব্যক্তিগত ভ্রান্ত নিরীক্ষণ এবং তামিমের যে ভ্রান্ত নিরীক্ষণ তা হলো সর্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
286
উত্তরঃ

যা কিছুকে আমরা প্রত্যক্ষ করি এবং যা-কিছুকে আমরা মনের সম্মুখে রাখি তাই হলো নিরীক্ষণ। 

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
545
উত্তরঃ

পরীক্ষণের সকল ক্ষেত্রে নিরীক্ষণ সম্ভব। নিরীক্ষণ ব্যতীত পরীক্ষণ সম্ভব নয়। কোনো বিষয় বা ঘটনাকে পরীক্ষণ করতে গেলে নিরীক্ষণ করতে হয়। অর্থাৎ পরীক্ষণ নিরীক্ষণের উপর নির্ভরশীল। পরীক্ষক পরীক্ষা কার্য চালাতে গেলে আগে নিরীক্ষণ করতে হয়। নিরীক্ষণ সুষ্ঠু ও নিশ্চিত হলেই কেবল পরীক্ষণকার্য সত্য হয় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা যায়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
317
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews