যে বাক্যকে বিশ্লেষণ করলে দুই বা ততোধিক সরল বাক্য পাওয়া যায়, তাকে 'যৌগিক বাক্য' (Compound Proposition) বলে।
যে বাক্যকে বিশ্লেষণ করলে আর কোনো সংশ্লিষ্ট বচন বা উপাদান পাওয়া যায় না, তাকে 'সরল বচন' বলে। যেমন- গোলাপ ফুল হয় সুন্দর, সকল ছাত্র হয় মেধাবী, রাসেল হন একজন দার্শনিক ইত্যাদি। এ বাক্যগুলোকে বিশ্লেষণ করলে অন্য কোনো বাক্য পাওয়া যায় না।
কোনো বস্তুকে নির্দেশ করার, বোঝার এবং ব্যক্ত করার জন্য যে লিখিত বা কথিত চিহ্ন ব্যবহার করা হয় তাকে প্রতীক বলে। যুক্তিবিদ্যায় প্রতীকের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্দীপকে প্রতীকের প্রথম উপযোগিতায় বর্ণিত হয়েছে- প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে যুক্তির আকার সহজে নিষ্কাশন করা যায় এবং যুক্তিকে অস্পষ্টভাবে প্রকাশ করা যায়। যেমন-
যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে মাটি ভিজবে।
বৃষ্টি হয়েছে।
মাটি ভিজবে।
উপর্যুক্ত যুক্তিকে নিম্নোক্ত প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়-
দৃষ্টান্তে অতি সহজেই প্রতীকের মাধ্যমে যুক্তিকে নিষ্কাশন করা যায়। ফলে যুক্তিটি অতি সহজে বোধগম্য হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতীকের ২য় উপযোগিতা হলো- প্রতীকের ব্যবহার ভাষাকে, যুক্তিকে সুন্দর ও সাবলীল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতীক হলো কোনো কিছু নির্দেশ করার, বোঝার এবং প্রকাশ করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে যে সংকেত ব্যবহার করা হয়। প্রতীকের ব্যবহারের মাধ্যমে বক্তব্যের বা ভাষার সারধর্মের প্রতি মনোযোগী হওয়া যায়। কোনো বিষয়ের কতটুকু আবশ্যকীয়, আর কতটুকু অনাবশ্যকীয় তা প্রতীক ব্যবহার করে অতি সহজেই আমরা বের করতে পারি। প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা আবশ্যকীয় বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব এবং অনাবশ্যকীয় বিষয়কে অপনয়ন করতে পারি বা বাদ দিতে পারি। এছাড়া প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে যুক্তির শ্রেণিবিভাগ করা সহজতর হয় এবং যুক্তির নিয়মগুলোকে সহজে প্রয়োগ করা যায়। এর মাধ্যমে বাক্যের- শব্দের অস্পষ্টতা দূর করার সাথে সাথে প্রতীক কাজ দ্বারা গঠিত যুক্তিবাক্যের আকারগত অস্পষ্টতাকেও দূর করে থাকে। যেমন- আমরা কোনো বিষয়ের উত্তর সঠিক হয়েছে বোঝানোর জন্য টিক চিহ্ন ( ) এবং উত্তর ভুল হলে হয়েছে তা নির্দেশ করার জন্য ক্রস চিহ্ন (৪) ব্যবহার করি। পরিশেষ বলা যায়, সাধারণ ভাষার নানারকম ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত থাকার জন্য প্রতীকী ভাষা উদ্ভাবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতীকের ব্যবহার ভাষাকে, যুক্তিকে সুন্দর ও সাবলীল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allযে সংকেত প্রকৃতির রাজ্যে অবস্থান করে তাকে স্বাভাবিক সংকেত বলে।
সংকেত দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে স্বাভাবিক সংকেত, অন্যটি কৃত্রিম সংকেত। স্বাভাবিক সংকেত হলো তাই যা প্রকৃতির রাজ্যে অবস্থান করে। যেমন- ঝড়-ঝঞ্ঝার সংকেত। কৃত্রিম সংকেত বলতে দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে সংকেত ব্যবহার করে থাকি। যেমন- ট্রাফিকের লালবাতি- গাড়ি থামানোর সংকেত। এই সংকেত আমরা নিজেদের প্রয়াজনে ব্যবহার করে থাকি এবং একে আমরা তথা মানুষ সৃষ্টি করেছে। সুতরাং কৃত্রিম সংকেত হলো যা দৈনন্দিন জীবনে আমরা ব্যবহার করে থাকি।
প্রতীক বলত আমরা বুঝি যে কোনো কিছু নির্দেশ করার, বোঝার এবং ব্যক্ত করার জন্য যে লিখিত বা কথিত চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। কোনো কিছুর পাশে যখন (√) টিক চিহ্ন দেই তখন তা সঠিক বলে আমরা জানি। প্রতীককে মানুষ নিজ ইচ্ছা ও সুবিধা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করে থাকে। লাল বাতিকে গাড়ি থামানোর সংকেত হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এটি মানুষের ব্যবহার ও ব্যাখ্যার উপর নির্ভরশীল। প্রতীক যেহেতু লিখিত বা কথিত রূপ সুতরাং এর সাথে এর অর্থের সরাসরি বা প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। যেমন 'লালবাতি' প্রতীককে আমরা সব সময় সর্বক্ষেত্রে জানি। এটিকে জানার জন্য প্রত্যক্ষণের প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ এটি লিখিত রূপ বলেই সরাসরি প্রত্যক্ষণের প্রয়োজন হয় না।
লালবাতি হচ্ছে একটি প্রতীক যা মানুষের ব্যাখ্যা ও ব্যবহার এর উপর নির্ভরশীল। লালবাতি প্রতীকটি প্রত্যক্ষ হলে সংকেতের রূপ নিবে। লালবাতিকে আমরা গাড়ি থামানোর প্রতীক হিসাবে জানি। যখন এটি রাস্তার ট্রাফিক মোড়ে জ্বলে তখন গাড়ি থামানোর সংকেত হিসাবে বোঝানো হয়। সুতরাং লালবাতি- যেমন প্রতীক, তেমন সংকেতও বটে। লালবাতি যখন প্রতীকরূপে থাকে তখন তা কোনো ধরনের প্রত্যাশা জাগায় না। সুতরাং উদ্দীপকে যে লালবাতির কথা বলা হয়েছে তা মূলত প্রতীক এবং গাড়ি থামানোর সময় সংকেত হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে লালবাতি গাড়ি থামানোর প্রতীক। অর্থাৎ লালবাতি যদি রাস্তার ট্রাফিক মোড়ে জ্বালানো হয় তবে গাড়ি থেমে যায়। সুতরাং এর উপযোগিতা আছে। অর্থাৎ প্রতীকের উপযোগিতা রয়েছে। প্রতীক বলতে এমন কিছু লিখিত বা কথিত চিহ্নকে বোঝায় যা কোনো কিছু নির্দেশ করে। লালবাতি একটি চিহ্ন যা জ্বলে উঠলেই গাড়ি থেমে যায়। প্রতীকের উপযোগিতা ব্যাপক। প্রতীকের ফলে জটিল বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপন করা যায়। যেমন কোনো গাড়িকে ট্রাফিক পুলিশ থামাতে চাইলে লালবাতি জ্বালায় এবং গাড়িটি থেমে যায়। কিন্তু লালধাতির প্রতীক ব্যবহারের পরিবর্তে সে যদি চিৎকার করে তবে তা থামানো কষ্টসাধ্য বটে। সুতরাং প্রতীকের উপযোগিতা রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতীকের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। যেমন-যুক্তিবিদ্যায় প্রতীকের ব্যবহার অতীব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক জটিল যুক্তিকে প্রতীকের মাধ্যমে আমরা সহজে প্রকাশ করতে ও বুঝতে পারি। গণিতের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কোনো প্রাসঙ্গিক বিষয়ের দিকে মনোযোগ আকর্ষণের জন্য প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ ভূকিা রাখে। কোনো বিষয় যখন ভাষায় প্রকাশ করা হয় তখন দুর্বোধ্য মনে হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রতীকের মাধ্যমে তা সহজ করা হয়।
সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, রাজু ও মিনার বাবার উত্তরের মাধ্যমে প্রতীকের উপযোগিতা প্রকাশ পেয়েছে।
যে যুক্তিবিদ্যায় যুক্তিকে ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় তাকে 'সাবেকি যুক্তিবিদ্যা' বলে।
যে বাক্যকে বিশ্লেষণ করলে আর কোনো অঙ্গবচন বা উপাদান পাওয়া যায় না মূলত সেটিই হলো সরল বাক্য। যেমন- রাসেল হন একজন দার্শনিক। এ বাক্যটিকে ভেঙ্গে আর কোনো বাক্য আমরা পাই না। তাই একে পারমাণবিক বাক্যও বলা হয়। সুতরাং সরল বাক্যকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাক্যে ভাগ করা যায় না। যেমন ভাবে পরমাণুকে ভাগ করা যায় না। অবশ্য এই ধারণা (পরমাণুকে ভাগ করা যায় না) আগের। সরল বাক্যকে 'নিরপেক্ষ বাক্য'ও বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!