উত্তরঃ
প্রেষণা হলো এমন এক অভ্যন্তরীণ শক্তি যা জীবকে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিচালিত করে। এটি মানুষকে কাজ করতে উদ্দীপিত করে এবং আচরণকে নির্দিষ্ট দিকে চালিত করে। মনোবিজ্ঞানে প্রেষণাকে সাধারণত দুই প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়: অভ্যন্তরীণ প্রেষণা (Intrinsic Motivation) ও বাহ্যিক প্রেষণা (Extrinsic Motivation)। অভ্যন্তরীণ প্রেষণা আসে কোনো কাজের প্রতি ব্যক্তিগত আগ্রহ, আনন্দ বা সন্তুষ্টি থেকে, আর বাহ্যিক প্রেষণা আসে বাহ্যিক পুরস্কার, প্রশংসা বা শাস্তি এড়ানোর মতো কারণ থেকে।
দৃশ্যকল্প-১ এ সুরুজ মিঞার প্রেষণা মূলত দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের সাথে সম্পর্কিত। তিনি একজন দিনমজুর এবং "দৈনন্দিন খাবারের চাহিদা মেটাতেই তাঁকে ভীষণ পরিশ্রম করতে হয়।" এটি মাসলোর চাহিদার সোপান তত্ত্ব (Maslow's Hierarchy of Needs) অনুযায়ী শারীরিক বা জৈবিক চাহিদা (Physiological Needs) পূরণের একটি উদাহরণ। তাঁর প্রেষণা প্রধানত টিকে থাকার জন্য এবং ক্ষুধা নিবৃত্ত করার জন্য, যা একটি বাহ্যিক বা প্রাথমিক জৈবিক প্রেষণা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই ধরনের প্রেষণা সাধারণত কোনো অপ্রীতিকর অবস্থা (যেমন ক্ষুধা) থেকে মুক্তি পেতে কাজ করে।
একই দৃশ্যকল্পে নেহালের প্রেষণা সুরুজ মিঞার প্রেষণা থেকে ভিন্ন। নেহাল "পরীক্ষায় ১ম হওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে।" তার এই কঠোর পরিশ্রমের পেছনে রয়েছে কৃতিত্ব অর্জনের আকাঙ্ক্ষা (Achievement Motivation) এবং সামাজিক স্বীকৃতি লাভের ইচ্ছা। এটি বাহ্যিক প্রেষণার উদাহরণ হতে পারে যদি তার উদ্দেশ্য কেবল পুরস্কার বা প্রশংসা হয়, তবে প্রথম হওয়ার ব্যক্তিগত সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষা থাকলে এটি অভ্যন্তরীণ প্রেষণার দিকেও ইঙ্গিত করে। এক্ষেত্রে তার প্রেষণা মূলত আত্মমর্যাদা এবং আত্মোপলব্ধির চাহিদার (Self-esteem and Self-actualization Needs) সাথে সম্পর্কিত, যা মাসলোর চাহিদার সোপানের উচ্চস্তরের চাহিদা।
সুরুজ মিঞা এবং নেহালের প্রেষণার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান। সুরুজ মিঞার প্রেষণা ছিল মূলত অভাবজনিত প্রেষণা (Deficiency Motivation) যা শারীরিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে ভারসাম্য (Homeostasis) বজায় রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, নেহালের প্রেষণা ছিল প্রবৃদ্ধিমূলক প্রেষণা (Growth Motivation) যা ব্যক্তিগত উৎকর্ষ সাধন এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের দিকে ধাবিত করে। সুরুজ মিঞার প্রেষণা যেখানে জীবনধারণের মৌলিক স্তরে ক্রিয়াশীল, সেখানে নেহালের প্রেষণা ব্যক্তিগত কৃতিত্ব ও সামাজিক অবস্থান উন্নত করার সাথে জড়িত। উভয়ই কর্মে উৎসাহিত করলেও, তাদের প্রেষণার উৎস, প্রকৃতি এবং লক্ষ্য ভিন্ন। সুরুজের প্রেষণা 'থাকার জন্য কাজ করা' এবং নেহালের প্রেষণা 'বেড়ে ওঠার জন্য কাজ করা'—যা প্রেষণার বৈচিত্র্যময় রূপকে নির্দেশ করে।