যেকোনো পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়াই অভিযোজ্যতা।
পারিবারিক সংকটকালে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখাটাই আত্মসংযম। স্বাভাবিকভাবে জীবন চলার মাঝে বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। একজন সুব্যবস্থাপকের আত্মসংযমী হওয়া একান্ত প্রয়োজন। এই গুণের মাধ্যমে কঠিন সমস্যার সমাধান করা যায়। আত্মসংযমের ক্ষমতা থাকলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকে।
একজন গৃহ ব্যবস্থাপককে কতগুলো গুণের অধিকারী হতে হয়। বুদ্ধিমত্তা গৃহ পরিচালকের একটি অন্যতম গুণাবলি।
একজন গৃহ ব্যবস্থাপককে অবশ্যই বুদ্ধিমান হতে হয়। ব্যক্তির পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা, জ্ঞানস্পৃহা ইত্যাদি তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়। কোনো সমস্যাকে অনুধাবন করে পরিস্থিতির বিচার-বিশ্লেষণ করা, বিগত দিনের কোনো অভিজ্ঞতাকে সময়মতো কাজে লাগানো এ সবই বুদ্ধির ওপর নির্ভরশীল। পারিবারিক বিভিন্ন কর্মকান্ডকে সফল করার জন্য ব্যবস্থাপককে অবশ্যই বুদ্ধিমান হতে হবে। গৃহের সৌন্দর্য বর্ধনে, শৃঙ্খলা আনয়নে, যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন। ব্যবস্থাপক তার বুদ্ধির জোরে পরিবারের সীমিত সম্পদ ব্যবহার করেও সব চাহিদা পূরণ করতে পারে।
যুথি যৌথ পরিবারের গৃহ ব্যবস্থাপক। তিনি পরিবারের সদস্যদের তাদের বয়স ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ ভাগ করে দেন। ফলে তার পরিবারের কোনো কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় থাকে না। তিনি শুধু পরিবারের সদস্যদের কাজ ভাগ করেই দেন না, নিজেও তাদের কাজে সাহায্য করেন। উল্লিখিত কাজগুলোর মাধ্যমে যুথির বুদ্ধিমত্তা প্রকাশ পায়।
যুথির পারিবারিক সাফল্যের পিছনে কাজের সুষ্ঠু বণ্টন কারণটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।
গৃহ ব্যবস্থাপক যদি পরিবারের প্রতিটি সদস্যদের যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্ব ও কর্তব্য বণ্টন করে দেন তবে তা সবার জন্যই মঙ্গলজনক হবে।
যৌথ পরিবারের সদস্যদের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। সদস্যদের এরূপ দায়িত্ব-কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এক্ষেত্রে পরিবারের কোনো সদস্যদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকতে পারে। কেউ আবার তার দায়িত্ব সময়মতো পালন করার ক্ষেত্রে সচেতন নাও থাকতে পারে। আবার কাউকে ক্ষমতার অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করলে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এরূপ প্রেক্ষাপটে একজন গৃহ ব্যবস্থাপকের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আবার শুধু দায়িত্ব বণ্টন করে দিলেই হবে না, সেই সাথে সুষ্ঠু তদারকি এবং সহযোগিতাও প্রয়োজন। যুথি এ কাজগুলোই করে থাকেন অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে। তাই তার পরিবারে সাফল্য অর্জিত হয়। তার পরিবারের এ সাফল্যের মূল কারণ হলো যথাযথ গৃহ ব্যবস্থাপনা। এক্ষেত্রে উপযুক্ত জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতা তার কর্মক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
Related Question
View Allগৃহে যাবতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু গৃহ ব্যবস্থাপক।
গৃহের সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সুষ্ঠু কর্মব্যবস্থা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
পরিবারের সদস্যদের শক্তি, সামর্থ্য, বয়স, কর্মস্পৃহা ইত্যাদির ভিত্তিতে কাজগুলোকে তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার মাধ্যমেই সুষ্ঠু কর্মব্যবস্থা নিশ্চিত হয়।
সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যাপারে সানজিদা খাতুনের যে গুণটি প্রকাশ পেয়েছে তা হলো পরিবারের সদস্যদের জন্য কাজের উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা।
পরিবারের সকল সদস্য যেন তাদের করণীয় কাজগুলো ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারে সেজন্য সানজিদা খাতুন কাজের উপযুক্ত, উন্নত ও আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করেন। ফলে সদস্যদের কাজ তুলনামূলক সহজ হয়ে যায় এবং তারা উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে সফলতার দিকে অগ্রসর হয়।
সানজিদা খাতুন তার সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য আলো-বাতাসপূর্ণ ও কোলাহলমুক্ত স্থান নির্বাচন করেছেন। এছাড়া তিনি তাদের শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ সঠিকভাবে নির্দিষ্ট স্থানে গুছিয়ে রাখেন। ফলে তার সন্তানেরা নির্বিঘ্নে আরামদায়ক পরিবেশে লেখাপড়া করতে পারে। পরিবারের সদস্যদের কাজের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রত্যেক গৃহ ব্যবস্থাপকের কর্তব্য। সানজিদা খাতুনও তাই করেছেন।
সানজিদা খাতুন বাসায় মেহমান এলে তাদের যত্ন ও আপ্যায়ন করতে প্রায়শ বিরক্ত হন। তার এ আচরণটি দক্ষ গৃহ ব্যবস্থাপকের গুণাবলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মানুষ সামাজিক জীব। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী নিয়েই আমাদের জীবন। তাই সকলের সাথে ভালো ব্যবহার ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাড়িতে মেহমান এলে আপ্যায়নের মাধ্যমে তাদের সাথে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু এ সময় যদি তাদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করা হয় তাহলে সম্পর্কের মধ্যে একটা দূরত্ব সৃষ্টি হয় যা সামাজিক জীবনযাপনের অন্তরায়।
সানজিদা খাতুনের মধ্যে গৃহ ব্যবস্থাপকের যে গুণটি নেই তা হলো অভিযোজ্যতা। যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই হলো অভিযোজ্যতা। যিনি যত ভালোভাবে অভিযোজন করতে পারবেন, তিনি তত সহজেই যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন। দক্ষ গৃহ ব্যবস্থাপককে পরিবর্তিত অবস্থার সাথে অভিযোজন করে সকল কাজ করতে হয়। তাই সানজিদা খাতুনের মধ্যে অভিযোজ্যতা গুণটি থাকা প্রয়োজন।
গৃহে যাবতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু গৃহ ব্যবস্থাপক।
গৃহের সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সুষ্ঠু কর্মব্যবস্থা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
পরিবারের সদস্যদের শক্তি, সামর্থ্য, বয়স, কর্মস্পৃহা ইত্যাদির ভিত্তিতে কাজগুলোকে তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার মাধ্যমেই সুষ্ঠু কর্মব্যবস্থা নিশ্চিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!