যে খাদ্যে প্রয়োজনীয় সকল খাদ্য উপাদান (শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন ও খনিজ লবণ) সুনির্দিষ্ট পরিমাণে বা অনুপাতে থাকে তাকে সুষম খাদ্য বলে।
সাধারণত জার্সি, শাহীওয়াল, লালসিন্ধি, হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান এদের সাথে সাথে দেশি জাতের গাভির প্রজনন ঘটিয়ে সংকর জাতের গাভি পাওয়া যায়।
সংকর জাতের গরুর গায়ের রং সাদা-কালোর মিশ্রণ বা কালো রঙের হতে পারে। এ সকল জাতের গাভির ঘাড়ে গজ ও গলকম্বল নেই। দেশীয় গরুর তুলনায় এরা আকারে বেশ বড়। গাভি ও ষাঁড়ের ওজন যথাক্রমে ৩০০-৪০০ কেজি ও ৫০০-৬০০ কেজি হয়। দুধ ও মাংস উৎপাদন ক্ষমতা দেশি গরুর চেয়ে বেশি। এরা দৈনিক গড়ে ২৬ লিটার দুধ দেয়। পরিবেশের সাথে এদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও বেশি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও অভিযোজন ক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে বেশি।
জনাব আফজাল তার খামারে দৈনিক সুষম খাদ্য সঠিক পরিমাণে ও পদ্ধতিতে সরবরাহ করেন।
একটি দুগ্ধবতী গাভির সুষম খাদ্যে দৈনিক ১৫-২০ কেজি সবুজ কাঁচা ঘাস, ৩-৫ কেজি শুকনা খড়, ২-৩ কেজি দানাদার খাদ্য মিশ্রণ, ৫৫-৬০ গ্রাম লবণ ও পর্যাপ্ত পানি থাকা প্রয়োজন। একটি দুগ্ধবতী গাভিকে প্রতি ১.৫ লিটার দুধ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন খড় ও কাঁচা ঘাসের সাথে ০.৫ কেজি দানাদার খাদ্য দিতে হয়। শুধু খড় খাওয়ালে প্রতি ১.২৫ লিটার দুধ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন ০.৫ কেজি অতিরিক্ত দানাদার খাদ্য দিতে হয়। গাভির প্রতি ১০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ২-৩ কেজি শুকনা খাদ্য দিতে হয়। একটি গাভির জন্য দানাদার খাদ্য মিশ্রণ তৈরির উপকরণ নিম্নরূপ-
উল্লিখিত উপকরণসমূহ যথাযথভাবে মিশিয়ে জনাব আফজাল তার খামারের জন্য দানাদার খাদ্য মিশ্রণ তৈরি করেন। তবে তিনি উপরে বর্ণিত খাদ্যের ৫ গুণ বেশি খাদ্য সরবরাহ করেন। কারণ তার খামারে ৫টি দুগ্ধবতী গাভি রয়েছে ।
জনাব আফজাল ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে দুগ্ধ খামার করে লাভবান হওয়ার সাথে সাথে তার খামারে দেশি বকনা ক্রয় করে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে খামার বড় করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
বর্তমানে সারাবিশ্বে গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের জন্য কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি বহুল প্রচলিত। এ পদ্ধতিতে উৎপাদিত উন্নত সংকর জাত এদেশের আবহাওয়া উপযোগী। উন্নত জাতের ষাঁড়ের (যেমন- জার্সি, হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান ইত্যাদি) সিমেন সংগ্রহ করে দেশি বকনা বা গাভিকে প্রজনন করানো হয় বলে সেই ষাঁড়ের উন্নত গুণাবলি উৎপাদিত বাচ্চার দেহে সঞ্চালিত হয়। ফলে এভাবে উৎপন্ন সংকর জাতের গাভি পালন করে বেশ লাভবান হওয়া যায়। কেননা উন্নত জাতের ষাঁড় আমদানি ও লাল-পালন ব্যয়সাধ্য। তার চেয়ে উন্নত জাতের ষাঁড়ের সিমেন আমদানি করে অধিক সংখ্যক গাভির (একটি ষাঁড়ের সিমেন থেকে প্রায় ৪০০টি গাভি) প্রজনন করানো যায়।
এ পদ্ধতি অবলম্বন করে আফজাল খামার বড় করার ফলে কিছু বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। তার খামারে উৎপাদিত দুধ উক্ত অঞ্চলের দুধের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করবে। ফলে তাকে দেখে এলাকার অনেকেই খামার প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ হবে এবং তার মতো তারাও আর্থিকভাবে লাভবান হবে। ফলে সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাজারজাতকরণে আরো বেশি গুরুত্ব দিবে। এ খামার জাতীয় উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে এবং এলাকার বেকারত্ব দূর হবে।
উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, জনাব আফজালের সিদ্ধান্ত ছিল সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত।
Related Question
View Allসাইলেজ (Silage) হলো রসালো অবস্থায় ফুল আসার পূর্বে সবুজ ও সতেজ ঘাসকে (ভুট্টা, নেপিয়ার, গিনি ইত্যাদি) কেটে টুকরা করে সেগুলো বায়ুরোধী অবস্থায় সংরক্ষণকৃত খাদ্য।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গবাদিপশু পালন তথা গরু, মহিষ ও ছাগল পালনের প্রয়োজনীয়তা অনেক। এদেশের কৃষিখাতের আয়ের একটি বিরাট অংশ নির্ভর করে পশুসম্পদের উপর। গরু, মহিষ ও ছাগলের মাংস, দুধ, চামড়াসহ বিভিন্ন উপজাত দ্রব্যাদি যেমন- হাড়, শিং, নাড়িভুঁড়ি, গোবর ইত্যাদি অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কৃষিকাজ, গাড়িটানা, সেচকাজ, ঘানিটানা, ভারবহন, বিনোদন প্রভৃতি কাজে গবাদিপশুর বহুল ব্যবহার হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনে পশুসম্পদের অবদান প্রায় ১৬.৫২%। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণেও গবাদিপশু পালন গুরুত্বপূর্ণ।
রুহুল আমিনের দুগ্ধ খামারের গাভিগুলো হলো হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরু। নিচে এদের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
i. দুধাল জাতের মধ্যে এরা সবচেয়ে বড় আকারের গরু। এদের গায়ের রং সাধারণত সাদা-কালো ছোপ ছোপ হয়।
ii. মাথা লম্বাটে, সরু ও সোজা হয়। এদের কুঁজ উঁচু হয় না।
iii. দিনে ৩০ লিটারের বেশি দুধ দেয়। দুধে চর্বির পরিমাণ ৩.৫- ৪%।
iv. বড় আকারের গাভির ওজন ৫০০-৬০০ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন ৮০০-১০০০ কেজি হয়।
V. বকনা ১৮ মাস বয়সে প্রজননক্ষম হয় এবং ৩০ মাসে বাচ্চা দেয়।
রুহুল আমিনের খামারের গরুগুলো ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত।
ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে ৬ মাস বয়সে পশুকে টিকা দিতে হবে। পরে প্রতি বছরে একবার করে টিকা দিতে হবে। এছাড়া সুস্থ পশুকে আক্রান্ত পশু হতে পৃথক রাখতে হবে এবং আক্রান্ত পশুর মল, রক্ত ও মৃতদেহ মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে। সর্বোপরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত শুকনো স্থানে পশু লালন-পালনের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ক্ষুরা রোগ দেখা দিলে আক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু হতে আলাদা করে পরিষ্কার ও শুকনা জায়গায় রাখতে হবে। আক্রান্ত পশুকে কচি ঘাস ও তরল খাবার যেমন ভাতের মাড় বা জাউভাত খেতে দিতে হবে। আক্রান্ত পশুর মুখের বা পায়ের ঘা-এর চিকিৎসা করাতে হবে। মুখের ক্ষত ও জিহ্বা প্রত্যহ ২/৩ বার পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (০.০১%) অথবা ফিটকিরি বা এলম (২%) দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। ৩% আইওসান সলিউসান দ্বারা ক্ষতস্থান দৈনিক ৩ বার করে ৩ ৫ দিন ধুয়ে দিতে হবে। অথবা মুখের ঘা-এ সোহাগার খৈ গুঁড়া করে মধু বা ঝোলাগুড়ের -সাথে মিশিয়ে লাগাতে হবে। আইওসান দ্বারা ধোয়ার পরপরই ক্ষতস্থানে এন্টিবায়োটিক পাউডার লাগিয়ে অথবা পায়ের ক্ষত স্থানে তুঁতে (১%) অথবা সোডিয়াম বাইকার্বোনেট (২%) অথবা পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (০.০১%) সলিউশন দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। এরপর | গন্ধকের গুঁড়া বা সালফানিলামাইড পাউডার দিনে ২-৩ বার লাগাতে হবে। নারিকেল তেল ও তারপিন তেল ৪:১ অনুপাতে মিশিয়ে ঘা-এ লাগাতে হবে যাতে ক্ষতস্থানে মাছি না পড়ে। প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শে উপরোক্ত ব্যবস্থাসমূহ গ্রহণ করে রুহুল আমিন তার খামারে ক্ষুরারোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার করতে পারেন।
সুষম খাদ্য বলতে যে খাদ্যে সকল খাদ্য উপাদান সুনির্দিষ্ট পরিমাণে বা অনুপাতে থাকে সে খাদ্যকে বোঝায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!