কসম যুগের। নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে অর্থাৎ ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে ধৈর্যের।
ব্যাখ্যা: মহান আল্লাহ তায়ালা যুগের শপথ করে বলেছেন, শপথ যুগের নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। অর্থাৎ সকল মানুষ ক্ষতির মধ্যে আছে। আল্লাহর এ কথায় আমাদের হতাশ হবার কিছু নেই। কেননা আল্লাহ তাআলা এরপরই বলেছেন যে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত, তবে চার প্রকার লোক ব্যতীত। আর তারা হলেন, ক. যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে অর্থাৎ যারা আল্লাহর কর্তৃত্ব মেনে নেয়, খ. যারা সৎকর্ম করে, অর্থাৎ যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার সাথে সাথে তার যাবতীয় আদেশ-নিষেধ মেনে চলে। গ. এবং যারা তাকীদ করে সত্যের অর্থাৎ যারা মানুষকে সত্যপথে চলার জন্য বলে এবং নিজেও সত্য পথে চলে, ঘ. এবং যারা তাকীদ করে ধৈর্যের অর্থাৎ যারা বিপদ-আপদে সর্বদা ধৈর্য ধারণ করে এবং অপরকে ধৈর্য ধারণ করার জন্য তাকীদ দেয়। সুতরাং আমাদের সকলের উচিত এই চারটি গুণ অর্জন করা। তা না হলে আমরা সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাব।
উল্লিখিত আয়াতটি সূরা আহযাবের ২১ নং আয়াত।
অর্থ : নিশ্চয় তোমাদের জন্য রাসূল (স)-এর মধ্যে উত্তম অনুপম আদর্শ রয়েছে।
ব্যাখ্যা: এখানে আল্লাহ তায়ালা রাসূল (স)-এর বাণীসমূহ ও কার্যাবলি উভয়টিরই অনুসরণের হুকুম প্রদান করেছেন। তাই তো বিশিষ্ট মুফাসসিরিনগণ বর্ণনা করেছেন যে, এর বাস্তব কার্যকরী ব্যবস্থা হলো এই যে, যেসব কাজ করা বা পরিহার করার কথা রাসূল (স) বলেছেন সেগুলো অবশ্যই পালন করা। অর্থাৎ যেগুলো করতে বলেছেন সেগুলো করা আর যেগুলো নিষেধ করেছেন সেগুলো পরিহার করা। সুতরাং খাঁটি মুসলমানের জন্য অনুসরণ ও অনুকরণের প্রয়োজনীয়তার মূলনীতি হলো রাসূল (স)-এর জীবনাদর্শ।
ব্যাখ্যা: উল্লিখিত হাদীসটি ইমাম বুখারী (র)-এর সুবিখ্যাত হাদীসগ্রন্থ সহীহ বুখারী শরীফ থেকে চয়নকৃত।
এখানে রাসূল (স) কুরআন শরীফ তেলাওয়াতকারীর ফযিলতের কথা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তায়ালা মানবজাতি ও জীব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদত করার জন্য। আর ইবাদত করার পথ ও পন্থা দেখানোর জন্য পাঠিয়েছেন বা অবতীর্ণ করেছেন মহাগ্রন্থ কুরআন। আর এ গ্রন্থটি অবতীর্ণ করেছেন নবীদের সরদার হযরত মুহাম্মদ (স)-এর উপর। যেহেতু এ মহাগ্রন্থটি অবতীর্ণ হয়েছে এক মহান ব্যক্তির উপর সেহেতু এর তেলাওয়াতকারীও সর্বোত্তম ব্যক্তি। এখানে নিজে শিক্ষা করার পাশাপাশি অপরকে শিক্ষা দেয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের দাবিদার। কাজেই সর্বোত্তম ব্যক্তি হওয়ার জন্যে অবশ্যই শেখার পাশাপাশি অপরকে শিক্ষা দিতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে কুরআন শিক্ষা ও শিক্ষা দেয়ার তাওফিক দান করুন আমিন।
ইসলামে মানবাধিকারের বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। সাধারণভাবে মানবাধিকার বলতে যা বোঝায় ইসলাম তা সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করে। বস্তুত মানবাধিকার বলতে আমরা মৌলিক অধিকারগুলোকেই বুঝি, আর সেগুলো হলো : মানুষের জান-মাল ও সম্মানের নিরাপত্তার অধিকার, ভাত-কাপড় লাভ ও বেঁচে থাকার অধিকার, শিক্ষার অধিকার, শিশুর অধিকার, নারীর অধিকার, শ্রমিকের অধিকার ইত্যাদি। ইসলামে উপরিউক্ত বিষয়সমূহের সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মানুষের প্রথম দাবি বা অধিকার হলো বেঁচে থাকার অধিকার। এক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনের শিক্ষা হলো "আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করা যাবে না” (সূরা বনী ইসরাইল, ১৭ : ৩৩)। বিদায় হজ্বের ভাষণে রাসূল (স) বলেন-"তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ, তোমাদের মান-ইজ্জত তোমাদের জন্য পবিত্র যেমন পবিত্র তোমাদের জন্য আজকের এই দিন, এই শহর ও এই মাস" (সহীহ বুখারী ২য় খণ্ড পৃ. ৬৩২)।
খাওয়া-পরা তথা অন্ন ও বস্ত্র হলো মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান উপকরণ। এক্ষেত্রে জীবিকা অর্জনের তাগিদ দিয়ে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে- “সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ করবে” (সূরা জুমআ', ৬২:১০)। শিক্ষা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে ইসলামের অবদান অনস্বীকার্য। রাসূল (স) বলেন- "এক মুমিনের কর্তব্য অন্য মুমিন অসুস্থ হলে তার সেবা শুশ্রূষা করা।” শিক্ষার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য জ্ঞানার্জন করা ইসলামে ফরয করা হয়েছে। ইসলামে শিশুর অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে "মায়েরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তার সন্তানকে স্তন্য পান করাবে।" সন্তানের জন্য খরচ করাকে ইসলামে সাদকাহ বলা হয়েছে।
নারীর অধিকার ইসলামের একটি অনন্য দান। সারা বিশ্বে যখন নারীরা অবহেলিত, অপমানিত ও লাঞ্ছিত-বঞ্চিত ছিল তখন ইসলাম তাদেরকে যথাযথ সম্মান দিয়ে পুরুষের সমান অধিকার প্রদান করেছে। আর্থিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে নারীরা যথেষ্ট মর্যাদার অধিকারী।
শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে ইসলামের বাণী হলো "শ্রমিকদের মজুরি ঘাম শুকানোর পূর্বেই দিতে হবে।" কোনো পেশাকে ছোট করে দেখার বা ঘৃণা করার কোনো সুযোেগ ইসলামে নেই। ইসলাম মানুষ হিসেবে অমুসলিমদের সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছে। ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমরা জান-মাল ও ইজ্জতের পূর্ণ নিরাপত্তা লাভ করবে।
মোট কথা ইসলামে যাবতীয় মানবাধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়।
Related Question
View All"الم" (আলিফ-লাম-মীম) কুরআনের শুরুতে আসা এক ধরনের বিশেষ বর্ণমালা, যাকে বলা হয় হুরুফে মুকাত্তা‘আত (বিচ্ছিন্ন বর্ণ)
মর্মার্থ ও তাৎপর্য
- অর্থ রহস্যময়
- এর সঠিক অর্থ কেবল আল্লাহ তায়ালাই জানেন।
- ইসলামের প্রাচীন যুগ থেকেই আলেমরা এর ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু চূড়ান্ত অর্থ গোপনই রাখা হয়েছে।
- কুরআনের অলৌকিকতার অংশ
- এই বর্ণগুলো কুরআনের ২৯টি সূরার শুরুতে এসেছে।
- অনেক আলেমের মতে, এগুলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ﷺ এর মধ্যে এক বিশেষ সংকেত।
- আবার কেউ কেউ বলেন, এটি কুরআনের ভাষাগত ও সাহিত্যিক অলৌকিকতার প্রমাণ।
- মানুষের জন্য শিক্ষা
- আল্লাহর জ্ঞানের সামনে মানুষের জ্ঞান সীমিত—এটি বিনম্রভাবে স্বীকার করার শিক্ষা দেয়।
- আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কুরআনের প্রতিটি হরফেই গভীর জ্ঞান ও রহস্য লুকিয়ে আছে।
- যেসব সূরায় এসেছে
- সূরা আল-বাকারাহ (২:১)
- সূরা আলে ইমরান (৩:১)
- সূরা আল-আনকাবুত (২৯:১) — ইত্যাদি
মুত্তাকী (المتقين) শব্দটি এসেছে তাকওয়া (تقوى) থেকে, যার অর্থ আল্লাহভীতি, সতর্কতা, ও গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা। কুরআন ও হাদিসে মুত্তাকীদের বৈশিষ্ট্য:
- গায়েবের প্রতি ঈমান রাখা (আল্লাহ, ফেরেশতা, আখেরাত ইত্যাদি)
- সালাত কায়েম করা
- আল্লাহর দেওয়া রিযিক থেকে ব্যয় করা
- কুরআন ও পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে বিশ্বাস রাখা
- আখেরাতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা
গুনাহ থেকে বাঁচতে সচেতন থাকা, এমনকি সন্দেহজনক বিষয় থেকেও বিরত থাকা
هدى للمتقين — “মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত”
- কুরআনের প্রভাব ও ফল লাভ করেন কেবল আল্লাহভীরু ও সত্যগ্রহণে প্রস্তুত মানুষ।
এখানে "হিদায়াত" বলতে কার্যকর দিকনির্দেশনা বোঝানো হয়েছে—যা শুধু সেই ব্যক্তির জীবনে প্রভাব ফেলে, যে তা গ্রহণ করতে চায়।
هدى للناس — “মানবজাতির জন্য হিদায়াত”
- কুরআনের বার্তা সবার জন্য উন্মুক্ত।
এখানে কুরআনের সর্বজনীন বার্তা বোঝানো হয়েছে—এটি জাতি, ধর্ম, ভাষা নির্বিশেষে সবার জন্য পথপ্রদর্শক।
মূল শিক্ষা
- কুরআন সবার জন্য নাজিল হয়েছে (هدى للناس), কিন্তু প্রকৃত উপকার পান তারা, যাদের অন্তরে তাকওয়া আছে (هدى للمتقين)।
- যেমন বৃষ্টি সবার জমিতে পড়ে, কিন্তু ফসল জন্মায় শুধু সেই জমিতে, যা প্রস্তুত ও উর্বর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!