যে কোনো একটি প্রবাদের ভাব-সম্প্রসারণ করুন (অনধিক ২০টি বাক্যে):

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

মূল ভাবঃ

মানুষকে পশু থেকে আলাদা করে তোলে তার জ্ঞান, বিবেক ও চিন্তাশক্তি। এই গুণগুলোর অভাবে মানুষ নিজের মানবিকতা হারিয়ে ফেলে এবং পশুর মতো আচরণ করতে শুরু করে।

সম্প্রসারিত ভাবঃ

মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মূল ভিত্তি তার জ্ঞান। মানুষ যে চিন্তা করতে পারে, বিচার করতে পারে এবং অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে—এই ক্ষমতাগুলো তাকে অন্যান্য জীবের থেকে আলাদা করে। তবে যদি এই চিন্তা ও বুদ্ধি ব্যবহার না করা হয়, তাহলে মানুষ কেবল আকারে-ই মানুষ, গুণে নয়। সে তখন পশুর মতো হয়ে যায়, যার কোনো নৈতিকতা, সহানুভূতি কিংবা দায়িত্ববোধ থাকে না।

“A man without knowledge is like a tree without roots.” — Marcus Garvey

গাছের শিকড় না থাকলে যেমন সেটা মাটি আঁকড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না, তেমনি মানুষের জীবনে জ্ঞান না থাকলে সে সমাজে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারে না। সে সহজেই পথভ্রষ্ট হয়, সঠিক-ভুলের পার্থক্য করতে পারে না এবং নিজের জীবনকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।

জ্ঞান মানুষকে করে দায়িত্ববান, আত্মনির্ভরশীল ও আত্মবিশ্বাসী। একজন জ্ঞানী ব্যক্তি শুধু নিজের মঙ্গলের কথা ভাবে না, বরং সমাজ ও দেশের জন্যও ভালো কিছু করতে পারে। অন্যদিকে, জ্ঞানহীন ব্যক্তি ছোট-ছোট বিষয়েই বিভ্রান্ত হয়, কুসংস্কার ও ভুল বিশ্বাসে ভেসে যায় এবং নিজের ভুলগুলো বুঝে উঠতে পারে না। সে জীবনের প্রকৃত মানে বোঝে না এবং নিজের উন্নতি করতে পারে না।

অনেক মানুষ আছে যারা শিক্ষার সুযোগ পায়নি, কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সততা দিয়ে জীবনের জ্ঞান অর্জন করেছে। তারা প্রকৃতপক্ষেই জ্ঞানী। আবার অনেক শিক্ষিত মানুষ আছে যারা কেবল ডিগ্রির অহংকারে অন্ধ, কিন্তু বাস্তব জীবন বা মানবিক মূল্যবোধের কিছুই বোঝে না। আসলে, সত্যিকার জ্ঞান মানেই হলো নিজের ভুল স্বীকার করে শেখার মানসিকতা ও ভালো-মন্দ বিচারের ক্ষমতা।

জ্ঞান না থাকলে মানুষ পশুর মতো আচরণ করে—আত্মকেন্দ্রিক, হিংস্র ও নির্মম। সে অন্যের অনুভূতির কদর করতে শেখে না। সে ভাবে শুধু নিজের লাভ আর আরাম নিয়েই। সে জানে না কিভাবে মানবিক হতে হয়, কিভাবে ভালোবাসতে হয়, কিভাবে ক্ষমা করতে হয়। আর এটাই তাকে পশুর সমান করে তোলে।

আজকের যুগে প্রযুক্তির উন্নতি, বিজ্ঞানের বিস্তার ও জ্ঞানের বিকাশ—সবকিছুই মানুষের উন্নয়নের মূল উপাদান। কিন্তু যদি এই জ্ঞান মানুষের ভেতর না থাকে, তাহলে সে প্রযুক্তি কিংবা ক্ষমতা দিয়েও মানবিকতা গড়ে তুলতে পারে না। বরং সে এগুলোর অপব্যবহার করে ক্ষতি করে নিজে এবং সমাজের।

মন্তব্যঃ

জ্ঞান মানুষের জন্য বাতিঘরের মতো। এটি পথ দেখায়, চরিত্র গঠন করে এবং মানুষকে সত্যিকারের মানুষ হতে শেখায়। জ্ঞানহীনতা মানুষকে অন্ধ করে তোলে, আর তখন সে পশুর মতো জীবন যাপন করে। তাই, প্রতিটি মানুষের উচিত জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করা।

Sumaiya Siddika
Sumaiya Siddika
11 months ago
93

Related Question

View All
(ক)
মহাসমুদ্রের শত বৎসরের কল্লোল কেহ যদি এমন করিয়া বাঁধিয়া রাখিতে পারি যে, সে ঘুমন্ত শিশুটির মত চুপ করিয়া থাকিত, তবে সেই নীরব মহাশব্দের সহিত এই পুস্তকাগারের তুলনা হইত। এখানে ভাষা চুপ করিয়া আছে, প্রবাহ স্থির হইয়া আছে, মানবতাত্মার অমর অগ্নি কালাে অক্ষরের শৃঙ্খলে কালাে চামড়ার কারাগারে বাঁধা পড়িয়া আছে। ইহারা সহসা যদি বিদ্রোহী হইয়া উঠে, নিস্তব্ধতা ভাঙ্গিয়া ফেলে, অক্ষরের বেড়া দগ্ধ করিয়া একবার বাহির হইয়া আসে, কালের শখ-রন্ধ্রে এই নীরব সহস্র বৎসর যদি এককালে ফুঙ্কার দিয়া উঠে, তবে সে বন্ধনমুক্ত উচ্ছ্বসিত শব্দের স্রোতে দেশ-বিদেশ ভাসিয়া যাইত। হিমালয়ের মাথার উপরে কঠিন তুষারের মধ্যে যেমন শত শত বন্যা বাঁধা পড়িয়া আছে, তেমনি এই পুস্তকাগারের মধ্যে মানব হৃদয়ের বন্যাকে বাঁধিয়া রাখা হইয়াছে। বিদ্যুৎকে মানুষ লােহার তার দিয়া বাধিয়াছে। কিন্তু কে জানিত মানুষ শব্দকে নিঃশব্দের মধ্যে আকাশের দৈববাণীকে সে কাগজে পুরিয়া রাখিবে, অতলস্পর্শ কাল সমুদ্রের উপর কেবল একখানা বই দিয়া সাঁকো বাঁধিয়া দিবে । (সারমর্ম লিখুন)
No explanation available yet.
1.9k
(খ)
মহাসমুদ্রের শত বৎসরের কল্লোল কেহ যদি এমন করিয়া বাঁধিয়া রাখিতে পারি যে, সে ঘুমন্ত শিশুটির মত চুপ করিয়া থাকিত, তবে সেই নীরব মহাশব্দের সহিত এই পুস্তকাগারের তুলনা হইত। এখানে ভাষা চুপ করিয়া আছে, প্রবাহ স্থির হইয়া আছে, মানবতাত্মার অমর অগ্নি কালাে অক্ষরের শৃঙ্খলে কালাে চামড়ার কারাগারে বাঁধা পড়িয়া আছে। ইহারা সহসা যদি বিদ্রোহী হইয়া উঠে, নিস্তব্ধতা ভাঙ্গিয়া ফেলে, অক্ষরের বেড়া দগ্ধ করিয়া একবার বাহির হইয়া আসে, কালের শখ-রন্ধ্রে এই নীরব সহস্র বৎসর যদি এককালে ফুঙ্কার দিয়া উঠে, তবে সে বন্ধনমুক্ত উচ্ছ্বসিত শব্দের স্রোতে দেশ-বিদেশ ভাসিয়া যাইত। হিমালয়ের মাথার উপরে কঠিন তুষারের মধ্যে যেমন শত শত বন্যা বাঁধা পড়িয়া আছে, তেমনি এই পুস্তকাগারের মধ্যে মানব হৃদয়ের বন্যাকে বাঁধিয়া রাখা হইয়াছে। বিদ্যুৎকে মানুষ লােহার তার দিয়া বাধিয়াছে। কিন্তু কে জানিত মানুষ শব্দকে নিঃশব্দের মধ্যে আকাশের দৈববাণীকে সে কাগজে পুরিয়া রাখিবে, অতলস্পর্শ কাল সমুদ্রের উপর কেবল একখানা বই দিয়া সাঁকো বাঁধিয়া দিবে । (সারমর্ম লিখুন)
উত্তরঃ

সারাংশ: গ্রন্থাগার হলো জ্ঞানের এক নীরব মহাসমুদ্র। হাজার বছরের জ্ঞান ও মানবহৃদয়ের আবেগ, উচ্ছ্বাস বিভিন্ন গ্রন্থে লিপিবদ্ধ হয়ে গ্রন্থাগারে রক্ষিত হয়।

Abdullah Khan
Abdullah Khan
1 year ago
5.1k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মহাসমুদ্রের শত বৎসরের কল্লোল কেহ যদি এমন করিয়া বাঁধিয়া রাখিতে পারি যে, সে ঘুমন্ত শিশুটির মত চুপ করিয়া থাকিত, তবে সেই নীরব মহাশব্দের সহিত এই পুস্তকাগারের তুলনা হইত। এখানে ভাষা চুপ করিয়া আছে, প্রবাহ স্থির হইয়া আছে, মানবতাত্মার অমর অগ্নি কালাে অক্ষরের শৃঙ্খলে কালাে চামড়ার কারাগারে বাঁধা পড়িয়া আছে। ইহারা সহসা যদি বিদ্রোহী হইয়া উঠে, নিস্তব্ধতা ভাঙ্গিয়া ফেলে, অক্ষরের বেড়া দগ্ধ করিয়া একবার বাহির হইয়া আসে, কালের শখ-রন্ধ্রে এই নীরব সহস্র বৎসর যদি এককালে ফুঙ্কার দিয়া উঠে, তবে সে বন্ধনমুক্ত উচ্ছ্বসিত শব্দের স্রোতে দেশ-বিদেশ ভাসিয়া যাইত। হিমালয়ের মাথার উপরে কঠিন তুষারের মধ্যে যেমন শত শত বন্যা বাঁধা পড়িয়া আছে, তেমনি এই পুস্তকাগারের মধ্যে মানব হৃদয়ের বন্যাকে বাঁধিয়া রাখা হইয়াছে। বিদ্যুৎকে মানুষ লােহার তার দিয়া বাধিয়াছে। কিন্তু কে জানিত মানুষ শব্দকে নিঃশব্দের মধ্যে আকাশের দৈববাণীকে সে কাগজে পুরিয়া রাখিবে, অতলস্পর্শ কাল সমুদ্রের উপর কেবল একখানা বই দিয়া সাঁকো বাঁধিয়া দিবে । (সারমর্ম লিখুন)
মহাসমুদ্রের শত বৎসরের কল্লোল কেহ যদি এমন করিয়া বাঁধিয়া রাখিতে পারি যে, সে ঘুমন্ত শিশুটির মত চুপ করিয়া থাকিত, তবে সেই নীরব মহাশব্দের সহিত এই পুস্তকাগারের তুলনা হইত। এখানে ভাষা চুপ করিয়া আছে, প্রবাহ স্থির হইয়া আছে, মানবতাত্মার অমর অগ্নি কালাে অক্ষরের শৃঙ্খলে কালাে চামড়ার কারাগারে বাঁধা পড়িয়া আছে। ইহারা সহসা যদি বিদ্রোহী হইয়া উঠে, নিস্তব্ধতা ভাঙ্গিয়া ফেলে, অক্ষরের বেড়া দগ্ধ করিয়া একবার বাহির হইয়া আসে, কালের শখ-রন্ধ্রে এই নীরব সহস্র বৎসর যদি এককালে ফুঙ্কার দিয়া উঠে, তবে সে বন্ধনমুক্ত উচ্ছ্বসিত শব্দের স্রোতে দেশ-বিদেশ ভাসিয়া যাইত। হিমালয়ের মাথার উপরে কঠিন তুষারের মধ্যে যেমন শত শত বন্যা বাঁধা পড়িয়া আছে, তেমনি এই পুস্তকাগারের মধ্যে মানব হৃদয়ের বন্যাকে বাঁধিয়া রাখা হইয়াছে। বিদ্যুৎকে মানুষ লােহার তার দিয়া বাধিয়াছে। কিন্তু কে জানিত মানুষ শব্দকে নিঃশব্দের মধ্যে আকাশের দৈববাণীকে সে কাগজে পুরিয়া রাখিবে, অতলস্পর্শ কাল সমুদ্রের উপর কেবল একখানা বই দিয়া সাঁকো বাঁধিয়া দিবে । (সারমর্ম লিখুন)
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews