বগুড়া প্রতিনিধি
বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্রের প্রধান সড়কটি এখন যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সংস্কারের অভাবে খানাখন্দে ভরা এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজার হাজার মানুষ।
নিচে বিস্তারিত প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হলো:
খানাখন্দে ভরা সড়ক: ভোগান্তি চরমে
বগুড়া শহরের সাতমাথা থেকে বনানী মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্রধান সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে ডোবায় পরিণত হয়। ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকেরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ
সড়কের এই বেহাল দশার কারণে যানবাহনগুলোকে চলতে হচ্ছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজটের। কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, ধুলোবালি আর কাদার কারণে এই রাস্তায় চলাচল করাই এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের কাজ শুরু হবে। তবে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করার জন্য কিছু গর্তে ইটের খোয়া ফেলা হচ্ছে।
নওগাঁয় বর্ণিল আয়োজনে নওগাঁ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ |
২৫ এপ্রিল ২০২৬
নওগাঁ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়ার জন্য আয়োজন করা হয়েছে বর্ণিল 'নবীনবরণ ও পরিচিতি অনুষ্ঠান-২০২৬'। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের প্রধান মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও সহপাঠীরা।
সকাল ১০টায় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর নতুন শিক্ষার্থীদের হাতে একটি করে গোলাপ ফুল ও শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলা শিক্ষা অফিসার।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকরা। বক্তারা বলেন, "নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে এবং বিদ্যালয়ের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি সহ-শিক্ষা কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করতে হবে।"
নবীনদের পক্ষ থেকে অনুভূতি প্রকাশ করে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিয়ান বলে, "প্রথম দিন অনেক ভয় লাগছিল, কিন্তু বড় ভাইয়া ও স্যারদের ভালোবাসায় এখন অনেক আনন্দ লাগছে। এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে বড় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখছি।"
বরণ অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয় ও সমকাল সুহৃদ সমাবেশের আয়োজনে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক দলের সদস্যরা দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় বিকেল ৪টায়, যা নতুন শিক্ষার্থীদের মনে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
Related Question
View Allবৈশাখী মেলা
বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি বিশেষ অংশ হলো বৈশাখী মেলা। প্রতি বছর বাংলা পহেলা বৈশাখ, অর্থাৎ ১৪ই এপ্রিল, এই মেলার আয়োজন করা হয়। বৈশাখী মেলা শুধু একটি উৎসব নয়, এটি বাংলার জীবনযাত্রার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত এক ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান।
মেলার শুরু হয় সকালবেলায়, যেখানে গ্রামের মানুষ তাদের পোষাক ও সাজসজ্জায় মেতে ওঠে। বাজারে নানা ধরনের স্টল ও দোকান বসে, যা বিভিন্ন রকমের পণ্য ও সামগ্রী বিক্রি করে। এই মেলায় স্থানীয় হস্তশিল্প, জামদানি শাড়ি, মাটির পুতুল, কুটির শিল্পের নানা সামগ্রী পাওয়া যায়। মেলার এক দিকের গন্ধ আসে পিঠে-পুলি, মোয়া, চিড়েসুড়ির মত ঐতিহ্যবাহী খাবারের সুবাস।
বৈশাখী মেলা শুধু কেনাকাটার জন্যই নয়, বরং এটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আনন্দের মিলনমেলা। মেলা উপলক্ষে গীতিনাট্য, লোকনৃত্য, গান, কৌতুক পরিবেশিত হয়। এই সাংস্কৃতিক কার্যক্রম গ্রামীণ জীবনকে প্রাণবন্ত করে তোলে এবং নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত করায়।
মেলা শেষ হওয়ার পর, সবাই একসাথে আনন্দের সাথে বাড়ি ফিরে আসে, মনে মনে ভরপুর আশা ও স্মৃতি নিয়ে। বৈশাখী মেলা একদিকে যেমন বাংলার ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে, অন্যদিকে এটি সামাজিক মেলবন্ধনও শক্তিশালী করে।
এভাবে, বৈশাখী মেলা বাংলার সংস্কৃতির একটি অপরিহার্য অংশ, যা সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহ্যবাহী জীবনের সাথে সম্পৃক্ত।
বৈশাখী মেলা
বৈশাখী মেলা নববর্ষের একটি উৎসব । নববর্ষ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই মেলা বসে । এটি বৈশাখের প্রথম দিনে (মাসের) অনুষ্ঠিত হয় । মূলত বৈশাখী মেলার আয়োজন করে স্থানীয় লোকেরা । পহেলা বৈশাখ আয়োজন করা হয় বাংলাদেশের বিভিন্নজায়গায় ছোট বড় অনেক স্থানে । মেলা শুরু করে স্থানীয় লোকেরা এই মেলাতে বিভিন্ন ধরনের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা গুলো শুরু করে । এই মেলাগুলো এক সপ্তাহ কিংবা এক মাস ব্যাপী হয়ে থাকে । বৈশাখী মেলা সাধারণত খোলা আকাশের নিচে বসে । প্রতিবছর রমনার বটমূলে বসে এ মেলার প্রভাতি আসর । এছাড়া গ্রামের হাট-বাজার, নদীর তীর, মন্দির প্রাঙ্গণে এ মেলা বসে । মানুষের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ করা যায় । নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, নানা ধরনের কুটিরশিল্প, খেলনাসহ হরেক রকম পণ্যের সমাহার ঘটে এ মেলায় । এছাড়াও থাকে যাত্রা, পুতুলনাচ, নাগরদোলা, সার্কাসসহ বিনোদনমূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন । বিভিন্ন ধরনের মিষ্টিজাতীয় খাবারও পাওয়া যায় মেলায় । এমেলায় বসে বাঙ্গালীর ঐতিহ্যবাহি নানা খাবারের পশরা । হরেক রকমের মিষ্টি, বাতাসা, খই, মুড়ি, আচার সহ নানান রকম বাহারী বাঙ্গালী খাবার এ মেলার প্রধান আকর্ষন । এছাড়া রং-বেরঙের বেলুন আর বাঁশের বাঁশির সুর আর কচিকাচাদের কোলাহলে মুখরিত থাকে মেলা প্রাঙ্গন । বৈশাখী মেলায় গিয়ে তালপাতার তৈরি হাতপাখা কেনেন না এমন লোকের সংখ্যা খুব কম । লোহা ও কাঠের তৈরি সামগ্রীর মধ্যে দা, বঁটি, কাস্তে, ছুরি, খুন্তি, কোদাল, শাবল, পিঁড়ি, জলচৌকি, চেয়ার, টেবিল, খাট-পালঙ্ক ইত্যাদি পাওয়া যায় । বৈশাখি মেলা আনন্দের পাশাপাশি আমাদের জীবনের অনেক প্রয়োজন মেটায় ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!