শিষ্টাচারের গুরুত্ব
ভূমিকা
শিষ্টাচার মানবজীবনের এক অবিচ্ছেদ্য ও গুরুত্বপূর্ণ গুণ। এটি মানুষকে সত্যিকার অর্থে মানুষ করে তোলে। সামাজিক জীবনে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শিষ্টাচারের ভূমিকা অপরিসীম। একজন মানুষ যদি শিক্ষিত হয় কিন্তু শিষ্টাচার না থাকে, তবে তার সেই শিক্ষার প্রকৃত মূল্য থাকে না। তাই শিষ্টাচার চর্চা শুধু প্রয়োজনই নয়, বরং নৈতিক দায়িত্বও।
শিষ্টাচারের পরিচয়
শিষ্টাচার বলতে ভদ্রতা, নম্রতা, শালীনতা ও শিষ্ট ব্যবহারকে বোঝায়। এটি শুধু কথার মাধ্যমে নয়, বরং আচরণ, পোশাক, ভঙ্গি, চিন্তা ও মনোভাবেও প্রকাশ পায়। বড়দের সম্মান করা, ছোটদের স্নেহ করা, সময়মতো সালাম দেওয়া, ধৈর্য ধরে অন্যের কথা শোনা — সবই শিষ্টাচারের প্রকাশ। এটি ব্যক্তি চরিত্রের একটি সৌন্দর্য।
পারিবারিক জীবনে শিষ্টাচার
পারিবারিক জীবনে শিষ্টাচার খুবই প্রয়োজনীয়। পরিবারে সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ থাকলে সেখানে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকে। একজন সন্তান যদি মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, ভাই-বোনের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়, তবে সে পরিবারে ভালোবাসার আবহ তৈরি করতে পারে। শিষ্টাচার না থাকলে পারিবারিক পরিবেশ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ে শিষ্টাচারের গুরুত্ব
বিদ্যালয়ে শিষ্টাচারের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। শিক্ষকের প্রতি সম্মান, সহপাঠীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার, নিয়ম মানা, সময়মতো ক্লাসে উপস্থিত হওয়া — এগুলো একজন শিষ্ট শিক্ষার্থীর বৈশিষ্ট্য। বিদ্যালয় হল শিষ্টাচার শেখার শ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র। এখানে একজন শিক্ষার্থী শিষ্টাচারের চর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হয়।
সামাজিক জীবনে শিষ্টাচার
সামাজিক জীবনে শিষ্টাচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষের আচরণে যদি ভদ্রতা ও সহানুভূতি থাকে, তবে সে সহজেই সমাজে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে। অন্যদিকে রূঢ়, অহংকারী ও অশালীন আচরণ সমাজে দ্বন্দ্ব ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। শিষ্টাচার সমাজে সৌহার্দ্য ও বন্ধন গড়ে তোলে।
পেশাগত জীবনে শিষ্টাচার
কর্মক্ষেত্রেও শিষ্টাচারের গুরুত্ব অপরিসীম। একজন অফিসকর্মীর যদি শিষ্টাচার না থাকে, তবে সে সহকর্মীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে পারে না। সময়নিষ্ঠতা, দায়িত্ববোধ, সৌজন্যপূর্ণ আচরণ এবং কর্তৃপক্ষের প্রতি সম্মান কর্মজীবনে সাফল্য আনে। একজন শিষ্ট কর্মী সবসময় সহকর্মীদের আস্থা ও শ্রদ্ধা অর্জন করতে সক্ষম হয়।
রাষ্ট্রীয় জীবনে শিষ্টাচার
রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও শিষ্টাচার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একজন জনপ্রতিনিধি বা সরকারি কর্মকর্তার আচরণ জনগণের সঙ্গে কেমন হবে, তা অনেকাংশে দেশের প্রতি জনগণের আস্থা নির্ধারণ করে। রাজনীতিতে শিষ্টাচারের অভাব গণতন্ত্রের ক্ষতি করে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। দেশ পরিচালনায় নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে শিষ্টাচার থাকা একান্ত কাম্য।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে শিষ্টাচার
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও শিষ্টাচার গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মেই শিষ্টাচারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ শিষ্টাচারসম্পন্ন ব্যক্তি। ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে একজন মানুষ নৈতিকভাবে শুদ্ধ হয় এবং তার আচরণেও শিষ্টাচার ফুটে ওঠে।
শিষ্টাচারের অভাব ও তার পরিণতি
শিষ্টাচার না থাকলে সমাজে অবক্ষয় নেমে আসে। আজকাল অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, রাস্তাঘাটে কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অশালীন ভাষা ও আচরণ ব্যবহার করছে। এটি আমাদের মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির অবনতি ঘটায়। শিষ্টাচারহীন সমাজে অন্যায় ও বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায়, যা কারো জন্যই কাম্য নয়।
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, শিষ্টাচার শুধু ব্যক্তি নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের শান্তির ভিত্তি। একজন শিষ্টাচারসম্পন্ন মানুষ নিজে যেমন উন্নত চরিত্রের অধিকারী হন, তেমনি তিনি অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে ওঠেন। আমাদের সবার উচিত শিষ্টাচার চর্চা করা এবং নতুন প্রজন্মকে তা শেখানো। একটি সুন্দর, ভদ্র ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের জন্য শিষ্টাচারের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
ভূমিকা
তথ্য-প্রযুক্তি আজকের বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এটি মানুষের জীবনকে সহজ ও দ্রুততর করে তুলেছে। বাংলাদেশেও তথ্য-প্রযুক্তির গুরুত্ব দিনে দিনে বেড়ে চলছে, যা দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখছে।
তথ্য-প্রযুক্তির ধারণা
তথ্য-প্রযুক্তি বলতে আমরা বুঝি কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ডিজিটাল যন্ত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও আদান-প্রদান করার প্রযুক্তি। এটি মানুষের যোগাযোগ ও কাজের পদ্ধতিকে বদলে দিয়েছে।
বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তির অবস্থা
বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার গত কয়েক বছরে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। শহর থেকে গ্রামীণ এলাকায় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে। সরকার তথ্য-প্রযুক্তি উন্নয়নে নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
তথ্য-প্রযুক্তি ও শিক্ষা
তথ্য-প্রযুক্তির কারণে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। অনলাইন শিক্ষা, ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই নতুন কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছে।
সরকারের ডিজিটাল উদ্যোগ
বাংলাদেশ সরকার ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে সেবা প্রদান করছে। বিভিন্ন সরকারি কাজ যেমন জন্ম নিবন্ধন, কর প্রদান, নাগরিক সেবা ডিজিটাল মাধ্যমে সহজ হয়েছে, যা সময় ও অর্থ বাঁচায়।
তথ্য-প্রযুক্তি ও ব্যবসা
তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবসা ক্ষেত্রে বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। অনলাইন মার্কেটপ্লেস, ই-কমার্স ও ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবসার বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
স্বাস্থ্যখাতে তথ্য-প্রযুক্তি
স্বাস্থ্য সেবায় টেলিমেডিসিন ও ডিজিটাল রোগ তথ্য সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। গ্রামীণ এলাকার মানুষ এখন দূর থেকে চিকিৎসা সেবা পেতে পারছে।
তথ্য-প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ
তথ্য-প্রযুক্তির বিস্তারে সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য গোপনীয়তা, ডিজিটাল বিভাজন ও শিক্ষার অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এসমস্ত সমস্যা মোকাবিলায় সচেতনতা প্রয়োজন।
গ্রামীণ তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়ন
গ্রামীণ অঞ্চলে তথ্য-প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ প্রদান জরুরি। এতে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
উপসংহার
সার্বিকভাবে তথ্য-প্রযুক্তি বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি। এ প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ও সমাজকে এগিয়ে নেবে। তাই বাংলাদেশকে তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
ভূমিকা
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২১শে ফেব্রুয়ারি একটি অনন্য স্থান অধিকার করে আছে। এই দিনটি আমাদের মাতৃভাষার জন্য সংগ্রামের স্মৃতিবিহ্বল। ‘একুশের চেতনা’ হলো সেই মহান সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মর্মবাণী, যা জাতিকে গর্বিত করেছে এবং ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলে।
একুশের ইতিহাস
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঢাকায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ মুক্তিযুদ্ধের শুরুর আগেকার প্রথম বড় আন্দোলন শুরু করে। তখন পাকিস্তানি শাসকরা বাংলা ভাষাকে দ্বিতীয় শ্রেণির ভাষা হিসেবে অবমূল্যায়ন করছিলেন।
ভাষার জন্য ত্যাগ
একুশের দিন বহু যুবক তাঁদের জীবন দান করেছিলেন মাতৃভাষার স্বাধিকার আদায়ের জন্য। তাঁদের এই আত্মত্যাগ শুধু ভাষার জন্যই নয়, মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যও ছিলো।
একুশের চেতনার গুরুত্ব
এই চেতনা আমাদের শেখায় যে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করাই দেশের স্বাতন্ত্র্য ও জাতীয়তা রক্ষার প্রধান ভিত্তি। একুশের চেতনা হলো বাঙালির অধিকার ও স্বাধীনতার এক মহান প্রতীক।
একুশের চেতনার প্রভাব
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনেও একুশের চেতনার গভীর প্রভাব ছিল। ভাষার প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে তোলে।
একুশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
১৯৯৯ সালে ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এটি বিশ্বের সকল দেশের ভাষা ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করার আহ্বান।
একুশের চেতনার শিক্ষা
একুশের চেতনা আমাদের শিক্ষা দেয় জাতির জন্য আত্মত্যাগের মানে, ঐক্যের মূল্য ও সাংস্কৃতিক গৌরব রক্ষার গুরুত্ব।
বর্তমান প্রজন্ম ও একুশের চেতনা
বর্তমান প্রজন্মকে একুশের চেতনা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান ও দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে এই মহান সংগ্রামের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে।
একুশের চেতনার ধারাবাহিকতা
ভাষার জন্য একুশে ফেব্রুয়ারির ত্যাগ আমাদেরকে দেশের উন্নয়ন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। এটি নতুন প্রজন্মের মধ্যে জাতীয় চেতনা ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করে।
উপসংহার
একুশের চেতনা হলো বাঙালির অমর আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার প্রতীক। ভাষার মর্যাদা রক্ষা করে দেশের ঐক্য ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। একুশের চেতনার আলোকে আমরা একটি সমৃদ্ধ, স্বাধীন ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।
ভূমিকা
পর্যটনশিল্প হলো একটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। এটি দেশের সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহ্যের পরিচায়ক। বাংলাদেশে পর্যটনশিল্প ক্রমবর্ধমান একটি খাত, যা দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
বাংলাদেশ বিভিন্ন প্রাকৃতিক আকর্ষণ যেমন সুন্দরবন, কক্সবাজার সমুদ্রতট, সিলেটের চা বাগান ও পার্বত্য জেলা নিয়ে সমৃদ্ধ। এইসব স্থান পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।
ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটন
দেশের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে শতবর্ষের পুরনো মঠ-মন্দির, মসজিদ, দুর্গা মন্দির ও পীর মাজার, যা ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটনের জন্য আকর্ষণীয়। যেমন পুত্তলিপাড়া দুর্গা মন্দির ও বাগেরহাটের ইতিহাস।
গ্রামীণ পর্যটন
বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবেশ, নদী-নালা, হাটবাজার এবং লোকজ সংস্কৃতি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। গ্রামীণ পর্যটন দেশের আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে।
সরকারের উদ্যোগ
বাংলাদেশ সরকার পর্যটনশিল্প বিকাশে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। পর্যটন স্থাপনার উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রচার-প্রচারণায় সরকার কাজ করছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব
পর্যটনশিল্প দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধি করে। পর্যটনের মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে।
পর্যটন শিল্পের সমস্যা
পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা, পর্যাপ্ত পর্যটন সুবিধার অভাব ও পরিবেশ দূষণ বড় প্রতিবন্ধকতা।
পর্যটনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
পর্যটনশিল্প আরও বিকাশের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও প্রচারণায় জোর দেয়া দরকার। স্থানীয়দের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে বড় সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও উন্নয়নের মাধ্যমে এটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত হতে পারে।
উপসংহার
পর্যটনশিল্প দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশকে একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করতে শাসনব্যবস্থা, স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
ভূমিকা
বৈশ্বিক উষ্ণতা বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বিশ্বব্যাপী একটি সংকট। এটি পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পরিবেশ ও জীবনযাত্রার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশও এই প্রভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ।
বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণ
মানবসৃষ্ট কারণে যেমন জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, বনায়ন কমে যাওয়া এবং শিল্প কারখানার ধোঁয়া থেকে গ্রীনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বাড়ায় পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের ভূগোল ও ঝুঁকি
বাংলাদেশ নিম্নভূমি ও নদীবেষ্টিত দেশ। সমুদ্রের মাত্রার বৃদ্ধি ও বন্যার প্রবণতার কারণে এটি বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
উষ্ণতার প্রভাব: পরিবেশ
উষ্ণতার কারণে বাংলাদেশে সমুদ্র স্তর বৃদ্ধি, নদীর পানি লবণাক্ত হওয়া এবং কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে।
উষ্ণতার প্রভাব: মানুষের জীবন
বন্যা, সুপারি ঝড় ও অনাবৃষ্টি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে মানুষের জীবন, জীবিকা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
অর্থনৈতিক ক্ষতি
বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে কৃষি উৎপাদন কমে গিয়ে দেশের অর্থনীতি প্রভাবিত হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।
সরকারের পদক্ষেপ
বাংলাদেশ সরকার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যেমন: বাঁধ নির্মাণ, পানি ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতা বৃদ্ধি।
স্থানীয় জনগণের ভূমিকা
স্থানীয় জনগণকে পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ ও পানি সংরক্ষণে সচেতন হতে হবে। পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রায় মনোযোগ দিতে হবে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন
বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার। ধনী দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে হবে।
উপসংহার
বৈশ্বিক উষ্ণতা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশ ও বিশ্বের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন। তাই সবাইকে সচেতন হয়ে পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখতে হবে।
Related Question
View Allএকজন লেখক তিনিই যিনি লেখেন। তবে সব লেখা লিখেই লেখক হওয়া যায় না। লেখক সব ধরনের হতে পারে। তবে সৃজনশীল লেখকই হচ্ছে আমাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু। লেখক হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম একটি স্বাধীন সত্ত্বা।
একজন লেখক পুরোপুরি তার নিজের সত্ত্বার ওপরে বেঁচে থাকে। অনেকেই লেখক হবার সহজ উপায় খোঁজ করে। কিন্তু পড়তে পড়তে আর লিখতে লিখতেই শুধুমাত্র লেখক হওয়া যায়। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। লেখক অনেক ধরনের হতে পারে।
একজন সাংবাদিকও একজন লেখক। উপন্যাস, গল্প, কবিতা, ছড়া, সাহিত্য, প্রবন্ধ, রম্য, ব্লগ সব ধরনের লেখা যারা লেখে তারাই লেখক। অনেকেই মস্তিষ্কের মধ্যে ওকটা লেখার শক্তি পেয়ে যায় আর অনেকে হয়ত শিখে শিখে লেখক হয়।
সমাজ সভ্যতা কখনোই পুরোপুরি একজন লেখকের পক্ষে থাকে না। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিপক্ষে চলে যায়। স্বাভাবিকভাবেই একজন লেখক তার কলমের আঘাতে জর্জরিত করতে চায় সকল অন্যায়, অপবাদ। তাই হয়ত বেঁধে যেতে পারে সংঘাত। কলমই হচ্ছে একজন লেখকের দাঁড়ানোর জায়গা। কলম ছাড়া লেখকের অস্তিত্ব বিলীন। তবে সবাইকে যে প্রতিবাদ লিখতে হবে এমন কোনো কথা। কেউ কেউ মনোরঞ্জনের জন্যও লেখে। অনেকে আবার চাটুকারিতা করতে লেখে। কেউ আবার কীভাবে পুরষ্কার তুলে নেওয়া যায় সেই ধান্দা করার জন্য লেখে।
একজন লেখক হয়ে উঠতে পারে ন্যায় অন্যায়ের পার্থক্যকারী। সে কলমের ছোঁয়ায় প্রতিবাদ করতে অন্যায়ের আর ফুটিয়ে তুলবে ন্যায়ের কথা। লেখকের কলমের কালি প্রেরণার সুর হয়ে গান গাইবে। আর অশ্রুসিক্ত নয়নে হাসির ঝলক আনবে লেখকের কলম। একজন লেখকের প্রাণ তার লেখা, তার লেখার ভঙ্গি। সে তার লেখা দিয়ে বাঁচিয়ে তুলতে পারবে অসুস্থ কোনো সভ্যতাকে। লেখক তার কলম দিয়ে জাগ্রত করতে পারবে মানুষের ভীতরে লুকিয়ে থাকা অদম্য সাহস।
একজন লেখক কল্পনাকে নিয়ে আসতে পারে বাস্তবে। আমাদের নিয়ে যেতে পারে কল্পনার গহীন বনে। লেখক আমাদের সবাক যুগ থেকে অবাক যুগে নিয়ে যেতে পারে মুহূর্তের মাঝেই। লেখক জাগাতে পারে প্রেম, লেখক জাগাতে পারে নতুন কাজের স্পৃহা।
অনেকেই মনে করে লেখকের সকল বিষয়ে দ্বায় আছে। কিন্তু লেখকের মূলত কারো কাছেই কোনো দ্বায় নেই। তার দ্বায় থাকে শুধু নিজের মনের কাছে, নিজের বিবেকের কাছে, নিজের সুপ্ত চেতনার কাছে। সমাজ কি ভাববে তা নিয়ে লেখক মাথা ঘামাবে না। লেখক ভয়ে নাথা নোয়াবে না। লেখক যতদিন বাঁচবে বীরের মতোই বাঁচবে।
সারা বিশ্বেই লেখকরা নির্যাতনের শিকার হয়। অনেকেই বলে থাকে লিখে কিছুই হয় না। তাই যদি হতো তাহলে লেখার জন্য লেখকের শাস্তি হতো না। লেখকের ফাঁসি হতো না।
লেখকের কলমে অনেক জোর। সেই জোর ভেঙে চুরে গুড়িয়ে দিতে পারে যেকোনো কিছু। বিশেষ করে সাংবাদিকরা বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত হয় অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে। শাস্তি, সাজা বহু কিছু তাদের সহ্য করতে হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখলে হুমকি আসে, হামলা মামলা বহু ঘটনাই ঘটে। কারণ শাসক, শোষক আর অন্যায়কারীদের অনেক ক্ষমতা। লেখকের সমাজের দায়মুক্তির জন্য জীবনও দিতে হয়। তাইতো একজন লেখক সমাজের শক্তি, সমাজের সম্পদ।
সাহিত্য হচ্ছে মানুষের চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি তথা মানব-অভিজ্ঞতার কথা বা শব্দের বাঁধনে নির্মিত নান্দনিক বহিঃপ্রকাশ। এই অর্থে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ইত্যাদি উচ্চতর গুণাবলি সমন্বিত বিশেষ ধরনের সৃজনশীল মহত্তম শিল্পকর্ম। সাহিত্য-শিল্পীগণ যখন ‘অন্তর হতে বচন আহরণ’ করে আত্মপ্রকাশ কলায় ‘গীতরস ধারা’য় সিঞ্চন করে ‘আনন্দলোকে’ নিজের কথা- পরের কথা- বাইরের জগতের কথা আত্মগত উপলব্ধির রসে প্রকাশ করেন- তখনই তা হয়ে ওঠে সাহিত্য। রবীন্দ্রনাথের কথায় “বহিঃপ্রকৃতি এবং মানব-চরিত্র মানুষের মধ্যে অনুক্ষণ যে আকার ধারণ করিতেছে, যে-সঙ্গীত ধ্বনিত করিয়া তুলিতেছে, ভাষা-রচিত সেই চিত্র এবং সেই গানই সাহিত্য।…সাধারণের জিনিসকে বিশেষভাবে নিজের করিয়া – সেই উপায়ে তাহাকে পুনরায় বিশেষভাবে সাধারণের করিয়া তোলাই হচ্ছে সাহিত্যের কাজ।” [রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহিত্য] সাহিত্য সত্য-সুন্দরের প্রকাশ হিসেবে প্রবহমাণ সময়ে যা ঘটে – সে-সবের মধ্য থেকে যা মহৎ, যা বস্তুসীমাকে ছাড়িয়ে বাস্তবাতীত প্রকাশ করে, যা জীবনের জন্য কল্যাণময় এবং মহৎ আদর্শের দ্যোতক তাকেই প্রকাশ করে। আসলে মহৎ সাহিত্য তাই- যা একাধারে সমসাময়িক-শাশ্বত-যুগধর্মী-যুগোপযোগী-যুগোত্তীর্ণ। সাহিত্য কেবল পাঠককে আনন্দ দেয় না- সমানভাবে প্রভাবিত করে পাঠক এবং সমাজকে।
আভিধানিকভাবে ‘সহিতের ভাব’ বা ‘মিলন’ অর্থে ‘সাহিত্য’ হলো কাব্য, নাটক, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি সৃজনশিল্পের মাধ্যমে এক হৃদয়ের সঙ্গে অন্য হৃদয়ের সংযোগ স্থাপন; সাহিত্য¯্রষ্টা-সাহিত্যের সাথে পাঠকের এক সানুরাগ বিনিময়। কিন্তু আভিধানিক অর্থের নির্দিষ্ট সীমায় সাহিত্যের স্বরূপ-গতি-প্রকৃতি-বৈচিত্র্য ও বিস্তৃতির সম্যক ধারণা দেওয়া যেমন অসম্ভব, কোনো বিশেষ সংজ্ঞায় তাকে সুনির্দিষ্ট করে দেওয়াও তেমন দুঃসাধ্য। বাচ্যার্থ ও ব্যঞ্জনার্থর সীমাকে অতিক্রম করে নানা রূপে, রসে, প্রকরণ ও শৈলীতে সাহিত্যের নিরন্তর যাত্রা সীমা থেকে অসীমে। প্রত্যক্ষ সমাজপরিবেশ তথা সমকালীন বাস্তব পারিপার্শ্বিক, নিসর্গপ্রীতি ও মহাবিশ্বলোকের বৃহৎ-উদার পরিসরে ব্যক্তিচৈতন্য ও কল্পনার অন্বেষণ ও মুক্তি- আর এইভাবেই শ্রেণিবিভাজন, নামকরণ ও স্বরূপমীমাংসার প্রচেষ্টাকে ছাপিয়ে উঠে সাহিত্যের যাত্রা সীমাহীনতায়। প্রকৃত সাহিত্য তাই যেমন তার সমসময় যা যুগমুহূর্তের, তেমনই তা সর্বকালের সর্বজনের। মার্কসবাদী সাহিত্যতত্ত্বে বাস্তব সমাজজীবনকে ‘ভিত্তি’ আর শিল্প-সাহিত্যকে সমাজের উপরিকাঠামোর [ঝঁঢ়বৎংঃৎঁপঃঁৎব] অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। সাহিত্যের মৌল উপকরণসামগ্রী আহৃত হয় জীবনের ভা-ার থেকে- সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বৈরিতার বিচিত্র-অনিঃশেষ ভা-ার থেকে। সাহিত্যসৃষ্টির মূলে সক্রিয় যে সৃজনী-ব্যক্তিত্ব তা নিছক বিমূর্ত কোনো সত্তা নয়; আত্মপ্রকাশ ও মানবিক সংযোগ ও বিনিময়ের বাসনায় অনুপ্রাণিত সে সত্তা তার ভাব-ভাবনা, বোধ ও বিশ্বাসকে এক আশ্চর্য কৌশলে প্রকাশ করে জনসমক্ষে কোনো একটি বিশেষ রূপ-রীতি-নীতির আশ্রয়ে। ব্যক্তিক অনুুভূতি-যাপিতজীবন-মিশ্রকল্পনার জগৎ থেকেই সৃষ্টি হয় সাহিত্যের; যুগান্তরের আলোকবর্তিকা হিসেবে সাহিত্য সত্যের পথে সবসময় মাথা উঁচু করে থেকেছে- সত্যকে সন্ধান করেছে। আসলে সাহিত্য এমনি এক দর্পণ- যাতে প্রতিবিম্বিত হয় মানবজীবন, জীবনের চলচ্ছবি, পরিবেশ-প্রতিবেশ, সমাজজীবনে ঘটমান ইতিহাস- ইতিহাসের চোরাস্রােত নানাবিধ কৌণিক সূক্ষ্মতায়।
সাধারণত আত্মপ্রকাশের বাসনা, সমাজ-সত্তার সঙ্গে সংযোগ কামনা, অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ এবং রূপপ্রিয়তা- এই চতুর্মাত্রিক প্রবণতাই মানুষের সাহিত্য-সাধনার মৌল-উৎস। চতুর্মাত্রিক প্রবণতার [আত্মপ্রকাশের কামনা, পারিপার্শ্বিকের সাথে যোগাযোগ বা মিলনের কামনা, কল্প-জগতের প্রয়োজনীয়তা এবং সৌন্দর্য-সৃষ্টির আকাক্সক্ষা বা রূপমুগ্ধতা] মধ্যে সমাজসত্তার সঙ্গে সংযোগ-কামনা এবং অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ- এই উৎসদ্বয়ের মধ্যে নিহিত রয়েছে সাহিত্য ও সমাজের মধ্যে আন্তর-সম্পর্কের প্রাণ-বীজ। সমাজ শিল্পীকে সাহিত্য-সাধনায় প্রণোদিত করে। ‘সহৃদয়-হৃদয় সংবাদ’এর মাধ্যমে সাহিত্যিকগণ লেখক-পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেন- উভয়ের হৃদয়বীণার তারগুলোকে একই সুতায় গেঁথে দেন। এর কারণে সাহিত্য দেশ-কাল-সমাজের সীমা অতিক্রম করে সর্বসাধারণের হৃদয়কে আকর্ষণ করে। এর ফলে সাহিত্য হয়ে ওঠে সার্বজনীন-সর্বকালের মানুষের হৃদয়ের সামগ্রী এবং সাহিত্য¯্রষ্টাও হয়ে ওঠেন অনেক বড়। কিন্তু বর্তমান বাংলা সাহিত্যচর্চার গতি-প্রকৃতি, সমস্যা-সংকট-সমাধান কোন দিকে? এসব বিষয়ের সন্ধান- এ প্রবন্ধের অন্বিষ্ট।
আমাদের লোকশিল্প প্রবন্ধটি আমাদের লোককৃষ্টি গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে। লেখক এ প্রবন্ধে বাংলাদেশের লোকশিল্প ও লোক-ঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়েছেন । এ বর্ণনায় লোকশিল্পের প্রতি তার গভীর মমত্ববোধের পরিচয় রয়েছে।
আমাদের নিত্যব্যবহার্য অধিকাংশ জিনিসই এ কুটিরশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ।
শিল্পগুণ বিচারে এ ধরনের শিল্পকে লোকশিল্পের মধ্যে গণ্য করা যেতে পারে । পূর্বে আমাদের দেশে যে সমস্ত লোকশিল্পের দ্রব্য তৈরি হতো তার অনেকগুলোই অত্যন্ত উচ্চমানের ছিল। ঢাকাই মসলিন তার অন্যতম। ঢাকাই মসলিন অধুনা বিলুপ্ত হলেও ঢাকাই জামদানি শাড়ি অনেকাংশে সে স্থান অধিকার করেছে।
বর্তমানে জামদানি শাড়ি দেশে-বিদেশে পরিচিত এবং আমাদের গর্বের বস্তু। নকশি কাথা আমাদের একটি গ্রামীণ লোকশিল্প। এ শিল্প আজ বিলুপ্তপ্রায় হলেও এর কিছু কিছু নমুনা পাওয়া যায়। আপন পরিবেশ থেকেই মেয়েরা তাদের মনের মতো করে কীথা সেলাইয়ের অনুপ্রেরণা পেতেন । কাঁথার প্রতিটি সুচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক-একটি পরিবারের কাহিনী, তাদের পরিবেশ, তাদের জীবনগাঁথা ।
আমাদের দেশের কুমোরপাড়ার শিল্পীরা বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র ছাড়াও পোড়ামাটি দিয়ে নানা প্রকার শৌখিন দ্রব্য তৈরি করে থাকে। নানা প্রকার পুতুল, মূর্তি ও আধুনিক রুচির ফুলদানি, ছাইদানি, চায়ের সেট ইত্যাদি তারা গড়ে থাকে।
খুলনার মাদুর ও সিলেটের শীতলপাটি সকলের কাছে পরিচিত। আমাদের দেশের এই যে লোকশিল্প তা সংরক্ষণের দায়িত আমাদের সকলের । লোকশিল্পের মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারি।
আমাদের অর্থনৈতিক সম্পদ
বাংলাদেশ, একটি দ্রুত উন্নতি লক্ষ্য নির্ধারণ করা দেশ, যা প্রচুর অর্থনৈতিক সম্পদের বেশিরভাগ সম্পদ নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ মৌলিকভাবে চারটি প্রধান উৎস থেকে আসে: জমি, কাজ, উদ্যোগ, এবং মানুষের কাজের দক্ষতা। এই সম্পদের বিকাশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, আর্থিক এবং সামাজিক পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদের মূল স্তম্ভ হল কৃষি। দেশটি একটি প্রধানত কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির মূল হিসেবে প্রধানত শস্য ও ফসল চাষ প্রসঙ্গে বিকাশ হয়েছে। বাংলাদেশে প্রধানত ধান, পাট, মশুর ডাল, আখ, পটল, পেঁপে, তেল সহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। অত্যন্ত উচ্চ মানের খাদ্য সামগ্রী উৎপাদনের ফলে এই খাদ্য পণ্য রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সম্পদের গড়াতে সাহায্য করে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উৎস হল প্রবৃদ্ধি ও শিক্ষাগত উন্নতি। বাংলাদেশে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাব কমে আসছে এবং মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি করছে। বিশেষত, প্রযুক্তির আগমন এবং বিনিয়োগে বৃদ্ধি নেওয়া হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক সম্পদের উন্নতির পথে সাহায্য করছে।
অন্যান্য উৎস হিসেবে প্রযুক্তিবিদ্যা এবং সেবা অংশ গুলির অগ্রগতি আছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সম্পদ হল তার মানুষের চাকরিভার্থী শ্রমিকেরা। তাদের দক্ষতা, উদ্যোগ, ও সামর্থ্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যদিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে অনেক উত্সাহজনক প্রগতি হয়েছে, তবে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ র
য়েছে। প্রধানতঃ গরিব মানুষের জন্য আর্থিক সম্পদের অগ্রগতি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনও বেশিরভাগ লোকের মধ্যে বৃদ্ধির অভাব আছে। তাছাড়া, পরিবেশের সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সঠিক প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন।
পুনর্নির্মাণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পদের বিস্তার ও উন্নতি নিশ্চিত করতে পারে। সঠিক নীতি নির্ধারণ, উদ্যোগের বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত প্রবর্তন এবং শিক্ষাগত উন্নতি এমন পরিবর্তন নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।
শেষ কথায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা দেশটির সমৃদ্ধি ও উন্নতির সাথে অবিভাজ্যভাবে সংযোগিত। একটি দ্রুত বৃদ্ধির উপায় হল সঠিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা এবং উদ্যোগের বৃদ্ধি করা। এই প্রস্তুতি নেওয়ার মাধ্যমে, বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে আরও এগিয়ে যেতে পারে এবং তার মানুষের জন্য আরো উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।
"বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" বলতে পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ১৯৮৯ সালের পর সাম্যবাদী শাসনের পতন এবং এর ফলে উদ্ভূত রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে বোঝায়। এই সময়কালে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতন্ত্র ও বাজার অর্থনীতির দিকে ধাবিত হয়, যার ফলে নতুন জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক পরিবর্তন দেখা যায়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কারণ:
সাম্যবাদের পতন:
১৯৮৯ সালের ঐতিহাসিক বছরটি পূর্ব ইউরোপে সাম্যবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটায়, যা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই পরিবর্তনের ফলে দেশগুলো তাদের সাম্যবাদী অতীত থেকে মুক্তি পেতে শুরু করে।
গণতন্ত্রের পথে যাত্রা:
সাম্যবাদের পতনের পর পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও মুক্ত বাজার অর্থনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে।
বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীলতার কারণসমূহ:
অর্থনৈতিক সংকট:
সাম্যবাদী অর্থনীতি থেকে বাজার অর্থনীতিতে উত্তরণ অনেক দেশে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, এবং ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বাড়ে, যা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে।
জাতীয়তাবাদের উত্থান:
অনেক দেশে সাম্যবাদী শাসনের অবসানের পর বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে জাতীয়তাবোধ তীব্র হয়, যা নতুন করে জাতিগত সংঘাতের জন্ম দেয়।
রাজনৈতিক অস্থিরতা:
নতুন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুসংহত হতে সময় লাগে, ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। অনেক দেশে ক্ষমতা ও আদর্শের লড়াইয়ের কারণে সহিংসতাও ঘটে।
সামাজিক পরিবর্তন:
পুরনো সাম্যবাদী নীতি ও ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন সামাজিক কাঠামো ও মূল্যবোধের জন্ম হতে থাকে, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
গুরুত্বপূর্ণ দিক:
- এই বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে এক নতুন যুগের সূচনা করে, যেখানে তারা তাদের নিজস্ব পথে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ পায়।
- যদিও এই পরিবর্তন প্রক্রিয়াটি কঠিন ছিল, এটি এই অঞ্চলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এইভাবে, "বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" মূলত সেই সময়ের পরিবর্তন, অস্থিরতা এবং নতুন করে গড়ে ওঠার জটিল প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে, যা সাম্যবাদের পতন ও গণতান্ত্রিক যাত্রার ফলস্বরূপ ঘটেছিল।
পররাষ্ট্রনীতি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতির সম্প্রসারণ। পররাষ্ট্রনীতি হলো কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের গৃহীত সেসব নীতি যা রাষ্ট্র তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে সম্পাদন করে থাকে। অন্য রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতাকে তুলে ধরে।
১৯৭১ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। স্বাধীনতা লাভের পরবর্তী সময়ে ভৌগোলিক অবস্থান, স্বল্প পরিসরের ভূখন্ড এবং সীমিত অর্থনৈতিক সম্পদ ইত্যাদি বিভিন্ন নিয়ামক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের সুযোগকে সীমাবদ্ধ করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি মূলত বহিঃশক্তির প্রভাব থেকে দেশের সাবভৌমত্ব ও ভূখন্ডকে রক্ষা করার মতো বিষয়েই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।
পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কীয় সাংবিধনিক বিধান বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনাসমূহ বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। এগুলি হলো:
জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অপর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা, এ সকল নীতিই হবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এ সকল নীতির ভিত্তিতে-
১. রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকা এবং সাধারণ ও পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবে; প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবে; এবং সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ বা বর্ণ্যবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবে।
২. রাষ্ট্র ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক সংহত, সংরক্ষণ এবং জোরদার করতে সচেষ্ট হবে। সংবিধানের ৬৩ অনুচ্ছেদে যুদ্ধ-ঘোষণা সংক্রান্ত নীতি উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে সংসদের সম্মতি ব্যতিত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না, কিংবা প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক)তে বৈদেশিক চুক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে: ‘বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে, এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেন। তবে শর্ত হচ্ছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।’
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতিসমূহ পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছু মূলনীতি অনুসরণ করে থাকে। জাতিসংঘ এবং ন্যামের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ এসব সংগঠনের মূলনীতিসমূহ মেনে চলে, এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান নীতিসমূহ এসব সংগঠনের নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান চারটি মূলনীতি হলো:
সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয় একটি দরিদ্র রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হবার কারণে বাংলাদেশকে বিভিন্ন মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হতে হয়। এ কারণেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি হিসেবে বলেছিলেন, ‘আমাদের একটি ক্ষুদ্র দেশ, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়, আমরা চাই সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব’।
অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখন্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য। জাতিসংঘ সনদের ২(৪) ধারায় বলা হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সকল সদস্য-রাষ্ট্র আঞ্চলিক অখন্ডতার বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের ভীতি প্রদর্শন থেকে এবং জাতিসংঘের উদ্দেশ্যের সংঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো উপায় গ্রহণ করা থেকে নিবৃত্ত থাকবে’।
অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা জাতিসংঘ সনদের ২(৭) ধারায় বলা হয়েছে যে, ‘বর্তমান সনদ জাতিসংঘকে কোনো রাষ্ট্রের নিছক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার দিচ্ছে না বা সেরূপ বিষয়ের নিষ্পত্তির জন্য কোনো সদস্যকে জাতিসংঘের দারস্থ হতে হবে না; কিন্তু সপ্তম অধ্যায় অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে এই নীতি অন্তরায় হবে না’। জাতিসংঘের একটি সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এই মূলনীতির উপর তার পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করেছে, যা অন্য রাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রকাশিত।
২০০৯ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে, এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনয়নের কথা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ধারণা বিবেচনায় রেখে প্রায় তিন দশক পর ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি সরকার রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে রাশিয়ার সাহায্যে দেশে পারমাণবিক প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সময়ের পরিবর্তনের সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যত অর্জনের সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক রাষ্ট্রসমূহের সাথে এবং বিশ্বের আরো কিছু রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’ একটি সত্তুরের দশকের ধারণা, যা প্রায় ৪০ বছরের পুরনো। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপটে পুরনো ধারার পরররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত তার অর্জনের সম্ভাবনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সুতরাং পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য নিয়ে নতুন কৌশল-পরিকল্পনা করা উচিত, যার মাধ্যমে পরিবর্তিত বিশ্বে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে। [ঊর্মি হোসেন]
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!