যে কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা কর:

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

শিষ্টাচারের গুরুত্ব

ভূমিকা:
শিষ্টাচার মানবজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ গুণ। এটি মানুষের আচরণ, কথা, চলাফেরা, ও ব্যবহারে প্রকাশ পায়। সমাজে সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে শিষ্টাচার অপরিহার্য। একজন শিক্ষিত ব্যক্তি যদি শিষ্টাচার না জানে, তবে তার শিক্ষা মূল্যহীন হয়ে পড়ে।

শিষ্টাচার বলতে কী বোঝায়:
শিষ্টাচার অর্থ ভদ্রতা, নম্রতা ও শালীন আচরণ। এটি পরিবার, সমাজ, বিদ্যালয় এবং যেকোনো সামাজিক প্রতিষ্ঠানে আমাদের ব্যবহারযোগ্য নীতিমালা ও আচরণের নিয়মকেই বোঝায়। সময়মতো সালাম দেওয়া, বড়দের সম্মান করা, ছোটদের স্নেহ করা — সবই শিষ্টাচারের অংশ।

পারিবারিক জীবনে শিষ্টাচার:
একটি পরিবারে শিষ্টাচার বজায় থাকলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শান্তি বিরাজ করে। পরিবারের সদস্যরা একে অপরের প্রতি যত্নশীল হয় এবং বিরোধ কমে যায়। সন্তানরা যদি ছোটবেলা থেকেই শিষ্টাচারের শিক্ষা পায়, তবে তারা ভবিষ্যতে সুনাগরিক হয়ে গড়ে ওঠে।

বিদ্যালয় ও শিক্ষাজীবনে শিষ্টাচার:
বিদ্যালয় হল শিষ্টাচার শেখার শ্রেষ্ঠ স্থান। শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, শ্রেণিকক্ষে শৃঙ্খলা রক্ষা, দায়িত্ব পালন — এসব শিষ্টাচার শিক্ষার্থীর চরিত্র গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। একজন শিষ্ট ছাত্র সব সময় শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মান করে।

সামাজিক জীবনে শিষ্টাচারের গুরুত্ব:
সমাজে শিষ্টাচারহীন আচরণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। অপরকে শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, ধৈর্য ও সহানুভূতির মাধ্যমে সমাজে একতা ও সৌহার্দ্য বজায় থাকে। শিষ্ট আচরণের মাধ্যমে একজন মানুষ সমাজে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে।

পেশাগত জীবনে শিষ্টাচার:
কর্মক্ষেত্রে শিষ্টাচার একজন কর্মীর মূল্যবান সম্পদ। সহকর্মীদের সঙ্গে ভদ্রতা, সময়নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও দায়িত্ববোধ কর্মপরিবেশকে উন্নত করে এবং পেশাগত সাফল্য নিশ্চিত করে। একজন ভদ্র ও মার্জিত কর্মকর্তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হন।

রাষ্ট্রীয় জীবনে শিষ্টাচার:
একজন জনপ্রতিনিধি বা সরকারি কর্মকর্তা যদি শিষ্টাচার মেনে চলে, তবে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব হয়। রাজনীতিতে শিষ্টাচারের অভাব থাকলে বিশৃঙ্খলা ও সংঘাত সৃষ্টি হয়। দেশ পরিচালনায় শিষ্টাচার অপরিহার্য একটি নৈতিক গুণ।

শিষ্টাচার ও ধর্মীয় শিক্ষা:
প্রায় সব ধর্মেই শিষ্টাচারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইসলাম ধর্মে নবী করিম (সা.) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ শিষ্টাচারসম্পন্ন ব্যক্তি। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্মেও ভদ্রতা ও সদ্ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তাই ধর্মীয় মূল্যবোধ ও শিষ্টাচার একে অপরের পরিপূরক।

শিষ্টাচারের অভাব ও তার কুফল:
আজকাল অনেকেই শিষ্টাচার উপেক্ষা করছে, যা সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরকে কটূ কথা বলা, অশালীন আচরণ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশোভন মন্তব্য করা ইত্যাদি আমাদের সমাজকে দিন দিন কলুষিত করছে। এই ধারা রোধ করতে শিষ্টাচারের চর্চা অপরিহার্য।

উপসংহার:
শিষ্টাচার শুধু একটি গুণ নয়, এটি একটি মানুষের আসল পরিচয়। এটি মানুষকে মর্যাদা দেয়, সম্মান বৃদ্ধি করে এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিটি শিশু, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও নাগরিকের উচিত শিষ্টাচার অনুশীলন করা এবং অন্যকেও তা শেখানো। একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের পূর্বশর্তই হল — শিষ্টাচার

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

ইন্টারনেট: বিশ্বের সেতুবন্ধন

ভূমিকা
ইন্টারনেট আজকের বিশ্বের এক অভূতপূর্ব আবিষ্কার। এটি বিশ্বকে এক মঞ্চে নিয়ে এসেছে, যেখানে তথ্য, যোগাযোগ ও শিক্ষা নির্বিঘ্নে আদান-প্রদান হয়। ইন্টারনেট মানুষ ও দেশগুলোর মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে একটি ‘সেতুবন্ধন’ সৃষ্টি করেছে।

ইন্টারনেটের জন্ম ও বিকাশ
ইন্টারনেটের যাত্রা শুরু হয়েছিল সামরিক ও গবেষণামূলক কাজে। ধীরে ধীরে এটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হয়ে আধুনিক যুগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখন প্রায় প্রতিটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন।

তথ্য গ্রহণে ইন্টারনেটের গুরুত্ব
ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারা বিশ্বের তথ্য হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। মানুষ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের খবর, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সাহিত্যসহ নানা বিষয়ের জ্ঞান দ্রুত ও সহজে লাভ করতে পারে।

শিক্ষায় ইন্টারনেট
শিক্ষাক্ষেত্রে ইন্টারনেট একটি বিপ্লব ঘটিয়েছে। অনলাইন ক্লাস, ই-লার্নিং প্লাটফর্ম ও ডিজিটাল লাইব্রেরির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের জ্ঞান বৃদ্ধি করছে। এটি শিক্ষাকে আরও সমতল ও সহজলভ্য করেছে।

যোগাযোগের সেতুবন্ধন
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ই-মেইল, ভিডিও কল ইত্যাদির মাধ্যমে ইন্টারনেট বিশ্ববাসীকে একে অপরের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। দূরত্ব আর বাধা নয়, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে মুহূর্তেই যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব।

ব্যবসা ও অর্থনীতিতে ইন্টারনেটের ভূমিকা
ইন্টারনেট ব্যবসাকে বৈশ্বিক পরিসরে নিয়ে গেছে। ই-কমার্স, অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যবসা দ্রুত ও সহজ হয়েছে। ছোট ব্যবসায়ীরাও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে।

সাংস্কৃতিক বিনিময়
ইন্টারনেট বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মতবাদের আদান-প্রদানকে উৎসাহিত করে। এটি মানুষকে পারস্পরিক সহানুভূতি ও সম্মান শিখায়, বিশ্ববাসীকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে।

নেতিবাচক দিক
যদিও ইন্টারনেটের অনেক সুফল আছে, তবুও এর কিছু অপব্যবহারও রয়েছে। গোপনীয়তার লঙ্ঘন, সাইবার ক্রাইম, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার জীবন ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর।

সচেতন ব্যবহার প্রয়োজন
আমাদের উচিত ইন্টারনেটকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা। নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা, সত্য তথ্য যাচাই করা এবং সময়ের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ইন্টারনেট আমাদের জীবন আরও উন্নত করে।

উপসংহার
সব মিলিয়ে, ইন্টারনেট বিশ্ববাসীর জন্য একটি সেতুবন্ধন। এটি মানুষকে জ্ঞান, যোগাযোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে যুক্ত করে এবং মানবজাতির অগ্রগতিতে সহায়ক। প্রযুক্তির এ দুনিয়া আমাদের জীবনকে আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ করবে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

একুশের চেতনা

ভূমিকা
একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অম্লান স্মৃতি। এই দিনটি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একুশের চেতনা শুধু ভাষার জন্যই নয়, আমাদের জাতীয় পরিচয় ও ঐক্যের প্রতীক।

ভাষার অধিকার আন্দোলন
১৯৪৮ সালে পাকিস্তানি শাসকগণ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার বাইরে রাখার চেষ্টা করেছিল। তখনই শুরু হয় বাঙালির ভাষার জন্য অধিকার দাবির আন্দোলন, যা পরবর্তীতে একুশের রক্তাক্ত দিবসে পরিণত হয়।

একুশে ফেব্রুয়ারির ইতিহাস
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের মাতৃভাষার জন্য শাহাদাৎ বরণ করে। এই বীরত্বপূর্ণ ত্যাগ বাংলার মানুষের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করে।

ভাষার মর্যাদা ও জাতীয়তা
ভাষা হলো জাতির আত্মা। একুশের চেতনা আমাদের শিখিয়েছে যে, ভাষার জন্য লড়াই করা মানে নিজ পরিচয়ের জন্য লড়াই করা। বাংলাভাষার মর্যাদা রক্ষা করাই ছিল এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।

সংস্কৃতি ও ঐক্যের প্রতীক
একুশের চেতনা শুধু ভাষা নয়, এটি বাঙালির ঐক্য, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার আদর্শকে শক্তিশালী করেছে। এই চেতনা বাঙালিকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

স্বাধীনতা সংগ্রামে একুশের প্রভাব
একুশের আন্দোলন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করে। ভাষার জন্য সংগ্রাম শেষে জাতি স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

বিশ্বে একুশের মর্যাদা
ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এটি একুশের চেতনার বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি।

আধুনিক প্রেক্ষাপটে একুশের চেতনা
আজকের যুগেও একুশের চেতনা প্রাসঙ্গিক। ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান রেখে আমরা আমাদের জাতীয়তা ও সংস্কৃতি রক্ষা করতে পারি।

একুশের চেতনার চ্যালেঞ্জ
বিশ্বায়নের যুগে ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রযুক্তি, যোগাযোগ ও বিদেশী ভাষার প্রভাবের কারণে একুশের চেতনা রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

উপসংহার
একুশের চেতনা আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়, আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার জন্য একযোগে কাজ করার। এই চেতনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করা জাতির প্রতি সবার মহান দায়িত্ব।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প

ভূমিকা
পর্যটন শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা। এই খাতে দেশটি দ্রুত উন্নতি করছে এবং অনেক বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে আগ্রহী হয়ে উঠছে। সুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক স্থান পর্যটনের মূল আকর্ষণ।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
বাংলাদেশের পর্যটন ক্ষেত্রের অন্যতম শক্তি হলো এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সুন্দরবন, সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, চট্টগ্রামের পাহাড় ও নদী– এসব স্থান দেশের পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত প্রিয়।

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থান
দেশে অনেক ঐতিহাসিক স্থান যেমন পানাম নগর, মহাস্থান গড়, বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন পুরাতন মসজিদ ও মঠ পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করে।

পর্যটনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব
পর্যটন শিল্প দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ব্যাপক অবদান রাখে। এটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, বিদেশি মুদ্রা আনে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উন্নতি করে।

সরকারি উদ্যোগ ও নীতি
বাংলাদেশ সরকার পর্যটন শিল্প উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। পর্যটন কেন্দ্র উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

পরিবহন ও যোগাযোগ
দেশে পর্যটকদের জন্য সড়ক, নৌকা, রেল ও বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। নতুন রুট ও সেবা চালু করে পর্যটন শিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

পর্যটন শিল্পে সমস্যাসমূহ
তবে কিছু সমস্যা যেমন অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা সমস্যা, নিরাপত্তা সংকট ও দূষণ এই খাতের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করছে। এসব সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।

টেকসই পর্যটন
পর্যটনের স্থায়ী উন্নয়নের জন্য টেকসই পর্যটনের ধারণা গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় জনজীবনের উন্নয়ন ও সংস্কৃতি রক্ষা করেই পর্যটনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করলে বাংলাদেশ পর্যটন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে পারবে। বিশেষ করে ইকো-ট্যুরিজম ও সাংস্কৃতিক পর্যটনখাত বিকাশের অনেক সুযোগ রয়েছে।

উপসংহার
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারের সহযোগিতা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে পর্যটনকে আরও প্রসারিত করে দেশের নাম বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

রোহিঙ্গা সমস্যা ও সমাধান

ভূমিকা
রোহিঙ্গা সমস্যা দক্ষিণ এশিয়ার একটি জটিল মানবিক ও রাজনৈতিক সংকট। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের এই সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ব্যাপক নিপীড়নের কারণে তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর ফলে অঞ্চলে ব্যাপক মানবিক সংকট ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের ইতিহাস
রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে বসবাস করে আসছে। তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে। কিন্তু তারা অনেক বছর ধরে বৈধ নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত ও অবজ্ঞার শিকার।

নিপীড়নের প্রকৃতি
মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও স্থানীয় উগ্র গোষ্ঠীগুলো রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে, যার মধ্যে গণহত্যা, ধর্ষণ, গ্রাম ধ্বংস এবং জনশ্রুতি বন্ধ করার মতো ঘটনা ঘটেছে। ২০১৭ সালের গণহত্যার পর বৃহৎ পরিমাণে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অবস্থান
বাংলাদেশ বিশেষ করে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য বড় ধরনের শরণার্থী শিবির তৈরি হয়েছে। এখানে তাঁরা নিরাপত্তা পেলেও জীবন-জীবিকা ও মৌলিক অধিকার অনেক সীমাবদ্ধ।

মানবিক চ্যালেঞ্জ
রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত। ঘনবসতি, পরিস্কার পানির অভাব, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ কম, যা সংক্রমণ ও সামাজিক সমস্যার জন্ম দিয়েছে।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
রোহিঙ্গা সমস্যা শুধুমাত্র বাংলাদেশ বা মিয়ানমারের বিষয় নয়, এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শরণার্থী নীতির গুরুত্বপূর্ণ দিক। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এ সমস্যার সমাধানে কাজ করছে।

সমস্যার রাজনৈতিক দিক
মিয়ানমার সরকার এখনও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও মানবাধিকার স্বীকার করেনি। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভিন্নমত এই সমস্যার সমাধানে বাধা সৃষ্টি করছে।

সম্ভাব্য সমাধান
এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে সমঝোতা ও শান্তি প্রক্রিয়া জরুরি। রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার প্রদান ও সুষ্ঠু প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের ভূমিকা ও সহায়তা
বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং তাদের জন্য খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষা সেবা দিয়ে আসছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা অপরিহার্য।

উপসংহার
রোহিঙ্গা সমস্যা একটি মানবিক সংকট যা শান্তি, সহযোগিতা ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য। মানবিক মর্যাদা রক্ষার লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণ জীবন ফিরে পায়।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
42

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews