নিষেকের পর ৬ থেকে ৯ দিনের মধ্যে যে প্রক্রিয়ায় জাইগোটটি ব্লাস্টোসিস্ট অবস্থায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে সংস্থাপিত হয় তাকে ইমপ্লান্টেশন বলে।
রজঃচক্রের সময় ডিম্বাশয়ে যে ধারাবাহিক পরিবর্তনসমূহ ক্রমান্বয়ে ঘটে থাকে, তাকে ডিম্বাশয় চক্র বলে। এর ফলে ফলিকলের পূর্ণতা প্রাপ্তি ঘটে, ডিম্বপাত হয় এবং কর্পাস ল্যুটিয়াম এর বৃদ্ধি ঘটে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সচল হ্যাপ্লয়েড কোষ হলো শুক্রাণু। শুক্রাণু সৃষ্টির প্রক্রিয়া স্পার্মাটোজেনেসিস নামে পরিচিত। নিচে স্পার্মাটোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় শুক্রাণু উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো-
সেমিনিফেরাস নালিকার বাইরের দিকের কোষস্তর হলো জার্মিনাল এপিথেলিয়াম যা মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে স্পার্মাটোগনিয়া সৃষ্টি করে ও বৃদ্ধি পেয়ে প্রাইমারি স্পার্মাটোসাইট এ পরিণত হয়। প্রাইমারি স্পার্মাটোসাইটে প্রথম মিয়োটিক বিভাজন (মিয়োসিস-১) ঘটলে হ্যাপ্লয়েড সেকেন্ডারি স্পার্মাটোসাইট উৎপন্ন হয়। সেকেন্ডোরি স্পামাটোসাইট দ্বিতীয় মিয়োটিক বিভাজনের (মায়োসিস-২) মাধ্যমে স্পার্মাটিড উৎপন্ন করে। প্রত্যেকটি স্পার্মাটিড রূপান্তরিত হয়ে শুক্রাণু গঠন করে।
উদ্দীপকের কোষ দুটি হলো যথাক্রমে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু। এদের উৎপন্নের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আলাদা।
পুরুষদেহে শুক্রাণু স্পার্মাটোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়। স্ত্রীদেহে ডিম্বাণু উওজেনেসিস প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়। স্পার্মাটোজেনেসিসের সমগ্র প্রক্রিয়া শুক্রাশয়ে সম্পন্ন হয়। উওজেনেসিস প্রাথমিক পর্যায়ে ডিম্বাশয়ে সম্পন্ন হলেও শেষ পর্যায়ে ডিম্বাশয়ের বাইরে ঘটে। স্পার্মাটোজেনেসিসে একটি প্রাইমারী স্পার্মাটোসাইট থেকে চারটি সক্রিয় শুক্রাণু সৃষ্টি হয়। উওজেনেসিসে একটি প্রাইমারী উওসাইট থেকে একটি সক্রিয় ডিম্বাণু ও তিনটি নিষেকে ভূমিকাহীন পোলার বডি সৃষ্টি হয়। স্পার্মাটোজেনেসিসের সময় স্পার্মাটিডের বেশির ভাগ নিউক্লিওপ্লাজম ও সাইটোপ্লাজম পরিত্যক্ত হয়। তাই পরিণত শুক্রাণুগুলো ছোট তবে সক্রিয় ও চলাচলে সক্ষম। উৎপন্ন ডিম্বাণু তুলনামূলকভাবে বড় ও চলাচলে অক্ষম। খুব সামান্য পরিমাণ খাদ্য শুক্রাণুতে সঞ্চিত থাকে এবং শুক্রাণুটি কোনো নির্দিষ্ট পর্দা দ্বারা ঘেরা থাকে না। ডিম্বাণুতে বেশি পরিমাণ খাদ্য সঞ্চিত থাকে এবং ডিম্বাণুটি নির্দিষ্ট পর্দা দ্বারা ঘেরা থাকে। স্পার্মাটোজেনেসিসে নিষেকে সহায়ক অ্যান্ড্রোগ্যামিক বস্তু ক্ষরিত করে। উওজেনেসিসে নিষেকে সাহায্যকারী গাইনোগ্যামিক বস্তু ক্ষরিত হয়। স্পার্মাটোজেনেসিসে নিষেকের আগেই সক্রিয় বিপাক ক্রিয়া সংঘটিত হয়। উওজেনেসিসে নিষেকের আগে বিপাক ক্রিয়ার হার স্তিমিত থাকে।
Related Question
View Allশুক্রাণু ও ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াসের একীভবনের মাধ্যমে ডিপ্লয়েড জাইগোট সৃষ্টির প্রক্রিয়াই হলো নিষেক।
গ্যামেট বা জননকোষ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে গ্যামেটোজেনেসিস বলে।
এ প্রক্রিয়ায় জনন মাতৃকোষ হতে স্ত্রী জনন অঙ্গে ডিম্বাণু ও পুরুষের জনন অঙ্গে শুক্রাণু তৈরি হয়। এক্ষেত্রে মিয়োসিস কোষবিভাজনের মাধ্যমে ডিপ্লয়েড (2n) মাতৃজনন কোষ থেকে হ্যাপ্লয়েড (n) জননকোষ উৎপন্ন হয়।
উদ্দীপকের প্রথম গঠনটি মানবভূণের ব্লাস্টুলা দশা। নিষেকের পর ৬ থেকে ৯ দিনের মধ্যে যে প্রক্রিয়ায় জাইগোটটি ব্লাস্টোসিস্ট অবস্থায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে সংস্থাপিত হয় তাকে ইমপ্লান্টেশন বলে। নিষিক্ত জাইগোট মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে দ্রুত বিভক্ত হয়ে মরুলা দশা পার করে উদ্দীপকের ব্লাস্টুলা দশা বা ব্লাস্টোসিস্ট এ পরিণত হয়। ডিম্বনালিতে সৃষ্ট এ ব্লাস্টোসিস্ট ৪-৫ দিনের ভেতর জরায়ুতে এসে পৌঁছালে দু'দিনের ভেতর এর জোনা পেলুসিডা আবরণ অদৃশ্য হয়ে যায়। তখন এর ট্রফোব্লাস্ট কোষ ও জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়াম কোষের মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হয়। ব্লাস্টোসিস্ট এন্ডোমেট্রিয়ামের যেখানে গ্রোথিত হয় সেখানকার আবরণি টিস্যু ট্রফোব্লাস্ট থেকে নিঃসৃত এনজাইমের প্রভাবে বিগলিত হয়। তখন ব্লাস্টোসিস্টটি সেখানে যুক্ত হয়। এভাবে নিষেকের ষষ্ঠ থেকে নবম দিনের মধ্যে নিষিক্ত ডিম্বাণু বা জাইগোটটি ব্লাস্টোসিস্ট অবস্থায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে প্রতিস্থাপিত হয় যা ইমপ্ল্যান্টেশন নামে পরিচিত।
পূর্ণাঙ্গ মানব শিশুর দেহ গঠিত হয় ভ্রূণীয় বিভিন্ন পরিবর্তনীয় ধাপের মাধ্যমে। এর মধ্যে উদ্দীপকের দ্বিতীয় গঠন অর্থাৎ গ্যাস্টুলা একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
যে প্রক্রিয়ায় একস্তরী ব্লাস্টুলা থেকে ত্রিস্তরী প্রাণিদের ত্রিস্তরী গ্যাস্টুলা গঠিত হয় তাকে গ্যাস্ট্রলেশন বলে। গ্যাস্টুলেশন পর্যায়ে এর কোষগুলোর পরিযানের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় তিনটি কোষীয়স্তর, যথা-বহিঃস্থ এক্টোডার্ম, মধ্যস্থ মেসোডার্ম এবং অন্তঃস্থ এন্ডোডার্ম। গ্যাস্টুলায় সৃষ্ট এ তিনটি স্তর থেকেই অঙ্গকুড়ি সৃষ্টি হয় যা অর্গানোজেনেসিস নামে পরিচিত। এর মধ্যে এক্টোডার্মের কোষগুলো পরিণত হয় ত্বক, চুল, নখ, বিভিন্ন অঙ্গের আবরণ ইত্যাদি গঠন করে। মেসোডার্মের কোষগুলো পরবর্তীতে দেহের পেশি, যোজককলা, দেহগহ্বরের অন্তঃআবরণী প্রভৃতি সৃষ্টির মাধ্যমে মানব অজাসমূহের পূর্ণাঙ্গতা আনে। আর এন্ডোডার্মের কোষসমূহের পরিণতিতে পৌষ্টিক নালীর বিভিন্ন অংশ, রেচনতন্ত্রের বিভিন্ন অংশ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরনের গ্রন্থি ইত্যাদি অঙ্গের সৃষ্টি হয়।
কাজেই দেহের বিভিন্ন অঙ্গের পূর্ণতা প্রাপ্তি গ্যাস্টুলার তিনটি স্তরের পরিণতির মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। এজন্য একথা অনস্বীকার্য যে, গ্যাস্টুলার বিভিন্ন স্তরের পরিবর্তন ছাড়া পূর্ণাঙ্গ দেহ গঠন অসম্ভব।
যৌনজননক্ষম জীবে যে প্রক্রিয়ায় পুংজননকোষ ও স্ত্রীজনন কোষ মিলিত হয় সেই প্রক্রিয়াই হলো নিষেক।
সেকেন্ডারি যৌন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভবসহ জননাঙ্গের সক্রিয় পরিস্ফুটনকালকে বয়ঃপ্রাপ্তি বা বয়ঃসন্ধিকাল বলে। এ কালটি পুরুষে ১৩-১৫ বছরের মধ্যে এবং নারীতে ১২-১৩ বছরের মধ্যে আবির্ভূত হয়। এ সময় বিভিন্ন হরমোনের প্রভাবে দৈহিক গঠন ও চরিত্রে নানান বৈশিষ্ট্য দেখা দেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!