প্রকৃতি প্রদত্ত যে সকল পদার্থ হতে শক্তি পাওয়া যায় তাদের-শক্তিসম্পদ বলে।
বিশেষ ধানের উদ্ভিদের দেহাবশেষ মাটির নিচে চাপা পড়ে প্রচণ্ড চাপ ও তাপের ফলে যে শিলাস্তরে পরিণত হয় তাকে কয়লা বলে।
উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে কয়লার সৃষ্টি হয়। উদ্ভিদের কাণ্ড, গুঁড়ি, শাখা-প্রশাখা, পাতা, সবকিছু ভূঅভ্যন্তরে তাপ, চাপ ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে কয়লায় পরিণত হয়।
উদ্দীপকে যে দুটি খনিজের কথা বলা হয়েছে তার একটি হচ্ছে কয়লা এবং অন্যটি প্রাকৃতিক গ্যাস। উল্লিখিত' খনিজ দুটি বাংলাদেশের সব স্থানে পাওয়া যায় না। যেসব স্থানে কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায় তা বাংলাদেশের মানচিত্রে উপস্থাপন করা হলো-

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উদ্দীপকে বর্ণিত যে দুটি খনিজের কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস। ব্যবহারিক দিক বিবেচনায় যার গুরুত্ব অপরিসীম।
কয়লা জ্বালানি হিসেবে গ্যাসের ও লাকড়ির পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। বর্তমানে বড়পুকুরিয়া থেকে উত্তোলিত কয়লার ৬৫ শতাংশ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে। অবশিষ্ট ৩৫ শতাংশ কয়লা ব্যবহৃত হচ্ছে ইটভাটা, কলকারখানাসহ অন্যান্য খাতে ব্যবহারের মাধ্যমে। বনজ সম্পদ রক্ষায় কয়লা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরাসরি কাঠ বা লাকড়ি পোড়ালে পরিবেশের যে দূষণ হয় কয়লা ব্যবহারে সেই দূষণ হয় না। এছাড়া রাস্তা নির্মাণে কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপাদন করে পিচ ঢালাইয়ে কয়লা ব্যবহৃত হচ্ছে।
অন্যদিকে শিল্পকারখানায় কাঁচামাল হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহূত হয়। ফেঞ্চুগঞ্জের সার কারখানায় ও ছাতকের সিমেন্ট কারখানায় হরিপুরের প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়। ঘোড়াশালের সার কারখানায় তিতাস গ্যাস কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহূত হয়। কীটনাশক, ঔদ্ধ, রাবার, প্লাস্টিক, কৃত্রিম তত্ত্ব প্রভৃতি তৈরির জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফার্নেস তেলের পরিবর্তে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়। এছাড়া গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক কাজে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
সুতরাং বলা যায়, কৃষির উন্নয়ন, বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় হ্রাস, সরকারি আয়ের উৎস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রভৃতি ক্ষেত্রে কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস যথেষ্ট অবদান রাখছে।
Related Question
View Allপ্রকৃতিপ্রদত্ত যে সকল পদার্থ হতে শক্তি পাওয়া যায় তাকেই শক্তিসম্পদ বলে।
বাংলাদেশে নিকৃষ্ট শ্রেণির কয়লা বেশি পাওয়া যায়।
যেসব কয়লায় কার্বণের পরিমাণ কম এবং ছাই ও গন্ধকের পরিমাণ বেশি যেসব কয়লাকে নিকৃষ্ট শ্রেণির কয়লা বেশি। নিকৃষ্ট শ্রেণির কয়লায় মধ্যে পিট ও বিটুমিনাস উল্লেখযোগ। বাংলাদেশের বেশির ভাগ কয়লা ক্ষেত্র থেকে বিটুমিনাস ও পিট জাতীয় কয়লার উত্তোলন করা হয়।
উদ্দীপকে 'ক' খনিজ সম্পদটি হলো লৌহ আকরিক যা সভ্যতার আধুনিকায়ন ও নগরায়ণ বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লৌহ আকরিক উত্তোলন করা হয়। এশিয়ার মহাদেশের বেশ কয়েকটি দেশে লৌহ আকরিক সঞ্চিত আছে। নিচে এশিয়া মহাদেশে লৌহ
আকরিকের উৎপাদন ব্যাখ্যা করা হলো-
এশিয়া মহাদেশের মধ্যে চীন, ভারত, ইরান, জাপান, প্রভৃতি দেশে 'লৌহ আকরিক উত্তোলন করা হয়। নিচে এসব দেশে ২০১৯ সালে কী পরিমাণ লৌহ আকরিক উত্তোলন করা হয় তা একটি তালিকায় মাধ্যমে তুলে ধরা হলো-
ক্রমিক নং | দেশ | ২০১৯ সাল |
১ | চীন | ৩৫.০০ |
২ | ভারত | ২১.০০ |
৩ | কাজাখিস্তান | ৪.৩০ |
8 | ইরান | ৩.৮০ |
অতএব বলা যায় এশিয়া মহাদেশের বহু দেশ লৌহ আকরিক উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে 'খ' খনিজ সম্পদটি হলো- খনিজ তেল।
ভূগর্ভস্থ বিভিন্ন শিলা স্তর থেকে উত্তোলিত তেলকে খনিজ তেল বলে। খনিজ তেল বিশ্বব্যাপি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই সারা বিশ্বব্যাপি এর বাণিজ্য কার্যক্রম সচল। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তেল উত্তোলন করে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ দ্বিতীয়টি নেই। মৃল্প কয়েকটি দেশ তেল সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়ায় এবং তেলের ব্যবহার বিশ্বব্যাপী ব্যাপক ও বহুমুখী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
খনিজ তেল অপরিশোধিত ও পরিশোধিত উভয় প্রকারেই রপ্তানি করা হয়। অপরিশোধিত খনিজ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে কুয়েত, ইরাক, ইরান, সৌদি আরব, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, লিবিয়া, আলজেরিয়া প্রভৃতি প্রধান। আর আমদানিকৃত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, জার্মানি, ইতালি, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি প্রধান।
পরিশেষে বলা যায় খণিজ তেল বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক তরল সম্পদ। কৃষি, শিল্প, পরিবহন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তেলের প্রত্যক্ষ ব্যবহার রয়েছে। তাই সারাবিশ্ব ব্যপিই এর আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল, কয়লা প্রভৃতি পুড়িয়ে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় তাকে তাপবিদ্যুৎ বলে।
উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে কয়লার সৃষ্টি হয়। উদ্ভিদের কাণ্ড, গুঁড়ি, শাখা-প্রশাখা, পাতা, প্রাণীর দেহাবশেষ সবকিছু ভূঅভ্যন্তরে তাপ, চাপ ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে কয়লায় পরিণত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!