জগদীশচন্দ্র বসুর বাবা ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তার আগে তিনি স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। তাঁর বাবার বাড়ি বিক্রমপুরে। গ্রামের নাম রাঢ়িখাল। জগদীশচন্দ্র বসুর পড়াশোনার হাতেখড়ি তাঁর পরিবারের হাতেই হয়েছিল।
১৮৮১ সালে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ শেষে দেশে ফিরেন জগদীশচন্দ্র বসু। ১৮৮৫ সালে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে বেতন-বৈষম্য নিয়ে প্রতিবাদে তিনি তিন বছর বেতন না নিয়ে কর্তব্য পালন করেন। শেষ পর্যন্ত সরকার তাঁকে কাজের স্বীকৃতি দিয়ে বকেয়া বেতন পরিশোধ করে। এরপর ধীরে ধীরে তিনি 'বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
জগদীশচন্দ্র বসু স্বদেশকে ভালোবাসতেন। তাঁর মনে সর্বদা দেশের কল্যাণচিন্তা জাগ্রত ছিল। জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধ্য দিয়ে তিনি দেশকে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। তাই বিদেশি বিজ্ঞানীদের অনুরোধ উপক্ষো করে তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন।
জগদীশচন্দ্র বসু বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি - উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে অনেক মিল দেখিয়েছেন। ১৮৯৫ সালে তিনি অতিক্ষুদ্র তরঙ্গসৃষ্টি আবিষ্কার করেন। তিনি তার ছাড়া তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণে সফলতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও তিনি কেসমোগ্রাফ যন্ত্র আবিষ্কার করে প্রমাণ করেন যে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে উদ্ভিদ প্রাণীদের মতোই সাড়া দেয়।
জগদীশচন্দ্র বসুর চারটি অবদান নিচে দেওয়া হলো-
১. উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনের মধ্যে অনেক মিল আছে এটা গবেষণা করে দেখিয়েছেন।
২. অতিক্ষুদ্র তরঙ্গসৃষ্টি আবিষ্কার করেছেন।
৩. তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণে সফলতা অর্জন করেন।
৪. তিনিই প্রথম বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি 'পলাতাক তুফান' লিখেছেন।
লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় জগদীশচন্দ্র বসুকে 'ডিএসসি ডিগ্রি' প্রদান করেন। ১৯১৭ সালে তিনি 'নাইট উপাধি' লাভ করেন। ব্রিটিশ সরকার তাঁকে এই উপাধি দেন। এরপর থেকে তাঁর নাম হয় স্যার জগদীশচন্দ্র বসু।
জগদীশচন্দ্র বসু পৃথিবীকে বিজ্ঞানের নতুন পথ দেখিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনের অনেক মিল আছে। তিনি ১৮৯৫ সালে অতিক্ষুদ্র তরঙ্গসৃষ্টি আবিষ্কার করেন। জগদীশচন্দ্র বসুর আবিষ্কারগুলো বিজ্ঞানকে বহুদূর এগিয়ে নিয়েছে, এজন্য তিনি বাঙালির গৌরব।
ভাবুক ছেলেটি আসলে ছিলেন- স্যার জগদীশচন্দ্র বসু।
স্যার জগদীশচন্দ্র বসু ছোটোবেলায় যা যা নিয়ে ভাবতেন-
(i) মেঘ ডেকে আকাশে বিদ্যুৎ চমকালে বাজ পড়ে কেন?
(ii) গাছ কাটলে গাছেরা ব্যথা পায় কি না?
তিনি ১৮৭৪ সালে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।
জগদীশচন্দ্র বসু নানা বিষয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি ক্রেসকোগ্রাফ নামের একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করেন। এই যন্ত্রের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন যে, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে উদ্ভিদ প্রাণীদের মতোই সাড়া দেয়।
বিজ্ঞান শিক্ষা ও চর্চার ক্ষেত্রে স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর সফলতাকে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও-নিউটনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
তাঁর সম্পর্কে আইনস্টাইন বলেছিলেন জগদীশচন্দ্র বসু এতগুলো আবিষ্কার না করে যদি একটি আবিষ্কারও করতেন তবু তাঁর জন্য আমাদের মূর্তি স্থাপন করতে হতো। জগদীশচন্দ্র বসুর আবিষ্কারসমূহ বিজ্ঞান জগতের জন্য আশীর্বাদ। 'গাছেরও প্রাণ আছে', 'অতিক্ষুদ্র তরঙ্গসৃষ্টি' এসব আশ্চর্য আবিষ্কার বিজ্ঞানী আইনস্টাইনকে চমকে দিয়েছিল। এজন্য তিনি এমন কথা বলেছিলেন।
Related Question
View Allতাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ বক্তৃতা শুনে তাঁকে অধ্যাপনা করার আমন্ত্রণ জানানো হয়।
দেশের কল্যাণ করার জন্যই তিনি নিজ দেশে ফিরে আসেন।
জগদীশচন্দ্র বসুর আশ্চর্য সব আবিষ্কার দেখে আইনস্টাইন মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।
জগদীশচন্দ্র বসুর 'নিরুদ্দেশের কাহিনি' বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি।
ছেলেটি তেমন দুরন্ত নয়।
মেঘ ডেকে আকাশে বিদ্যুৎ চমকে বাজ পড়লে অবাক বিস্ময়ে ভাবে।
ওর পড়াশোনার শুরু বাড়িতে।
প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক পদে যোগ দেন।
প্রতিবাদে তিনি দীর্ঘ তিন বছর বেতন না নিয়ে কর্তব্য পালন করে ।
তিনি দেখিয়েছিলেন যে, উদ্ভিদ ও প্রাণী জীবনের মধ্যে অনেক মিল আছে।
তিনি অতিক্ষুদ্র তরঙ্গসৃষ্টি আবিষ্কার করেন।
১৯১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে 'নাইট' উপাধি দেন। তাই উপাধিসহ তাঁর নাম হয় স্যার জগদীশচন্দ্র বসু। সে বছরই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বসু বিজ্ঞান মন্দির। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সেই বিজ্ঞান মন্দিরে গবেষণা পরিচালনা করেন। বিজ্ঞান শিক্ষা ও চর্চার ক্ষেত্রে তাঁর সফলতা বিজ্ঞানী গ্যালিলিও-নিউটনের সমকক্ষ ছিল। জগদীশচন্দ্র বসু ১৯৩৭ সালের ২৩শে নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
১৯১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে 'নাইট' উপাধি দেন। তাই উপাধিসহ তাঁর নাম হয় স্যার জগদীশচন্দ্র বসু। সে বছরই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বসু বিজ্ঞান মন্দির। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সেই বিজ্ঞান মন্দিরে গবেষণা পরিচালনা করেন। বিজ্ঞান শিক্ষা ও চর্চার ক্ষেত্রে তাঁর সফলতা বিজ্ঞানী গ্যালিলিও-নিউটনের সমকক্ষ ছিল। জগদীশচন্দ্র বসু ১৯৩৭ সালের ২৩শে নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
জগদীশচন্দ্র বসুর বাবা ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তার আগে তিনি স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। তাঁর বাবার বাড়ি বিক্রমপুরে। গ্রামের নাম রাঢ়িখাল। জগদীশচন্দ্র বসুর পড়াশোনার হাতেখড়ি তাঁর পরিবারের হাতেই হয়েছিল।
১৮৮১ সালে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ শেষে দেশে ফিরেন জগদীশচন্দ্র বসু। ১৮৮৫ সালে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে বেতন-বৈষম্য নিয়ে প্রতিবাদে তিনি তিন বছর বেতন না নিয়ে কর্তব্য পালন করেন। শেষ পর্যন্ত সরকার তাঁকে কাজের স্বীকৃতি দিয়ে বকেয়া বেতন পরিশোধ করে। এরপর ধীরে ধীরে তিনি 'বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
জগদীশচন্দ্র বসু স্বদেশকে ভালোবাসতেন। তাঁর মনে সর্বদা দেশের কল্যাণচিন্তা জাগ্রত ছিল। জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধ্য দিয়ে তিনি দেশকে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। তাই বিদেশি বিজ্ঞানীদের অনুরোধ উপক্ষো করে তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!