জেলে প্রতিদিন পাঁচ বার করে নদীতে জাল ফেলে। একদিন প্রথম বার তার জালে ওঠে মোটা গাছের গুঁড়ি। দ্বিতীয় বার ওঠে মরা গাধা। বিরাট মাটির জালা ওঠে তৃতীয় বারে। চতুর্থ বারে ওঠে ভাঙা হাঁড়ি-কলসি, ছোটোবড়ো কাচের টুকরো। পঞ্চম ও শেষ বার জালে আটকা পড়ে একটি তামার জালা।
তামার জালার মুখে দাউদের পুত্র সুলেমানের নাম খোদাই করা ছিল। সুলেমান ছিল বাদশাহ। জেলে ভেবেছিল জালার ভেতরে মণিরত্ন থাকতে পারে। খোদার দয়ায় তার নসিব ফিরবে। বাদশাহি জালা তার ভাগ্য ফেরাতে পারবে, দুঃখ কষ্ট দূর করতে পারবে ভেবেই জেলে খুশি হয়েছিল।
শেষবার জেলের জালে একটি তামার জালা আটকা পড়ে। জালার মধ্যে লেখা দেখে জেলে বুঝতে পারে এটি বাদশাহি জালা। জেলে নদীর পাড়ে পড়ে থাকা এক খন্ড পাথর দিয়ে ঠুকে ঠুকে সাবধানে জালার মুখটা সরিয়ে ফেলে। জালার ভেতর থেকে তখন গলগল করে রাশি রাশি ধোঁয়া বেরিয়ে আসে। জেলে তখন চোখ বড়ো বড়ো করে ভয়ে একপাশে সরে দাঁড়াল।
দৈত্যটি ছিল সুলতান সুলেমানের গোলাম। সে ছিল সুলেমানের হুকুমের অনুগত। সে একবার সুলেমানের এক হুকুম মানতে অস্বীকার করে। ফলে সুলতান তাকে শাস্তিস্বরূপ তামার জালায় বন্দি করে নদীতে ফেলে দেয়। কয়েক শতাব্দী আটকে থাকার পরও সে মুক্তি পেয়ে ভয় পায়। কেননা, সে জানত না যে সুলেমান ১৮০০ বছর আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন।
নদীর তলায় চারশ বছর কাটানোর পর দৈত্য আবার শপথ করল যে, দৈত্যকে জালা থেকে উদ্ধার করবে, দৈত্য তাকে তিনটি বর দিবে। যা সে চাইবে দৈত্য তাকে তাই দিবে। শপথের তিনশ বছর পরও দৈত্য কারো দেখা পেল না।
জেলের বুদ্ধির কারণে দৈত্য জেলেকে মেরে ফেলতে পারল না। জেলে দৈত্যের এত বড়ো শরীর জালার মধ্যে কীভাবে ছিল এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে। এ কথা শুনে দৈত্য গর্জে ওঠে সে নিজেকে সত্যবাদী প্রমাণ করার জন্য আবার জালায় ঢুকে জেলেকে দেখাতে চায়। অহংকারী দৈত্য জালায় ঢুকে জেলের বুদ্ধিমত্তার জন্য আর বাইরে আসতে পারে না তাই জেলেকেও মারতে পারে না।
এক জেলে নদীতে প্রতিদিন পাঁচ বার করে জাল ফেলে। জালে যে মাছ উঠে সেই মাছ বাজারে বিক্রি করে সে সংসার চালাতে। একদিন চার বার জাল ফেলেও জালে কোনো মাছ ওঠে না। খোদার কাছে ফরিয়াদ করে পঞ্চম বার জাল ফেললে একটি তামার জালা ওঠে। সেই তামার জালা থেকে বের হয়ে আসে এক দৈত্য। সেই দৈত্য তাকে মেরে ফেলতে চায়। পরবর্তীকালে উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে জেলে সেই দৈত্যকে আবারও বন্দি করে নদীতে ফেলে দিয়ে নিজের জীবন রক্ষা করে।
গরিব জেলে প্রতিদিন নদীতে পাঁচ বার করে জাল ফেলত। জাল ফেলে যে মাছ পেত তা বিক্রির টাকা দিয়েই তার সংসার চলত।
জালা দেখে জেলে ভাবল, এটি বাদশাহি জালা। নিশ্চয়ই ভেতরে মণিরত্ন রয়েছে। খোদার রহমতে এবার বুঝি তার ভাগ্য ফিরল।
জালা থেকে গলগল করে রাশি রাশি ধোঁয়া বের হয়ে আসল। সেই ধোঁয়ার কুণ্ডলি এক সময় একটা অতিকায় দৈত্যে পরিণত হলো।
দৈত্যটি দেখতে বিশাল। তার মাথাটা একটা বিশাল ঝুড়ির মতো। মাথায় একগাছি চুলও নেই। চোখ দুইটি ভয়ংকর, আগুনের গোলার মতো। দাঁতগুলো শ্বেত পাথরের টুকরোর মতো।
দৈত্যটি বাদশাহ সুলেমানের গোলাম ছিল। সে একদিন বাদশাহর হুকুম তামিল করতে অস্বীকার করে। এ কারণেই বাদশাহ রেগে গিয়ে তাকে তামার জালায় বন্দি করেন।
দৈত্য জালায় বন্দি হওয়ার পর শপথ করে, চারশ বছরের মধ্যে কেউ তাকে মুক্তি দিলে সে পুরস্কার দিবে। কিন্তু কেউ তাকে মুক্তি দেয়নি। এরপর দৈত্য তিনটি বর দেওয়ার শপথ নিলেন। কিন্তু তারপর আরো তিনশ বছর পার হলেও তার আর মুক্তি মেলেনি। তাই রাগে দুঃখে অপমানে সে আবার শপথ করে বলল, যে তাকে মুক্তি দিবে তাকে সে কতল করবে। এরপরই জেলে তাকে মুক্ত করে। তাই সে জেলেকে মারতে চেয়েছিল।
মৃত্যুর কথা শুনে জেলে ভীত হলেও বুদ্ধি হারাল না। সে দৈত্যকে বলল, ভাই, আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না। তোমার অত বড়ো শরীরটা কেমন করে এই জালার মধ্যে ছিল। দৈত্য এ কথা শুনে ধোঁয়ার কুণ্ডলি পাকিয়ে আবার জালার ভেতরে ঢুকে গেল। জেলে এক লাফে জালাটার মুখে ঢাকনা লাগিয়ে বন্ধ করে দিল। এভাবে জেলে অহংকারী দৈত্যের হাত থেকে মুক্তি পেল।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allকায়ক্লেশে দিন গুজরান হতো তার।
নিশ্চয়ই মণিরত্ন কিছু রয়েছে ভেতরে
নদীর তলায় এক এক করে চারশ বছর বহু কষ্টে কাটল আমার।
মরার ভয়ে ভীত হলেও জেলে বুদ্ধি হারাল না।
এবারে আমার মেজাজ বিগড়ে গেল।
এক নদীর ধারে বাস করত এক গরিব জেলে।
একদিন সকালে জেলে এসে নদীতে জাল ফেলল।
তৃতীয় বারে জাল গুটিয়ে এনে দেখে বিরাট মাটির জালা
জালাটার মুখ ঢাকনা দিয়ে আটকানো
মৃত্যুর কথা শুনে জেলের মুখ শুকিয়ে গেল।
আমার নাম সক-হর-অল জিন।
বাদশাহ এরপর জালাটাকে নদীতে ফেলে দিল।
হঠাৎ তার মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল।
আমি মিথ্যা কথা বলছি?
এইভাবে দিন কেটে যাচ্ছিল
বদনসিব জেলে, তা হলে শোন বলছি। আমার নাম সক-হর-অল জিন। আমি বাদশাহ সুলেমানের গোলাম ছিলাম। আমার এমনই ক্ষমতা ছিল যে, দুনিয়ায় কাউকেই পরোয়া করতাম না। একদিন বাদশাহর হুকুম তামিল করতে অস্বীকার করে বসলাম। এতে রেগে গিয়ে বাদশাহ শায়েস্তা করবার জন্য তার লোকজন দিয়ে আমাকে একটা তামার জালায় পুরে তার মুখ বন্ধ করে দিল। তারপর বাদশাহর মোহর খোদাই করে দিল জালাটার মুখে। আমি জালার ভেতরে বন্দি হয়ে গেলাম।
সে প্রতিদিন নদীতে পাঁচ বার করে জাল ফেলত।
বলতে বলতে জেলে শেষ বারের মতো জালটা পানিতে ছুঁড়ে মারল।
তোমার জন্য জব্বর একটা খবর নিয়ে এসেছি।
কেন তুমি আমাকে মারতে চাইছ?
দৈত্য এবার বলল, তোমার গোস্তাকি কী শুনবে ?
জেলে প্রতিদিন পাঁচ বার করে নদীতে জাল ফেলে। একদিন প্রথম বার তার জালে ওঠে মোটা গাছের গুঁড়ি। দ্বিতীয় বার ওঠে মরা গাধা। বিরাট মাটির জালা ওঠে তৃতীয় বারে। চতুর্থ বারে ওঠে ভাঙা হাঁড়ি-কলসি, ছোটোবড়ো কাচের টুকরো। পঞ্চম ও শেষ বার জালে আটকা পড়ে একটি তামার জালা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!