পথিকের পিপাসা পেয়েছিল বলে সে জলের খোঁজ করতে থাকে। পথে অনেকের কাছে সে জল চায়। কিন্তু কেউই তার অবস্থা বুঝতে পারে না। এ কারণে সে পিপাসায় নাজেহাল হয়ে পড়ে।
সুস্থ থাকার জন্য আমাদের বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত। নোংরা পানিতে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু থাকে। এসব জীবাণু আমাদের শরীরে নানা ধরনের রোগব্যাধি সৃষ্টি করে। এতে জীবনহানিও ঘটতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে চাইলে আমাদের বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।
পথিককে বৃদ্ধ পাঁচ রকম জলের কথা শুনিয়েছিল। পরিদ্রুত জলকে বোবা জল বলা হয়। নোংরা জলকে রাসায়নিক পদ্ধতিতে পরিশুদ্ধ করে এ জল প্রস্তুত করা হয়। অন্যদিকে খাওয়ার জন্য সুপেয় জল। একে পরিশুদ্ধ করার প্রয়োজন পড়ে না।
রাজপথে ছাতা মাথায় এক পথিকের প্রবেশ। পিঠে লাঠির আগায় লোটা-বাঁধা পুঁটলি। উষ্কখুষ্ক চুল। ভ্রান্ত চেহারা। তৃষ্ণায় কাতর সেই পথিক।
বদ্যিনাথের যে রোগ তা হলো হাইড্রোফোবিয়া, যাকে বলা হয় জলাতঙ্ক। এ রোগে আক্রান্তকারী মানুষ জল দেখলেই ভয়, জল খেতে পারে না। যখন জল খেতে যায় তখনই গলায় খিচ ধরে। সাধারণত কুকুরে কামড়ালে এ রোগ হয়। বদ্যিনাথকেও কুকুরে = কামড়ালে তার এ রোগ হয়
ডিস্টিল ওয়াটার' অর্থ হলো পরিসুত জল। এ নাটিকাতে জলের কথা বলতেই কুয়োর জল, নদীর জল, পুকুরের জল, কলের জল, মামাবাড়ির জল বলে পাঁচ রকম জলের কথা উল্লেখ আছে। তাছাড়া নোংরা জল, বোবা জল, খাবার জল সম্পর্কে বলা আছে। আরও উল্লেখ আছে- পৃথিবীর তিনভাগ জল। সমুদ্রের জল লবণাক্ত ও অতি বিস্বাদ।
তৃষ্ণার্ত পথিক বেশ বুদ্ধি খাটিয়ে ফন্দি এঁটে খোকার বিজ্ঞানী মামার কাছ থেকে জলপান করতে সক্ষম হয়। তৃষ্ণার্ত পথিক প্রথমে ঝুড়িওয়ালার কাছে জল চায়। তারপর এক বৃদ্ধের কাছে এবং সবশেষে খোকার মামার কাছে জল চায়। কিন্তু কেউ পথিককে জল খেতে দেয় না। অবশেষে পথিক খোকার বিজ্ঞানী মামার কাছ থেকে খাবার জল দেখার নাম করে জলপান করতে সক্ষম হয়।
প্রচণ্ড তৃষ্ণায় পথিক কাতর হয়ে পড়েছিল। এক পথিক সকাল থেকে প্রচণ্ড রোদে হেঁটে চলেছে। গন্তব্যে পৌছার তার আরও প্রায় এক ঘণ্টার পথ বাকি। তেষ্টায় তার মগজের ঘিলু পর্যন্ত শুকিয়ে উঠল। অনেকের কাছে জল চাইলেও তাকে জল না দেওয়ার কারণে প্রচণ্ড তৃষ্ণায় সে কাতর হয়ে পড়েছিল।
সুকুমার রায়ের 'অবাক জলপান' একটি নাটিকা। এটি এক তৃষ্ণার্ত পথিকের জলপান বিষয়ক হাসির গল্প। ভীষণ তৃষ্ণার্ত পথিক বিভিন্ন জনের কাছে গিয়ে জল চাইছে, কিন্তু কেউ তাকে জল দিচ্ছে না বরং কথার মারপ্যাঁচের মাধ্যমে তারা নিজেদের জাহির করতে চায়। অবশেষে পথিক খোকার বিজ্ঞানী মামার কাছ থেকে কৌশলে জলপান করে ।
বোবা জল' বলতে ডিস্টিল ওয়াটারকে বোঝায়। একে পরিশ্রুত জলও বলা হয়। এ ধরনের জলে কোনো স্বাদ থাকে না বলে একে 'বোবা জল' বলা হয়েছে।
জলাতঙ্ককে ইংরেজিতে বলে হাইড্রোফোবিয়া। এ রোগে আক্রান্ত মানুষ জল খেতে পারে না, এমনকি জল দেখলেই ভয় পায়। সাধারণত কুকুরে কামড়ালে জলাতঙ্ক রোগ হয়। কুকুরের জিহ্বায় যে বিষাক্ত লালা থাকে, তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে এ রোগের সৃষ্টি হয়।
জলের তেষ্টায় পথিকের মন ও শরীরের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়েছিল।
ভরদুপুরে দীর্ঘ পথ চলার পর পথিকের ভীষণ তৃষ্ণা পেল। পথিক তাই বিভিন্নভাবে নানান জনের কাছে জল চাইতে লাগল। কিন্তু কেউ তার কথা বুঝতে চাইল না। পিপাসা আর ক্লান্তিতে তাই পথিক নাজেহাল হয়ে পড়ল।
'অবাক জলপান' নাটিকার পথিকের সঙ্গে আমার যেরকম কথোপকথন হতে পারত তা নিচে দেওয়া হলো-
পথিক: খোকা, ভীষণ তেষ্টা পেয়েছে। একটু জল এনে দেবে?
আমি: অবশ্যই চাচা, পাশেই আমার বাড়ি। আপনি ওখানে চলুন, পানি পান করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেবেন।
পথিক: ঠিক আছে খোকা, তোমাকে ধন্যবাদ।
পথিককে একবৃদ্ধ পাঁচ রকমের জলের কথা শুনিয়েছিল। এগুলো হলো কুয়োর জল, নদীর জল, পুকুরের জল, কলের জল ও মামাবাড়ির জল।
আমি রাজু মজুমদার। আমার সহপাঠী বন্ধু ওমর ফারুকের সাথে আলোচনা করে একটি নাটিকা লিখেছি। এটি নিম্নরূপ-
মুক্তি
প্রথম দৃশ্য
[বর্ষাকাল। রাবুদের পুকুর পাড়ের বড়ো আমগাছটার নিচে কুশল ও হিমেল কথা বলতে বলতে যাচ্ছে।।
হিমেল: তপুটাকে এত করে বললাম তবুও এলো না। সারাক্ষণ বই নিয়ে পড়ে থাকে।
কুশল
: ও তো সবসময়ই প্রথম হয়। তাহলে এত পড়ার দরকার কী?
হিমেল: তুই বুঝবি না। তুই তো ঠিকমতো ক্লাসেই যাস না।
কুশল: এত বড়ো বড়ো বই পড়তে কার ভালো লাগে বল?
হিমেল: কুশল, দেখ সামনের ঝোপটার ধারে কী যেন পড়ে আছে। চল, গিয়ে দেখি।
বাংলা
কুশল: আরে এটা তো একটা পাখি! ওকে নিয়ে খুব মজা করা যাবে। চল সবাইকে দেখাই।
দ্বিতীয় দৃশ্য
[কয়েকজন ছোটো ছোটো ছেলেমেয়ে জড়ো হয়ে কথা বলছে।।
হিমেল: তোরা যাই বলিস, পাখিটাকে আমিই প্রথম দেখেছি, তাই এটা আমার।
কুশল : এটা কেমন কথা! পাখিটাকে আমরা দুইজন মিলে পেয়েছি। তাই দুইজন মিলে ঠিক করব এটা নিয়ে কী করব।
শিমু : তোরা শুধু শুধু তর্ক করছিস কেন? দেখেছিস পাখিটা কী সুন্দর! কেমন মায়া নিয়ে তাকাচ্ছে! বেচারা বৃষ্টিতে ভিজে একেবারে চুপসে গেছে। ঠান্ডায় থরথর কাঁপছে।
ছোটন:
এটাকে নিয়ে আমরা কী করব?
হিমেল: কী করব মানে! এটাকে আমি বাড়ি নিয়ে গিয়ে খাঁচায় পুরে রাখব।
শিমু :
চুপ কর! তোর কি মায়াদয়া নেই? পাখিটা সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না। সবচেয়ে ভালো হয় যদি ওকে আমার সাথে নিয়ে যাই। আমার পাশের বাড়িতে একজন পশু চিকিৎসক থাকেন। তাঁর পরামর্শ মেনে আমি পাখিটাকে সুস্থ করতে পারব।
হিমেল: ঠিক আছে নিয়ে যা। কিন্তু সাবধানে রাখবি।
কুশল
হিমেল, চল আমরা ওর জন্য খাবার নিয়ে আসি।
তৃতীয় দৃশ্য
[শিমুদের বাড়িতে ছেলেমেয়েদের সভা বসেছে।।
রাবু: পাখিটাকে আগে নিয়ে আয় দেখি।
শিমু পাখিটা ভালো আছে। ও-ঘরে খাবার খাচ্ছে।
হিমেল: তাহলে কথা শেষ। এটাকে আমি নিয়ে যাচ্ছি।
শিমু : কিন্তু ওকে আমি সুস্থ করে তুলেছি। তাই এটা আমার।
কুশল: তুই এটাকে নিয়ে কী করবি?
শিমু আকাশে উড়িয়ে দেবো।
হিমেল: কী বলছিস? আকাশে উড়িয়ে দিবি! পাগল না কি!
কুশল: জানিস, একটা পাখি পেতে হলে কত কী করতে হয়!
ছোটন: আমার মনে হয় শিমু ঠিক কথা বলছে। তাছাড়া খাঁচায় আটকে রাখলে তো পাখিটা উড়তে পারবে না।
রাবু: তুই ঠিক বলেছিস। পাখিকে উড়তে দেখতেই ভালো লাগে। [শিমুর ছোটো ভাই পিয়ালের প্রবেশ।
পিয়াল:
তোমরা পাখিটাকে আটকে রেখেছ কেন? ওর বাবা-মা কাঁদবে তো।
হিমেল:
আমারও মনে হচ্ছে পাখিটাকে ছেড়ে দেওয়াই উচিত হবে।
কুশল:
তোরা সবাই যখন বলছিস তখন আমারও আপত্তি নেই। চল, সবাই মিলে পাখিটাকে মুক্ত করে দিই।
Related Question
View Allতেষ্টায় মগজের ঘিলু পর্যন্ত শুকিয়ে উঠল।
ডাকলে সাড়া দেয় না।
এ তো জলপাইয়ের সময় নয়।
আমি জল চাচ্ছিলাম।
বরকে কি আপনি বরকন্দাজ বলেন?
ঘাট হয়েছে মশাই।
পৃথিবীর তিন ভাগ জল এক ভাগ স্থল।
সমুদ্রের জল লবণাক্ত, অতি বিস্বাদ।
একে একে সব কথা আসবে।
জল হচ্ছে দুইভাগ হাইড্রোজেন আর একভাগ অক্সিজেন
দুপুর রোদে দরজা এঁটে সব ঘুম দিচ্ছে।
সবাই কাজ ফাঁকি দিয়ে গল্পো করতে লেগেছে।
ফর্দ মিলিয়ে বাজার করতে হবে।
অপদার্থ লোকের কাছে জ্ঞানের কথা শুনিয়ে লাভ নেই।
কুকুরের কামড় খেয়ে করিমের জলাতঙ্ক হয়েছে ।
ভেজালের ভিড়ে খাঁটি ঘি পাওয়া কঠিন।
এই গাঁয়ে কোনো হাসপাতালে নেই।
গেরস্ত বাড়ি, দুপুর রোদে দরজা এঁটে সব ঘুম দিচ্ছে।
বরকে কি আপনি বরকন্দাজ বলেন?
একটা লোক তেষ্টায় জল জল করছে, তবু জল খেতে পায় না।
নোংরা জলের ভিতর কী আছে তা এক্সপেরিমেন্ট করে বলা যাবে
রুক্ষমূর্তি লোকটিকে দেখলেই ভয় লাগে।
পথিকের পিপাসা পেয়েছিল বলে সে জলের খোঁজ করতে থাকে। পথে অনেকের কাছে সে জল চায়। কিন্তু কেউই তার অবস্থা বুঝতে পারে না। এ কারণে সে পিপাসায় নাজেহাল হয়ে পড়ে।
সুস্থ থাকার জন্য আমাদের বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত। নোংরা পানিতে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু থাকে। এসব জীবাণু আমাদের শরীরে নানা ধরনের রোগব্যাধি সৃষ্টি করে। এতে জীবনহানিও ঘটতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে চাইলে আমাদের বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।
পথিককে বৃদ্ধ পাঁচ রকম জলের কথা শুনিয়েছিল। পরিদ্রুত জলকে বোবা জল বলা হয়। নোংরা জলকে রাসায়নিক পদ্ধতিতে পরিশুদ্ধ করে এ জল প্রস্তুত করা হয়। অন্যদিকে খাওয়ার জন্য সুপেয় জল। একে পরিশুদ্ধ করার প্রয়োজন পড়ে না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!