সকাল বেলা শিশির জমে থাকে ঘাস ও লতাপাতায়। শিশির রোজ কুমড়োর গা ধুইয়ে দেয়। এতে কুমড়োর মনে ফুর্তি লাগে। বৃষ্টি না আসা পর্যন্ত শিশির গাছপালা, ঘাস ও লতাপাতার গা ধুইয়ে দেয়। ওরা দেখতে সুন্দর হয়ে ওঠে। কিন্তু সকালে রোদ আসলে শিশির চলে যায়। কারণ রোদ উঠলে শিশিরের কাজ শেষ হয়ে যায়।
'তুমি আমাদের উপকারী বন্ধু'- উক্তিটি কুমড়ো দোয়েল পাখিকে বলেছে।
পোকা-মাকড় ফুল ও ফলের ক্ষতি করে। আর দোয়েল পাখি সেই পোকা-মাকড় খেয়ে নিজে বেঁচে থাকে এবং পরোক্ষভাবে ফসলের উপকার করে। দোয়েল পাখির প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ কুমড়ো তাই বলেছে তুমি আমাদের উপকারী বন্ধু।
মানুষ বনের গাছপালা কেটে সাফ করছে। গাছপালা না থাকলে পাখি বাসা বাঁধার জায়গা পাবে না। আবার মানুষ পাখি আর জীবজন্তুও খায়। গুলি করে শিকার ধরে। ধরে ধরে খাঁচায় ভরে রাখে। তাই দোয়েল বলছে মানুষ আমাদের বাঁচতে দিচ্ছে না।
মানুষ গাছপালা কেটে সাফ করছে। মানুষ পাখি ও জীবজন্তুও খায়। ধরে ধরে খাঁচায় ভরে রাখে। দোয়েল পাখি কুমড়োর নিকট এসব অভিযোগ তুলে ধরে মানুষের বিরুদ্ধে। তখন কুমড়ো বলে তবে একদিন মানুষের নিশ্চয়ই সুবুদ্ধি হবে। মানুষ একদিন খারাপ কাজ ছেড়ে ভালো কাজ করবে, প্রশ্নোক্ত 'উক্তিতে এ বিষয়ই বুঝিয়েছে কুমড়ো।
রোদের সঙ্গে, মাটির সঙ্গে, কুলগাছের সঙ্গে কথা বলতে বলতে কুমড়ো দিনে দিনে বাড়তে লাগল। এভাবে বর্ষাকাল শেষ হলো। শরতে মিষ্টিকুমড়ো পেকে মাটিতে ঝরে পড়ল। তারপর একদিন দোয়েল পাখি কুল গাছে বসে দেখল কুমড়ো নেই কিন্তু মাটিতে কয়েকটি চারা উঠেছে। ওরা মিষ্টিকুমড়োর চারা অর্থাৎ প্রকৃতির নিয়মের কারণেই শরৎকালে দোয়েল পাখি কুমড়োকে দেখতে পেল না।
অন্যের উপকার করা মহৎ গুণ। দোয়েল কুমড়ো লতার পোকা খেয়ে সাবাড় করে। এতে কুমড়ো লতার উপকার হয়। কারণ পোকা কুমড়ো লতার জন্য ক্ষতিকার। কুমড়ো দোয়েলের প্রতি উপকারের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে দোয়েলকে উপকারী বন্ধু বলে।
পোকা ফসলের দুশমন। ওদের জ্বালায় কোনো ফুল ফল হতে পারে না। দোয়েল পাখি সেই পোকা খেয়ে কুমড়োর উপকার করে।
মানুষ বনের গাছপালা কেটে সাফ করছে। মানুষ পাখি আর জীবজন্তুও খায়। ধরে ধরে খাঁচায় ভরে রাখে।
বনের ভিতর কে যেন চাষ করার জন্য গাছপালা কেটে জমি করেছে। তারপর সেই ডালপালা পোড়ানোর জন্য আগুন দিয়েছে, আর সেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে সে এক ভীষণ কাণ্ড।
বনে আগুন লেগে দাউ দাউ করে জ্বলছে সবকিছু। তাতে অনেক পশুপাখি ও গাছপালা পুড়ে মরেছে। টিয়ে, ফিঙে, দাঁড়কাক, বানর, ভালুক সবাই মিলে ছোটাছুটি চেঁচামেচি করে বন তোলপাড় করে তুলেছে। আর সেই চেঁচামেচিতে মানুষ ছুটে এসে। আগুন নেভাচ্ছে।
শরৎকালে কুলগাছে ফিরে এসে দোয়েল পাখি দেখল কুমড়ো নেই। কিন্তু মাটিতে কয়েকটি চারা উঠেছে, ওরা মিষ্টি কুমড়োর চারা।
'কুমড়ো ও পাখির কথা' থেকে আমরা শিখেছি-
১. অন্যের উপকার করা।
২. উপকারীর উপকার স্বীকার করা।
৩. প্রকৃতির প্রতিটি অংশ একে অপরের উপর নির্ভরশীল, তাই প্রত্যেককে মর্যাদা দেওয়া।
৪. বন উজাড় না করে বন সংরক্ষণ করা।
৫. প্রকৃতিকে তার নিজস্ব নিয়মে চলতে দেওয়া।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allমনে কী যে ফুর্তি লাগে!
যাও ভাই, রাতে আবার দেখা হবে।
শেকড় এনে দিচ্ছে পানি।
মানুষ তো বনের গাছপালা কেটে সাফ করছে।
গাছ মানুষকে ফুল, ফল, ছায়া দেয়।
রোজ তুমি আমার গা ধুইয়ে দাও।
শিশির জমে আছে ঘাস ও লতা পাতায়।
মানুষ তো বনের গাছপালা কেটে সাফ করছে।
ধরে ধরে খাঁচায় ভরে রাখে।
শরতে মিষ্টিকুমড়ো পেকে মাটিতে ঝরে পড়ল।
গ্রাম থেকে দূরে বনের ধারে, নির্জন জায়গায় ছিল এক মিষ্টিকুমড়োর লতা। লতায় ছিল একটি মাত্র মিষ্টিকুমড়ো। দেখতে বেশ গোলগাল ছোট একটি কুল গাছে জড়ানো লতায় মিষ্টিকুমড়োটা ঝুলছিল। সকাল হলো। শিশির জমে আছে ঘাস ও লতাপাতায়।
সকাল বেলা শিশির জমে থাকে ঘাস ও লতাপাতায়। শিশির রোজ কুমড়োর গা ধুইয়ে দেয়। এতে কুমড়োর মনে ফুর্তি লাগে। বৃষ্টি না আসা পর্যন্ত শিশির গাছপালা, ঘাস ও লতাপাতার গা ধুইয়ে দেয়। ওরা দেখতে সুন্দর হয়ে ওঠে। কিন্তু সকালে রোদ আসলে শিশির চলে যায়। কারণ রোদ উঠলে শিশিরের কাজ শেষ হয়ে যায়।
'তুমি আমাদের উপকারী বন্ধু'- উক্তিটি কুমড়ো দোয়েল পাখিকে বলেছে।
পোকা-মাকড় ফুল ও ফলের ক্ষতি করে। আর দোয়েল পাখি সেই পোকা-মাকড় খেয়ে নিজে বেঁচে থাকে এবং পরোক্ষভাবে ফসলের উপকার করে। দোয়েল পাখির প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ কুমড়ো তাই বলেছে তুমি আমাদের উপকারী বন্ধু।
মানুষ বনের গাছপালা কেটে সাফ করছে। গাছপালা না থাকলে পাখি বাসা বাঁধার জায়গা পাবে না। আবার মানুষ পাখি আর জীবজন্তুও খায়। গুলি করে শিকার ধরে। ধরে ধরে খাঁচায় ভরে রাখে। তাই দোয়েল বলছে মানুষ আমাদের বাঁচতে দিচ্ছে না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!