বিজয় অর্জন করার জন্য বাঙালিকে দীর্ঘ নয়মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করতে হয়েছিল। লক্ষ লক্ষ নারী-পুরুষ-শিশুকে নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল। অসংখ্য মানুষ দেশের ভিতর অবরুদ্ধ জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছিল। এরকম শত কষ্ট, যন্ত্রণা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাঙালিরা যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছে।
দেশকে স্বাধীন করতে যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন আমরা তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।
দেশের মাটিকে শত্রুমুক্ত করতে লাখো বাঙালি প্রাণের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধ করেছেন। যাঁরা সরাসরি যুদ্ধে যাননি, তাঁরাও বিসর্জন দিয়েছেন অনেক কিছু। তাদের ত্যাগের ফলেই আমরা বিশ্বের বুকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি।
পাকিস্তানি সেনারা এদেশের মানুষের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। তারা বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে এদেশের জ্ঞানী-গুণী মানুষদের হত্যা করেছিল। আগুন দিয়ে পুড়িয়েছিল সংবাদপত্রের অফিসগুলো। বাংলাদেশের স্বাধীনতা রুখে দিতে চেয়েছিল বলেই তারা আমাদের শত্রু ছিল।
পাকিস্তানি সেনারা দেশকে মেধাশূন্য করতে চেয়েছিল। এজন্য তারা এদেশের মেধাবী সন্তান, লেখক, শিক্ষাবিদ, গুণীজনদের হত্যা করেছিল। সংবাদপত্র অফিসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছিল সাংবাদিকদের। জ্ঞানী লোকদের বাছাই করে হত্যা করেছিল নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য।
চারজন শহিদ বুদ্ধিজীবী হলেন- ১. রণদাপ্রসাদ সাহা, ২. শহীদুল্লা কায়সার, ৩. শহিদ সাবের এবং ৪. গোবিন্দচন্দ্র দেব।
১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনারা এদেশের অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে। তারা ধরে ধরে গুণী মানুষদের হত্যা করে দেশকে মেধাশূন্য করে দিতে চায়। এই বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের কারণেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। এজন্য ১৪ই ডিসেম্বরকে বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা ঝাঁপিয়ে পড়ে ঢাকার নিরস্ত্র, ঘুমন্ত মানুষের উপর। আক্রমণ চালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে, ব্যারাকে ও নানা আবাসিক এলাকায়। নির্বিচারে হত্যা করে দেশের মেধাবী, শিক্ষিত ও সাধারণ মানুষদের।
প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান।
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ৮৫ বছর বয়সে গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে সাহসী ভূমিকা পালন করেন। যশস্বী এই বুদ্ধিজীবীকে পাকিস্তানি বাহিনীরা কুমিল্লার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করে। বাঙালি জাতির কাছে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
শহিদ সাবের ছিলেন একজন মেধাবী লেখক ও সাংবাদিক। ২৫শে মার্চ রাতে তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন 'দৈনিক সংবাদ' পত্রিকা অফিসে। পাকিস্তানি সৈন্যরা ওই অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয়। সেই ভয়াবহ আগুনে পুড়ে তিনি শহিদ হন।
দানশীলতার জন্য রণদাপ্রসাদ সাহাকে দানবীর বলা হয়। তিনি সাধারণ মানুষদের মঙ্গল ও কল্যাণ সাধনের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।
দুজন শহিদ সাংবাদিকের নাম ও তাঁদের সম্পর্কে নিচে লেখা
হলো-
শহিদ সাবের- তিনি ছিলেন মেধাবী লেখক ও সাংবাদিক। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে তিনি পত্রিকা অফিসে পাকিস্তানি সৈন্যদের দেওয়া আগুনে পুড়ে মারা যান।
শহীদুল্লা কায়সার-
তিনি একজন প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক।
১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর পাকিস্তানিরা তাঁকে তুলে নিয়ে যায়।
এরপর তাঁর আর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
যেসব যশস্বী চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও সৃষ্টিশীল মানুষ দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, আমরা তাঁদের চিরদিন স্মরণ করে যাব। দেশ ও মাতৃভাষার জন্য তাঁরা ত্যাগের মহান আদর্শ স্থাপন করেছেন। তাঁদের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে দেশের স্বাধীনতা।
১৪ই ডিসেম্বরকে 'শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস' হিসেবে পালন করা হয়। কারণ, এই দিনেই পাকিস্তানি সৈন্যরা দেশের যশস্বী চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও সৃষ্টিশীল মানুষদের তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছিল।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allবিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন এম মুনিরুজ্জামান।
অধ্যক্ষ যোগেশচন্দ্র ঘোষ দেশবাসীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাধনা ঔষধালয়।
মুক্তিযুদ্ধের একেবারে শেষের দিকে পাকিস্তানিরা বুঝতে পারে যে তাদের পরাজয় অবধারিত।
তারা প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক শহীদুল্লা কায়সারকে তুলে নিয়ে যায়।
দেশ স্বাধীন হবার পরে এ সকল বুদ্ধিজীবীর অনেকের ক্ষত-বিক্ষত লাশ পাওয়া যায় মিরপুর ও রায়ের বাজারের বধ্যভূমিতে।
তারা বুঝতে পারে যে, তাদের পরাজয় অবধারিত।
দেশের ভিতরে অবরুদ্ধ জীবনযাপন করতে করতে প্রাণ দেন এদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ।
পাকিস্তানিরা একে একে হত্যা করে এদেশের মেধাবী, আলোকিত ও ___________ মানুষদের।
(শূন্যস্থান পূরণ)পাকিস্তানিরা একে একে হত্যা করে এদেশের মেধাবী, আলোকিত ও বরেণ্য মানুষদের।
মুক্তিযুদ্ধে শহিদরা মহান আত্মদানকারী হিসেবে চিরস্মরণীয়।
পঁচিশে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা নির্বিচারে হত্যা করে নিদ্রিত মানুষকে।
অধ্যাপক গোবিন্দচন্দ্র দেব ছিলেন দর্শনশাস্ত্রের খ্যাতনামা শিক্ষক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!