ইমদাদ হক একজন ফুটবল খেলোয়াড়। সে মেসে থাকে। ফুটবল খেলতে গিয়ে ইমদাদ হকের হাড় ভাঙে। ভাঙা হাড়ের ব্যথায় সে সারা রাত ছটফট করে। মেসের চাকর আঘাতপ্রাপ্ত পায়ে মালিশ করতে করতে হয়রান হয়ে যায়।
'ফুটবল খেলোয়াড়' কবিতার ইমদাদ হক কবিতাটির প্রধান চরিত্র। তাকে নিয়েই 'ফুটবল খেলোয়াড়' কবিতাটি রচিত। একজন খ্যাতিমান ফুটবল খেলোয়াড়। ফুটবল খেলাই তার সব। ফুটবল খেলতে গিয়ে ছোট-বড় অনেক আঘাত পেলেও সে তার সর্বস্ব দিয়ে খেলে থাকেন। প্রতিদিন নানা ধরনের আঘাত পেলেও সে খেলা চালিয়ে যায়।
ইমদাদ হক একজন খ্যাতিমান ফুটবল খেলোয়াড়। ফুটবলই তার ধ্যান-জ্ঞান। খুব সকালে উঠেই তিনি অনুশীলনে চলে যান। বাম পায়ে ড্রিবলিং করে ডান পা দিয়ে বল মারেন। সে খুব দ্রুত দৌড়ান।
'ফুটবল খেলোয়াড়' কবিতার ইমদাদ হক একজন ফুটবল খেলোয়াড়। ফুটবল খেলতে গিয়ে সে অনেক সময় আঘাত পায়। এই আঘাতের মাত্রাতেও থাকে ভিন্নতা। কখনো ব্যথা পেয়ে হাত-পা কেটে যায়, কখনো-বা তার হাত-পায়ের হাড় ভেঙে যায়। যখন সে গুরুতর আঘাত পায় তখন ব্যথায় সে ঘুমাতে পারে না। ফলে তার নির্ঘুম রাত কাটে।
'ফুটবল খেলোয়াড়' কবিতায় মেসের চাকর ইমদাদ হকের সেবা করে। ইমদাদ হক ফুটবল খেলে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মেসে ফিরলে মেসের চাকর তার হাতে-পায়ে পটি বেঁধে দেয়। তাকে মালিশ মাখিয়ে দেয়। ভাঙা হাড়ে সেঁক দিয়ে দেয়। ইমদাদ হকের সাথে তাকেও কখনো কখনো নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।
ফুটবল খেলোয়াড়' কবিতায় ইমদাদ হক একজন খ্যাতিমান ফুটবল খেলোয়াড়। ফুটবল খেলতে গিয়ে প্রায়ই সে আঘাত পায়। মেসে তাকে হাতে-পায়ে পটি বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। কখনো গিটে গিঁটে মালিশ দিতে দেখা যায়। মেসের চাকর তার ভাঙা হাড়ে সেঁক দিতে দিতে হয়রান হয়ে যায়। এ কারণে মেসের সবাই শঙ্কা করে যে, ইমদাদ হক পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।
'ফুটবল খেলোয়াড়' কবিতায় ইমদাদ হক একজন খ্যাতিমান ফুটবল খেলোয়াড়। ফুটবল খেলতে গিয়ে প্রায়ই সে আঘাত পায়। মেসে তাকে হাতে-পায়ে পটি বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। কখনো গিঁটে গিঁটে মালিশ দিতে দেখা যায়। মেসের চাকর তার ভাঙা হাড়ে সেঁক দিতে দিতে হয়রান হয়ে যায়। এ কারণে মেসের সবাই শঙ্কা করে যে, ইমদাদ হক পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।
ইমদাদ হক একজন ফুটবল খেলোয়াড়। সে প্রতিদিন প্রভাত বেলায় অনুশীলনে যায়। এ সময় মেসের ঘরে গেলে ভাঙা খাটিয়ার ওপর তার বিছানা শূন্য পড়ে থাকে। টেবিলের ওপর ছোট বড় যত মালিশের শিশি তার সবই দেখা যায়। সেগুলো দেখে মনে হয়ে যেন শিশিগুলো ছিপি-পরা দাঁত তুলে কবিকে উপহাস করছে।
ইমদাদ হক একজন দক্ষ খেলোয়াড়। খেলায় জয়লাভকরাই তার একমাত্র লক্ষ্য। খেলতে গিয়ে ইমদাদ হক আঘাত পেলেও তা পরোয়া করে না। এই কবিতায় মূলত একটি আদর্শকে তুলে ধরা হয়েছে। আর তা হলো, নিজের যোগ্যতার সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করলে তা সমাজ ও জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।
খুব সকালে ইমদাদ হক খেলতে চলে গেছে বলে তার বিছানা শূন্য পড়ে ছিল। ইমদাদ হক একজন ফুটবল খেলোয়াড়। যে করেই হোক খেলায় জয়লাভ করা তার একমাত্র লক্ষ্য। তাই ব্যথার পরোয়া না করেই সে প্র্যাকটিসের জন্য খুব সকালে মাঠে চলে যায়।
ব্যথাকে পরোয়া না করে ইমদাদ খেলতে চলে যাওয়ায় ছোট-বড় মালিশের শিশিগুলো উপহাস করছে বলে কবির মনে হয়। ইমদাদ হক ফুটবল খেলতে খুব ভালোবাসত। এজন্য সে কোনো বাধাকেই বাধা মনে করত না। একদিন অসুস্থ ইমদাদকে দেখতে গিয়ে কবি জানতে পারেন, অসুস্থ শরীর নিয়েই সে খেলতে চলে গেছে। আর তার ঔষধগুলো টেবিলে পড়ে আছে।
ইমদাদ হক একজন ফুটবল খেলোয়াড়। খেলায় জয়ী হওয়াই তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। খেলতে গিয়ে ইমদাদ হক কত শত আঘাত পায়। তবু সেসব কষ্টকে পরোয়া না করে সে খেলে এবং তার চেষ্টাতেই তার দল খেলায় জয় লাভ করে। তার জন্যই সকল দর্শক আনন্দ পায়। তার খেলা নিয়ে পরদিন সকালে দৈনিক পত্রিকায় লেখা হয়েছিল- ইমদাদ হক কাল যা খেলেছে কমই তা নজরে পড়ে।
ফুটবল খেলোয়াড়
জসীম উদ্দীন
আমাদের মেসে ইমদাদ হক ফুটবল খেলোয়াড়,
হাতে পায়ে মুখে শত আঘাতের ক্ষতে খ্যাতি লেখা তার।
সন্ধ্যাবেলায় দেখিবে তাহারে পটি বাঁধি পায়ে হাতে,
মালিশ মাখিছে প্রতি গিঁটে গিঁটে কাত হয়ে বিছানাতে ।
মেসের চাকর হয় লবেজান সেঁক দিতে ভাঙা হাড়ে,
সারা রাত শুধু ছটফট করে কেঁদে কেঁদে ডাক ছাড়ে।
আমরা তো ভাবি ছমাসের তরে পঙ্গু সে হলো হায়,
ফুটবল-টিমে বল লরে কভু দেখিতে পাব না তায়।
প্রভাত বেলায় খবর লইতে ছুটে যাই তার ঘরে,
বিছানা তাহার শূন্য পড়িয়া ভাঙা খাটিয়ার পরে।
টেবিলের পরে ছোট বড় যত মালিশের শিশিগুলি,
উপহাস যেন করিতেছে মোরে ছিপি-পরা দাঁত তুলি।
সন্ধ্যাবেলায় খেলার মাঠেতে চেয়ে দেখি বিষয়ে,
মোদের মেসের ইমদাদ হক আগে ছুটে বল লয়ে।
বাম পায়ে বা ড্রিবলিং করে ডান পায়ে মারে ঠেলা,
ভাঙা কল্পখানা হাতে পায়ে তার বজ্র করিছে খেলা।
চালাও চালাও আরো আগে যাও বাতাসের আগে ধাও,
মারো জোরে মারো-গোলের ভিতরে বলেরে ছঁড়িয়া দাও ।
গোল-গোল-গোল, চারদিক হতে ওঠে কোলাহলকল, জীবনের পণ,
মরণের পণ, সব বাধা পায়ে দল।
গোল-গোল-গোল-মোদের মেসের ইমদাদ হক কাজি,
ভাঙা দুটি পায়ে জয়ের ভাগ্য লুটিয়া আনিল আচ্ছি।
দর্শকদল ফিরিয়া চলেছে মহা-কলরব করে,
ইমদাদ হক খোঁড়াতে খোঁড়াতে আসে যে মেসের ঘরে।
মেসের চাকর হয়রান হয় পায়েতে মালিশ মাখি,
বেঘুম রাত্র কেটে যায় তার চিৎকার করি ডাকি।
সকালে সকলে দৈনিক খুশি মহা-কলরবে পড়ে,
ইমদাদ হক কাল যা খেলেছে কমই তা নজরে পড়ে।
Related Question
View Allইমদাদ হকের শরীরে অনেক আঘাতের ক্ষত রয়েছে।
সন্ধ্যাবেলায় পায়ে হাতে পটি বাঁধে সে।
খেলায় জিতে দর্শকেরা মহাকলরব করে ফিরে যাচ্ছে।
টেবিলের ওপর মালিশের শিশিগুলো রাখা আছে।
বজ্র পড়ার শব্দে শিশুটির ঘুম ভেঙে গেল।
মেসের চাকর হয় লবেজান সেঁক দিতে ভাঙা হাড়ে,
সারা রাত শুধু ছটফট করে কেঁদে কেঁদে ডাক ছাড়ে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!