শিয়াল ও শিয়ালনী তাদের বাচ্চাদের নিরাপদে রাখার জন্য গর্ত খুঁজছিল। অনেক খুঁজে তারা অবশেষে একটা গর্ত পেল। তবে গর্তের চারধারে ছিল বাঘের পায়ের অনেক দাগ। বাঘের পায়ের এই দাগগুলো দেখে শিয়ালনী অনেক ভয় পায়। সে বুঝতে পারে এটা বাঘের গর্ত। তাই সে বলে ওঠে- 'ওগো, এটা যে বাঘের গর্ত!'
বাঘ যখন তার গর্তের কাছে এলো তখন শিয়াল পরিরার বাঘের গর্তের মধ্যে ছিল। শিয়াল বাঘের হাত থেকে রক্ষা পেতে বুদ্ধি কাজে লাগাল। শিয়াল আগেই বুদ্ধি শিখিয়ে দিয়েছিল, সেই অনুযায়ী শিয়ালনী বাচ্চাদেরকে চিমটি কাটতে লাগল। বাচ্চারা তখন চেঁচাতে শুরু করল। কান্না শুনে শিয়াল মোটা আর বিশ্রী গলায় জিজ্ঞেস করে, খোকারা কাঁদছে কেন? তখন শিয়ালনী তেমনি বিশ্রী সুরে বলল- ওরা বাঘ খেতে চায়। শিয়াল তখন ঝপাং দিয়ে বাঘকে ধরে আনার কথা বলে। তাদের বাঘ খাওয়া, ঝপং, ভতাং এসব কথা শুনেই বাঘ ভয় পেয়ে পালিয়ে গেল। এভাবেই শিয়াল তার পরিবারকে রক্ষা করল।
বানরের কথা শুনে বাঘ রেগে গিয়েছিল। বানর বাঘকে বলেছিল সে বোকা এবং মিছামিছি ভয় পায়। এসব শুনে বাঘ রেগে যায় এবং বলে- 'আমি বোকা? আর তোমার বুঝি ঢের বুদ্ধি! চলো তো একবার সেখানে যাই।' পরে বাঘ বানরকে তার পিঠে করে আবার সেই গর্তের কাছে নিয়ে গেল।
'বাঘখেকো শিয়ালের ছানা' গল্পে আমরা দেখি, বাঘ শিয়ালের থেকে শক্তিশালী, কিন্তু শিয়াল ছিল বুদ্ধিমান। বাঘের শক্তি এই গল্পে কোনো কাজে লাগেনি কারণ শিয়ালের বুদ্ধি তাকে পরাজিত করেছে। শিয়ালের বুদ্ধির জোরে বাঘ দুবার পালিয়েছে। শেষবার তো টানা দুদিনের মধ্যে কোথাও দাঁড়ায়নি। তাই আমরা বলতে পারি, "বুদ্ধি অনেক সময় শক্তির চেয়ে বড়ো।"
'বাঘখেকো শিয়ালের ছানা' গল্পের শেষ দিকে যখন শিয়াল বলে, 'শিগগির ঝপাংটা দে, ভতাং করি!' এই মুহূর্তটা আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। কারণ এই সময়ের আগে পর্যন্ত বানরের অনেক সাহস ছিল। বানর সাথে থাকায় বাঘেয়ও কিছুটা সাহস হয়েছিল। কিন্তু ঝপাং ও ভতাং শব্দ দুটি শুনেই বানর ভয়ে পালাল। তারপর বাঘ দৌড়ে পালাল আর কখনো ফিরল না।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View All'বাঘখেকো শিয়ালের ছানা' গল্পটির লেখক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। গল্পের চরিত্রগুলো হলো শিয়াল, শিয়ালনী, তাদের তিনটি ছানা, বায় ও বানর।
শিয়াল পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচ। তারা হলো শিয়াল, শিয়ালনী এবং তাদের তিনটি ছানা।
শিয়াল ও শিয়ালনী তাদের তিনটি ছানা নিয়ে নিরাপদে-থাকার জন্য গর্ত খুঁজছিল। তাদের ছানাগুলো বৃষ্টিতে ভিজে মারা যেতে পারে এজন্যও তারা গর্ত খুঁজছিল।'
'ওরা বায় খেতে চায়' শুনে 'বাঘ থমকে দাঁড়িয়ে ভাবল, তার গর্তের ভেতর না জানি কী ঢুকে রয়েছে! নিশ্চয় ভয়ানক রাক্ষস হবে। না হলে কি ওদের বাচ্চারা বাঘ খেতে চায়! এসব ভেবে সে অনেক ভয় পেল।
শিয়ালনী ছানাগুলোকে চিমটি কাটল কারণ শিয়াল তাকে এই বুদ্ধি শিখিয়ে দিয়েছে। বুদ্ধিটা হলো- বাঘ এলে শিয়ালনী তার বাচ্চাগুলোকে চিমটি কাটরে। তখন বাচ্চারা চেঁচাবে এবং শিয়ালনী বলবে ওরা বাঘ খেতে চায়।
"তুমি যে অমন করে ছুটে পালাচ্ছো?”- কথাটি বানর বলেছে বায়কে। বাঘ যখন ভয় পেয়ে ছুটে পালাচ্ছিল তখন বানর বাঘকে উদ্দেশ করে কথাটি বলেছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!