বাংলাদেশের, স্বাধীনতার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, পুলিশ, সৈনিক, কর্মকর্তা, নারী, শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ। সমতল, পাহাড়, হাওড়, নদী, উপকূলসহ সব অঞ্চলের মানুষ এই তালিকায় রয়েছেন। সব ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হয়েছেন।
এম. মুনিরুজ্জামান ছিলেন বিজ্ঞানের শিক্ষক। পঁচিশে মার্চ রাতে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ শুনে তিনি পবিত্র কুরআন পাঠ শুরু করেন। কুরআন পাঠরত অবস্থায়ই তাঁকে পাকিস্তানি সেনারা টেনেহিঁচড়ে নিচে নামায়। একই বাড়ির নিচতলায় থাকতেন অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা। তাঁকেও শত্রুসেনারা টেনেহিঁচড়ে বের করে আনে। পরে দুজনকেই গুলি করে হত্যা করে।
মুক্তিযুদ্ধের একেবারে শেষের দিকে পাকিস্তানিরা বুঝতে পারে যে, তাদের পরাজয় অবধারিত। তখন তারা এ দেশকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র করে। কারণ তারা জানত, এ দেশ থেকে মেধাবীদের সরিয়ে ফেললে এ দেশ আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না। তাই তারা নতুন করে ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। তারা দেশবরেণ্য চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও সৃষ্টিশীল মানুষদের হত্যা করে এ দেশের অপূরণীয় ক্ষতি করে। তারা বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে সৃষ্টিশীল মানুষদের নির্মমভাবে হত্যা করে।
পাকিস্তানিরা এ দেশের মেধাবী মানুষদের হত্যা করার পরিকল্পনা করে নিম্নোক্ত কারণে-
১. পাকিস্তানিরা জানত কোনো দেশকে ধ্বংস করতে চাইলে সেই দেশকে মেধাশূন্য করতে হয়।
২. তারা জানত মেধাবীরা না থাকলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হবে।
৩. তারা এ দেশকে পঙ্গু করতে মেধাবী মানুষদের হত্যা করার পরিকল্পনা করে।
৪. তারা জানত চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও সৃষ্টিশীল মানুষদের হত্যা করলে এদেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।
১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সকল খ্যাতিমান শিক্ষকদের হত্যা করা হয় তাঁদের পাঁচজনের নাম হলো-
১. অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
২. অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী।
৩. অধ্যাপক আনোয়ার পাশা।
৪. অধ্যাপক সন্তোষচন্দ্র, ভট্টাচার্য।
৫. অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমদ।
Related Question
View Allপঁচিশে মার্চ মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে তিনজন শিক্ষক শহিদ হন তাঁরা হলেন- এম, মুনিরুজ্জামান, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা ও অধ্যাপক গোবিন্দচন্দ্র দেব।
অধ্যাপক গোবিন্দচন্দ্র দেব দর্শনশাস্ত্রের একজন খ্যাতনামা শিক্ষক ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সহজ-সরল ও নিরহংকার মানুষ। ১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষাশহিদদের স্মরণ করে শহিদ মিনারে ফুল দিতে গেলে আমাদের মুখে একটি গান বেজে ওঠে। গানটি হলো- "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।” এই গানে সুর দেন আলতাফ মাহমুদ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এই সুরসাধকের প্রাণ কেড়ে নেয় পাকিস্তানি বাহিনী।
অধ্যক্ষ যোগেশচন্দ্র ঘোষ দেশবাসীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য 'সাধনা ঔষধালয়' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাঁকে পাকিস্তানি সেনারা নির্মমভাবে হত্যা করে। তখন তাঁর বয়স ছিল ৮৪ বছর।
এম. মুনিরুজ্জামান বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন। প্রচন্ড গোলাগুলির শব্দ শুনে তিনি পবিত্র কুরআন পড়া শুরু করেন। কুরআন পাঠরত অবস্থায় পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনে। তারপর গুলি করে হত্যা করে।
১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চ: গভীর রাতে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকার নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আক্রমণ চালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস, পুলিশ ব্যারাক ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকায়। নির্বিচারে হত্যা করে ঘুমন্ত মানুষকে। সেই সঙ্গে হত্যা করতে থাকে এ দেশের মেধাবী, আলোকিত, বুদ্ধিজীবী ও বরেণ্য মানুষদের। এ রাতেই হত্যা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এম. মুনিরুজ্জামান, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, ড. গোবিন্দচন্দ্র দেবকে। ১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা এ দেশের সংবাদপত্র অফিসগুলোও পুড়িয়ে দেয়। তারা লেখক-সাংবাদিক শহীদ সাবের ও 'কবি-সাংবাদিক মেহেরুন্নেসাকে হত্যা করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!