হযরত উমর (রা)-এর চরিত্র ছিল কোমলে-কঠোরে মেশানো। তিনি মানুষের দুঃখ-কষ্টে ছিলেন সমব্যথী। দেশের মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা জানার জন্য তিনি গভীর রাতে মহল্লায় মহল্লায় একাকী ঘুরে বেড়াতেন। ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্নার আওয়াজ শুনে তিনি নিজের কাঁধে আটার বস্তা বয়ে নিয়ে তাদের তাঁবুতে দিয়ে আসতেন। এক বেদুইনের অসুস্থ স্ত্রীকে সাহায্য করার জন্য তিনি তার সহধর্মিণী উম্মে কুলসুমকে নিয়ে যান বেদুইনের ঘরে।
একদিন উমর (রা) এক ক্রীতদাসকে নিয়ে জেরুজালেমে যাচ্ছিলেন। তিনি সঙ্গী ক্রীতদাসকে বললেন, "দুইজন দূরের পথ পাড়ি দেব। একবার তুমি উটে চড়বে আর একবার আমি।" এভাবে যখন তাঁরা জেরুজালেম শহরের নিকট পৌঁছালেন, তখন ক্রীতদাসের উটে চড়ার পালা এলো। উটের পিঠে ক্রীতদাসকে দেখে শহরের লোকজন মনে করল ইনিই খলিফা। তারা উটের পিঠে বসা ক্রীতদাসকে খলিফা ভেবে সালাম দিতে লাগল। ক্রীতদাস তখন লজ্জিত হয়ে বললেন, "আমি নই, উটের রশি ধরে আছেন যিনি, তিনিই খলিফা।” উপস্থিত সবাই হযরত উমর (রা)-এর এই মহানুভবতা দেখে বিস্মিত হয়েছিল।
ইসলামি শাসনব্যবস্থায় জনগণের মতো শাসকদের জন্যও রয়েছে একই আইনের বিধান। এই শাসনব্যবস্থায় একবার হযরত উমর (রা)-কে একজন সাধারণ লোকের সামনে জবাবদিহি করতে হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, বায়তুলমাল থেকে প্রাপ্ত কাপড় দিয়ে কারো পুরো একটি জামা হয়নি, অথচ খলিফার গায়ে সেই কাপড়ের পুরো একটি জামা দেখা যাচ্ছে। খলিফা অতিরিক্ত কাপড় কোথা থেকে পেলেন? খলিফার পক্ষ থেকে তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ উত্তর দিলেন, “আমি আমার অংশটুকু আব্বাকে দিয়েছি। এতে তাঁর জামা তৈরি হয়েছে।” হযরত উমর (রা)-কে ইসলামি শাসনব্যবস্থায় এভাবেই জবাবদিহি করতে হয়েছিল।
হযরত উমর (রা) ছিলেন জনদরদি শাসক। লোকমুখে জনদরদি এই শাসকের কথা শুনে রোম সম্রাট পত্র দিয়ে এক দূত পাঠান। সম্রাটের দূত আরব দেশে এসে প্রথমে খোঁজাখুঁজি করেন 'খলিফা ভবন'। কোনো লোকই 'খলিফা ভবন' দেখাতে পারেনি। শেষে একজন বলল, কিছুক্ষণ আগে দেখেছিলাম খেজুর গাছের ছায়ার নিচে খলিফা ঘুমোচ্ছেন। রোম সম্রাটের দূত তাঁকে খেজুর গাছের ছায়ায় ঘুমোতে দেখে অবাক হন।। তখন তিনি বুঝতে পারেন হযরত উমর (রা) জনগণের প্রকৃত নেতা।
হযরত উমর (রা) প্রথমে ইসলামের ঘোরতর বিরোধী ছিলেন। মহানবি (স)-কে হত্যার জন্য তিনি তরবারি হাতে বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু পথের মধ্যে তিনি জানতে পারেন বোন ফাতিমা ও ভগ্নিপতি সাঈদ মুসলমান হয়ে গেছেন। এতে তিনি রাগে অস্থির হয়ে বোনের বাড়িতে যান। ইসলামের প্রতি বোন ও ভগ্নিপতির দৃঢ়তা দেখে বিস্মিত হন। এতে তাঁর মানসিক পরিবর্তন হয়। তিনি মুসলমান হওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েন।
Related Question
View Allকুস্তিগির - কুস্তি খেলোয়াড়। হযরত উমর (রা) সেকালে নামকরা কুস্তিগির ছিলেন।
কোষমুক্ত- খাপ থেকে বের করে আনা। সেনাপতি তরবারি কোষমুক্ত করলেন
যোদ্ধা - যে যুদ্ধ বা সংগ্রাম করে। হযরত উমর (রা) ছিলেন একজন ন্যায়যোদ্ধা
সুবক্তা - ভালো বক্তা। কবি আসাদ চৌধুরী একজন সবক্তা।
বিস্মিত - অবাক। জাদুঘরে বিভিন্ন জিনিস দেখে আমি বিস্মিত।
সালাত - নামাজ। হযরত উমর (রা) ইসলাম গ্রহণ করার পর মুসলমানরা কাবাঘরে প্রকাশ্যে সালাত আদায় করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!