অন্তু বাইরে খেলছিল। মামার আসার কথা শুনে অন্তু ছুটে ঘরে চলে আসে। ঘরে ঢুকেই সে বিরিয়ানির সুগন্ধ পায়। কেননা মামার হাতেই ছিল তার প্রিয় খাবার বিরিয়ানি। বিরিয়ানি দেখেই অন্তু মামার দিকে হাত বাড়ায়। তার আর তর সইছিল না তা কখন খাবে।
মামা অন্তুর সঙ্গে সময় কাটিয়ে ওর সারা দিনের চলাফেরা, মুখ-হাত ধোয়া, গোসল করা, খাওয়া-দাওয়া সবকিছু সম্পর্কে আলোচনা করলেন। পরদিন বিকেলে তার সঙ্গে মাঠে গেলেন। ঘরে ফিরে মামা. নিজে দাঁড়িয়ে থেকে অন্তুর মুখ-হাত ধোয়ালেন। এভাবে তিনি অন্তুর সঙ্গে সময় কাটালেন।
অন্তু ঠিকমতো হাত ধোয় না, হাত পরিষ্কার করে না। বিশেষ করে খাওয়ার আগে ও পরে আর টয়লেট থেকে এসে অন্তু হাত পরিষ্কার করে না। আর নাকের সর্দিও যেমন-তেমন করে মোছে। অঙ্কুর এই কাজগুলো মাথার কাছে ভালো লাগেনি। তাই মামা তাকে হাত ধোয়ার অভ্যাসটি ভালো করে করতে বলেন। কারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছতার প্রথম কাজই হলো ঠিকমতো হাত ধোয়া।
আমরা হাত দিয়ে অনেক কিছু ধরি, অনেকের সাথে হাত মেলাই। এ সবকিছুতেই জীবাণু থাকতে পারে যা হাতে লেগে যায়। খাওয়ার আগে অথবা টয়লেট করার পর সাবান দিয়ে হাত না খুলে এমনটা হয়। এরকম জীরাণু খালি চোখে দেখা যায় না। এগুলো খাবারের সঙ্গে আমাদের পেটে গিয়ে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে। তাই বলা হয়েছে পরিষ্কার দেখালেই হাত আসলে পরিষ্কার হয় না।
অন্তু মামার কাছ থেকে হাত ধোয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জেনেছিল।
অন্তু এতটাই চঞ্চল ছিল যে হাত না ধুয়েই খেতে বসত। ঠিকমতো সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করত না। ফলে তার সর্দি-জ্বর, অসুখ-বিসুখ লেগেই থাকত। এসব দেখে অন্তুর মামা তাকে খাওয়ার আগে 'হাত ধুয়ে নিতে বলেন এবং টয়লেট করার পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করতে বলেন। মূলত ঠিকমতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলেই যে বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, অন্তু তার মামার কাছ থেকে সে সম্পর্কেই জেনেছিল।
ঠিকমতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকার কারণে অন্তুর অসুখ-বিসুখ লেগেই থাকে। অন্তু স্বভাবে এতটাই চঞ্চল ছিল যে বাইরে ধুলাবালির মধ্যে খেলাধুলা করে এসে হাত না ধুয়ে খেতে বসত। টয়লেট থেকে এসে সারান দিয়ে হাত পরিষ্কার করত না। নিয়মিত গোসল করত না। এসব কারণেই তার অসুখ-বিসুখ লেগেই থাকে।
সব সময় হাত পরিষ্কার না রাখলে হাতে লেগে থাকা জীবাণু খাবারের সঙ্গে আমাদের পেটে চলে যায়। ফলে ওইসব জীবাণু থেকে পেটের অসুখ, সর্দি-জ্বর ইত্যাদি রোগ হয়। তাই কিছু খাওয়ার আগে দুই হাত সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে ঘুয়ে নিতে হয়। তা না হলে বিভিন্ন অসুখ-বিসুখে ভুগতে হয়।
হাত ধুয়ে পরিষ্কার রাখার সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত নখ কেটে পরিষ্কার রাখতে হয়। নাকের সর্দি যেখানে সেখানে মুছতে হয় না। নিয়মিত গোসল করতে হয়। বাইরে থেকে ফিরে সাবান। দিয়ে হাত-মুখ ধুইয়ে পরিষ্কার করতে হয়। টয়লেট থেকে এসেও সাবান দিয়ে হাত ধুতে হয়। খাওয়ার আগে ও পরে অবশ্যই দুহাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিতে হয়।
হাত পরিষ্কার দেখালেও হাতের মধ্যে বিভিন্নভাবে জীবাণু লেগে থাকে। কারণ জীবাণু এত বেশি ক্ষুদ্র যে তা খালি চোখে দেখা যায় না। আমরা হাত দিয়ে অনেক কিছু ধরি, অনেকের হাতের সঙ্গে হাত মেলাই, ধুলাবালির মধ্যে খেলাধূলা করি, চলাফেরা করি। এ সবকিছুতেই জীবাণু থাকতে পারে যা হাতে লেগে যায়। তাই খাওয়ার আগে বা টয়লেট করার পর সাবান। দিয়ে হাত না ধুলে তাতে জীবাণু থাকে।
ভালো করে হাত ধোয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাস করলে অসুখ-বিসুখ অনেক কমে যায়। পেটের অসুখ কিংবা সর্দি-জ্বরসহ বেশিরভাগ অসুখই হাতে লেগে থাকা জীবাণু খাবারের মাধ্যমে পেটে প্রবেশের কারণে হয়। অনেক ছেলে-মেয়েই আছে যারা ঠিকমতো হাত ধোয় না। টয়লেট থেকে এসে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করে না। ফলে তাদের হাতে থাকা জীবাণু খাবারের মাধ্যমে পেটে চলে যায়। আর পেটের অসুখসহ সর্দি-জ্বর এবং বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ হয়। তাই ভালো করে হাত ধোয়া ও. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাস করলেই অসুখ-বিসুখ অনেক কমে যায়।
অন্তু মামাকে কথা দিয়েছিল যে, সে ঠিকমতো হাত ধোবে। আর সবাইকে বলবে, "যদি সুস্থ থাকতে চাও, তো হাত ধুয়ে নাও।"
সমস্ত শরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য গোসল করা একান্ত দরকার। গোসল করলে শরীর ও মন ভালো থাকে। অসুখ-বিসুখ থেকে রেহাই পাওয়া যায়। ধুলাবালি ও রোগ-জীবাণু থেকে মুক্তি, পাওয়া যায়। তাই গোসল করা দরকার।
Related Question
View Allখাবলে খাওয়া- এক থাবায় যতটুকু খাবার তুলে খাওয়া যায়।
চেটেপুটে--- জিহ্বাজিহ্বা আর ঠোঁট দিয়ে একসাথে চেটে পরিষ্কার করে খাওয়া।
টয়লেট---- যেখানে পায়খানা-প্রস্রাব করা হয়, শৌচাগার।
জীবাণু ----- খালি চোখে দেখা যায় না এমন ক্ষতিকারক ক্ষুদ্র প্রাণী বা জীব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!