টুকির ভাই রতন কয়েক দিন ধরে ব্যস্ত কারণ সে আন্দোলন করছিল। রতন কলেজে পড়ে। তার চোখভরা স্বপ্ন। দেশ, দেশের সম্পদ তথা জনগণের সম্পদ রক্ষায় তারা আন্দোলন করে। তারা রাস্তা বন্ধ করে প্রতিবাদ করে। তাই সে কয়েক দিন ধরে ব্যস্ত।
রতন আন্দোলন করতে ভয় পায় না পূর্বপ্রজন্মের আত্মত্যাগ ও অর্জনের অনুপ্রেরণার কারণে। আমাদের পূর্বপ্রজন্ম ভাষা-আন্দোলন করে জীবন দিয়ে হলেও বাংলা ভাষা অধিকার আদায় করেছে; তারা মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে। পূর্বপ্রজন্মের এসব আত্মত্যাগ ও অর্জন রতনকে অনুপ্রাণিত করে, আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করে। পূর্বপ্রজন্মকে রতন শক্তি মনে করে। তাই রতন আন্দোলন করতে ভয় পায় না।
"মা-ও খুব উদ্বিগ্ন"- কারণ বাইরে খুব গুলি হচ্ছিল। টুকির বাবা ফোন করে টুকির মাকে জানিয়েছে যে, বাইরে প্রচণ্ড গুলি হওয়ায় সে দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে কাজ করছে। এদিকে ছেলে রতনও বাইরে। তাকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই মা সন্তান ও স্বামীর নিরাপত্তার চিন্তায় খুব উদ্বিগ্ন হন।
টুকি এখন আর লাল জামা চায় না, কারণ ও চায় বাবা নিরাপদে ফিরে আসুক। টুকির একটি লাল জামার খুব শখ। টুকির বাবা দর্জি। সে খুব সুন্দর নকশা করেছে টুকির জামায়। সে গলির মোড়ে দোকানে সেই জামা বানাতে গিয়েছে। কিন্তু প্রচন্ড গোলাগুলি শুরু হওয়ায় সে দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে কাজ করছিল। আর টুকি এইগুলির শব্দে ও ধোঁয়ায় শঙ্কিত হয় বাবার জন্য। তাই সে আর লাল জামা চায় না, চায় বাবা নিরাপদে ফিরে আসুক।
টুকিদের এলাকায় হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি করার সময় পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভীতিকর। ভয়ংকর শব্দ করে আকাশে চক্কর দিচ্ছিল হেলিকপ্টার। টুকিদের পাশের বাসার রানু চাচি চিৎকার করে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাচ্ছিল, সবাইকে সাবধান করছিল। আকাশজুড়ে ছিল কালো মেঘের মতো ধোঁয়া। টিয়ারগ্যাসের গন্ধ ঘরের মধ্যেও ঢুকে গিয়েছিল। বাইরে প্রচন্ড শোরগোল, সবাই গলির মোড় থেকে ছুটে পালাচ্ছিল, পাশের বস্তিতে আগুন জ্বলছিল। সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল তখন।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allটুকি যাত্রাবাড়ির ছোট্ট একটা কলোনিতে থাকে। টুকির সাথে তার মা, বাবা ও ভাই থাকে।
টুকির ভয় করছিল আতঙ্কিত পরিস্থিতির জন্য। 'বাইরে কালো ধোঁয়া ছিল এবং গুলির শব্দে ওর কান বন্ধ হয়ে আসছিল। এমন পরিবেশে টুকির ভয় করছিল।
টুকির বাবা দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে কাজ করছিল। কারণ বাইরে প্রচণ্ড গুলি হচ্ছিল।
টুকির মনে তার বাবা ও ভাইয়ের নিরাপত্তার চিন্তায় শঙ্কা জাগে। কারণ বাইরে প্রচন্ড গোলাগুলি হচ্ছিল। তার বাবা ও ভাই বাইরে থাকায় তাদের জন্য টুকির মনটা গুমরে ওঠে।
আহত ভাই রতনকে দেখে বুক ফেটে কান্না আসে টুকির।' গুলিতে আহত রতনকে নিয়ে এলে টুকি দেখে রক্তে ভিজে গেছে তার সাদা শার্ট। ভাইয়ের নিথর শরীর দেখে তখন তার বুক ফেটে কান্না আসে।
গুলিতে আহত হওয়ার পর রক্তে ভিজে যায় টুকির ভাইয়ের শার্ট। রক্তে ভিজে সাদা শার্ট টুকটুকে লাল জামার মতো হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!