হজরত উমর (রা) ৫৮৩ সালে মক্কা নগরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম খাত্তাব এবং মাতার নাম হানতামাহ। তাঁর উপাধি হলো 'ফারুক'। ফারুক অর্থ সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। তিনি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ছিলেন। তিনি শিক্ষিত, মার্জিত ও সৎ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি একাধারে বিখ্যাত কুস্তিগির, সাহসী যোদ্ধা, কবি ও সুবক্তা ছিলেন। তিনি অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ শাসক ছিলেন। মানুষ হিসেবে ছিলেন সমব্যথী। তিনি অত্যন্ত উদার ও মহানুভব ছিলেন। অর্ধ জাহানের শাসক হয়েও অতি সাধারণ জীবনযাপন করতেন তিনি।
ন্যায়পরায়ণ শাসক হজরত উমর (রা) মানুষের সমব্যথী ছিলেন। নগরবাসীর অবস্থা বোঝার জন্য তিনি রাতের বেলায় ঘুরে বেড়াতেন। মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝার চেষ্টা করতেন। একরাতে তিনি ঘুরে বেড়ানোর সময় একটি ঘর থেকে ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না শুনতে পেলেন। তিনি ঘরে ফিরে নানা রকম খাবার একটি বস্তায় ভরে কাঁধে নিয়ে ক্ষুধার্ত শিশুদের ঘরে পৌছে দিলেন।
খলিফা উমর (রা) একবার জেরুজালেম যাচ্ছিলেন। সঙ্গে একজন ভৃত্য ছিল এবং বাহন হিসেবে ছিল একটি উট। খলিফার চোখে উঁচু-নিচু, ধনী-গরিব ভেদ ছিল না। দূরের পথ পাড়ি দেবেন বলে তিনি ভৃত্যকে বললেন, "এতখানি পথ তুমি একা উটের রশি টেনে নিয়ে যেতে পারবে না। তাই একবার তুমি উটে চড়বে, আর একবার আমি।” এভাবে পালাক্রমে তপ্ত বালুর পথ পাড়ি দিয়ে জেরুজালেম শহরের তোরণে এসে পৌঁছালেন। তখন উটের পিঠে ছিল ভৃত্য। জেরুজালেমের লোকজন ভৃত্যকে খলিফা ভেবে অভ্যর্থনা জানাল। ভৃত্য তখন জানালেন যে, উটের রশি ধরে থাকা লোকটিই আসলে খলিফা। এতে জেরুজালেমের লোকজন অবাক হয়ে গেল!
খলিফা উমর (রা) সাধারণ জীবনযাপন করতেন। জনদরদি শাসক হজরত উমর (রা)-এর কথা লোকমুখে শুনতে পান রোমান সম্রাট। তিনি পত্র দিয়ে এক দূত পাঠান। সম্রাটের দূত মদিনায় এসে রাজপ্রাসাদ খুঁজতে থাকেন, কিন্তু কোনো রাজপ্রাসাদ খুঁজে পেলেন না। এক ব্যক্তি দূতকে জানান যে, খলিফার কোনো প্রাসাদ নেই, তিনি এক খেজুর গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। রোমান সম্রাটের দূত সেখানে গিয়ে দেখলেন সত্যিই খলিফা উমর (রা) খেজুর গাছের ছায়ায় বসে আছেন। তখন দূত বুঝতে পারলেন, উমর (রা) অর্থ জাহানের শাসক হয়েও খুব সাধারণ জীবনযাপন করেন।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allহজরত উমর (রা)-এর পিতার নাম খাত্তাব ও মাতার নাম হানতামাহ।
হজরত উমর (রা)-এর উপাধি 'ফারুক'। ফারুক অর্থ সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।
উমর (রা) ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ছিলেন। তিনি শিক্ষিত, মার্জিত ও সৎ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন।
হজরত উমর (রা) রাতের বেলায় 'ঘুরে বেড়াতেন নগরবাসীর অবস্থা বোঝার জন্য। তিনি মানুষের সমব্যথী ছিলেন এবং তাদের দুঃখ-কষ্ট বোঝার চেষ্টা করতেন। এজন্যই তিনি রাতের বেলায় ঘুরে বেড়াতেন।
হজরত উমর (রা) এঁক বেদুইন নারীর আর্তস্বর শুনতে পেয়েছিলেন। তিনি প্রসব বেদনায় কাতর ছিলেন।
খলিফা উমর (রা)-এর নিম্নলিখিত গুণগুলো আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়-
১. ন্যায়পরায়ণতা,'
২. মহানুভবতা ও
৩. উদারতা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!