'কুপোকাত' নাটকের মূল সমস্যা হলো বাঘের অত্যাচার। বাঘ প্রতিদিন নির্বিচারে বন্য পশুদের হত্যা করে খেয়ে ফেলত। এ কারণে বনের সমস্ত প্রাণীর জীবন বিপন্ন। সভার উদ্দেশ্য ছিল বাঘের ক্ষুধা নিরসন এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সভায় বলা হয়, শেয়াল বাঘের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে আপস-রফা করেছে। সেই অনুযায়ী খরগোশকে বাঘের খাদ্য হিসেবে দেওয়া হবে, এমন 'সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু খরগোশ রাজি হয়নি। এখান থেকেই নাটকের অন্যান্য ঘটনা আবর্তিত হয়।
মোষ ছিল বনের পশুদের সভার সভাপতি। সে সবার নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। মোষ সব সময় সব প্রাণীর জন্য ন্যায্য সিদ্ধান্ত নিতে চেষ্টা করত। সভা পরিচালনা ও খরগোশকে বোঝানোর দায়িত্বও তার ওপর ছিল। সে সতর্কভাবে সভা ভেঙে দেয়, যখন বাঘের গর্জন শোনা যায়। সে দায়িত্বশীল ও বিচক্ষণ।
খরগোশ চেয়েছিল নিজের জীবন বাঁচাতে। সে আত্মবিসর্জন করতে চায়নি। সে জানত, অন্যের খাদ্য হওয়া মানেই মৃত্যু। তাই সে সভায় ও পরবর্তী সময়ে বুদ্ধি ও কৌশল 'প্রয়োগ' করে বাঁচার চেষ্টা করল। খরগোশের সাহসিকতা ও বুদ্ধি নাটকে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। তার এই মনোভাব অন্য প্রাণীগুলোর জন্যও শিক্ষণীয়।
শেয়াল বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বাঘের সঙ্গে আলাপ করল। সে বাঘকে বোঝাল যে, প্রতিদিন একটি প্রাণীকে তার খাদ্য হিসেবে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এতে বাকি সবাই নিরাপদ থাকবে। শেয়াল সভায় অন্য প্রাণীদের এ বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছিল। নাটকে শেয়াল কূটচাতুর্যের প্রতীক। সে সবাইকে সংঘবদ্ধ করার চেষ্টা করেছে।
ময়ূর বলেছিল, সৌন্দর্যেরও সুবিধা ও অসুবিধা আছে। সে জানাল, সুন্দর হলেও বিপদ হতে পারে। তাই সে প্রথমে বাঘের সামনে যেতে চায় না। এটি দেখায়, শরীরের গঠন বা সৌন্দর্য সব সময় নিরাপত্তা দেয় না। ময়ূরের উদাহরণ বুদ্ধি ও কৌশলের প্রয়োজনীয়তা দেখায়।
'কুপোকাত' নাটকের মূল শিক্ষা হলো, সাহসই সব সময় যথেষ্ট নয়। বুদ্ধি ও কৌশল ব্যবহার করেই বড়ো শক্তিকে পরাজিত করা সম্ভব। নিজের দুর্বলতা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। আত্মত্যাগের চেয়ে নিরাপদ কৌশল অনেক সময় কার্যকর। অন্যদের সহায়তা করা ও সংঘবদ্ধ থাকা জরুরি।
'কুপোকাত' নাটকের খরগোশ বুদ্ধিমান, সাহসী ও জীবনপ্রিয় একটি চরিত্র। সে নিজের জীবন বাঁচাতে চায়। বুদ্ধি ও কৌশল প্রয়োগ করে বিপদ কাটিয়ে ওঠে। তার চরিত্র আত্মত্যাগ ও স্বার্থপরতার মধ্যে একটি সমন্বয় দেখায়। নাটকে, তার কর্মকাণ্ড শিক্ষণীয় উদাহরণ।
সভার সবাই খরগোশকে বাঘের খাদ্য হিসেবে দেওয়ার জন্য একমত। কিন্তু খরগোশ তার ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা করতে চায়। এতে দলের স্বার্থ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে দ্বন্দ্ব দেখা যায়। নাটকটি বোঝায়, কখনো কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
Related Question
View All'কুপোকাত' নাটকে সভার সভাপতি ছিলেন মোষ-। তিনি সবাইকে নিরাপত্তা ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন রাখার চেষ্টা করতেন। সভা পরিচালনায় তার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ।
বনের মূল সমস্যা ছিল বাঘের অত্যাচার। বাঘ নির্বিচারে পশু হত্যা করছিল। তাই সবার জীবন বিপন্ন ছিল।
বাঘকে শান্ত করার দায়িত্ব নিয়েছিল শেয়াল। শেয়াল বাঘের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আপস-রফা কুরে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেছিল।
খরগোশ চেয়েছিল নিজের জীবন বাঁচাতে।.. সে নিজেকে অন্যের খাদ্য হিসেবে দিতে চায়নি। বরং সে নিজে খেয়ে বাঁচতে চেয়েছিল।
ময়ূর বলেছিল, সুন্দর হওয়ার সুবিধা ও অসুবিধা আছে। সে জানায়, সৌন্দর্য কখনো বিপদও বাড়াতে পারে। তাই সে নিজে কখনো প্রথমে বাঘের খাদ্য হিসেবে যাবে না।
পশুদের সভা ভাঙার কারণ ছিল বাঘের গর্জন শোনা। বাঘ তখন সভার কাছে চলে আসছিল। তাই মোষ সিদ্ধান্ত নিল সভা শেষ করে সবাইকে চলে যেতে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!