বাংলাদেশের জাতীয় পশু হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এটি সবচেয়ে রাজসিক ও সুন্দর বন্যপ্রাণী। বাঘের গায়ের রং হলুদ থেকে গাঢ় কমলা রঙের হয়। গায়ে কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে। বাঘ সুন্দরবনে বসবাস করে। বাঘ বাংলাদেশের গর্ব ও পরিচয়ের প্রতীক। আমাদের সবার উচিত জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে রক্ষা করা।
বাঘ বন্যপ্রাণী শিকার করে। বাঘ নিঃশব্দে শিকার ধরে। বাঘের থাবার নিচের অংশ নরম বলে চলার সময় কোনো শব্দ হয় না। সঠিক সময় বুঝে বাঘ শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শিকার ধরার সময় বাঘের থাবা থেকে নখর বের হয়। বাঘের দাঁত ও চোয়াল খুব শক্ত তাই মাংস সহজে ছিঁড়তে পারে। এভাবে বাঘ দক্ষতার সঙ্গে প্রতিদিন-শিকার ধরে।
বাঘ মূলত মাংসাশী প্রাণী। তার প্রধান খাদ্য হরিণ, শূকর, বানর ইত্যাদির মাংস। বাঘ প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ কেজি খাবার খায়। শিকার ধরতে সে নিঃশব্দে কাছে গিয়ে হঠাৎ আক্রমণ করে। তীক্ষ্ণ ও ধারালো দাঁত ও মজবুত চোয়ালের সাহায্যে খাবার চিবায়। খাদ্য সংগ্রহে বাঘ খুবই দক্ষ ও ধৈর্যশীল প্রাণী।
বাঘ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাঘ বন্যপ্রাণী শিকার করে বনের প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। মানুষও বনের গভীরে ঢুকতে ভয় পায় বলে বৃক্ষ নিধন রোধ হয়। বাঁঘ না থাকলে অনেক প্রাণী বেড়ে গিয়ে ভারসাম্য নষ্ট হতো। এভাবেই বাঘ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে।
আমাদের প্রথমে সুন্দরবনের গাছপালা কাটা বন্ধ করতে হবে। বাঘ শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে বাঘ প্রকৃতির বন্ধু। বনের নিরাপত্তা বাড়াতে হবে এবং শিকারিদের শাস্তি দিতে হবে। বনের গাছ ও প্রাণী উভয়ে যত্ন নিতে হবে। তাহলেই বাঘ ও সুন্দরবনকে রক্ষা করা যাবে।
Related Question
View Allরয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত সুন্দরবনে দেখা যায়। এখানেই বাঘ শিকার করে ও বাচ্চা লালন করে। এই বনই তাদের আশ্রয়স্থল।
বাঘ দেখতে সুন্দর ও ভয়ংকর লাগে। বাঘের গায়ের রং হলুদ থেকে গাঢ় কমলা রঙের হয়। এর গায়ে কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে। পেটের দিকটা সাদা রঙের ।
একটি বাঘের দৈর্ঘ্য ২২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর লেজ ৬০ থেকে ১১০ সেন্টিমিটার। কাঁধের দিকে বাঘের উচ্চতা ১০০ সেন্টিমিটারের মতো। পুরুষ বাঘের গড় ওজন ২২০ কেজি, আর বাঘিনির. গড় ওজন ১৪০ কেজি।
বাঘের থাবার নিচের অংশ নরম ও পুরু। তাই বাঘ চলার সময় কোনো শব্দ হয় না। এই গুণে সে শিকার ধরতে পারে সহজে। শিকার ধরার সময় তাদের থাবা থেকে শক্ত নখর বেরিয়ে আসে।
বাঘের দাঁত তীক্ষ্ণ ও ধারালো এবং চোয়াল খুব মজবুত। এতে সে মাংস ছিঁড়ে সহজে খেতে পারে। একটি বাঘ সাধারণত প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ কেজি খাবার খায়। হরিণ; শূকর ও বানরের মাংস বাঘের প্রধান খাদ্য।
বাঘের জীবনকাল মোটামুটি দীর্ঘ। বাঘ সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। তবে প্রকৃতির পরিবর্তন ও বাঘশিকারিদের কারণে দিন দিন বাঘের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!