আমাদের বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। এ দেশের বেশিরভাগ মানুষ বাংলাভাষী এবং তারা বাঙালি নামে পরিচিত। তবে বাংলাদেশের পার্বত্য জেলাগুলোতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বাস করে। তারা কেউ চাকমা, কেউ মারমা, কেউ মুরং, কেউ তঞ্চঙ্গ্যা, কেউ আবার অন্য জাতির। এদের, আবার নিজস্ব মাতৃভাষা রয়েছে, যে ভাষায় তারা কথা বলে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান হলো এ দেশের প্রধান ধর্মীয় সম্প্রদায়। এসব সম্প্রদায়ের আবার নিজস্ব উৎসবের বৈচিত্র্য বিদ্যমান। এ দেশের মানুষ নানা রকম বৈচিত্র্যময় পেশায় নিয়োজিত। এছাড়াও পোশাক-পরিচ্ছদ, চেহারা ও শারীরিক গঠনেও রয়েছে নানা রকম বৈচিত্র্য। তাই বলা হয়েছে- এ দেশের মানুষের রয়েছে নানা রকম বৈচিত্র্য।য় নিয়োজিত। এছাড়াও পোশাক-পরিচ্ছদ, চেহারা ও শারীরিক গঠনেও রয়েছে নানা রকম বৈচিত্র্য। তাই বলা হয়েছে- এ দেশের মানুষের রয়েছে নানা রকম বৈচিত্র্য।
বাংলাদেশে নানা ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করে। তাই এ দেশের উৎসবগুলোও বৈচিত্র্যময়। এ দেশের প্রধান ধর্মীয় সম্প্রদায় হলো মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান। ধর্ম অনুযায়ী উৎসবে ভিন্নতা রয়েছে। মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। বৌদ্ধদের প্রধান উৎসব বুদ্ধপূর্ণিমা এবং খ্রিস্টানদের উৎসবের নাম বড়দিন। এসব ধর্মীয় উৎসব ছাড়াও আরও কিছু উৎসব এ দেশে উদ্যাপন করা হয়। যেমন- পহেলা বৈশাখে উদ্যাপিত হয় বাংলা নববর্ষ। এছাড়া রাখাইনরা সংগ্রাই এবং চাকমারা বিজু উৎসব মহাসমারোহে পালন করে।
বাংলাদেশের মানুষ নানা বৈচিত্র্যময় পেশায় নিয়োজিত। কৃষক, জেলে, কামার, কুমার, তাঁতি ইত্যাদি বৈচিত্র্যময় পেশা দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করেন। কৃষক লাঙল বা ট্রাক্টর দিয়ে ফসলের মাঠ চাষ করেন। জেলেরা জাল দিয়ে মাছ ধরেন। কামার আগুন, হাঁপর ও হাতুড়ির সাহায্যে লোহার জিনিস তৈরি করেন। কুমার নরম কাদামাটি নিয়ে চাকায় ঘুরিয়ে মাটির হাঁড়ি ও তৈজসপত্র তৈরি করেন। তাঁতি কাপড় বুনে পোশাক উৎপাদন করেন।
বাংলাদেশে বিভিন্ন পেশাজীবীর মানুষ আছে। তাদের কেউ কৃষক, কেউ জেলে, কেউ কামার, কেউ কুমার, কেউ তাঁতি, কেউ অন্য কিছু। ফসলের মাঠে কৃষক লাঙল বা ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে খাদ্য ফলান। জেলেরা জাল দিয়ে মাছ ধরে মানুষের মাছের চাহিদা পূরণ করেন। কামার আগুন, হাঁপর আর হাতুড়ির সাহায্যে লোহার প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করেন। কুমার নরম কাদামাটি নিয়ে চাকায় ঘুরিয়ে হাঁড়ি ও তৈজসপত্র তৈরি করেন। তাঁতি কাপড় বুনে পোশাকের চাহিদা মেটান। এমন আরও অনেক পেশাজীবী আছেন। তাদের সেই শ্রমের কারণে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের পোশাক-পরিচ্ছদে বৈচিত্র্য বিদ্যমান। পাজামা-পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, শাড়ি-ব্লাউজ, সালোয়ার-কামিজ ছাড়াও আরও অনেক রকমের পোশাক এদেশের মানুষ পরিধান করে থাকে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী মানুষের পোশাকেও বৈচিত্র্য দেখা যায়। চাকমাদের পোশাকের নাম পিনোন ও হাদি। মারমারা 'দেয়াহ' 'নামক একধরনের পোশাক পরে। সাঁওতালরা পরে থাকে 'পাঞ্চি' নামের একধরনের পোশাক। গারোরা পরে 'দকমান্দা' নামক পোশাক। এভাবে এ দেশের মানুষ নানা রকম বৈচিত্র্যময় পোশাকে সজ্জিত হয়।
বাংলাদেশে নানা রকম যানবাহন চলাচল করে। এ দেশে নদীপথে চলে নৌকা, লঞ্চ ও জাহাজ। স্থলপথ দুরকমের- সড়ক পথ বা রাস্তা এবং রেলপথ। রাস্তায় চলে বাস, মোটরগাড়ি, রিকশা, সাইকেল ইত্যাদি। রেলপথ বা রেললাইন ধরে চলে রেলগাড়ি বা ট্রেন। আর আকাশপথে ওড়ে উড়োজাহাজ, হেলিকপ্টার ইত্যাদি।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allবাংলা ছাড়াও বাংলাদেশে আরও কয়েকটি ভাষায় মানুষ কথা বলে। যেমন- চাকমা, মারমা, ককবরক, ওঁরাও, মান্দি, সাঁওতালি ইত্যাদি।
বাংলাদেশে নানা কারণে বিভিন্ন উৎসব উদ্যাপন করা হয়। এ দেশের মুসলমানরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা নামে প্রধান দুটি উৎসব উদ্যাপন করে। হিন্দুরা দুর্গাপূজা, বৌদ্ধরা বুদ্ধপূর্ণিমা 'আর খ্রিষ্টানরা বড়দিন উৎসব পালন করে। এছাড়া সব ধর্মের মানুষ পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন করে। রাখাইনরা সাংগ্রাই আর চাকমারা বিজু উৎসব উদ্যাপন করে।
সড়ক, নদী ও আকাশপথে বিভিন্ন রকম বাহন দেখা যায়। সড়কপথে বাস, মোটরগাড়ি, রেলগাড়ি, রিকশা; সাইকেল ইত্যাদি বাহন দেখা যায়। নদীপথে নৌকা, লঞ্চ ও জাহাজ চলে। আকাশে ওড়ে উড়োজাহাজ। এসব বাহনে আমরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করি।
বাংলাদেশে বিভিন্ন পেশার মানুষ বিভিন্ন রকমের কাজ করে। কৃষক ফসলের মাঠে লাঙল বা ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করেন। জেলেরা জাল দিয়ে মাছ ধরেন। কামার আগুন, হাঁপর আর হাতুড়ির সাহায্যে লোহার জিনিস তৈরি করেন। কুমার নরম কাদামাটি দিয়ে চাকায় ঘুরিয়ে মাটির হাঁড়ি ও অন্যান্য জিনিস তৈরি করেন। তাঁতি তাঁতে কাপড় বোনেন। এছাড়া অনেক মানুষ শহর ও গ্রামে নানা রকম কাজ করে।
বিভিন্ন বৈচিত্র্য বাংলাদেশকে সুন্দর করেছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বিভিন্ন ভাষায় কথা বলে। প্রাকৃতিক কারণে নদী, সড়ক ও আকাশপথে বিভিন্ন যানবাহন চলে। মানুষের চেহারা ও শারীরিক গঠনেও আছে বৈচিত্র্য। এত বৈচিত্র্য বাংলাদেশের জনজীবনে এনেছে নতুনত্ব। ধর্মীয় বৈচিত্র্যের জন্য এত উৎসবমুখর থাকে দেশ। সবাই মিলেমিশে বাস করে। সব পেশার মানুষের পরিশ্রমে দেশ সমৃদ্ধ হয়। পোশাকের বৈচিত্র্য এক ভিন্নমাত্রা আনে মানুষের জীবনে। সর্বোপরি নানা বৈচিত্র্য সত্ত্বেও সবাই বাংলাদেশকে ভালোবাসে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সবাই একসঙ্গে কাজ করে। এভাবে বৈচিত্র্য বাংলাদেশকে সুন্দর করেছে।
বাংলা ভাষা ছাড়াও বাংলাদেশে আরও কয়েকটি ভাষা রয়েছে। যেমন- চাকমা, মারমা, ককবরক, ওঁরাও, মান্দি, সাঁওতালি ইত্যাদি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!