একলব্য ছিল এক শিকারির ছেলে। ছোটোবেলা থেকেই সে তির-ধনুক চালনায় খুব আগ্রহী ছিল। তার হাতের নিশানা ছিল অব্যর্থ। সে মস্ত এক বীর তিরন্দাজ হতে চেয়েছিল। একদিন সে গুরু দ্রোণের কাছে বিদ্যা শেখার আশায় যায়। কিন্তু দ্রোণ তাকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেননি। তারপরও একলব্য নিজের সাধনায় স্বপ্ন পূরণ করে।
একলব্য শুনেছিল দ্রোণ রাজপুত্রদের তির চালনা শেখান। সে ভেবেছিল, যদি তার কাছ থেকে শিখতে পারে, তবে সে সেরা তিরন্দাজ হতে পারবে। তাই সাহস করে রাজবাড়িতে প্রবেশ করে। সেখানে রাজপুত্রদের অনুশীলন দেখছিল। পরে দ্রোণ তাকে জিজ্ঞেস করলে সে তার নিজের ইচ্ছার কথা জানায়। কিন্তু দ্রোণ তাকে ফিরিয়ে দেন।
দ্রোণ একলব্যকে তির চালনার বিদ্যা না শেখালেও সে হাল ছাড়েনি। একলব্য মনে মনে দ্রোণকেই গুরু মানে। তারপর সে নিজে নিজেই অনুশীলন শুরু করে। দিনের পর দিন তার দক্ষতা বাড়তে থাকে। নিবিড় অনুশীলনে অবশেষে সে সেরা তিরন্দাজ হয়। তার অধ্যবসায় ছিল অসাধারণ।
দ্রোণ একদিন রাজপুত্রদের তির-ধনুক চালনায় পারদর্শিতার পরীক্ষা নিতে বনে গিয়েছিলেন। সেখানে রাজপুত্ররা তির-ধনুক চালনার অনুশীলন করছিল। তাদের মধ্যে তৃতীয় রাজপুত্র ছিল সবচেয়ে ভালো তিরন্দাজ। সে একটি হরিণ দেখে তার পিছু নেয়। কিন্তু হঠাৎ হরিণটা চোখের আড়াল হয়ে যায়।
বনের ভেতরে তৃতীয় রাজপুত্র দেখতে পেল এক যুবক উঠানের, মতো জায়গায় অনুশীলন করছে। চারপাশে লতাপাতার বেড়া দেওয়া ছিল। যুবকটি মনোযোগ দিয়ে তির ছুড়ছিল। তার কৌশল দেখে তৃতীয় রাজপুত্র বিস্মিত হলো। সে বুঝল, এই যুবকই কুকুরের মুখে তির মেরেছে। পরে জানতে পারল সে একলব্য।
কুকুরটি জোরে চিৎকার করে একলব্যের অনুশীলনে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল। তাই সে কুকুরের ক্ষতি না করে কেবল তার চিৎকার বন্ধ করে দেয়। তার লক্ষ্য ছিল শুধু মনোযোগ বজায় রাখা। কুকুরের মুখ থেকে রক্তও পড়েনি। এতে বোঝা যায়, একলব্য তির চালনায় কত নিখুঁত। সে নিষ্ঠাবান ও দয়ালু ছিল।
একলব্য পরিশ্রমী, ধৈর্যশীল ও শ্রদ্ধাশীল। বাধা পেরিয়েও সে হাল ছাড়েনি। গুরুর প্রতি তার ভক্তি ছিল অসীম। সে নিজেই নিজের শিক্ষক হয়ে উঠেছিল। তার অধ্যবসায় প্রমাণ করে, ইচ্ছা থাকলে অসম্ভব কিছুই নয়। এ গুণই তাকে মহৎ করেছে।
'শিষ্যের সাধনা' গল্পটি আমাদের শেখায়, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় থাকলে সাফল্য আসবেই। গুরুর সহযোগিতা না পেলেও নিজের সাধনা থামানো উচিত নয়। একলব্যের মতো মনোযোগী হলে তাকে কেউ থামাতে পারে না। এতে ভক্তি, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের মূল্য বোঝা যায়। গল্পটি আমাদের পরিশ্রমে সাফল্য আসে সেই বিশ্বাস করতে শেখায়।
Related Question
View Allএকলব্য ছিল এক শিকারির ছেলে। সে ছোটোবেলা থেকেই তির-ধনুকে খুব আগ্রহী ছিল। সে মস্ত বীর হতে চাইত।
একলব্য সারা দিন তির-ধনুক নিয়ে অনুশীলন করত। তার হাতের নিশানা ছিল অব্যর্থ। এই অনুশীলনই ছিল তার আনন্দ ও সাধনা।
একলব্য মস্ত বীর হতে চায়। সে শুনেছিল গুরু দ্রোণ রাজপুত্রদের তির চালনা শেখান। তাই সে চেয়েছিল দ্রোণের কাছেই তির চালনা শিখতে। সে মনে করেছিল এতে তার স্বপ্ন পূরণ হবে।
একলব্য তির চালনা শিখতে চাইলে দ্রোণ বললেন, 'শোনো বাছা, আমি শুধু রাজকুমারদের শিখাই। তুমি ফিরে যাও।'
গুরু দ্রোণ একলব্যকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেননি; কারণ তিনি শুধু রাজকুমারদের তির চালনা শেখাতেন। একলব্য রাজপরিবারের কেউ ছিল না। তাই তিনি তাকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করলেন না।
একলব্য নিজে নিজে অনুশীলন করে তির চালনা শিখেছিল। সে গুরু দ্রোণকে মনে মনে গুরু মানত। পরিশ্রম আর ধৈর্যেই সে সেরা তিরন্দাজ হয়ে ওঠে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!