গৃহ পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবারের সকল সদস্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের ছোট ছোট অসতর্কতা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই গৃহে নিরাপদ পরিবেশ' বজায় রাখার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। যেমন: আসবাবপত্র যথাস্থানে রাখা জরুরি, যাতে চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো বাধা গৃষ্টি না হয়। রান্নাঘর, সিঁড়ি, বাথরুম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জায়গায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, যাতে ঝুঁকি কমে। বৈদ্যুতিক তার ছেঁড়ে গেলে বা সুইচ ভেঙে গেলে দ্রুত তা মেরামত করা প্রয়োজন, কারণ এটি আগুন লাগার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া, সিঁড়ি এবং ছাদের চারপাশে রেলিং স্থাপন করা দরকার, যাতে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা' না থাকে। ধারালো বস্তু, কীটনাশক ও ওষুধ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে, যাতে তারা দুর্ঘটনার শিকার না হয়।
পরিবারের সদস্যরা যদি এসব বিষয়ে সতর্ক থাকে এবং নিয়মিত গৃহপরিচ্ছন্নতা বজায় রাখে, তাহলে গৃহ পরিবেশ নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।
প্রাথমিক চিকিৎসা হলো কোনো দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে দ্রুত প্রদত্ত চিকিৎসা, যা রোগীর জীবন বাঁচাতে এবং আরাম দিতে সাহায্য করে। এটি চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার আগ পর্যন্ত আহত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটায়।
প্রাথমিক চিকিৎসার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো রোগীর জীবন রক্ষা করা। দুর্ঘটনার পরপরই সঠিক ব্যবস্থা না নিলে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কেটে গেলে দ্রুত রক্তপাত বন্ধ করা দরকার, যাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ না হয়। পোড়া স্থানে ঠান্ডা পানি দিলে ব্যথা লাঘব হয় এবং ক্ষত দ্রুত নিরাময় হয়।
এছাড়া, প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে আহত ব্যক্তিকে সঠিক চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, সাপে কাটলে বিষ ছড়িয়ে পড়া রোধে বাঁধন দেওয়া হয় এবং দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা জীবাণু সংক্রমণ রোধ করে এবং গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা কমায়।
অতএব, প্রত্যেকের উচিত প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা, যাতে যে কোনো দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং বিপদ থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া যায়।
ছোট দুর্ঘটনা এমন ঘটনা, যা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং সাধারণত জীবন-সংকট তৈরি করে না। তবে সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। গৃহে সাধারণত কয়েক ধরনের ছোট দুর্ঘটনা ঘটে, যেমন কেটে যাওয়া, পুড়ে যাওয়া, চোখে কিছু পড়া ইত্যাদি। কেটে গেলে দ্রুত পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করা দরকার। এরপর ব্যান্ডেজ বা জীবাণুনাশক ওষুধ লাগালে ক্ষত দ্রুত নিরাময় হয়। পোড়া স্থানে ঠান্ডা পানি বা বরফ দিলে ব্যথা কমে এবং ক্ষত স্থানে ফোসকা পড়ার সম্ভাবনা কমে। কীটপতঙ্গের কামড়ে আক্রান্ত স্থানে পেঁয়াজের রস বা লেবুর রস লাগানো যেতে পারে, যা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। চোখে কিছু পড়লে হাত দিয়ে ঘষা উচিত নয়, বরং ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা দরকার।
ছোট দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলে বড় কোনো ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। তাই প্রতিটি পরিবারের উচিত ফার্স্ট এইড বক্স সংরক্ষণ করা এবং জরুরি চিকিৎসার বিষয়ে সচেতন থাকা।
সাপে কাটা একটি গুরুতর দুর্ঘটনা, যা দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জীবনহানির কারণ হতে পারে। সাপে কাটার পর রোগীকে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া উচিত, তবে এর আগে কিছু জরুরি প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। প্রথমেই দেখতে হবে সাপটি বিষধর কিনা। যদি দংশনের স্থানে দুটি গভীর ছিদ্র দেখা যায়, তবে এটি বিষধর সাপের কামড় হতে পারে। দংশিত স্থানের উপরে ও নিচে দুটি বাঁধন দিতে হবে, যাতে বিষ দ্রুত রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে না পড়ে। এরপর আক্রান্ত স্থানে ব্লেড দিয়ে হালকা চিরে বিষাক্ত রক্ত বের করার চেষ্টা করা যেতে পারে। রোগীকে শান্ত রাখতে হবে, যাতে সে বেশি নড়াচড়া না. করে, কারণ নড়াচড়া করলে বিষ আরও দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে যেতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া। সাপে কাটা রোগীকে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা কমে যায়।
বড় দুর্ঘটনা বলতে বোঝায় এমন দুর্ঘটনা, যা গুরুতর শারীরিক ক্ষতি করতে পারে এবং কখনো কখনো জীবনহানির কারণ হতে
পারে। বড় দুর্ঘটনার মধ্যে রয়েছে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, আগুনে পোড়া, সাপে কাটা, পানিতে ডোবা ও তড়িতাহত হওয়া।
অজ্ঞান হয়ে গেলে রোগীকে চিত করে শুইয়ে দিতে হবে এবং তার শ্বাসপ্রশ্বাস পরীক্ষা করতে হবে। মাথায় ঠান্ডা পানি দিলে অনেক সময় জ্ঞান ফিরে আসে। আগুনে পোড়ার ক্ষেত্রে পোড়া স্থানে ঠান্ডা পানি দেওয়া উচিত এবং ফোসকা পড়লে তা ফাটানো যাবে না।
সাপে কাটার পর রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে এবং তার আগে বিষ ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। পানিতে ডোবা ব্যক্তিকে পানি থেকে তুলে এনে শ্বাস-প্রশ্বাস চালু করার চেস্টা করতে হবে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে মেইন সুইচ বন্ধ করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে শুকনা কাঠ বা বাঁশ দিয়ে সরিয়ে নিতে হবে।
বড় দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য পরিবারে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তাছাড়া, এসব ক্ষেত্রে কী করণীয় সে বিষয়ে সচেতনতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allযে দুর্ঘটনাগুলো ঘটলে মারাত্মক আকার ধারণ করে না, প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সহজেই সারিয়ে তোলা যায় এগুলোকে ছোট দুর্ঘটনা বলে। এ ধরনের দুর্ঘটনায় ডাক্তারের কাছে না গিয়েই সারিয়ে। তোলা সম্ভব। যেমন- ছোট আঘাত, কেটে যাওয়া, গলায় কিছু আটকে যাওয়া, চোখে কিছু পড়া ইত্যাদি।
গৃহের সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন,' নিরাপদে চলাফেরা, আরাম ও বিশ্রামের জন্য গৃহের পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি থাকা প্রয়োজন। গৃহের এমন পরিবেশ বজায় রাখলে গৃহকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল মনে হয়। সকল প্রকার দুর্ঘটনা থেকে গৃহই প্রাথমিকভাবে আমাদের রক্ষা করে। গৃহে বসবাসের সময় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যেসব কাজ করা হয় তাকেই গৃহ পরিবেশে নিরাপত্তা বলে
গৃহের সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন, নিরাপদে চলাফেরা, আরাম ও বিশ্রামের জন্যই গৃহ পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি। থাকা প্রয়োজন। এরকম গৃহ পরিবেশ বজায় রাখলে গৃহ নিরাপদ। আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়। আর গৃহ পরিবেশ নিরাপদ না থাকলে নানা। ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে।
ফাস্ট এইড বক্স হলো এমন একটি বক্স যেখানে প্রাথমিক। চিকিৎসার সরঞ্জামাদি রাখা হয়। এ বক্স নিরাপদ স্থানে রেখে দিতে হয়। ফলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সহজে হাতের কাছে পাওয়া যায়। এবং দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তিকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া যায়।
চোখে কিছু পড়লে কোনো ক্রমেই চোখে হাত দেওয়া উচিত নয়। ঘষা লাগলে চোখ জ্বালা করবে। চোখের অনেক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। চোখে কিছু পড়লে যা করণীয় তা হলো-
১. চোখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিতে হবে। এতে আরামবোধ হবে।
২. প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
কীটপতঙ্গের দংশনে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুস্বরণ করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া যায়। বোলতা, মৌমাছি, পিপড়া, ভীমরুল ইত্যাদি কীটপতঙ্গ কামড়ালে বা হুল ফুটালে সুচের আগা আগুনে পুড়িয়ে স্যাঙ্গন দিয়ে মুছে জীবাণুমুক্ত করে হুল তুলে আনতে হবে। মৌমাছি, পিপড়া ইত্যাদি কামড়ালে পেয়াজের রস বা লেবুর রস ঘষে লাগাতে হবে। এরপর প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে হবে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!