যা স্বাভাবিকভাবে সৃষ্টি হয়েছে তাই প্রকৃতি। ঈশ্বর প্রকৃতি সৃষ্টি করেছেন। যেসব কারণে আমাদের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করতে হয় তা হলো-
১. প্রকৃতির বাতাস থেকে আমরা শ্বাস-প্রশ্বাস নিই।
২. নদী থেকে জল পাই।
৩. মাটিতে ফসল হয়। এ ফসল থেকে আমরা খাবার পাই।
৪. গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়।
৫. প্রকৃতি থেকে আমরা মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও ফলমূল পাই।
জড় বস্তু থেকে আমরা যেসব উপকার পাই তা হলো-
১. পাহাড়-পর্বত থেকে পাথর পাই।
২. পর্বতে বরফ জমে ও বরফ গলে জল হয়।
৩. আকাশের সূর্য থেকে আমরা আলো পাই।
৪. সূর্যের আলোতে গাছপালা জীবন পায়।
৫. সূর্যের আলোতে অন্ধকার দূর হয়।
পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের বিভিন্ন জীবের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই অকারণে জীবহত্যা করা উচিত নয়। অকারণে কেন জীব হত্যা উচিত নয় তা হলো-
১. বেঁচে থাকার জন্য মানুষ বিভিন্ন প্রাণীর ওপর নির্ভর করে।
২. প্রত্যেক জীবের মধ্যে ঈশ্বর আত্মারূপে বিরাজ করেন। তাই জীবহত্যা মহাপাপ।
৩. সকল প্রাণী আমাদের কাছে অনেক শ্রদ্ধার।
৪. জীব থেকে আমরা নানাভাবে উপকৃত হই।
৫. আমাদের সকল দেবতার নির্দিষ্ট বাহন আছে। সেসব বাহন কোনো না কোনো 'প্রাণী।
ঈশ্বর প্রকৃতি সৃষ্টি করেছেন। জীবজগৎ ও প্রকৃতি একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। যেসব কারণে জীবজগৎ থেকে প্রকৃতিকে আলাদা করা যায় না তা হলো-
১. বাতাসের সাহায্যে আমরা শ্বাস-প্রশ্বাস নিই।
২. মাটি থেকে ফসল পাই। সে ফসল থেকে আমরা খাবার তৈরি করি।
৩. প্রকৃতি থেকে মাছ, মাংস, ফলমূল পাই।
৪. পাহাড় পর্বত থেকে পাথর পাই।
৫. আকাশের সূর্য থেকে আলো পাই।
৬. সূর্যের আলোতে গাছপালা জীবন পায়।
কোনো 'প্রাণী বিলুপ্ত হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। 'বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। তাই প্রাণী সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রাণী সংরক্ষণে আমার করণীয় বিষয়সমূহ হলো-
১. প্রয়োজন ছাড়া গাছ কাটব না।
২. প্রাণীকে অকারণে হত্যা করব না।
৩. জলাশয় ভরাট করব না।
৪. বন উজাড় করব না।
৫. জমিতে কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে বলব।
পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার জন্য প্রকৃতিতে যেসব পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে তা হলো-
১. বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি দুর্যোগ বেড়ে চলেছে।
২. আমাদের খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে।
৩. বাসস্থানের স্বল্পতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
৪. অনেক প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
৫. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যাদের প্রাণ আছে তাদের প্রাণী বলা হয়। দুটি প্রাণী হলো- ১. ইঁদুর ও ২. চড়ুই পাখি।
ইঁদুর ফসল নষ্ট করে। চড়ুই পাখিও ফসল নষ্ট করে। এদিক থেকে এদের ক্ষতিকর মনে হলেও ক্ষতিকর নয়। কারণ, প্রকৃতিতে তাদের অবদান রয়েছে। ইঁদুর মাটির উর্বরতা বাড়ায়। চড়ুই পাখি কীটপতঙ্গ খায়। যার ফলে ফসল ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।
আমরা জানি, ঈশ্বর জীবের অন্তরে অবস্থান করেন। তাই আমরা সকল জীবকে ভালোবাসৱ। কারণ জীবকে ভালোবাসলে ঈশ্বরকেই ভালোবাসা হয়। এ সম্পর্কে স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন-
"জীবে প্রেম করে যেই জন,
সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।"
অর্থাৎ যিনি জীবকে ভালোবাসেন, তিনি সেই সেবার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরেরই সেবা করেন। তাই আমরা কোনো জীবকে অবহেলা করব না। জীবকে অবহেলা করলে ঈশ্বরকে অবহেলা করা হয়।
পশু-পাখির উপকারের জন্য আমি যেসব কাজ করতে পারি তা নিচে লেখা হলো-
১. তৃষ্ণার্ত পশু-পাখির জন্য জলের ব্যবস্থা করতে পারি।
২. ফেলা দেওয়া হাড়ি-কুড়ি দিয়ে পাখির জন্য রাসা বানিয়ে দিতে পারি।
৩. খাবারের উচ্ছিষ্ট রেখে দিতে পারি।
৪. আহত ও অসুস্থ পশু-পাখির যত্ন নিতে পারি।
৫. পশু-পাখির আশ্রয়ের জন্য বেশি বেশি গাছ লাগাতে পারব।
আমরা যেসব উপায়ে জীবের সেবা করতে পারি তা হলো-
১.. তৃষ্ণার্ত প্রাণীর জন্য জলের ব্যবস্থা করতে পারি।
২. খাবারের উচ্ছিষ্ট রেখে দিতে পারি বিভিন্ন প্রাণীর জন্য।
৩. অসুস্থ পশু-পাখির যত্ন নিতে পারি।
৪. শুকনো মৌসুমে গাছে জল দিতে পারি
৫. বর্ষায় গাছের গোড়ার আগাছা পরিষ্কার করতে পারি।
দেশপ্রেম বলতে বোঝায় দেশের প্রতি ভালোবাসা ও মমত্ববোধ। অন্যভাবে বলা যায়, দেশপ্রেম বলতে নিজের দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং নিজ দেশকে উন্নত ও সুরক্ষিত রাখার জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টাকে বোঝায়।
দেশপ্রেমের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে নিচে লেখা হলো-
১. দেশপ্রেম মানুষকে অন্য মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে শেখায়।
২. দেশের সকলের মাঝে দেশপ্রেম থাকলে দেশ উন্নত হয়।
৩. দেশপ্রেমের মাধ্যমে সমাজ ও দেশ থেকে অপরাধমূলক কাজকর্ম দূর করা যায়।
৪. দেশপ্রেম মানুষকে দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়।
৫. দেশপ্রেম আমাদের মানবসেবার শিক্ষা দেয়।
তাই বলা যায়, মানবজীবনে দেশপ্রেমের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাচীনকালে অযোধ্যার রাজা ছিলেন দশরথ। রাজা দশরথের বড় ছেলে রাম। দশরথ রামকে রাজা করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বাদ সাধেন কৈকেয়ী। একসময় রাজা দশরথ খুব অসুস্থ ছিলেন। তখন কৈকেয়ী তাঁর সেবা করে তাঁকে সুস্থ করে তোলেন। সেবায় তিনি সন্তুষ্ট হয়ে কৈকেয়ীকে দুটি বর দিতে চেয়েছিলেন। দাসী মন্থরার পরামর্শে কৈকেয়ী এখন সেই বর দুটি চান। প্রথম বরে ভরত রাজা হবে। আর দ্বিতীয় বরে রাম চৌদ্দ বছরের জন্য বনে যাবে। রাম ছিলেন খুবই পিতৃভক্ত। তাই তিনি পিতৃসত্য পালনের জন্য বনে যেতে রাজি হলেন। তাঁর সঙ্গে গেলেন স্ত্রী সীতা ও ভাই লক্ষ্মণ।
পিতৃসত্য পালনের জন্য রামচন্দ্রকে জন্মভূমি ছাড়তে হয়েছিল। চৌদ্দ বছরের জন্য বনবাসে যেতে হবে, তাই তিনি বারবার ফিরে তাকিয়েছেন অযোধ্যার দিকে। তিনি প্রিয় অযোধ্যাকে প্রণাম জানিয়েছেন। আর কবে দেখতে পাবেন প্রিয় জন্মভূমিকে। এক পর্যায়ে রাম-রাবণের যুদ্ধ শেষে বন্ধু বিভীষণ রামকে লঙ্কায় থেকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তখন রাম বিভীষণের অনুরোধ গ্রহণ না করে বলেন-
বন্ধু, লঙ্কা স্বর্ণপুরী তবু মোর প্রিয় নয়।
জননী-জন্মভূমি স্বর্গ থেকেও শ্রেষ্ঠ হয় ॥
একথায় শ্রীরামের গভীর দেশপ্রেম বোঝা যায়। কেননা তাঁর কাছে স্বর্গের চেয়েও প্রিয় ছিল জন্মভূমি। নিজের দেশ। তাঁর কাছে জন্মভূমিই জননী। এর মধ্য দিয়েই রামচন্দ্রের দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়।
আমি যেসব কারণে দেশকে মায়ের মতো ভালোবাসব তা নিচে তুলে ধরা হলো-
১. এ দেশে আমরা জন্মগ্রহণ করেছি।
২. দেশ আমাদের মায়ের মতো আশ্রয় দেয়।
৩. দেশ আমাদের খাদ্য দেয়।
৪. দেশ আমাদের শিক্ষা দিয়ে বড় করে।
৫. দেশের আলো-বাতাস গ্রহণ করে আমরা বেঁচে আছি।
দেশের সম্পদ বাঁচানোর জন্য আমাদের মিতব্যয়ী হওয়া প্রয়োজন। এজন্য আমাদের যা করতে হবে তা হলো-
১. খাবার নষ্ট না করে প্রয়োজনমতো খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
২. ঘরে অকারণে আলো জ্বালিয়ে রাখা যাবে না।
৩. পানির অপচয় করা হতে বিরত থাকতে হবে।
৪. ব্যবহারযোগ্য জিনিসগুলো ফেলে না দিয়ে পুনরায় ব্যবহার করতে হবে।
৫. প্রয়োজন নেই এমন সব পণ্য ও সেবা থেকে দূরে থাকতে হবে।
দেশপ্রেম ধর্মের অঙ্গ। আমাদের শাস্ত্রেও দেশকে মায়ের মতো ভালোবাসতে বলা হয়েছে। যেসব উপায়ে আমরা দেশকে ভালোবাসতে পারি।
১. দেশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
২. দেশের মানুষকে ভালোবাসতে হবে এবং তাদের বিপদে সাহায্য করতে হবে।
৩. দেশের আইন মেনে চলতে হবে।
৪. কাজে ফাঁকি দেওয়া যাবে না।
৫. দেশের সম্পদের অপচয় না করে, প্রয়োজনে মিতব্যয়ী হতে হবে।
Related Question
View Allপ্রকৃতি পৃথিবীর স্বাভাবিক রূপ।
গাছের কাঠ দিয়ে আমরা ঘরবাড়ি নির্মাণ করি।
ঈশ্বর প্রকৃতি সৃষ্টি করেছেন।
যাদের জীবন আছে তারা জীব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!