পারিবারিক জীবনে বিভিন্ন রকম কাজ করার জন্য যেসব সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য দ্রব্য ব্যবহার করা হয়, সেগুলোই গৃহসামগ্রী হিসেবে পরিচিত। এই সামগ্রীগুলো আমাদের অনেক কাজকে সহজ ও আরামদায়ক করে দেয়। উপযুক্তভাবে গৃহসামগ্রী নির্বাচন করে তা সঠিক ব্যবহার করতে পারলে আমরাসময়, শক্তি বাঁচিয়ে অনেক কাজ করতে পারি। গৃহসমাগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। গৃহসামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রে যেসব নীতি অনুসরণ করতে হবে তা হলো প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর তালিকা করতে হবে। দ্রব্যগুলোর গুণাগুণ যাচাই করতে হবে। দ্রব্যগুলো ক্রয়ের পরিকল্পনা করতে হবে এবং অবশ্যই বাজারমূল্য সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।
কোনো সামগ্রী ক্রয়ের সময় গুণাগুণ যাচাই করলে সময় ও শক্তি বাঁচিয়ে কাজ করা সম্ভব। কম মূল্যে সামগ্রী ক্রয় করা সম্ভব। যেমন অনেক সময় দেশী কাঁচামালে তৈরি কম মূল্যের সামগ্রী বিদেশি চাকচিক্যময় সামগ্রীর তুলনায় গুণে ও মানে ভালো হয়। রান্নার জন্য অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িপাতিল কিনলে বেশি সুবিধাজনক হয়। আবার ভাজার জন্য লোহার কড়াই কিনলে বেশি সহজে ভাজা যায়। প্লেট, গ্লাস, চায়ের কাপ ইত্যাদি কাচের হলে তা বেশি গ্রহণীয় হয়। প্রয়োজনীয় সামগ্রী টেকসই হলে তা দীর্ঘদিন পর্যন্ত ব্যবহার করলে তা সময়, অর্থ বেঁচে যায় এবং কাজের অনেক সুবিধা পাওয়া যায়।
পৃথিবীর সকল ভোক্তার স্বার্থ রক্ষার জন্য সাতটি মৌলিক অধিকার রয়েছে। এগুলো হলো- (১) নিরাপত্তার অধিকার, (২) জানার অধিকার, (৩) অভিযোগ করার অধিকার, (৪) ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার, (৫) বাছাই করার অধিকার, (৬) স্বাস্থ্যকর পরিবেশের অধিকার ও (৭) ভোক্তার শিক্ষালাভের অধিকার।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allগৃহসামগ্রী ক্রয়ের আগে পরিকল্পনা করে না কিনলে বেশির ভাগ চাহিদা অপূর্ণ থেকে যায়।
কোন সামগ্রী কখন, কোন কাজের জন্য ও কোথা থেকে কেনা হবে, কেনার সামর্থ্য আছে কি না ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় এনে পরিকল্পনা করে কিনলে লাভবান হওয়া যায়।
জুস ক্রয়ে মুবীনা তার জানার অধিকার ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারটি প্রয়োগ করেননি।
যেসব দ্রব্য ভোক্তা ক্রয় করে সেগুলোর সঠিক মূল্য কত, গুণগত মান কেমন, কী উপাদান দ্বারা তৈরি, ব্যবহারের নিয়ম, মেয়াদকাল ইত্যাদি সম্পর্কে তার জানার অধিকার থাকবে। এই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দ্রব্যের মোড়কের লেবেলে সব তথ্য থাকলে ভোক্তারা পণ্য যাচাই করে কিনতে পারে। মুবীনা মেয়াদকাল না দেখে জুসের প্যাকেট ক্রয় করেছেন। দ্রব্য ক্রয় করতে যে জানার অধিকার আছে তা তিনি প্রয়োগ করেননি। মুবীনা যদি জুসের মোড়কের লেবেল পড়ে দেখতেন তাহলে মেয়াদ উত্তীর্ণ জুস কিনতেন না। আবার কোনো দ্রব্য ও সেবা ব্যবহারে ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা দ্রব্যের মান সঠিক না হলে বিক্রেতা তার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে।
এই অধিকারটিও মুবিনা প্রয়োগ করেননি।
ভোক্তা হিসেবে মুবীনা তার স্বার্থ রক্ষা করতে পারেননি। তাই বলা যায়, ভোক্তা হিসেবে তিনি নিজ অধিকার সম্পর্কে সচেতন নয়।
মুবীনা ক্যাশমেমো ছাড়া একটি ইস্ত্রি কেনেন এবং লেবেল না দেখে মেয়ের জন্য এক প্যাকেট জুস কেনেন। পরবর্তীতে দেখা যায় জুসের মেয়াদ পার হয়ে গেছে আর ইস্ত্রিটিও চালু হচ্ছে না।
মুবীনা ইস্ত্রিটি দোকানে নিয়ে গেলেন। কিন্তু দোকানদার ইস্ত্রিটি অন্য দোকান থেকে কেনা হয়েছে বলে সন্দেহ পোষণ করেন। মুবীনার মতো ক্রেতাদের অসচেতনতার সুযোগে বিক্রেতারা নানাভাবে তাদের প্রতারিত করে। এ ধরনের ক্রেতারা দ্রব্যের ভালো-মন্দ সম্পর্কে যেমন জানতে চান না তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরবর্তীতে বিক্রেতার নিকট থেকে কীভাবে ক্ষতিপূরণ দাবি করা যায় সে সম্পর্কেও অসচেতন। কোনো দ্রব্য কেনার আগে যাচাই করতে হবে, মেয়াদকাল দেখতে হবে, ক্যাশমেমো সংগ্রহ করতে হবে। দ্রব্য ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে হবে। তাহলেই ভোক্তা ও ক্রেতারা তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে।
পরিশেষে বলা যায় যে, মুবীনার মতো ভোক্তাদের অবশ্যই নিজ অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে পণ্য ক্রয় করা উচিত।
ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার বলতে বোঝায় কোনো দ্রব্য বা সেবা ব্যবহারে ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা দ্রব্যের মান সঠিক না হলে বিক্রেতা তার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে। এজন্য ভোক্তাকে সচেতনভাবে ক্যাশমেমো সংগ্রহ করতে হবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!