শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ১৯৮৯ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে শিশু অধিকার সনদ সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। ১৯৯০ সালের সেপ্টেম্বরে এটি আন্তর্জাতিক আইনের একটি অংশে পরিণত হয়, ইতিহাসে এটি হচ্ছে সবচেয়ে ব্যাপকভাবে গৃহীত মানবাধিকার চুক্তি। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ১৯১টি দেশ এই চুক্তি স্বাক্ষর ও অনুমোদন করেছে। বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি।
সকল শিশুর সমান অধিকার রয়েছে। এখানে লিঙ্গ, বর্ণ, জাতীয়তা, ধর্ম, শারীরিক সামর্থ্য এবং ধনী ও গরিব কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। অর্থাৎ কোনো কারণেই শিশুর মধ্যে বৈষম্য থাকবে না। শিশুমাত্রই খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয় ও শিক্ষার সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে। সংখ্যালঘু এবং আদিবাসী শিশুর নিজস্ব সংস্কৃতি এবং ভাষা চর্চার অধিকার আছে। শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুরও স্বাভাবিক শিশুর মতো সকল সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার আছে।
শিশুর স্বার্থ বা অধিকার রক্ষা করার জন্য মা-বাবা, অর্থাভাবে যদি শিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা, যত্ন দিতে না পারেন, তখন, সরকার শিশুর স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সেবা নিশ্চিত করবে। সরকারি ও বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান শিশুদের নিয়ে কাজ করছে। যেমন-ইউনিসেফ, সেভ দ্য চিলডেন, কেয়ার ইত্যাদি। সকল সামর্থ্যবান মানুষের উচিত দুস্থ শিশুদের সহযোগিতা করা। তাদের সুন্দরভাবে বেড়ে উঠার সুযোগ করে দেওয়া।
পাচাররোধে পাচারকারীর পাচার কৌশল সম্পর্কে সমাজের সর্বস্তরের লোকদের সচেতন হতে হবে এবং আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যা করতে হবে তা হলো-
১. দূরে কোথাও বা নির্জন জায়গায় একাকী না যাওয়া।
২. অপরিচিত বা অল্প পরিচিত কারও সাথে কোথাও না যাওয়া।
৩. অপরিচিত বা অল্প পরিচিত কোনো ব্যক্তির দেওয়া কোনো খাবার, খেলনা, টাকা-পয়সা বা কোনো জিনিস না নেওয়া।
৪. মা-বাবার অনুমতি ছাড়া কারও সাথে কোথাও না যাওয়া।
৫. শিশু পাচারের কৌশলগুলো জানা এবং অপরকে সচেতন করতে জানানো।
মাদক সেবনের কুফল বা অপকারিতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
শারীরিক কুফল: মাদক সেবনে বিদ্যুতের শারীরিক ক্ষতি হবে। এতে তার হজমশক্তি নষ্ট হবে, খাবারে অরুচি হবে। দেহে ক্রমাগত অপুষ্টি বাসা বাঁধবে। স্থায়ী কফ, কাশি এবং মারাত্মক যক্ষ্মা রোগের সৃষ্টি হতে পারে।
মানসিক কুফল: মাদক সেবনে বিদ্যুতের জ্ঞানবুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তি ধীরে ধীরে লোপ পাবে। মানসিক ভারসাম্যহীনতায় বিদ্যুতের পাগল হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
অর্থনৈতিক কুফল: বিদ্যুতের জীবনে এটি অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।
সামাজিক কুফল: মাদক সেবন বিদ্যুৎকে ছিনতাই, রাহাজানি ইত্যাদি সামাজিক অপরাধের দিকে ধাবিত করতে পারে।
ধর্মীয় কুফল: মাদক সেবন ইসলাম ধর্মে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এতে করে ধর্মীয় আদেশ লঙ্ঘন করার শাস্তি বিদ্যুৎ পাবে।
শিশুকে এক কথায় সংজ্ঞায়িত করা বেশ কঠিন। আমরা পাঁচ বছরের ছেলেমেয়েকেও শিশু বলি, আবার দশ-এগারো বছরের ছেলেমেয়েকেও শিশু বলে থাকি। শিশু মনোবিজ্ঞানীরা অবশ্য শিশুকালকে কয়েকটি পর্যায়ে ভাগ করেছেন। তাঁদের মতে, জন্মের পর থেকে বয়ঃসন্ধিকাল বা কিশোর বয়সের আগে পর্যন্ত ছেলেমেয়েরাই হচ্ছে শিশু। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী ১৮ বছর বয়সের নিচে সবাই শিশু। বাংলাদেশের জাতীয় শিশু নীতি ২০১১ এবং শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সিদের শিশু হিসেবে ধরা হয়। তোমরা নিশ্চয়ই জাতিসংঘ সম্পর্কে জানো, জাতিসংঘ হচ্ছে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার পক্ষে সহযোগিতা দানের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা। শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ১৯৮৯ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে শিশু অধিকার সনদ সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। ১৯৯০ সালের সেপ্টেম্বরে এটি আন্তর্জাতিক আইনের একটি অংশে পরিণত হয়। ইতিহাসে এটি হচ্ছে সবচেয়ে ব্যাপকভাবে গৃহীত মানবাধিকার চুক্তি। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ১৯১টি দেশ এই চুক্তি স্বাক্ষর ও অনুমোদন করেছে, বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি।
Related Question
View Allসবচেয়ে ব্যাপকভাবে গৃহীত মানবাধিকার চুক্তি হলো শিশু অধিকার সনদ।
জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী ১৮ বছর বয়সের নিচে সবাই শিশু। আমাদের দেশের জাতীয় শিশুনীতিতে ১৪ বছরের কম বয়সীদের শিশু হিসেবে ধরা হয়। সনদের সাথে এ অসামঞ্জস্যের ফলে বাংলাদেশের অনেক শিশুই সনদ অনুযায়ী সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
রানা শিক্ষা লাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আবদুল মালেক একজন রিক্সাচালক। তার বড় ছেলে রানার বয়স ১২ বছর। সে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। সে পড়ালেখায় ভালো। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ তার বাবা অসুস্থ থাকায় ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না। এ অবস্থায় আবদুল মালেক তার ছেলেকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে গার্মেন্টসে কাজে লাগিয়ে দেন। ফলে সে স্কুলে যেতে পারছে না। শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী প্রতিটি শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং মাধ্যমিক ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। প্রয়োজনে সরকার তাদের আর্থিক সাহায্য দেবে। শিক্ষার অধিকার হলো শিশুর অন্যতম মৌলিক অধিকার।
শিক্ষার মাধ্যমে শিশুর ব্যক্তিত্ব, শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্যের পরিপূর্ণ বিকাশ হয়। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে অনেক শিশু শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আবদুল মালেকের গৃহীত পদক্ষেপ জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় উপার্জন করতে পারছেন না। তাই তিনি তার ছেলেকে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করেছেন। শিশুরা যদি অনাদর, অবহেলা ও শিক্ষার অভাবে অজ্ঞতায় ডুবে থাকে তবে তাদের জীবন বিপন্ন হবে।
শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী সব শিশুর সমান অধিকার রয়েছে। সরকারের দায়িত্ব শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা। সরকারের পক্ষ থেকে এ সুযোগ বিনামূল্যে দেওয়া প্রয়োজন। যদি তা সম্ভব না হয় তবে তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া উচিত। অনেক শিশু আর্থিক সমস্যার কারণে স্কুলে না গিয়ে কাজ করে। এই শিশুশ্রম অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উদ্দীপকে আব্দুল মালেক অসুস্থ হয়ে পড়ায় ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না। যার কারণে পরিবারে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। ফলে তিনি তার ছেলের লেখাপড়া বন্ধ করে তাকে গার্মেন্টসে কাজে লাগিয়ে দেন।
সুতরাং বলা যায় যে, তার গৃহীত পদক্ষেপটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
সংশোধনের জন্য শিশুদের কিশোর অপরাধ সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত।'
অতি শৈশব থেকেই যদি শিশু অবহেলা, অনাদরে জীবনযাপন করে, অপুষ্টি ও রোগের কারণে স্বাস্থ্যহীন হয়ে পড়ে, শিক্ষার অভাবে অজ্ঞতায় ডুবে থাকে তাহলে তার জীবন বিপন্ন হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!