সাধারণত ত্যাগ বলতে কোনো কিছু বর্জন বা পরিহার করা বোঝায়। বিশেষভাবে নিজের স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়াই ত্যাগ। ভোগ বা সুখের ইচ্ছা পরিহার করাকে ত্যাগ বলে। ত্যাগ মানব চরিত্রের একটি বিশেষ নৈতিক গুণ, ত্যাগ ধর্মেরও অঙ্গ। আবার তিতিক্ষা বলতে সহিষ্ণুতাকে বোঝায়। ত্যাগের মত তিতিক্ষাও একটি বিশেষ গুণ। তিতিক্ষা ধর্মেরও অঙ্গ।
উদাহরণস্বরূপ শ্রীরামচন্দ্রের ত্যাগ-তিতিক্ষার কাহিনী একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রামচন্দ্র রাজা হবেন। অভিষেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করার পর বিমাতা কৈকেয়ীর কাছ থেকে বাধা এল। রাজা দশরথ একবার অসুস্থ হলে কৈকেয়ীর সেবাযত্নে সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং খুশি হয়ে দুটি বর দিতে চাইলেন।
অভিষেক অনুষ্ঠানের মুহূতে কৈকেয়ী মন্থরার পরামর্শে রাজা দশরথের কাছে দুটি বর প্রার্থনা করেন। কৈকেয়ী চাইল "এক বরে রাম চৌদ্দ বছরের জন্য বনে যাবেন আর এক বরে তার পুত্র ভরত রাজা হবেন।” কৈকেয়ীর কথায় রাজা দশরথ বিমর্ষ হলেন এবং রামকে সব খুলে বললেন। রামচন্দ্র পিতৃসত্য রক্ষা করতে বনে রওয়ানা হলেন। ভরত রামচন্দ্রকে ফিরিয়ে নিতে আসলেও ত্যাগী রাম ফিরে যান নি। রামচন্দ্রের ত্যাগ-তিতিক্ষা অনুস্মরনীয় দৃষ্টান্ত।
সাধারণত ত্যাগ বলতে কোনো কিছু বর্জন বা পরিহার করা বোঝায়। ভোগ বা সুখের ইচ্ছা পরিহার করাকে ত্যাগ বলে। ত্যাগ মানব চরিত্রের একটি বিশেষ নৈতিক গুণ। ত্যাগ ধর্মেরও অঙ্গ। ত্যাগী ব্যক্তি সমাজে আদরনীয় হয়। তাঁকে সকলে শ্রদ্ধা করে। ত্যাগ মানুষকে মহান করে সমাজে শান্তি এনে দেয়।
তিতিক্ষা বলতে সহিষ্ণুতা বোঝায়। তিতিক্ষা মানব চরিত্রের একটি বিশেষ গুণ। তিতিক্ষাও ধর্মের অঙ্গ। তিতিক্ষা সমাজে শান্তি আনয়ন করে। ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে সৌহার্দের মনোভাব গড়ে তোলে। নৈতিকতা গঠনে তিতিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে ত্যাগ ও তিতিক্ষা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তিতিক্ষা না থাকলে ত্যাগের ফলও বিনষ্ট হতে পারে। ত্যাগ-তিতিক্ষার গুণে মানুষ দেবতার স্তরে উন্নীত হতে পারে। ত্যাগ-তিতিক্ষা মানুষকে 'মর্যাদার পথে এবং গৌরবময় স্থানে নিয়ে যায়। ত্যাগ-তিতিক্ষা মানব চরিত্রের অন্যতম মহৎ গুণ। সুতরাং পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ত্যাগ-তিতিক্ষা শান্তি আনয়ন করে।
Related Question
View Allরামায়ণের প্রধান চরিত্র শ্রীরামচন্দ্র।
তিতিক্ষা না থাকলে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠত। সকলে মিলে, পরস্পর পরস্পরের মতের ও চিন্তার প্রতি সহিষ্ণু হয়েই মানুষ সমাজ গঠন করে। তাই তিতিক্ষা না থাকলে ব্যক্তিজীবনে উন্নতি করা যায় না। তিতিক্ষা না থাকলে ত্যাগের ফল বিনষ্ট হয়। নৈতিকতা গঠনে তিতিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেজন্য বলা হয়, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিতিক্ষার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।
দীননাথের চরিত্রের সাথে রামচন্দ্রের ত্যাগের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ত্যাগ বলতে কেনোকিছু বর্জন বা পরিহার করা বোঝায়। কিন্তু বিশেষভাবে ত্যাগ বলতে বোঝায় নিজের স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়া।
রামচন্দ্র ছিলেন বিষ্ণুর অবতার। তিনি ত্রেতাযুগে মানুষরূপে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতৃসত্য রক্ষা করার জন্য বনে গমন করেন। তিনি রাজ্য ত্যাগ করে। রাজপোশাক পরিত্যাগ করে কম্বল পরিধান করে বনে গমন করেন। এটা ছিল ত্যাগের এক মহান দৃষ্টান্ত।
উদ্দীপকের দীননাথের চরিত্রে রামচন্দ্রের ত্যাগের যথেষ্ট মিল রয়েছে। কারণ দীননাথ তার নিজের সন্তানকে মনোরমার কোলে তুলে দিয়ে সেরূপ এক ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
যদীননাথ তার সন্তানকে মনোরমার কোলে তুলে দিয়ে ত্যাগের এক মহা নজির স্থাপন করে।
ভোগ বা সুখের ইচ্ছা পরিহার করাকে ত্যাগ বলে। ত্যাগ হচ্ছে মানব চরিত্রের একটি বিশেষ নৈতিক দিক। ত্যাগ মানুষকে করে মহান, সমাজ সংসারে এনে দেয় শান্তির পরশ। সেরূপ এক শান্তির আবহ সৃষ্টি হয়েছিল মনোরমার। নীলরতন ও মনোরমার সংসারে সচ্ছলতা থাকলেও শান্তি ছিল না। কারণ তাদের কোনো সন্তান ছিল না। এজন্য তাদের দুজনের মধ্যে একটা হতাশা বিরাজ করত। বাড়ির কর্মচারী দীননাথ এ বিষয়টি লক্ষ করে। তার দুটি সন্তান। দীননাথ তার স্ত্রীকে রাজি করিয়ে তার একটি সন্তানকে মনোরমার কোনে তুলে দেয়। তাদের সংসারে শান্তির আবহ বিরাজ করে। কিন্তু তাদের এ শান্তির মূলে ছিল দীননাথের ভূমিকা। কারণ সে তার প্রাণপ্রিয় সন্তানকে মনোরমার কোলে দিয়ে যে ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তা সত্যিই বিরল।
শ্রীরামচন্দ্রের পিতার নাম রাজা দশরথ।
আামানচন্দ্র ছিলেন পিতৃতজ্ঞ। লিভার আত ছিল তার অসাব ভক্তি। পিতার আজ্ঞা ছিল তাঁর জীবনের ব্রত। তাই পিতার আজ্ঞা পালন করার জন্য শ্রীরামচন্দ্র বনে গিয়েছিলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
